এই বর্ষণমুখর সন্ধ্যা
একটা অসমাপ্ত গজল,
যেখানে ওমর খৈয়ামের মদিরা ঝরে পড়ে
বৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায়,
আর মির্জা গালিবের দীর্ঘশ্বাস
জড়িয়ে থাকে ভেজা স্ট্রিট ল্যাম্পের
আলোর ওড়না গায়ে।
কামিনীর গন্ধ আজ
শুধু ফুলের নয়—
এ যেন গন্ধবিলাপ,
অপেক্ষার স্যাঁতসেঁতে শরীর,
যেখানে স্পর্শ মানেই অনুপস্থিতির দহন জ্বালা।
পাখির ডানা ঝাপটায়
ভেজা পাতার আদর মাখে,
ছিন্ন আকাশের ভেতর—
তখন প্রবল বিবাদ,
কথা কাটাকাটির রেশ
চড়াম চড়াম শব্দে,
তীব্রতার লড়াই বিদ্যুৎ শিখায়।
পাখিরা উড়ে যায়
ফিরে না আসার ঘোষণা দিয়ে,
তবু তারা উড়ে,
আপনজন ছেড়ে
এক বর্ষণমুখর সন্ধ্যায়।
বৃষ্টি শেখায়—
ভেসে যেতেই হয়,
ঠিক যেমন আবেগ ভেসে যায়
চোখের নোনা জলে,
গভীর হয় প্রেম
নিঃস্বাস উষ্ণ হয়
চায়ের কাপের ধোঁয়ায়,
শহরের প্রতিটি ভাঙা ছাদে
অলিখিত গল্প লেখে
ছাদহীন কপোত দম্পতি,
ভালোবাসার আশ্রয় খোঁজে—
অস্থায়ী, অথচ অনন্ত।
পিপুলগাছের ছেঁড়া পাতা
ঝরে পড়ে নিঃশব্দ বিপ্লবের মতো,
আর কাগজের নৌকা—
ভাসতে ভাসতে ডুবে যায়
বোহেমিয়ান কবিতার খাতায়।
ড্রেনের জলে ভেসে যায়,
অসমাপ্ত ফুটপাত শৈশব।
এই শহর আজ স্যুররিয়াল—
নিয়ন আলো,
ভেজা অ্যাসফল্ট,
ডিজিটাল নিঃসঙ্গতা আর
অ্যালগরিদমিক ভালোবাসার ভিড়ে
মানুষ শুধু চায়
হাত ধরে থাকতে —
একটু সত্যিকারের স্পর্শের জন্য।
এক দীর্ঘ অপেক্ষা
বর্ষণমুখর সন্ধ্যার প্রতীক্ষায়
তুমি আজও আসো,
এই ভিজে সন্ধ্যার ভিতর—
গোপন অনুরাগে।
আমাদের গল্পটা
কোনো উপন্যাস নয়,
একটা আধুনিক গজল—
যেখানে প্রতিটি লাইন ভাঙে,
তবু শেষ হয় না,
প্রতি চুপছাপে থেকে যায়
তোমার আমার
বিনি সুতোর অস্তিত্ব।
আমার লেখা প্রকাশ করায় কৃতজ্ঞতা অশেষ 🙏🏻
উত্তরমুছুনবাহহহ
উত্তরমুছুনঅপূর্ব এক শব্দশৈলী! বৃষ্টির ধারায় ওমর খৈয়ামের মদিরা আর মির্জা গালিবের দীর্ঘশ্বাসকে যেভাবে মিলিয়ে দিয়েছেন, তা সত্যিই এক অনন্য আবেশ তৈরি করে। আধুনিক নাগরিক জীবনের 'ডিজিটাল নিঃসঙ্গতা' আর 'অ্যালগরিদমিক ভালোবাসা'র ভিড়ে সত্যিকারের স্পর্শের যে আকুতি আপনি ফুটিয়ে তুলেছেন, তা মনকে গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়। 'বিনি সুতোর অস্তিত্ব' আর 'অসমাপ্ত ফুটপাত শৈশব'—এই উপমাগুলো কবিতাটিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটার মতো আপনার প্রতিটি শব্দই যেন এক একটি সজীব গজল হয়ে ধরা দিয়েছে। চমৎকার এই সৃষ্টির জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা!
উত্তরমুছুন