আমাদের কথা বিক্ষুব্ধ বর্ণ সাহিত্য পরিষদ একটি স্বাধীন সাহিত্যচর্চাভিত্তিক সংগঠন। আমাদের উদ্দেশ্য হলো—কবি, সাহিত্যিক ও নবীন লেখকদের জন্য একটি উন্মুক্ত ও সম্মানজনক প্রকাশমাধ্যম গড়ে তোলা। আমরা নিয়মিত ই–বুক, সাহিত্য সংকলন, কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ প্রকাশ করি। এই প্ল্যাটফর্মে নতুন লেখকদের লেখা যেমন জায়গা পায়, তেমনি প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিকদের সৃষ্টিও পাঠকের কাছে পৌঁছে যায়। আমাদের বিশ্বাস— সাহিত্য শুধু আবেগ নয়, সমাজ পরিবর্তনের এক শক্তিশালী হাতিয়ার।
বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
মুসাফির... - সালাম মালিতা
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
ভালোবাসাহীন হৃদয়ের দিনলিপি ( ১ম পর্ব) লেখক- আকাশ আহমেদ
সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
"আধুনিক চাষীর হাহাকার" কলমে: মুন্নাফ সেখ
![]() |
| মুন্নাফ সেখ |
বাঁচার লড়াই... কলমে- সুবর্ণা দাশ
তোমার মোহে! - রকিবুল ইসলাম।
![]() |
রকিবুল ইসলাম |
শরীর চর্চা... - সমর্পিতা রাহা
চলো বদলাই.... - সর্বানী দাস
![]() |
| সর্বানী দাস |
BBSP কথা... - রেজাউল করিম
একাকিত্বে চাঁদ... - সর্বানী দাস
রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
সংবিধান... - সর্বানী দাস
![]() |
সর্বানী দাস |
বাংলার ছেলে... ✍️উজ্জ্বল কান্তি দাশ
![]() |
| উজ্জ্বল কান্তি দাশ |
বাঁচার লড়াই... কলমে- সুবর্ণা দাশ
![]() |
সুবর্ণা দাশ |
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা... কলমে - হাসিনা খাতুন
![]() |
| হাসিনা খাতুন |
তুমি কার ... সর্বানী দাস
![]() |
| সর্বানী দাস |
মন মানে না.... কলমে- সমর্পিতা রাহা
![]() |
| সমর্পিতা রাহা |
বাউন্ডুলে মন... কলমে --মুন্নাফ সেখ
![]() |
| মুন্নাফ সেখ |
কল্পলোকে.... কলমে :: মেঘদূত
তোমায় অনেক ভালবাসি! কলমে- রকিবুল ইসলাম
![]() |
| রকিবুল ইসলাম |
তুমি না হয় নিঃসীম আঁধারের মাঝে আলোর দিশারী হয়ে আমার স্বপ্নেই বেঁচে থেকো।
তুমি না হয় আবার নতুন করে একান্তই
আমার হয়ে এসো।
তুমি না হয় শুধু আমার জন্য তোমার জীবনের কিছুটা আশা যতন করে রেখো।
তুমি না হয় আবার কিছুটা স্বপন আমার জন্য মুঠো ভরে রেখো।
কান্না না হয় কিছু লুকিয়ে রেখো অতীব যতনে আমার লাগি।
মুছে দিব তা সযতনে আমার নঁকশি আঁকা রুমাল দিয়ে।
শেষ জীবনে সহায়হীন তুমি খুঁজবে সহায় যখন পাগলপ্রায় হয়ে!
হাঁতড়ে বেড়াবে অতীত স্মৃতি সুখের কিছু ছোঁয়া পেতে,
তোমার আকাশের মেঘমালা সরিয়ে আসব নিয়ে তখন স্নিগ্ধ রোদ্দুর,ঝলমলে আলো,,,
তোমার বসুন্ধরা আলোকিত করতে।
তুমি না হয় তোমার চোখের কোণে জমিয়ে রেখো কিছু অশ্রু!
বিসর্জিত হবে যা আমার মরণকালে,পড়বে তোমার কপল বেয়ে।
জুড়াব মোর তপ্ত দেহ,অতৃপ্ত আত্মা সেই অশ্রুজল গায়ে মেখে।
এখন আমার যৌবন,তোমারও তা।
ছুটছ তুমি ভবিষ্যৎ আলোর লোভে ভয়-ডরহীন দিক্বিদিক,নেই কোন পিছুটান।
আমিও সাধিনি বাঁধ তোমার অদম্য যাত্রাতে।
পড়ন্ত বিকেলের শাখাহীন বৃক্ষের ন্যায় ঠাঁই দাড়িয়ে রব নাঙ্গা সর্ব গায়।
তুমি না হয় সেই গাছের গোড়ায় পানি ঢেলে
আমায় একটু সতেজ করো।
তুমি না হয় আমার অন্তিম লগনেই ভালবেসো।
আমার মুখে হাসি ফোঁটানোর জন্য না হয়
একটু কলা করো।
শেষ বয়সে বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে পড়া আমি যখন পাব না ঠাঁই আর কোথাও,
তুমি না হয় তখন আমার আশ্রয় হয়ে এসো।
তখন না হয় সব অহং ভুলে একটু ভালবেসো।
ভুলে যেতে বসা হাসিটাকে না হয় তুমিই আবার শিখিয়ে দিয়ে আমার ঠোঁটে লেপ্টে দিও।
সেই হাসির রাঙা রঙে তোমার ঠোঁট রাঙিয়ে নিও।
তুমিও যখন বৃদ্ধা হবে,অচল তোমার
শয়নের বিছানাটাও না হয় আমিই বিছিয়ে দেব।
বেলা শেষের ডাকে যখন তুমি কাউকে পাবে না পাশে,
বলব আমি,ভয়গো কিসের?
আছি হয়ে সাথী সতত তোমার সাথে।
অবহেলার চাদরে মুড়িয়ে এতদিন যার ভালবাসাকে করেছ তাচ্ছিল্য অবজ্ঞা ভরে!
আমি না হয় এখন এই বয়সে গলা ফাঁটিয়ে বলব (সেই আমি)-
"তোমায় অনেক ভালবাসি।"
শেষ সাদা নদী... কলমে- রেজাউল করীম
![]() |
| রেজাউল করীম |
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
ভোট... - উজ্জ্বল কান্তি দাশ
![]() |
| উজ্জ্বল কান্তি দাশ |
দুঃখাতুর সুখানুভূতি ! - রকিবুল ইসলাম
![]() |
| রকিবুল ইসলাম |
বেদনার নীল আর গগণের নীল একাত্ম হয়ে
আমার সূর্য্য-স্ন্যাত প্রখর দীপ্তিময় আলোকজ্জ্বল বসুন্ধরা
হাতড়ে বেড়াতে শুরু করলাম একটা দিয়াশলাই,,,
আলোর পিদিম জ্বালবো বলে।
হাতড়ালাম বেশ কিছুক্ষণ।
যদি আলো আসে!
তুমি ছিলে যখন, এমন আঁধারেও কোন কিছু
এখন নিরুপায় আমি কি করি বলোতো?
কিন্তু,যে আমি তোমার নেশায় চুর,
তোমার সান্নিধ্যে বুঁদ,
ঘুমঘোরে তুমি প্রায়ঃশই চলে আস।
স্বপ্নের প্রথম প্রহরে তোমায় দেখি সেই প্রথম জীবনের শিশির
এটাই আমার দু:খাতুর সুখানুভূতি!
রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
বদলে দাও পাল্টে দাও ... - উজ্জ্বল কান্তি দাশ
পূণ্য হোক মঙ্গল হোক, নতুন বছরে সবই,
কলম তোমার শানিত কর, ওহে তরুণ কবি,
বদলে দাও পাল্টে দাও,জীর্ণ রুগ্ন ছবি।
বৈশাখে আজ আপনারে কর, ঝড়ের মতোই দূর্বার,
যা কিছু অনিয়ম কুসংস্কার, ভেঙেচুরে কর একাকার,
নতুন নতুন শব্দ চয়নে, কবিতায় তুলো ঝংকার,
ধ্বংসের মাঝে বপন কর,সৃষ্টির জয় জয়কার।
হাওয়ার তোড়ে জাগ্রত হোক, সকল অর্ধ-মরা,
কালবৈশাখী তাণ্ডবে আজ,দূর হয়ে যাক জরা,
জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক, আমাদের এই ধরা,
নিশ্চিহ্ন হোক যাদেরই হয়েছে, পূর্ণ পাপের ঘড়া।
ধর্মান্ধতার আস্ফালনকে,করো নাকো আর ভয়,
ভয়ের চোখে চোখ রেখে আজ, ভয়টাকে কর জয়,
মিথ্যের কাছে নত হলে পড়ে, সত্যের হবে ক্ষয়,
সবার প্রথমে মানুষ আমরা, এটাই হোক পরিচয়।
ঘৃণা বিদ্বেষ হিংসা যত এক্ষুনি হোক শেষ,
স্নেহ মমতার কোমল পরশে ঘুচাক মনের ক্লেশ,
সবার প্রাণে ছড়িয়ে পড়ুক, ভালোবাসার রেশ,
নববর্ষে নব শপথে গড়বো মোদের দেশ।
নব আলোকে মুক্ত হবো বিভেদের জাল হতে,
এ দেশ আমার এগিয়ে যাবে বহুত্ববাদ মতে,
মিলনের গান গাইবো মোরা, জীবন চলার পথে,
নতুন স্বদেশ দেখবো ঘুরে, সাম্যের পুষ্প রথে।
কবিতায় কবি... কলমে- সুবর্ণা দাশ
![]() |
| সুবর্ণা দাশ |
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
এ কেমন পরিচয় ? - লেখক: আকাশ আহমেদ
![]() |
| এ কেমন পরিচয় ? |
না কোনো ধর্ম, না কোনো জাত, না কোনো বিভাজন।
আমি ছিলাম শুধু এক নিঃশব্দ স্পন্দন- একটি প্রাণ, যে পৃথিবীতে আসার অপেক্ষায়।
মায়ের গর্ভে আমি কখনো শুনিনি -
“তুমি হিন্দু হবে”,
“তুমি মুসলিম হবে”,
“তুমি অন্য কিছু হবে।”
আমি শুধু শুনেছি -
একটা হৃদয়ের শব্দ- ধক ধক ধক…
যেখানে ভালোবাসা ছিল, কিন্তু কোনো বিভাজন ছিল না।
তারপর একদিন আমি জন্ম নিলাম।
আমার প্রথম কান্না পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে পড়লো-
কিন্তু সেই কান্না থামার আগেই
আমার কানে ভেসে এলো-
“নাম রাখো… আকাশ।”
আমি তখনও জানতাম না-
এই নামের সঙ্গে আমার জন্য আরেকটা অদৃশ্য শেকল অপেক্ষা করছে।
কিছুক্ষণ পরই কেউ বললো-
“এ আমাদের ধর্মের সন্তান।”
আমি বুঝলাম না।
কারণ তখনও আমি মানুষ হওয়াটাই ঠিকমতো বুঝে উঠিনি।
ছোটবেলায় আমি খুব সাধারণ ছিলাম-
হাসতাম, খেলতাম, দৌড়াতাম।
আমার বন্ধু ছিল অনেক-
তাদের মধ্যে ছিল অপু, রোহন, সুমন, আয়েশা, রিমি…
আমরা কেউ কাউকে জিজ্ঞেস করতাম না-
“তুই কোন ধর্মের?”
কারণ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল-
“তুই আমার বন্ধু কিনা।”
একদিন বিকেলে আমরা সবাই মিলে খেলছিলাম।
হঠাৎ অপুর মা এসে তাকে টেনে নিয়ে গেলেন।
আমার দিকে তাকিয়ে কেমন একটা অদ্ভুত চোখে বললেন-
“ওদের সঙ্গে বেশি মিশিস না।”
আমি থমকে গেলাম।
“ওদের” মানে?
আমি কি আলাদা?
সেদিন প্রথমবার আমি নিজের ভেতরে একটা প্রশ্ন অনুভব করলাম-
আমি কি শুধু ‘আকাশ’?
না কি তার চেয়েও কিছু?
স্কুলে গিয়ে সেই প্রশ্ন আরও বড় হলো।
একদিন ক্লাসে শিক্ষক বললেন-
“তোমাদের ধর্ম অনুযায়ী আলাদা লাইনে দাঁড়াও।”
সবাই দাঁড়িয়ে গেলো-
কেউ ডানে, কেউ বামে।
আমি মাঝখানে দাঁড়িয়ে রইলাম।
শিক্ষক বললেন-
“আকাশ, তুমি ওদিকে যাও।”
আমি ধীরে ধীরে হাঁটলাম।
কিন্তু মনে হচ্ছিল-
আমি যেন নিজের থেকে দূরে চলে যাচ্ছি।
সেদিন বাড়ি ফিরে মাকে জিজ্ঞেস করলাম-
“মা, আমি কি শুধু মানুষ হতে পারি না?”
মা চুপ করে রইলেন।
তার চোখে আমি জল দেখলাম।
তিনি শুধু বললেন-
“সবাই পারে না, বাবা…”
বড় হতে হতে আমি বুঝতে শুরু করলাম-
এই পৃথিবী নাম আর ধর্মের মধ্যে মানুষকে ভাগ করে রাখে।
ইতিহাসের বই খুলে দেখি-
রক্তের দাগ।
ধর্মের নামে যুদ্ধ, হত্যা, দাঙ্গা…
আমি ভাবলাম-
যে ধর্ম মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়,
সেই ধর্মের নামেই এত ঘৃণা কেন?
কলেজে উঠার পর আবার অপুর সঙ্গে দেখা।
অনেকদিন পর।
সে আমাকে দেখে হাসলো-
“কিরে আকাশ! ভুলে গেছিস নাকি?”
আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম।
সেই আলিঙ্গনে কোনো ধর্ম ছিল না-
ছিল শুধু হারানো বন্ধুত্ব।
আমরা আবার একসাথে সময় কাটাতে লাগলাম।
মনে হচ্ছিল-
সবকিছু আবার ঠিক হয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু পৃথিবী এত সহজে ঠিক হয় না।
এক সন্ধ্যায় শহরে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লো।
খবর এলো-
দাঙ্গা শুরু হয়েছে।
রাস্তা জ্বলছে, মানুষ দৌড়াচ্ছে, চিৎকার…
ভয় ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে।
হঠাৎ ফোন এলো-
“অপুদের বাড়িতে হামলা হয়েছে!”
আমার বুক কেঁপে উঠলো।
আমি সবকিছু ভুলে দৌড়ে গেলাম।
পৌঁছে দেখি-
বাড়ির দরজা ভাঙা, দেয়ালে আগুনের দাগ,
চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা স্মৃতি।
অপু কোণায় বসে আছে-
তার চোখে ভয়, ঠোঁট কাঁপছে।
আমি ধীরে ধীরে তার কাছে গেলাম।
সে আমাকে দেখে হঠাৎ জড়িয়ে ধরলো-
আর ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।
“আকাশ… আমরা কি ভুল করেছি?”
আমি স্তব্ধ।
আমার গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হলো না।
সে আবার বললো-
“বন্ধু হওয়াটা কি অপরাধ?”
আমার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লো।
আমি শুধু তাকে শক্ত করে ধরে রাখলাম।
সেই মুহূর্তে-
আমরা কেউ কোনো ধর্মের ছিলাম না।
আমরা শুধু দুটো মানুষ-
যারা ভেঙে পড়েছে।
সেই রাতটা আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে কাটালাম।
তারারা ঝলমল করছিল।
চাঁদ নিঃশব্দে আলো ছড়াচ্ছিল।
আমি ভাবলাম-
এরা কি কখনো মানুষকে ভাগ করে?
না।
প্রকৃতি কাউকে আলাদা করে না।
শুধু মানুষই করে।
আমি লিখতে শুরু করলাম।
সব কাগজে ঢেলে দিলাম।
“আমি জন্মের আগে কিছুই জানতাম না,
তবু জন্মের পর আমাকে পরিচয়ের ভারে চাপা দেওয়া হলো।
আমি কি মানুষ হওয়ার অধিকার রাখি না?
আমি কি শুধু ভালোবাসতে পারি না-
কোনো শর্ত ছাড়াই?”
একদিন আমি মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম।
বললাম-
“আমার নাম আকাশ।
এই নামের আগে বা পরে কোনো ট্যাগ লাগাতে চাই না।
কারণ আমি বিশ্বাস করি-
মানুষ হওয়াটাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।
যদি ধর্ম আমাকে মানুষ থেকে আলাদা করে,
তাহলে সেই ধর্মের মানে কী?”
পুরো হলঘর নীরব হয়ে গেলো।
কেউ কিছু বললো না-
কিন্তু অনেকের চোখে জল ছিল।
সেই জলই প্রমাণ-
মানুষ এখনও বেঁচে আছে।
আজও পৃথিবী পুরো বদলায়নি।
এখনও ধর্মের নামে বিভাজন হয়,
এখনও মানুষ মানুষকে আঘাত করে।
কিন্তু আমি বিশ্বাস হারাইনি।
কারণ আমি দেখেছি-
ধ্বংসের মাঝেও বন্ধুত্ব বেঁচে থাকে,
ভয়ের মাঝেও ভালোবাসা জন্ম নেয়।
আমি আজও সেই প্রশ্ন করি-
“আমি কি মানুষ পরিচয়ে বাঁচার অধিকার রাখি না?”
হয়তো একদিন-
কোনো শিশুকে জন্মের পর বলা হবে না-
“তুমি এই ধর্মের।”
বরং বলা হবে-
“তুমি মানুষ, এটাই তোমার পরিচয়।”
সেই দিন-
পৃথিবী সত্যিই সুন্দর হবে।
আর আমি…
সেই দিনের অপেক্ষায় আছি-
চোখ ভরা স্বপ্ন আর বুকভরা ব্যথা নিয়ে।
কারণ আমি আকাশ-
আমি সবার, আবার কারও না।
আমি শুধু একজন মানুষ হতে চাই…
— শেষ —
তুমি মিলিয়ে নিও... - উজ্জ্বল কান্তি দাশ
তারাকে দেখে,
মনে মনে তোমাকেই চেয়েছি।
যতবার কোন মন্দির মসজিদ,
গীর্জা প্যাগোডা সামনে পড়েছে,
ততবার এই হাত দুটি উঠেছে,
তোমারই মঙ্গল প্রার্থনায়,
তাই চেয়েছি শুধু,
তুমি যা চাও।
যে ব্যথা অনুভব করি,
সেটি আমার একান্ত নিজস্ব,
একান্ত আপন ব্যথা।
যা আমি কাউকে বলবো না,
কোনোদিনও বোঝাতে যাবো না কাউকে।
জলাশয়ে ঢিল ছুঁড়লে যেমন,
তা থেকে সৃষ্ট তরঙ্গ,
সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ে,
আমার হৃদপিণ্ডে তরঙ্গের সৃষ্টি করে,
আর তা ছড়িয়ে পড়ে,
আমার সমস্ত শরীরে।
আমার বুকে ধুকপুক করে না,
সেখানে ধ্বনিত হয় একটি নাম,
তোমার নাম।
কখনো পরীক্ষা করতে চাইলে,
এই বুকে কান পেতে দেখো শুনতে পাবে।
আমার পৃথিবী জুড়ে,
সমুদ্রের ঢেউ আর গর্জন দেখে
মনে হয় সমুদ্র কত উৎফুল্ল!
কেউ বোঝেনা তাকে
তীরকে ছোঁয়ার তার কি ব্যাকুলতা!
ঠিক তেমনই আমাকে দেখেও সবাই ভাবে,
কতটা প্রাণবন্ত!
এই সবকিছুর মাঝেও যে,
কতটা বিষাদ আমাকে ঘিরে থাকে, আছে।
এই আমি যে একটা জীবন্ত লাশ,
আমি ভালো কি মন্দ,
সে বিতর্কে যেতে চাই না,
শুধু এটুকু বলবো,
যদি কাঁচের মতো আমাকে,
টুকরো টুকরোও করে ভেঙ্গে দাও,
দেখবে সেই ভাঙ্গা টুকরোগুলোর প্রতিটিতে,
শুধু তুমিই আছো,তুমিই থাকবে,
এখন তুমি বুঝবে না,
সেই দিন তোমার উপলব্ধি হবে,
সেই দিন তুমি বুঝবে,
সেই দিন তুমি খুঁজবে,
আমি বলে গেলাম,
তুমি মিলিয়ে নিও।
চাঁদ তুমি সাক্ষী থেকো... - সালাম মালিতা
আজকের মীরজাফর... - সর্বানী দাস
পিঠে ছুঁরি মারে তাকে, তবু বিশ্বাস করে,
সংশোধনের সুযোগ দিয়ে বন্ধুর হাত ধরে।
নবাব চেনে মীরজাফরকে, চেনে প্রধান মন্ত্রী ,
রাজ্য ধ্বংস করার জন্য মীরজাফররাই ষড়যন্ত্রী।
নবাব তিনি উদারতায় রাখেন নিজের চিন্তা,
মীরজাফরের মনে মাদল ধ্বংসে তাধিন ধিন তা।
নবাব কর্মে বিশ্বাস রেখে রাখেন নিজের সৃষ্টি,
মীরজাফদের চরিত জানতে পড়তে হবে হিস্ট্রি।
নিজের পাতা নানান ফাঁদে নিজেই বন্দি হলে,
কালো বিষের নীলচে ছোঁয়া লেখার হলাহলে।
কণ্ঠে বিষ পান করে নবাব মুচকি হাসে,
মীরজাফররা ভালো সাজার অভিনয়ে ভাসে।
মুখে বলে এই করেছি ওই করেছি আমি,
কৃতজ্ঞতা রাখেন নবাব রুচি যে তার দামি।
কিন্তু নবাব পড়লো হিস্ট্রি প্রমাণ পেল হাতে,
মীরজাফরও কম যায় না খসড়া লিখলো রাতে।
হুমকি দিল ভাবলো মনে নবাব চমকে যাবে,
তার মতন আর বেঈমান মানুষ কোথায় বা আর পাবে।
বলছি শুনুন নবাব মশাই আমরা আছি দেশে,
সৎ সততা সত্য নিষ্ঠা সুস্থ চর্চায় মেশে
দেবস্মিতার কথা... --জয়দীপ বসু
![]() |
| জয়দীপ বসু |
ক্ষুধার শহরে ফেরিওয়ালা... - মুন্নাফ সেখ
![]() |
| কবি - মুন্নাফ সেখ |
শহর যখন এসি-তে ঘুমায়, আমার জীবন ঘাম।
পিঠের ওপর পাহাড় সমান ব্যাগের বোঝা ভারী,
সবার ক্ষুধা মেটাতে গিয়েও নিজের শান্তি হারি।
তপ্ত পিচে ট্রাফিক জ্যামে ফুরিয়ে যায় যে বেলা,
আমার খিদের খবর রাখে না নাগরিক এই খেলা।
কারো দুয়ারে বিরিয়ানি দিই, কারো বাড়িতে ওষুধ,
আমার নিজের ঘরেই অভাব, মেটেনি ঋণের সুদ।
কলিং বেলটা বাজানোর পরে কেউ দেখে রুক্ষ চোখে,
মানুষ আমায় রোবট ভাবে, রক্ত-মাংস দেখছে ক'কে?
অচেনা গলিতে পথ হারাই আমি, গুগলও দেয় ফাঁকি,
রন্ধ্র বেয়ে ঘাম ঝরে পড়ে, ক্লান্তি যে আর বাকি।
আপনার ঘরে ডাইনিং টেবিলে খাবারের মেলা যখন,
রাস্তার ধারের জলের কলটা আমার ভরসা তখন।
আমারও তো এক ছোট্ট বাড়ি, আছে এক বুড়ো মা,
পথ চেয়ে থাকে অবুঝ মেয়েটি, ভুলতে তো পারি না।
বৃষ্টিতে ভিজে পথ চলি যখন, শীতে কাঁপে থরথর বুক,
স্মার্টফোনের ওই স্ক্রিনেতে খুঁজি হারানো দিনের সুখ।
বখশিশ দিতে কার্পণ্য করে, মুখ ঘোরে সব পাশে,
জানেন কি এক টাকা কমলে স্বপ্ন বিষাদে ভাসে?
সবার অভাব মিটিয়ে যখন ঘরে ফিরি মাঝরাতে,
এক চিমটি নুন-লঙ্কা দিই শুকনো শীতল ভাতে।
দুর্ঘটনার ভয়টা তাড়া করে মোড়ে আর বাঁকে,
জীবনটা মোর সস্তা বড়, কেউ কি মনেতে রাখে?
আমি তো রোবট নই গো বন্ধু, আমারও আছে এক মন,
অবহেলা আর যন্ত্রণাতে কাটে আমার প্রতিটি ক্ষণ।
অচেনা শহর, অচেনা মানুষ, আমি এক যাযাবর,
হাসির আড়ালে চাপা আছে মোর এক সমুদ্র ঝড়।
বুক চিরে যদি দেখানো যেত জমা থাকা দীর্ঘশ্বাস,
বুঝতেন এই শহরটা আমার এক নীল কারাবাস।
🔰 গুচ্ছ কবিতা 🔰 - কবি -জুঁই চক্রবর্তী
সত্যি কোথায় চলে গেছো ফিরবে না কোনোদিন
অপেক্ষা রইবো না আর ভাবি সারাদিন।
সবসময় ভালো থেকো এই কথা ভাবি
স্বপ্ন যদি নাও হয় বাস্তবতাকে মানি।
কবিতা - গীতাগীতা পাঠ করে যারা পাপ ক্ষয় হয়এই কথা আমি বলছি শোনো নিশ্চয়।পাপীরা তো পড়ে না নিন্দা মন্দ করেঅবুঝ হলে বলো কি ওরা কি তা শোনে।স্বর্গেতে যায় না নরকে যায়এইবারে বুঝবে কি তা শাস্তি টা পায়।
কবিতা - মুখে ভাতআমার পোগো ছোট্ট সোনা শেখেনি তো কথাতবুও তাকে মানতে হবে অনেক রকম প্রথা।ভাত খাবে মামারবাড়ি এই শ্রাবন মাসেপোগো সোনা চাইছে সেদিন মাসি যেনো আসে।হাঁটি হাঁটি পায়ে পায়ে আমি যেতে পারি বলতেমনে কিছু কোরোনা তাই ভুলো নাকো আসতে।
পেটে কথা থাকে না তো মুখে আসে সব
কি যে বলবো আমি করি গড়বড়।
বয়স তো হচ্ছে বুদ্ধিটা কমছে
মনের জোর হারাইনি শরীরটা ভেঙেছে।
ছোটবেলা দিনগুলো একরকম ছিল
বড়ো হয়ে সেই দিন কেমন বদলে গেল।
প্রতিদিন চুপ করে একা বসে থাকি
গালে হাত দিয়ে সেই কথা মনে মনে ভাবি।
মার হাত ধরে আমি স্কুলে চলে যেতাম
রাস্তায় এতো গাড়ি হুড়োহুড়ি করতাম।
তাড়াতাড়ি মা চলো ঘন্টা বেজে যাবে
একটু দেরি করলে আবার দরজা বন্ধ হবে।
মা বলে ওরে দাড়া সাবধানে চল
ঠিক পৌঁছে যাবো আমি কম কথা বল।
আমি একটা গল্প... কলমে -সন্দীপ সাঁতরা
চা খাবে? আজ একটু আগেই বসেছি অবাক! কাজ ফেলে বসা তোমার স্বভাবে নেই তো। আজ মে দিবস, তাই নিজেকেই একটু সময় দিলাম। নিজের সাথে কথা বলছো? হ্যাঁ, সা...
জনপ্রিয় পোস্ট
-
রাজ কিশোর দাস বুঝি না আমি কী করছি! জানি না আমার দাবি কী? সবাই কি দূরে সরে যাচ্ছে? নাকি আমায় নিয়ে ঘৃণা জমছে? খুঁজছি আমি আজও তাদের! অকল্যাণ...
-
সুবর্ণা দাশ শুরু হলো তুমুল ঝড়, প্রকৃতির রুদ্র মুর্তি যেন, এক্ষুনি গ্রাস করে নেবে সব। প্রবল তান্ডব বাইরে! গাছপালা দুমড়ে মুচড়ে ভেঙ্গে প...
-
উজ্জ্বল কান্তি দাশ আঁধার চিরে বেরিয়ে এসো,নব প্রভাতের রবি, পূণ্য হোক মঙ্গল হোক, নতুন বছরে সবই, কলম তোমার শানিত কর, ওহে তরুণ কবি, বদলে ...




























