একটি মৃতদেহের গল্প
লেখক- অপরেশ পট্টনায়ক
আকাশটা তখন ডুব দিয়েছে সমুদ্রের সফেদ লবনাক্ত ফ্যানায়,,,,
নীলাম্বর ভেঙ্গে পড়ছে অজস্র ঢেউয়ের তান্ডবে।
মর্গের হিমঘরে বাক্সবন্দী একটা শীতবস্ত্রহীন দেহ
ঠান্ডায় কাঁপছে থরথর,,, থরথর...
শরীরের কুয়াশা আবৃত মুখ ও চোখে জমা হচ্ছে
তুলোর মতো বরফ।
দেহটা যে আমারই অস্বীকার করছি না,,, শুধু,,,
শনাক্ত করবে তোমার দুটো চোখের কালো তারা।
ভয়,,,, ভয় তো আমাকে গ্রাস করছে ক্রমশই
তুমি কি চিনতে পারবে আমায়?
নিরিক্ষন চলছে, --- গোল গোল দুটি তারা ঘুরছে
তীক্ষ্ণ দৃষ্টি পড়ছে কাটাছেঁড়া অর্ধ উলঙ্গ দেহে।
আচ্ছা আমার জীবদ্দশায় কখনো এইভাবে
দেখেছিলে?
গালের আঁচিল, হাঁটুতে জড়ুলের দাগ,,,, আর,,
আমার চোখের তারাগুলো ঈষৎ তাম্রবর্ণ?
এই তো দুই চোখ খোলাই রেখেছি,,, চিনে নাও!
সেদিন মনের গভীরে এক আনন্দবার্তায় উৎফুল্ল
ভাবাবেগে নেচে উঠৈছিলাম,
চাকরিটা না পেলে হয়তো এরকমই একটা দিন আসতো... আর-- তোমার স্থানে থাকতো
আমার বৃদ্ধ বাবা।
সে যাকগে ওটা তো আমার অতীত।
বর্তমানে, আমি শুয়ে আছি মর্গের মেঝেতে
আট নম্বর বাক্সের বাইরে এসে হ্রাস পেয়েছে কাঁপন।
এখনও তুমি ঘুরপাক খাচ্ছো, কতক্ষণ লাগবে চিনে নিতে?... পারবে?... না, তা কি করে সম্ভব আমিই
তো চাই না চেনা দিতে।
আমার হাতের আঙ্গুলের সমস্ত আংটি খুলে কুড়ান কে দিয়ে এসেছি যাতে... ঐ অনাথটার যদি একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ হয়!
একদা রামধনু রঙে সাজিয়ে দিতে এসেছিলে তুমি
বসন্ত সন্ধ্যায়, জীবনের খাতার পাতায় নাম জড়ালে পরস্পরে।
কিছুদিন পর...
মস্তিষ্কের এক উদ্ভট অসুখ ডাইমেনসিয়ায়
আক্রান্ত হলাম... একটা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি কে অসহায় অবস্থায় ফেলে তুমি অন্যত্র দূরে সরে গেলে।
মাঝে মাঝে ভুলে যাই... আমি এখন মৃত শরীর।
অবশেষে সে সত্যিই আমাকে চিনে উঠতেই পারেনি
তার সিঁথির সিঁদুর আপাতদৃষ্টিতে অক্ষয় হলেও যা
ক্ষয় হয়েছে তার অনুতাপের আগুন ক্রমেই দগ্ধ করবে বাসনাভান্ড।
কুড়ান...
সুন্দর ভবিষ্যৎ পেয়েও খুঁজে বেড়াচ্ছে সমুদ্র ফ্যানায় মুঠো ভর্তি ছাইভস্ম।
বিন্দু বিন্দু অশ্রু মিশে যাচ্ছে সমুদ্রনীলে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
বিক্ষুব্ধ বর্ণ সাহিত্য পরিষদ পরিবারের সাথে থাকার জন্য আন্তরিক ধন্যাবাদ 🌹