এই যে সদা
আমার আমার করে রক্তের হোলি খেলে
নিমেষেই সম্পর্ক বিনষ্ট করে ফেলি,
আমার বলতে আসলে কতটুকু?
পৃথিবীর কোনো মূল্যে কখনোই
আজও কেউ সময়কে আটকে রাখতে পারিনি,
কালের অতলে নমরুদ, ফিরাউন, হিটলার
সবাই হারিয়ে গেছে,
আমাদেরও সময়মতো ঠিক চলে যেতে হবে-
তাহলে ক্ষমতার বড়াই করে কালিমালিপ্ত হৃদয়ে
দীর্ঘায়ু প্রাপ্তিতে লাভ কতটা?
স্মৃতির অ্যালবামে বন্দি আছে
অতীতের সকল কুকর্মের জীবন্ত দলীল,
শৈশব, কৈশোর, যৌবন পেরিয়ে
একটা সময় পর অনিচ্ছা সত্ত্বেও বার্ধক্য আসে।
পৃথিবীর সকল জ্বীন-ইনসান, নর-নারী
শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার সাথে সাথেই
সৌন্দর্য, দাম্ভিকতার বিনাশ হয়ে-
শুধুই ইয়া নাফসি....ইয়া নাফসি ধ্বনি উঠবে,
তাহলে আমিও সেই আঠারো হাজার মখলুকাতেরই
একজন অধম বান্দা,
আমাকেও নিশ্চিতরূপে হাশরের ময়দানে
উপস্থিত হতে হবে...!
পুলসিরাত পার হতে হবে, শেষ বিচারে বসতে হবে..!
তাহলে কেন এ মিথ্যা আয়োজন?
জাহান্নামের ভীতি কলবে রেখে
ঈমান-আকিদার সাথে জীবনধারণ করলেই-
বেহেশতের সর্বোচ্চ মাকাম হাসিল হবে।
আমিতো মাত্র দু'দিনের মুসাফির
আমার জন্যও কোনো এক অন্ধকার বাঁশ বাগানে-
মাত্র সাড়ে তিন হাত বরাদ্দ আছে,
মালাকুল মউত জানটা কবজ করতেই
সবাই পর করে রেখে আসবে কবর ঘরে।
তাই কবরের জিন্দেগি আসান করতে
আসুন আমরা এই মুসাফিরগণ-
পকেট বিহীন কাফনের কাপড়ের জন্য
অন্যের হক না ঠকিয়ে কম সঞ্চয় করি।
আমলনামা ডান হাতে গ্রহণ করতে
জাহান্নামের আজাবের ভয় করি,
আর আল্লাহর বিধান মেনে
জীবদ্দশায় নবীর দেখানো পথ অনুসরণ করে-
খোদার নিকট মুমিন হয়েই প্রত্যাবর্তন করি...!

চমৎকার লেখা
উত্তরমুছুনঅসংখ্য ধন্যবাদ।
মুছুনঅত্যন্ত গভীর জীবনবোধ সম্পন্ন একটি লেখা। মায়া-মোহের এই নশ্বর পৃথিবীতে মানুষের দম্ভ যে কতটা তুচ্ছ, আপনি তা অতি চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। নমরুদ-ফিরাউনের মতো প্রতাপশালীরাও যেখানে কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে, সেখানে আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী দম্ভ সত্যিই বড় বেমানান। সাড়ে তিন হাত মাটির সেই চরম সত্যকে স্বীকার করে নিয়ে ঈমান ও নেক আমলের পথে চলার যে আহ্বান আপনি জানিয়েছেন, তা প্রতিটি মানুষের জন্য এক পরম শিক্ষা। আপনার লেখনীর এই স্নিগ্ধতা ও সত্যের প্রকাশ পাঠককে আত্মোপলব্ধি করতে বাধ্য করবে।
উত্তরমুছুনঅসংখ্য ধন্যবাদ আপনার সুচিন্তিত ও বিশ্লেষণাত্মক মন্তব্যে আমার লেখার উৎসাহকে আরও ত্বরান্বিত করার জন্য। কৃতজ্ঞতা একরাশ। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন-শুভকামনা নিরন্তর। 🌹🌹
মুছুন