বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

মুসাফির... - সালাম মালিতা

 
সালাম মালিতা 



এই যে সদা
আমার আমার করে রক্তের হোলি খেলে
নিমেষেই সম্পর্ক বিনষ্ট করে ফেলি,
আমার বলতে আসলে কতটুকু? 
পৃথিবীর কোনো মূল্যে কখনোই
আজও কেউ সময়কে আটকে রাখতে পারিনি, 
কালের অতলে নমরুদ, ফিরাউন, হিটলার 
সবাই হারিয়ে গেছে, 
আমাদেরও সময়মতো ঠিক চলে যেতে হবে-
তাহলে ক্ষমতার বড়াই করে কালিমালিপ্ত হৃদয়ে
দীর্ঘায়ু প্রাপ্তিতে লাভ কতটা?

স্মৃতির অ্যালবামে বন্দি আছে 
অতীতের সকল কুকর্মের জীবন্ত দলীল, 
শৈশব, কৈশোর, যৌবন পেরিয়ে 
একটা সময় পর অনিচ্ছা সত্ত্বেও বার্ধক্য আসে।
পৃথিবীর সকল জ্বীন-ইনসান, নর-নারী
শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার সাথে সাথেই
সৌন্দর্য, দাম্ভিকতার বিনাশ হয়ে-
শুধুই ইয়া নাফসি....ইয়া নাফসি ধ্বনি উঠবে,
তাহলে আমিও সেই আঠারো হাজার মখলুকাতেরই 
একজন অধম বান্দা,
আমাকেও নিশ্চিতরূপে হাশরের ময়দানে 
উপস্থিত হতে হবে...! 
পুলসিরাত পার হতে হবে, শেষ বিচারে বসতে হবে..! 
তাহলে কেন এ মিথ্যা আয়োজন? 

জাহান্নামের ভীতি কলবে রেখে
ঈমান-আকিদার সাথে জীবনধারণ করলেই-
বেহেশতের সর্বোচ্চ মাকাম হাসিল হবে।
আমিতো মাত্র দু'দিনের মুসাফির 
আমার জন্যও কোনো এক অন্ধকার বাঁশ বাগানে-
মাত্র সাড়ে তিন হাত বরাদ্দ আছে, 
মালাকুল মউত জানটা কবজ করতেই
সবাই পর করে রেখে আসবে কবর ঘরে। 

তাই কবরের জিন্দেগি আসান করতে 
আসুন আমরা এই মুসাফিরগণ-
পকেট বিহীন কাফনের কাপড়ের জন্য
অন্যের হক না ঠকিয়ে কম সঞ্চয় করি।
আমলনামা ডান হাতে গ্রহণ করতে
জাহান্নামের আজাবের ভয় করি,
আর আল্লাহর বিধান মেনে
জীবদ্দশায় নবীর দেখানো পথ অনুসরণ করে-
খোদার নিকট মুমিন হয়েই প্রত্যাবর্তন করি...!

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

ভালোবাসাহীন হৃদয়ের দিনলিপি ( ১ম পর্ব) লেখক- আকাশ আহমেদ



(১ম পর্ব)
নীরব এক শুরুর গল্প...

মানুষের জীবন সবসময় শব্দে ভরা থাকে না। কিছু জীবন আছে, যেগুলো বাইরে থেকে স্বাভাবিক, সফল, এমনকি প্রশংসনীয়- কিন্তু ভেতরে ভেতরে নিঃশব্দে ভেঙে পড়ে। সেই ভাঙার শব্দ কেউ শোনে না, কারণ সেটা কেবল হৃদয়ের ভেতরেই প্রতিধ্বনিত হয়।

আকাশের জীবন ঠিক তেমনই।

ছোটবেলা থেকেই আকাশ ছিল অদ্ভুত রকমের শান্ত। পাড়ার ছেলেরা যখন হৈচৈ করত, ক্রিকেট খেলত, ঝগড়া করত, তখন আকাশ হয়তো কোনো এক কোণে বসে বইয়ের পাতা উল্টাত, অথবা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকত। তার ভেতরে একটা আলাদা জগত ছিল- যেখানে শব্দ কম, ভাবনা বেশি।

তার মা প্রায়ই চিন্তিত হয়ে বলতেন,
“এই ছেলে এত চুপচাপ কেন? কারও সাথে মিশতে চায় না কেন?”
আকাশ কোনো উত্তর দিত না। সে নিজেও জানত না কেন সে এমন।

স্কুলজীবন তার কেটে গেল এক অদ্ভুত নির্লিপ্ততায়। সে ভালো ছাত্র ছিল, শিক্ষকরা তাকে পছন্দ করতেন, সহপাঠীরা তাকে সম্মান করত- কিন্তু কেউ তার খুব কাছের ছিল না। বন্ধুত্ব যেন তার জীবনে কখনো গভীরভাবে প্রবেশ করতে পারেনি।

আর প্রেম?

সেটা তো তার জীবনে কোনোদিন আসেইনি।
যখন তার বন্ধুরা প্রেমে পড়তে শুরু করল, চিঠি লিখল, লুকিয়ে দেখা করল- আকাশ দূর থেকে সব দেখেছে। কিন্তু তার মনে কখনো তেমন কোনো অনুভূতি জাগেনি।

না, সে পাথর ছিল না।
কিন্তু সে নিজের অনুভূতিগুলোকে কখনো গুরুত্ব দেয়নি।
হয়তো সে ভয় পেত।
হয়তো সে বুঝত না।
হয়তো সে নিজেকে সেই জায়গায় কল্পনাই করতে পারত না।

সময় পেরিয়ে গেল।
জীবনের বাস্তবতা সামনে এসে দাঁড়াল।

অনেকে চাকরি নিল, কেউ বিদেশে গেল, কেউ সংসার গড়ল।
আকাশ অন্য পথ বেছে নিল।
সে নিজের একটি ট্রেড ব্যবসা শুরু করল।

শুরুর সময়টা ছিল কঠিন। পুঁজি কম, অভিজ্ঞতা কম, মানুষের বিশ্বাস কম- সব মিলিয়ে তাকে প্রতিটা পদক্ষেপে লড়াই করতে হয়েছে। কিন্তু আকাশের একটা জিনিস ছিল- ধৈর্য।

সে চুপচাপ কাজ করে গেছে।
দিনের পর দিন, রাতের পর রাত- সে নিজের ব্যবসাকে দাঁড় করিয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পণ্য সংগ্রহ, আবার বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ- ধীরে ধীরে তার কাজের পরিধি বাড়তে লাগল।

মানুষ তাকে চিনতে শুরু করল।
তার ফোন ব্যস্ত থাকতে শুরু করল।
তার নামের সাথে “বিশ্বাসযোগ্য” শব্দটা জুড়ে গেল।
কিন্তু জীবনের এই সাফল্যের মাঝেও একটা জিনিস একই রয়ে গেল -
তার ব্যক্তিগত শূন্যতা।

আকাশের জীবনে কোনো প্রেম নেই।
কোনো সম্পর্ক নেই।
কোনো বিশেষ মানুষ নেই, যে তার জন্য অপেক্ষা করে।
দিন শেষে যখন সে বাড়ি ফেরে, তখন তার জন্য কেউ দরজা খুলে দেয় না।
কেউ বলে না- “আজ এত দেরি কেন?”
কেউ তার ক্লান্ত মুখ দেখে জিজ্ঞেস করে না- “তুমি ঠিক আছো তো?”
তার ঘরটা পরিপাটি, কিন্তু নির্জন।

একটা টেবিল, কিছু বই, একটা ল্যাম্প, আর একটা জানালা- যেখান দিয়ে সন্ধ্যার আলো ঢোকে। সেই আলোয় বসে আকাশ মাঝে মাঝে নিজের সাথে কথা বলে।

একদিন রাতে সে ডায়েরি খুলল।
অনেকদিন পর।
কলম হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।

তারপর লিখল-
“আমি জানি না আমি কী হারিয়েছি। কিন্তু আমি অনুভব করি- আমার ভেতরে কিছু একটা নেই। এমন কিছু, যা অন্যদের আছে।”

সে থেমে গেল।

এই কথাটা লিখে সে নিজেই অবাক হলো।
কারণ সে প্রথমবার নিজের শূন্যতাকে স্বীকার করল।

পরদিন আবার তার ব্যস্ত জীবন শুরু হলো।
কিন্তু এবার তার ভেতরে একটা প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে।

“আমি কি সত্যিই সম্পূর্ণ?”

এই প্রশ্নটা তাকে তাড়া করতে লাগল।
কাজের মাঝে, মানুষের সাথে কথা বলার মাঝে, একা থাকার সময়- সবসময় এই প্রশ্নটা তার মাথায় ঘুরতে থাকে।

সে উত্তর খুঁজতে চেষ্টা করে।
কিন্তু কোনো উত্তর পায় না।

একদিন সে সামাজিক কাজের জন্য একটি বস্তিতে গেল।
সে আগে থেকেই কিছু সামাজিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিল। গরিবদের সাহায্য করা, অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো- এই কাজগুলো সে করে।

সেদিন তারা খাবার বিতরণ করছিল।
মানুষের ভিড়, বাচ্চাদের হাসি, হাত বাড়িয়ে দেওয়া মানুষ- এইসবের মাঝে আকাশ নিজেকে ব্যস্ত রাখল।

হঠাৎ তার চোখে একটা দৃশ্য ধরা পড়ল।
একজন মা তার ছোট ছেলেটাকে কোলে বসিয়ে খাওয়াচ্ছে।
খাবার খুব সামান্য।

কিন্তু মায়ের চোখে যে মমতা, সেটা অমূল্য।
ছেলেটা হাসছে, মায়ের গলায় জড়িয়ে ধরছে।

আকাশ স্থির হয়ে গেল।
সে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্যটা দেখল।
তার বুকের ভেতর কেমন যেন একটা অচেনা অনুভূতি জাগল।
সে বুঝতে পারল না এটা কী।
কিন্তু সে জানল- সে এই অনুভূতিটা আগে কখনো পায়নি।

সেই রাতে সে আবার লিখল -
“আজ আমি ভালোবাসা দেখলাম। খুব কাছ থেকে। কিন্তু আমি সেটা অনুভব করতে পারলাম না। আমি শুধু দেখলাম। আমি একজন দর্শক- নিজের জীবনেরও, অন্যের জীবনেরও।”

তার হাত কাঁপছিল।
কিন্তু সে লিখে গেল।

দিনগুলো আবার চলতে লাগল।
কিন্তু এখন আকাশ বদলাতে শুরু করেছে।

সে মানুষের দিকে তাকায়।
তাদের হাসি, তাদের কথা, তাদের সম্পর্ক- সবকিছু সে খেয়াল করে।
সে বুঝতে শুরু করেছে- ভালোবাসা শুধু একটা অনুভূতি নয়, এটা একটা সংযোগ।
আর সেই সংযোগ তার জীবনে নেই।

একদিন রাতে বৃষ্টি হচ্ছিল।
আকাশ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।
বৃষ্টির শব্দ, ঠান্ডা বাতাস- সব মিলিয়ে একটা অদ্ভুত নীরবতা।
সে নিজের প্রতিচ্ছবির দিকে তাকাল।

নিজেকে দেখে তার মনে হলো- এই মানুষটাকে সে চেনে না।
সে ধীরে ধীরে বলল- 
“আমি কে?”
প্রশ্নটা বাতাসে মিলিয়ে গেল।
কোনো উত্তর এল না।

সে আবার ডায়েরি খুলল।

এইবার সে লিখল- 
“আমার জীবনে কোনো প্রেম নেই। কোনো স্মৃতি নেই, যেখানে কারও হাত ধরেছিলাম। কেউ আমাকে ভালোবেসে ডাকেনি, আমিও কাউকে ডাকি নি। আমি জানি না ভালোবাসা কেমন।”
“আমি শুধু জানি- আমি একা।”

সেই রাতটা ছিল তার জীবনের এক মোড়।
কারণ সেই রাতে সে প্রথমবার নিজের একাকীত্বকে পুরোপুরি অনুভব করল।

আকাশ এখনো একই মানুষ।
ব্যবসায়ী।
সামাজিকভাবে সক্রিয়।
মানুষের কাছে সম্মানিত।
কিন্তু তার ভেতরে এখন একটা যাত্রা শুরু হয়েছে-
নিজেকে খুঁজে পাওয়ার যাত্রা।


(লেখা চলমান থাকবে, ২য় পর্ব  খুব শীঘ্রই প্রকাশ পাবে...)

সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

"আধুনিক চাষীর হাহাকার" কলমে: মুন্নাফ সেখ

 মুন্নাফ সেখ



আমি চাষা, রোদে পোড়া, ধুলার মানুষ ভাই,
হাড়ভাঙা খাটুনি খাটি, পেটে ভাত নাই।
আগের দিনের কাঠের নাঙল, হারায় গেছে কই?
গরুর পাল্লা ছাইড়া এখন কলের পিছে সই।

অহন মাঠ চষে ঐ লোহার দানব ট্রাক্টর দিয়া,
ঘণ্টা গুনে টাকা দিই, বুকটা যায় রে ফাটা।
মেশিন দিয়া জল তুলি ভাই, মেশিন দিলে তেল,
পয়সা ছাড়া এই যুগে সব চাষবাসের খেল।

আকাশ থাইকা নামে না জল, মেশিনে সব কড়ি,
পকেটের টাকা শুষে নেয় ঐ জলের ঘড়ি।
ইউরিয়া আর বিষের দামে হাত দিও না বাপ,
চাষীর ঘাড়ের উপর যেন বিষাক্ত এক সাপ।

হাইব্রিড ঐ বিচের নামে কত টাকা যায়,
পুরান দিনের ধানের জাত আর দেখা না পায়।
নিজের হাতে কাম কাজ কি আর আগের মতো আছে?
সব জায়গায় টাকার গাছ, আমরা তার নিচে।

ধান কাটার সময় অহন লেবার পায় না কাজ,
আকাশ ছোঁয়া মজুরি তাদের, গায়ে লাগে না লাজ।
সবার পাওনা মিটাইতে মোর জানটা হয়ে শেষ,
ফসল যখন আসে ঘরে, কাঙ্গাল বেশেই বেশ।

ট্রাক্টরঅলার দেনা আছে, সারের দোকানেও বাকি,
নিজের কপাল পুইড়া কেবল নিজেরে দেই ফাঁকি।
সবাই যখন লাভ বুঝল, আমার পকেট ফাঁকা,
চাষীর চোখে জল ঝরে রে, ঘুরল না আর চাকা।

রক্ত পানি করা ধানে পেট ভরে না ভাই,
সব মিটাইয়া দিন শেষে মোর হাত খালি টাই।
চাষার ঘরে অভাব কেবল রাজত্বি যে করে,
সোনার ফসল ফলাইয়াও আমরা কেবল মরি রে।

বাঁচার লড়াই... কলমে- সুবর্ণা দাশ

 
সুবর্ণা দাশ


শুরু হলো তুমুল ঝড়, 
প্রকৃতির রুদ্র মুর্তি যেন, 
এক্ষুনি গ্রাস করে নেবে সব। 
প্রবল তান্ডব বাইরে! 
গাছপালা দুমড়ে মুচড়ে
ভেঙ্গে পড়ছে, 
পাখিরা হারালো তাদের
সুন্দর পরিপাটি থাকার ঘর খানা। 
ভিজে জবুথবু হয়ে-
জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছে। 
একটি পাখির ছানা মাটিতে পড়ে
আপ্রাণ ডেকে যাচ্ছে। 
সেই ডাকে ছিল তীব্র
বাঁচার আকুতি! 
মা পাখিটি নিরুপায়, 
অনেক কষ্টে ডানা দিয়ে
আগলে রাখার বৃথা চেষ্টা। 
থরথর করে কাঁপছে 
বাবা পাখিটিও।
হঠাৎ ঝড়ে উড়িয়ে নিলো
তাদের সাধের ঘর খানা! 
ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে
পাখি দুটি! 
যে গাছে তাদের ঘর ছিলো, 
মড়মড় করে ভেঙ্গে গেলো
সেই গাছটাও!
অচেনা সুর বেরলো পাখি দুটির
কন্ঠ হতে! 
হয়তো কাঁদছে, ওদের তো চোখের
জল দেখা যাচ্ছে না!
ওদের দুঃখ আছে, 
ওদেরও স্বপ্ন ভাঙ্গে, 
ওরাও লড়াই করে বাঁচে।

তোমার মোহে! - রকিবুল ইসলাম।

 
রকিবুল ইসলাম



এই পৃথিবীর বুকে, 
লক্ষ কোটি জনমানবের ভিড়ে!
কেউ একজন করে মনে আমারে!
কষ্ট পায় সে,আমার কষ্টে,,,,।
ঠিক আমার মত করে।
আবার খুশি হয় সেও,, 
আমারই হাসি মাখা মুখ দেখে।
মন বলে চোখ বন্ধ করে ভেবে দেখো,
কল্পনার জগতে খুঁজে পাবে তারে!!
খুঁজে চলেছি নিরন্তর,,,
এই নশ্বর ধরণীর অবিনশ্বর জীবাত্মা সমূহের ভীড়ে,,,,!
একজন তুমি যে আমারে অহর্নিশি কর মনে!
কষ্ট পাও আমার কষ্টে।
ফেটে পড় অট্টহাসিতে আমার খুশিতে।
তারে কোন কল্পলোকের আঁধার ভুবনে নয়,
খুঁজেছি স্বীয় সত্তার মাঝে।
পেয়েছি অবশেষে আমার অন্তর্মাঝের মানসপটের ক্যানভাসে।
এঁকেছি ছবি দিনমান ভরে মনের তুলিতে।
আলেয়ার আলো হয়ে এসে যে তুমি রাঙিয়ে দিয়েছ আমারে!
হয়েছ রঙিন,হয়েছ বিভোর!
স্বপ্নে দেখা সেই তুমিও,সেই রঙে।
হয়েছি বিভোর আমিও তোমার মোহে।

শরীর চর্চা... - সমর্পিতা রাহা

 
সমর্পিতা রাহা 


ফোকলা দাঁতে দাদামশায়
   চোষেন মাছের মুড়ো,
থু থু করেন চারিপাশে 
রাগেন বাবার খুড়ো।

খুড়ো বলে কি যে করো
নকল দাঁতে চোষো
সারাক্ষণ ই খাই খাই বাতিক
চুপটি করে বোসো।

বয়স হলে  ভীমরতি যে
   আমায় দেখে শেখো,
তোমার চেয়ে একটু ছোটো
ভালো আছি দেখো।

বাবার  খুড়ো শরীর চর্চা
প্রত্যহ দিন করে,
সর্বসময় আড্ডাবাজি 
চিন্তা নেই যে ঘরে।

দাদামশায় মাঠে ঘাটে 
   অধিক কষ্ট করে,
শেষ বয়সে বার্ধক্যতে
পক্ষাঘাতে লড়ে।

চলো বদলাই.... - সর্বানী দাস

সর্বানী দাস 



 চলো বদলাই রঙিন জামা ঠিক পেঁয়াজের মতো,
 আসবে যাবে খালা মামা দিয়ে যাবে ক্ষত।

পাড়ার মোড়ে হৈ হুল্লোড়ে বাজবে ডিজে জোরে,
 নাচবে নেতা মাখবে আবির শূন্য পকেট ওরে!

আমরা মানুষ বোকা ফানুস শিকার হয়েই রবো,
 রবিবারের  তরজা শুনে হুক্কহুয়া কবো। 

 মামা দেবে খালা দেবে, দেবে অনেক টাকা,
 তবু মোদের ভাঁড়ার শূন্য চলো বদলাই চাকা।

আসবে নিয়ম ভাঙবে নিয়ম লুট বাতাসা পাবো?
 মোটা ভাত আর মোটা কাপড়, কার গান বলো গাবো।

 সিংহাসনে বসবে রাজা অট্টালিকা গড়ে,
 আমরা আছি ঝান্ডাধারী ধর্মে লড়ার তরে।

 গুড় বাতাসা ছোলা মুড়ি পান্তাতে হাত চাটি,
 ভীষণ গরম চলো বদলাই বছর বছর ঘাঁটি।

 খাচ্ছে ওরা দিচ্ছি মোরা, জেনে শুনে বোকা,
 বিরিয়ানি আর ডিম আলুতে খাচ্ছি যে রোজ  ধোকা।  

 স্বাধীনতার স্লোগান তুলে অব্যক্ত সব কথা,
 বোধবিহীন বিবেকবোধে  কথার চড়ে ব্যথা।

 আমজনতা আমি তুমি আমটা খেতে চেয়ে,
 চলো বদলাই হক ছিনিয়ে জীবনের গান গেয়ে।

 এ তো কেবল কথার কথা মনের ভাষা মনে,
 যেমন ছিলাম থাকবো তেমন রাজা প্রজার সনে।

 পাঁচ বছরে নাম লিখিয়ে পড়বে যে জন জামা,
 শূন্য পথে হাঁটতে হবে নেই তো মোদের থামা।

BBSP কথা... - রেজাউল করিম

 
রেজাউল করিম 


অথ—
শুরু হোক শব্দের প্রদীপ জ্বেলে,
কালির ভেতর ডুবে থাকা
সহস্র উচ্চারণের জন্মকথা নিয়ে।

BBSP—
চারটি অক্ষর নয় শুধু,
চারটি দিগন্ত—
যেখানে কবিতা হাঁটে খালি পায়ে,
গল্প পরে রঙিন পাঞ্জাবি,
প্রবন্ধ চশমা মুছে দেখে
সময়ের ক্ষয়ে যাওয়া মুখ।

এখানে রবিবার মানেই
শব্দের হাট বসে—
কেউ বিকোয় স্বপ্ন,
কেউ কিনে নেয় বিষাদ;
কারও কণ্ঠে নজরুলের ঝড়,
কারও চোখে জীবনানন্দের ধানক্ষেত।

এখানে সংস্কৃতি
শুধু মঞ্চের আলো নয়—
মাটির গন্ধমাখা বাউলের গলা,
শিউলি-ঝরা ভোরে
রবীন্দ্রসংগীতের প্রথম সুর,
অথবা চায়ের কাপে ভাসতে থাকা
শহুরে আড্ডার অমলিন ধোঁয়া।

BBSP—
একটি অনলাইন জানালা,
যেখানে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে
মানুষ এসে রাখে
নিজের বুকের ভাষা।

এখানে কেউ লেখে প্রেম,
কেউ লেখে প্রতিবাদ,
কেউ লেখে ভাঙা সময়ের
রক্তাক্ত ইতিহাস।

অথ—
এই প্ল্যাটফর্ম বেঁচে থাক
অক্ষরের আয়ু নিয়ে,
নদীর মতো বহুকাল বয়ে যাক
শিল্পের শিরা বেয়ে।

মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে
জ্বালিয়ে যাক প্রদীপ—
শব্দের, স্বপ্নের,
আর চিরন্তন সংস্কৃতির।

একাকিত্বে চাঁদ... - সর্বানী দাস

 
সর্বানী দাস


একাকী চাঁদ আজ 
ভিড় মাঝে আমিও একা 
নীরবতায় মজে থাকে মন 
শূন্যতার সাথে কাটে প্রতিটি ঋণ 
অপূর্ণ স্বপ্ন  ভাঙে নীরবে কোন গোপনে।



একাকী চাঁদ ডাকে 
ফিরে দেখি ভাঙা জীবন 
অচেনা স্মৃতি ডাকছে আমায় 
অভিমান বুকবন্দরে কান্না ভেজা 
হারানো দিনের স্মৃতি ফেরে ঘন  আঁধারে।


একাকী চাঁদ নামে 
দক্ষিণে জানালায় আজ 
ছুঁতে পারে না হৃদয় তবুও 
দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকে মৌন প্রহর 
নির্জন রাত ডাকে একাকিত্ব অবসাদে।


একাকী চাঁদ হাসে 
নিজেকে পাই নির্বাসনে 
অচেনা আয়নায় প্রতিবিম্বে 
দূরত্ব গড়ে তোলে মিথ্যে সখ্যপ্রেম 
একাকীত্বে চাঁদ আজ অপূর্ণ চুপকথা।

রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

সংবিধান... - সর্বানী দাস

সর্বানী দাস 



 নিয়ম নীতি শৃঙ্খলাবোধ সুস্থ জীবন গড়ে,
 সাহিত্য হোক সৃষ্টির তরে সংবিধানটা পড়ে।

 কলম যখন কবির অস্ত্র  সমাজ দর্পণ জানি,
 হিংসা-বিদ্বেষ দূরে ঠেলে লিখবো সত্য বাণী।

   দিনের শেষে রেখে যাব  সাহিত্যিকের কথা,
  সুস্থচর্চার সাহিত্যতে আসবে অনেক ব্যথা।

  সংবিধানের উপধারা মন দিয়ে আজ পড়ে, 
কথা দিচ্ছি সাহিত্যতে দেব উজাড় করে।
 
 যে প্রকল্প নেওয়া হবে ভাষা মায়ের জন্য,
  বিক্ষুব্ধেরই ছায়াতলে হয়েছি আজ ধন্য।

প্রান্তিক কবি পাবে আলো  খুলবে মনের শব্দ, 
 মনকলমে বন্যা হবে করবে না কেউ জব্দ।

 গণতান্ত্রিক অধিকারে নির্বাচনও হবে,
 আয়-ব্যায়ের সব হিসাব নিকাশ নথিপত্রে রবে।

সভার মাঝে মত বিনিময় আলোচনা চলে,
অনলাইনের কর্মসূচি সংবিধানের বলে।

 স্বচ্ছতার  এই অঙ্গীকারে থাকবে প্রানের ভাষা,
 বই প্রকাশের সুযোগটুকু প্রান্তিক কবির আশা।

 শৃঙ্খলার এই ভিত্তিপ্রস্তর অটুট রাখবো সবে,
 নীতির আলোয় নব্য সৃষ্টি যুগান্তকারী তবে।

 দায়িত্ব আর কর্তব্যবোধ সংবিধানের টানে,
 নৈতিকতার আলোক পথে রাখবে নজির প্রাণে।

সংবিধানের ছত্রছায়ায় মানবতার সুরে, 
লেখনী হোক ভবিষ্যতে অধিকারের নূরে।

বিক্ষুব্ধের এই পথচলাতে সকল কবির মেলা,
সুস্থ পথে সাহিত্যতে অক্ষর ছন্দের খেলা।

সংগঠনের সভাপতি পথিক আলোর পথে,
সবাইকে চায় সৃষ্টিধারায় সঙ্গী জীবন রথে।

এসো সবাই মিলেমিশে একসাথে কাজ করি,
বিশ্বমাঝে বাংলা ভাষা মাধুর্যতে ভরি।

বাংলার ছেলে... ✍️উজ্জ্বল কান্তি দাশ

উজ্জ্বল কান্তি দাশ



এপার ওপার দুই বাংলা মিলে,
আমি বাংলার ছেলে, 
বাঙাল বাঙালি যা'ই তুমি বলো 
ভেবো নাকো এলেবেলে। 
চলনে বলনে জমিদারি ভাব
মেজাজটাই নবাবের, 
মুখে'যে বাবু বাদশাহী রুচি
খাবার চাই মোগলের। 
তেহারি আখনি কাচ্চি বিরিয়ানি
চিংড়ির মালাইকারি, 
মাছ মাংস ডিম একসাথে খাই
ইলিশে নেই ছাড়াছাড়ি। 
কৈ চিতল পমফ্রেট কষা
লটে মাছের ঝুরঝুরি, 
ফ্যাসা চেলা আর শুটকি ভর্তা
ভেটকির পাতুরি।
পারশে গুড়জালি ভোলা ভালো লাগে
কাচকি মোড়লা ভাজা, 
কাতলা বোয়াল আড় খেতে পারি
মাছ যদি হয় তাজা। 
রাজভোগ সন্দেশ চাটনি পাপড়
টকদই চাই পাতে, 
তারপরে গিয়ে আইসক্রিম খাবো
পান চাই শেষটাতে।।

বাঁচার লড়াই... কলমে- সুবর্ণা দাশ

সুবর্ণা দাশ



শুরু হলো তুমুল ঝড়, 
প্রকৃতির রুদ্র মুর্তি যেন, 
এক্ষুনি গ্রাস করে নেবে সব। 
প্রবল তান্ডব বাইরে! 
গাছপালা দুমড়ে মুচড়ে
ভেঙ্গে পড়ছে, 
পাখিরা হারালো তাদের
সুন্দর পরিপাটি থাকার ঘর খানা। 
ভিজে জবুথবু হয়ে-
জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছে। 
একটি পাখির ছানা মাটিতে পড়ে
আপ্রাণ ডেকে যাচ্ছে। 
সেই ডাকে ছিল তীব্র
বাঁচার আকুতি! 
মা পাখিটি নিরুপায়, 
অনেক কষ্টে ডানা দিয়ে
আগলে রাখার বৃথা চেষ্টা। 
থরথর করে কাঁপছে 
বাবা পাখিটিও।
হঠাৎ ঝড়ে উড়িয়ে নিলো
তাদের সাধের ঘর খানা! 
ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে
পাখি দুটি! 
যে গাছে তাদের ঘর ছিলো, 
মড়মড় করে ভেঙ্গে গেলো
সেই গাছটাও!
অচেনা সুর বেরলো পাখি দুটির
কন্ঠ হতে! 
হয়তো কাঁদছে, ওদের তো চোখের
জল দেখা যাচ্ছে না!
ওদের দুঃখ আছে, 
ওদেরও স্বপ্ন ভাঙ্গে, 
ওরাও লড়াই করে বাঁচে।

স্বপ্নের ফেরিওয়ালা... কলমে - হাসিনা খাতুন

হাসিনা খাতুন 



নিঝুম রাতের আঁধার চিরে আসে এক ফেরিওয়ালা,
ঝুলিতে তার জমানো আছে সহস্র স্বপ্নের মালা।
রাস্তার মোড়ে একলা দাঁড়িয়ে হাঁক দিয়ে সে যায়,
ইচ্ছে হলেই স্বপ্ন কিনুন অতি অল্প দায়।

কেউ কি চাও আকাশ ছোঁয়ার নীলচে রঙের আশা?
কারো কি চাই এক চিমটি নিখাদ ভালোবাসা?
দুঃখ ভোলার মলম আছে, আছে হাসির ঝিলিক,
ব্যর্থ মনে স্বপ্ন ছোঁয়ায় কাটবে চোখের পলক।

পাহাড় সমান সাহস দেবো, দেবো মেঘের ভেলা,
রাত্রি শেষে সাজিয়ে দেবো নতুন ভোরের মেলা।
শিশুর চোখে রঙিন ঘুড়ি, বৃদ্ধের চোখে স্মৃতি,
সবাইকে সে বিলিয়ে বেড়ায় বাঁচার মহানীতি।

পয়সা কড়ি চায় না সে তো, চায় না সোনাদানা,
মনের কোণে স্বপ্ন পুষতে নেই যে কোনো মানা।
ক্লান্ত চোখে ঘুম নামালে সে আসে চুপি চুপি,
মাথার শিয়রে রেখে যায় এক রূপকথার টুপি।

ফেরিওয়ালার ঝুলিটি আজ বড়ই বৈচিত্র্যময়,
সেখানেতে হারানো সব দিনের খোঁজ পাওয়া যায়।
বুকের ভেতর লালন করা সুপ্ত যত সাধ,
মিটিয়ে দিতে পারে সে সব ঘুচিয়ে অবসাদ।

ফেরিওয়ালা চলে গেলে রয় শুধু তার সুর,
স্বপ্নগুলো সত্যি হতে নেই যে বেশি দূর।
আসবে আবার কালকে রাতে যখন নামবে আঁধার,
নতুন কোনো স্বপ্ন নিয়ে খুলবে সে তার ভাণ্ডার।

তুমি কার ... সর্বানী দাস

সর্বানী দাস 



কোঁকে ঢোকা বুভুক্ষু পেট
নালিশ ঠুকলো স্রষ্টা তরে -
 সরাসরি প্রশ্ন রাখে -
 কোটরে ঢোকা ঝাপসা  চোখে 
বলো প্রভু বলো বলো 
খিদে আমার 
 আর তুমি কার?

  যে শিশুটার গুনতি পাঁজর-
 ঝোড়ো হাওয়ায় জলতরঙ্গ 
 ভাতের গন্ধে হাত পা কাঁপে 
সেই শিশুটির প্রশ্ন শোনো -
ভোগের থালায় নেই অধিকার 
খিদে তোমার নাকি আমার 
এবার বলো 
আজ তুমি কার?

 ওই যে মেয়ে 
উলঙ্গ গায় 
 বাপ বেচেছে খিদের হাটে 
যৌবন তার ছুঁই ছুঁই প্রায় 
নিত্য মরে রক্তপাতে -
তার চোখেতে ঘৃণা প্রচূর 
নোনা জলে স্বপ্ন নুড়ি 
প্রশ্ন রাখে প্রদীপ হাতে 
বলো  তো এবার 
ঠিক তুমি কার?

আস্তাকুঁড়ে ভাগ্য খুঁড়ে 
ঘাঁটছে এঁটো চচ্চড়িটা 
বৃদ্ধ নাকি ভিটে হারা 
বৃদ্ধা অবাক ব্রত পারা 
সন্তান তার ডাকাত খুনি 
বিশ্বাস কে গুম করেছে 
আসবাব শুধু বাঁশের খেটো 
প্রশ্ন রাখে স্রষ্টা খাতে -
বলো দেখি সৃষ্টিকর্তা 
আজকে জবাব দিতেই হবে 
অন্যায় আর ন্যায়ের লড়াই 
 সত্যি বলো
আজ তুমি কার?

ভাঙা আয়নায় ভাগ্য লিখন 
সিঁদুর বিহীন সীমন্তিনী 
সোহাগ নিলাম উঠলো যখন 
ঠান্ডা ঘরের সন্ধি বিচার 
অবজ্ঞাতে শিরায় বরফ 
পেটের খিদে কোথায় টাকা 
সৃষ্টি কর্তা ভাবছো কেন 
সত্যি বলো আজ তুমি কার?

কোলের ছেলের মরণব্যাধি 
অকালে তার কাড়লে জীবন 
মায়ের প্রশ্ন তোমার কাছে 
কী দোষ তার ছেলেটার 
সত্যিই তুমি আছো কি নেই 
সত্যি বলো আজ তুমি কার?

ধর্ম নিয়ে অধর্মতে 
ঝগড়া বিবাদ মাইক কাঁপে 
আমজনতা আতঙ্কে আজ 
দেশপ্রেমী হলেই বিপদ
 দরজা জুড়ে দাপুটে ভয়
 অহংকারে মারছে লাথি 
দলিত পেটে তখন খিদে 
স্রষ্টা ব্যস্ত পরীক্ষাতে 
ভুল বানানে খিদে হাসে 
বলেই ফেলে ঘুমিয়ে থাকো,
স্রষ্টা তুমি নয় গো আমার।

মন মানে না.... কলমে- সমর্পিতা রাহা

সমর্পিতা রাহা 



মন মানে না খুঁজে বেড়াই
  অতল দিঘির জলে,
বুকের ভেতর উথাল পাথাল 
বিভীষিকা পলে।

ডুব সাঁতারে মাঝে মাঝে 
   অতীত খুঁজে আনি,
মনের মধ্যে জমা কষ্ট
সজোরে তা টানি।

খুঁজতে খুঁজতে চোরাগলি 
   দেখতে পেলাম তারে,
অতীত  স্বপ্ন কেমন আছো
আমাকে আর ছাড়ে!

মনের কথা তরল হলো
  নরম হলো আঁখি,
মনটা যেন উদাস হয়ে
বলল এবার রাখি।

মাঝে মধ্যে মন মানে না 
  অতীত খোঁজা চলে, 
আমি নাকি পাগল প্রেমিক 
  অনেকেই যে বলে।

বাউন্ডুলে মন... কলমে --মুন্নাফ সেখ

মুন্নাফ সেখ



একলা পথে চলতে থাকা, নেই তো কোনো পিছুটান,
উড়ছে মনে পাখির ডানা, শুনছে আকাশ ব্যাকুল গান।
শহর ছেড়ে মাঠের ধারে, মেঠো পথের বাঁকে বাঁকে,
উদাস দুপুর কাটছে একা, ঘাসফুলেরা আমায় ডাকে।

কপালে আজ ধুলোর টিপ, কাঁধে আমার ঝোলা ব্যাগ,
অজানা সব ঠিকানাতে রোজ খুঁজে যাই নতুন ট্যাগ।
ক্লান্ত পায়ে ক্লান্তি নেই, চোখে কেবল নতুন দেশ,
কেমন করে ঘর বাঁধব? যাযাবরের নাই যে শেষ।

হঠাৎ হাওয়া কানে কানে বলে যায় এক গোপন কথা,
মেঘের সাথে সখ্য পাতি, ভুলে যাই সব মনে ব্যথা।
সাঁঝবেলাতে নদীর চরে, যখন নামে আঁধার কালো,
জোনাক-জ্বলা বনের ধারে খুঁজি আমি মায়ার আলো।

ঘরের মায়া টানবে কেন? শিকল আমি ভাঙতে জানি,
ঝরনা ধারার শব্দে খুঁজি চিরন্তন এক সুরের বাণী।
কখনো পাহাড়ে, কখনো সাগরে, বাউণ্ডুলে এই পথচলা,
অচেনা সব মানুষের সাথে চলে মনে কথা বলা।

রঙিন ঘুড়ির মতো আমি আকাশ পানে দিই যে উঁকি,
সংসারের ওই হিসেব নিকেশ নিতে পারি না আর ঝুঁকি।
ভবঘুরে এই জীবন আমার, মাটির গন্ধে মাতাল প্রাণ,
বিশ্বজুড়ে ঘর আছে মোর, গাইছি আমি মুক্তির গান।

রাস্তা যখন ফুরিয়ে আসে, আকাশ দেখায় নতুন দিক,
ছন্দ ছাড়া জীবন আমার, পাই না খুঁজে হদিস ঠিক।
রোদ পোহানো শালের বনে কিংবা বরফ-ঢাকা চূড়ায়,
বাউন্ডুলে এই মনটা আমার স্বপ্ন কেবল উড়িয়ে বেড়ায়।

দুনিয়ার এই ভিড়ের মাঝে আমি একাই নিজের মতন,
হারিয়ে যাওয়ার নেশাটি মোর ভীষণ প্রিয়, পরম যতন।
সীমাহীন এই যাত্রাপথে ক্লান্তি নেই কোনো ক্ষণে,
আমি একাই বাউন্ডুলে, মুক্তি খুঁজি আপন মনে।

কল্পলোকে.... কলমে :: মেঘদূত



বলতে পারো কোথায় আছে
   এমন সোনার দেশ,
নাইকো যেথা ক্ষুধার জ্বালা
   করে না কেউ দ্বেষ?

হয় না তো কেউ বড় বুড়ো
   শৈশব কাটে বেশ,
দিবা রাত্রি জড়িয়ে থাকে
   মনে খুশির রেশ!

ঝরায় না চোখ দুঃখের ধারা
   রয় না দুঃখ ক্লেশ,
হিংসা ঘৃণা ক্রোধটা যেন
   হাসিতে হয় শেষ।
............

তোমায় অনেক ভালবাসি! কলমে- রকিবুল ইসলাম

রকিবুল ইসলাম


তুমি না হয় নিঃসীম আঁধারের মাঝে আলোর দিশারী হয়ে আমার স্বপ্নেই বেঁচে থেকো।

তুমি না হয় আবার নতুন করে একান্তই 

আমার হয়ে এসো।

তুমি না হয় শুধু আমার জন্য তোমার জীবনের কিছুটা আশা যতন করে রেখো।

তুমি না হয় আবার কিছুটা স্বপন আমার জন্য মুঠো ভরে রেখো।

কান্না না হয় কিছু লুকিয়ে রেখো অতীব যতনে আমার লাগি।

মুছে দিব তা সযতনে আমার নঁকশি আঁকা রুমাল দিয়ে।

শেষ জীবনে সহায়হীন তুমি খুঁজবে সহায় যখন পাগলপ্রায় হয়ে!

হাঁতড়ে বেড়াবে অতীত স্মৃতি সুখের কিছু ছোঁয়া পেতে,

তোমার আকাশের মেঘমালা সরিয়ে আসব নিয়ে তখন স্নিগ্ধ রোদ্দুর,ঝলমলে আলো,,,

তোমার বসুন্ধরা আলোকিত করতে।

তুমি না হয় তোমার চোখের কোণে জমিয়ে রেখো কিছু অশ্রু!

বিসর্জিত হবে যা আমার মরণকালে,পড়বে তোমার কপল বেয়ে।

জুড়াব মোর তপ্ত দেহ,অতৃপ্ত আত্মা সেই অশ্রুজল গায়ে মেখে।

এখন আমার যৌবন,তোমারও তা।

ছুটছ তুমি ভবিষ্যৎ আলোর লোভে ভয়-ডরহীন দিক্বিদিক,নেই কোন পিছুটান।

আমিও সাধিনি বাঁধ তোমার অদম্য যাত্রাতে।

পড়ন্ত বিকেলের শাখাহীন বৃক্ষের ন্যায় ঠাঁই দাড়িয়ে রব নাঙ্গা সর্ব গায়।

তুমি না হয় সেই গাছের গোড়ায় পানি ঢেলে

আমায় একটু সতেজ করো।

তুমি না হয় আমার অন্তিম লগনেই ভালবেসো।

আমার মুখে হাসি ফোঁটানোর জন্য না হয়

একটু কলা করো।

শেষ বয়সে বয়সের ভারে ন্যুজ হয়ে পড়া আমি যখন পাব না ঠাঁই আর কোথাও,

তুমি না হয় তখন আমার আশ্রয় হয়ে এসো।

তখন না হয় সব অহং ভুলে একটু ভালবেসো।

ভুলে যেতে বসা হাসিটাকে না হয় তুমিই আবার শিখিয়ে দিয়ে আমার ঠোঁটে লেপ্টে দিও।

সেই হাসির রাঙা রঙে তোমার ঠোঁট রাঙিয়ে নিও।

তুমিও যখন বৃদ্ধা হবে,অচল তোমার

শয়নের বিছানাটাও না হয় আমিই বিছিয়ে দেব।

বেলা শেষের ডাকে যখন তুমি কাউকে পাবে না পাশে,

বলব আমি,ভয়গো কিসের?

আছি হয়ে সাথী সতত তোমার সাথে।

অবহেলার চাদরে মুড়িয়ে এতদিন যার ভালবাসাকে করেছ তাচ্ছিল্য অবজ্ঞা ভরে!

আমি না হয় এখন এই বয়সে গলা ফাঁটিয়ে বলব (সেই আমি)-

"তোমায় অনেক ভালবাসি।"

শেষ সাদা নদী... কলমে- রেজাউল করীম

রেজাউল করীম



জানাযা উঠেছে-
মাঠের বুকের উপর যেন সাদা মেঘের ভেলা ভাসে।
চারজন মানুষের কাঁধ
চারটি ক্লান্ত নদীর মতো ধীরে ধীরে বয়ে চলে।

মৃত মানুষটি শুয়ে আছে-
শীতের কুয়াশায় ঢেকে থাকা এক নিঃশব্দ বীজের মতো।

তার চোখ দুটি বন্ধ-
যেন সন্ধ্যার পরে ঘুমিয়ে পড়া দুইটি পাখির বাসা।

ইমামের দোয়া ভেসে আসে
ধানক্ষেতে বাতাসের মৃদু সুরের মতো।

সবাই হাত তোলে-
যেন আকাশে ভাসানো অদৃশ্য চিঠি ঈশ্বরের ঠিকানায়।

এই জানাযা-
মাটির দিকে ফেরত যাওয়া এক সাদা নৌকা,
মানুষের জীবন
যেন ক্ষণিকের মেলা- শেষে শুধু ধুলোর মৃদু গন্ধ।

আর দূরে সূর্য ডুবে যায়
রক্তিম পলাশফুলের মতো নীরবে-
যেন পৃথিবী নিজেই
একটি দীর্ঘ বিদায়ের কবিতা পড়ছে।

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

ভোট... - উজ্জ্বল কান্তি দাশ



উজ্জ্বল কান্তি দাশ


এসে গেছে ভোট, 
হয়ে এক জোট, 
আমাদের কাজ করবি;

কেন্দ্র নিবি দখলে, 
ছাপ্পা মারবি সকলে, 
মাথা গুণে নোট পাবি;

থাকবি নেতার দাপটে, 
পুলিশ থাকবে পকেটে;
পারিস যদি দেখাতে দাদাগিরি;

তোলাবাজি করে যাবি, 
লুটে ফুটে সব খাবি;
আমাদের নেতা, যদি জেতে;

টাকা দিয়ে কিনবো মাথা
মাসে মাসে পাবে ভাতা, 
তোদের বানাবো মস্ত নেতার হাতা, 

নেতা কামাবে মালপানি,
তোরাও পাবি কাটমানি,
বান্ধবীও দু'চার যাবে জুটে;

দল যদি আসে ক্ষমতায়, 
কি করবে আর জনতায়? 
আটকানোর সাহস কি কারো আছে?

যে'ভাবে চলছে চলুক, 
জনগণ মরছে মরুক, 
আমাদের তাতে কী আর যায় আসে!  
ভোট এসে গেছে পাশে।

দুঃখাতুর সুখানুভূতি ! - রকিবুল ইসলাম

রকিবুল ইসলাম




যেদিন তুমি ছেড়ে দিয়েছিলে হাত আমার,
সেদিন ঐ নীল আকাশটা ঘন মেঘে ছেয়ে গিয়েছিল,জানোতো?
বেদনার নীল আর গগণের নীল একাত্ম হয়ে 
পরিণত হয়েছিল সেদিন মিশমিশে কালো রুপে।
আমার সূর্য্য-স্ন্যাত প্রখর দীপ্তিময় আলোকজ্জ্বল বসুন্ধরা 
ততক্ষণে ছেয়ে গেছে নিঃসীম,ঘোর আঁধারে।
হাতড়ে বেড়াতে শুরু করলাম একটা দিয়াশলাই,,,
আলোর পিদিম জ্বালবো বলে।
তোমার ধূসর হওয়া,ধুলো পড়া স্মৃতিটাকেও
হাতড়ালাম বেশ কিছুক্ষণ।
যদি আলো আসে!
তোমার আলো!
তুমি ছিলে যখন, এমন আঁধারেও কোন কিছু 
খুঁজে পেতে সমস্যা হয়নি আমার।
এখন নিরুপায় আমি কি করি বলোতো?
কিন্তু,যে আমি তোমার নেশায় চুর,
তোমার সান্নিধ্যে বুঁদ,
সেই আমি এখন বাঁচব কিভাবে? বলোতো তুমি!
ঘুমঘোরে তুমি প্রায়ঃশই চলে আস।
স্বপ্নের প্রথম প্রহরে তোমায় দেখি সেই প্রথম জীবনের শিশির 
শিক্ত স্নিগ্ধময় আবেশি ভঙ্গিতে,অপরুপা সাজে অপ্সরী রুপে।
এটাই আমার দু:খাতুর সুখানুভূতি!

রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

বদলে দাও পাল্টে দাও ... - উজ্জ্বল কান্তি দাশ

 
 উজ্জ্বল কান্তি দাশ


আঁধার চিরে বেরিয়ে এসো,নব প্রভাতের রবি, 
পূণ্য হোক মঙ্গল হোক, নতুন বছরে সবই, 
কলম তোমার শানিত কর, ওহে তরুণ কবি, 
বদলে দাও পাল্টে দাও,জীর্ণ রুগ্ন ছবি। 

বৈশাখে আজ আপনারে কর, ঝড়ের মতোই দূর্বার, 
যা কিছু অনিয়ম কুসংস্কার, ভেঙেচুরে কর একাকার, 
নতুন নতুন শব্দ চয়নে, কবিতায় তুলো ঝংকার, 
ধ্বংসের মাঝে বপন কর,সৃষ্টির জয় জয়কার। 

হাওয়ার তোড়ে জাগ্রত হোক, সকল অর্ধ-মরা, 
কালবৈশাখী তাণ্ডবে আজ,দূর হয়ে যাক জরা, 
জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক, আমাদের এই ধরা, 
নিশ্চিহ্ন হোক যাদেরই হয়েছে, পূর্ণ পাপের ঘড়া।

ধর্মান্ধতার আস্ফালনকে,করো নাকো আর ভয়, 
ভয়ের চোখে চোখ রেখে আজ, ভয়টাকে কর জয়, 
মিথ্যের কাছে নত হলে পড়ে, সত্যের হবে ক্ষয়, 
সবার প্রথমে মানুষ আমরা, এটাই হোক পরিচয়। 

ঘৃণা বিদ্বেষ হিংসা যত এক্ষুনি হোক শেষ, 
স্নেহ মমতার কোমল পরশে ঘুচাক মনের ক্লেশ, 
সবার প্রাণে ছড়িয়ে পড়ুক, ভালোবাসার রেশ, 
নববর্ষে নব শপথে গড়বো মোদের দেশ। 

নব আলোকে মুক্ত হবো বিভেদের জাল হতে, 
এ দেশ আমার এগিয়ে যাবে বহুত্ববাদ মতে, 
মিলনের গান গাইবো মোরা, জীবন চলার পথে, 
নতুন স্বদেশ দেখবো ঘুরে, সাম্যের পুষ্প রথে।

কবিতায় কবি... কলমে- সুবর্ণা দাশ

সুবর্ণা দাশ
 


কবিতায় বাঁচে কবির প্রাণ
কবি প্রেমিরা জানি, 
বিশ্ব সাজায় প্রেম বিরহে
প্রকৃতি হয় রানী। 

আপন ছন্দে কবিরা চলে
অপার স্নেহের তরী, 
মাঝির কন্ঠে গান দেয় কবি
সোনার দেশ গড়ি। 

নিত্য নতুন ছন্দের বাহার
কবি খাতায় সাজায়, 
স্বর্গ মত্য এক হয়ে যায়
প্রেমের অরুণ রাঙ্গায়। 

বসন্ত প্রকৃতি ধরায় পাতা
মর্মর সুরে বাজে, 
কচি সবুজ পাতা মেলে
গাছেরা সব সাজে। 

বাঁচায় ধরণী কবির কলমে
কবিতায় লেখে গুণী, 
গাছগাছালি থাকলে পরে
পাখির গান শুনি। 

মধুর স্বপ্নে ভাসায় তরণী
কবির আকুল প্রাণ, 
বিরহ বিধুর স্বপ্ন ভাঙ্গে
সুরে লয়ে তান। 

খাতার পাতা ভরায় অক্ষরে
বাঁচার আশায় কবি, 
নেশা জাগায় প্রাণে মনে

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

এ কেমন পরিচয় ? - লেখক: আকাশ আহমেদ

এ কেমন পরিচয় ?


জন্মের আগে আমার কোনো নাম ছিল না।
না কোনো ধর্ম, না কোনো জাত, না কোনো বিভাজন।
আমি ছিলাম শুধু এক নিঃশব্দ স্পন্দন- একটি প্রাণ, যে পৃথিবীতে আসার অপেক্ষায়।

মায়ের গর্ভে আমি কখনো শুনিনি -
“তুমি হিন্দু হবে”,
“তুমি মুসলিম হবে”,
“তুমি অন্য কিছু হবে।”

আমি শুধু শুনেছি -
একটা হৃদয়ের শব্দ- ধক ধক ধক…
যেখানে ভালোবাসা ছিল, কিন্তু কোনো বিভাজন ছিল না।

তারপর একদিন আমি জন্ম নিলাম।
আমার প্রথম কান্না পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে পড়লো-
কিন্তু সেই কান্না থামার আগেই
আমার কানে ভেসে এলো-

“নাম রাখো… আকাশ।”
আমি তখনও জানতাম না-
এই নামের সঙ্গে আমার জন্য আরেকটা অদৃশ্য শেকল অপেক্ষা করছে।

কিছুক্ষণ পরই কেউ বললো-
“এ আমাদের ধর্মের সন্তান।”

আমি বুঝলাম না।

কারণ তখনও আমি মানুষ হওয়াটাই ঠিকমতো বুঝে উঠিনি।

ছোটবেলায় আমি খুব সাধারণ ছিলাম-
হাসতাম, খেলতাম, দৌড়াতাম।
আমার বন্ধু ছিল অনেক-
তাদের মধ্যে ছিল অপু, রোহন, সুমন, আয়েশা, রিমি…

আমরা কেউ কাউকে জিজ্ঞেস করতাম না-
“তুই কোন ধর্মের?”

কারণ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল-
“তুই আমার বন্ধু কিনা।”

একদিন বিকেলে আমরা সবাই মিলে খেলছিলাম।
হঠাৎ অপুর মা এসে তাকে টেনে নিয়ে গেলেন।
আমার দিকে তাকিয়ে কেমন একটা অদ্ভুত চোখে বললেন-

“ওদের সঙ্গে বেশি মিশিস না।”

আমি থমকে গেলাম।
“ওদের” মানে?
আমি কি আলাদা?

সেদিন প্রথমবার আমি নিজের ভেতরে একটা প্রশ্ন অনুভব করলাম-

আমি কি শুধু ‘আকাশ’?
না কি তার চেয়েও কিছু?

স্কুলে গিয়ে সেই প্রশ্ন আরও বড় হলো।
একদিন ক্লাসে শিক্ষক বললেন-
“তোমাদের ধর্ম অনুযায়ী আলাদা লাইনে দাঁড়াও।”

সবাই দাঁড়িয়ে গেলো-
কেউ ডানে, কেউ বামে।
আমি মাঝখানে দাঁড়িয়ে রইলাম।

শিক্ষক বললেন-
“আকাশ, তুমি ওদিকে যাও।”
আমি ধীরে ধীরে হাঁটলাম।
কিন্তু মনে হচ্ছিল-
আমি যেন নিজের থেকে দূরে চলে যাচ্ছি।

সেদিন বাড়ি ফিরে মাকে জিজ্ঞেস করলাম-
“মা, আমি কি শুধু মানুষ হতে পারি না?”
মা চুপ করে রইলেন।
তার চোখে আমি জল দেখলাম।
তিনি শুধু বললেন-
“সবাই পারে না, বাবা…”

বড় হতে হতে আমি বুঝতে শুরু করলাম-
এই পৃথিবী নাম আর ধর্মের মধ্যে মানুষকে ভাগ করে রাখে।

ইতিহাসের বই খুলে দেখি-
রক্তের দাগ।
ধর্মের নামে যুদ্ধ, হত্যা, দাঙ্গা…

আমি ভাবলাম-
যে ধর্ম মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়,
সেই ধর্মের নামেই এত ঘৃণা কেন?

কলেজে উঠার পর আবার অপুর সঙ্গে দেখা।
অনেকদিন পর।
সে আমাকে দেখে হাসলো-
“কিরে আকাশ! ভুলে গেছিস নাকি?”
আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম।
সেই আলিঙ্গনে কোনো ধর্ম ছিল না-
ছিল শুধু হারানো বন্ধুত্ব।

আমরা আবার একসাথে সময় কাটাতে লাগলাম।
মনে হচ্ছিল-
সবকিছু আবার ঠিক হয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু পৃথিবী এত সহজে ঠিক হয় না।

এক সন্ধ্যায় শহরে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লো।
খবর এলো-
দাঙ্গা শুরু হয়েছে।
রাস্তা জ্বলছে, মানুষ দৌড়াচ্ছে, চিৎকার…
ভয় ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে।

হঠাৎ ফোন এলো-
“অপুদের বাড়িতে হামলা হয়েছে!”
আমার বুক কেঁপে উঠলো।
আমি সবকিছু ভুলে দৌড়ে গেলাম।

পৌঁছে দেখি-
বাড়ির দরজা ভাঙা, দেয়ালে আগুনের দাগ,
চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা স্মৃতি।

অপু কোণায় বসে আছে-
তার চোখে ভয়, ঠোঁট কাঁপছে।
আমি ধীরে ধীরে তার কাছে গেলাম।
সে আমাকে দেখে হঠাৎ জড়িয়ে ধরলো-
আর ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।
“আকাশ… আমরা কি ভুল করেছি?”

আমি স্তব্ধ।

আমার গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হলো না।

সে আবার বললো-
“বন্ধু হওয়াটা কি অপরাধ?”

আমার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লো।
আমি শুধু তাকে শক্ত করে ধরে রাখলাম।
সেই মুহূর্তে-

আমরা কেউ কোনো ধর্মের ছিলাম না।
আমরা শুধু দুটো মানুষ-
যারা ভেঙে পড়েছে।

সেই রাতটা আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে কাটালাম।

তারারা ঝলমল করছিল।
চাঁদ নিঃশব্দে আলো ছড়াচ্ছিল।

আমি ভাবলাম-
এরা কি কখনো মানুষকে ভাগ করে?

না।

প্রকৃতি কাউকে আলাদা করে না।
শুধু মানুষই করে।

আমি লিখতে শুরু করলাম।
আমার ব্যথা, আমার প্রশ্ন, আমার প্রতিবাদ-
সব কাগজে ঢেলে দিলাম।

“আমি জন্মের আগে কিছুই জানতাম না,
তবু জন্মের পর আমাকে পরিচয়ের ভারে চাপা দেওয়া হলো।

আমি কি মানুষ হওয়ার অধিকার রাখি না?
আমি কি শুধু ভালোবাসতে পারি না-
কোনো শর্ত ছাড়াই?”

একদিন আমি মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম।
বললাম-

“আমার নাম আকাশ।
এই নামের আগে বা পরে কোনো ট্যাগ লাগাতে চাই না।

কারণ আমি বিশ্বাস করি-
মানুষ হওয়াটাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।

যদি ধর্ম আমাকে মানুষ থেকে আলাদা করে,
তাহলে সেই ধর্মের মানে কী?”

পুরো হলঘর নীরব হয়ে গেলো।

কেউ কিছু বললো না-
কিন্তু অনেকের চোখে জল ছিল।

সেই জলই প্রমাণ-
মানুষ এখনও বেঁচে আছে।

আজও পৃথিবী পুরো বদলায়নি।
এখনও ধর্মের নামে বিভাজন হয়,
এখনও মানুষ মানুষকে আঘাত করে।

কিন্তু আমি বিশ্বাস হারাইনি।

কারণ আমি দেখেছি-
ধ্বংসের মাঝেও বন্ধুত্ব বেঁচে থাকে,
ভয়ের মাঝেও ভালোবাসা জন্ম নেয়।

আমি আজও সেই প্রশ্ন করি-
“আমি কি মানুষ পরিচয়ে বাঁচার অধিকার রাখি না?”

হয়তো একদিন-
কোনো শিশুকে জন্মের পর বলা হবে না-
“তুমি এই ধর্মের।”

বরং বলা হবে-
“তুমি মানুষ, এটাই তোমার পরিচয়।”
সেই দিন-

পৃথিবী সত্যিই সুন্দর হবে।

আর আমি…
সেই দিনের অপেক্ষায় আছি-
চোখ ভরা স্বপ্ন আর বুকভরা ব্যথা নিয়ে।

কারণ আমি আকাশ-
আমি সবার, আবার কারও না।

আমি শুধু একজন মানুষ হতে চাই…


— শেষ —



তুমি মিলিয়ে নিও... - উজ্জ্বল কান্তি দাশ

 
উজ্জ্বল কান্তি দাশ


কতবার আমি ঝরে পড়া
তারাকে দেখে, 
মনে মনে তোমাকেই চেয়েছি। 
যতবার কোন মন্দির মসজিদ, 
গীর্জা প্যাগোডা সামনে পড়েছে, 
ততবার এই হাত দুটি উঠেছে, 
তোমারই মঙ্গল প্রার্থনায়, 
তাই চেয়েছি শুধু, 
তুমি যা চাও। 
তোমার জন্য হৃদয় মাঝে
যে ব্যথা অনুভব করি, 
সেটি আমার একান্ত নিজস্ব, 
একান্ত আপন ব্যথা। 
যা আমি কাউকে বলবো না, 
কোনোদিনও বোঝাতে যাবো না কাউকে। 
জলাশয়ে ঢিল ছুঁড়লে যেমন, 
তা থেকে সৃষ্ট তরঙ্গ, 
সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ে, 
ঠিক তেমনই তোমার মুখনিঃসৃত সব কথাই, 
আমার হৃদপিণ্ডে তরঙ্গের সৃষ্টি করে, 
আর তা ছড়িয়ে পড়ে, 
আমার সমস্ত শরীরে। 
আমার বুকে ধুকপুক করে না, 
সেখানে ধ্বনিত হয় একটি নাম, 
তোমার নাম। 
কখনো পরীক্ষা করতে চাইলে, 
এই বুকে কান পেতে দেখো শুনতে পাবে। 
আমার পৃথিবী জুড়ে, 
শুকনো পাতার মর্মর সুরের হাহাকার, 
সমুদ্রের ঢেউ আর গর্জন দেখে
মনে হয় সমুদ্র কত উৎফুল্ল! 
কেউ বোঝেনা তাকে 
তীরকে ছোঁয়ার তার কি ব্যাকুলতা! 
ঠিক তেমনই আমাকে দেখেও সবাই ভাবে, 
কতটা প্রাণবন্ত! 
এই সবকিছুর মাঝেও যে, 
কতটা বিষাদ আমাকে ঘিরে থাকে, আছে। 
এই আমি যে একটা জীবন্ত লাশ, 
কেউ জানে না, আমি জানাতেও চাইনা।
আমি ভালো কি মন্দ, 
সে বিতর্কে যেতে চাই না, 
শুধু এটুকু বলবো, 
যদি কাঁচের মতো আমাকে, 
টুকরো টুকরোও করে ভেঙ্গে দাও, 
দেখবে সেই ভাঙ্গা টুকরোগুলোর প্রতিটিতে, 
শুধু তুমিই আছো,তুমিই থাকবে, 
এখন তুমি বুঝবে না, 
যে দিন চিরতরে হারিয়ে যাবো, 
সেই দিন তোমার উপলব্ধি হবে, 
সেই দিন তুমি বুঝবে,
সেই দিন তুমি খুঁজবে,
আমি বলে গেলাম, 
তুমি মিলিয়ে নিও।

চাঁদ তুমি সাক্ষী থেকো... - সালাম মালিতা

 
সালাম মালিতা 


চাঁদ তুমি সাক্ষী থেকো 
কত বিনিদ্র রাত কেটেছে-
শুধু তুমি আর আমি!
ঘরের বাতি নিভিয়ে দিয়ে 
খোলা বাতায়নে ঈশারায় কথা হয়,
শত অভিযোগে তোমার 
মেঘের আড়ালে লুকোচুরি দেখি।
তুমিও আমার প্রিয় মানুষের ন্যায়
বড্ড অভিমানী!

চাঁদ তুমি সাক্ষী থেকো 
কত স্বপ্নের খেয়া পারের-
অসমাপ্ত গল্প জানো!
তারাদের মত ক্ষুদ্র আশাদের
খসে পড়া দেখেছি দু'জনে, 
জেগে থাকা নত্রদের কষ্ট শুনে 
তাদের বন্ধু করে নিই।

চাঁদ তুমি সাক্ষী থেকো 
জোনাকপোকার আলোয়-
যে আবেগের বুনন হয়!
একমাত্র তুমিই জানো
শুকনো বালিশে পতিত 
জলবিন্দুর সংখ্যা কত,
লুকিয়ে রাখা ছবি দেখেই
বিষাদের চাদর পরি।
আমার সকল অন্তর্লীন কষ্ট 
তোমার নখদর্পনে, 
আঁকিবুঁকি ছায়া ফেলে
তুমি পুরোটাই জানো।

চাঁদ তুমি সাক্ষী থেকো 
আমার সেই প্রিয় মানুষটার-
তোমার অধিক কলঙ্ক ছিল!
সেদিন দু'জনের 
তোমার সাথে পরিচয় হলেও
আজ সে অন্যের সাথে
তারা গোনে, 
রঙিন আলোর ভিড়ে 
তোমার সামনে অঙ্গীকার করলেও-
অন্যের বুকে সুখ খোঁজে।

যতদিন তুমি রাতের অমানিশা ভেদে 
কালিমা মুছতে উঠবে,
ততদিন সাক্ষী দিও-
পাড়াগাঁয়ের ছোট্ট ঘরের 
ছোট্ট বাতায়ন খুলে-
আজও একটা ছোট্ট ছেলে
পুরানো সেই সঙ্গীর সাথে বসতে চায়,
তোমার সাক্ষীতে আধ্যাত্মিক মিলনে
দু'জনার তরে দু'জনে মিশে
অমর হতে চায়!

আজকের মীরজাফর... - সর্বানী দাস

 
সর্বানী দাস 


মীরজাফররা জন্মায় বলে হয় যে দেশের ক্ষতি,
নবাব বুদ্ধি ধরে তবু সহজ সরল অতি।

পিঠে ছুঁরি মারে তাকে, তবু বিশ্বাস করে,
সংশোধনের সুযোগ দিয়ে বন্ধুর হাত ধরে।

নবাব চেনে মীরজাফরকে, চেনে প্রধান মন্ত্রী ,
রাজ্য ধ্বংস করার জন্য মীরজাফররাই ষড়যন্ত্রী।

নবাব তিনি উদারতায় রাখেন নিজের চিন্তা,
মীরজাফরের  মনে মাদল ধ্বংসে তাধিন ধিন তা।

নবাব কর্মে বিশ্বাস রেখে রাখেন নিজের সৃষ্টি,
মীরজাফদের চরিত জানতে পড়তে হবে হিস্ট্রি।

নিজের পাতা নানান ফাঁদে নিজেই বন্দি হলে,
কালো বিষের নীলচে ছোঁয়া লেখার হলাহলে।

কণ্ঠে বিষ পান করে নবাব মুচকি হাসে,
মীরজাফররা  ভালো সাজার অভিনয়ে ভাসে।

মুখে বলে এই করেছি ওই করেছি আমি,
কৃতজ্ঞতা রাখেন নবাব রুচি যে তার দামি।

কিন্তু নবাব পড়লো হিস্ট্রি প্রমাণ পেল হাতে,
মীরজাফরও কম যায় না খসড়া লিখলো রাতে।

হুমকি দিল ভাবলো মনে নবাব চমকে যাবে,
তার মতন আর বেঈমান মানুষ কোথায় বা আর পাবে।

বলছি শুনুন নবাব মশাই আমরা আছি দেশে,
সৎ সততা সত্য নিষ্ঠা সুস্থ চর্চায় মেশে

দেবস্মিতার কথা... --জয়দীপ বসু

 

জয়দীপ বসু


সুদীর্ঘ ২৮ বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষকতার পেশায় আত্ম নিবেদিত। মানুষ গড়ার কারিগর। তারুণ্যের স্বপ্ন বিলসিত দিনে ভালো ছাত্র, ছাত্রী তৈরি করার ঐকান্তিক অভিপ্রায়ে চরম অনিশ্চিত এই পেশায় আসা। আজও একইভাবে চলেছি। কারণ পড়াতে ভীষণ ভালো লাগে। আদর্শ ও মূল্যবোধকে জীবনে সবসময় অগ্ৰাধিকার দিয়ে চলি।

সালটা ২০১৬, এপ্রিল মাস। I. C. S. E  বোর্ডের ছাত্রী দেবস্মিতাকে একাদশ শ্রেণীতে বাংলা পড়াতে শুরু করলাম। ওদের ফ্ল্যাটে গিয়ে পড়াতাম। আমার বাড়ির কাছেই। ও একাই পড়তো। বিনিময়ে গুরু দক্ষিণা অনেক বেশি পেতাম। প্রথম দিন পড়িয়েই খুব ভালো লেগেছিল। ভীষণ জ্ঞান পিপাসু, বিনয়ী, হাসি-খুশি, পড়াশোনায় বেশ ভালো। ইংরাজী মাধ্যমের ছাত্রী হওয়ায় বাংলায় সামান্য দুর্বল। কিন্তু ভালো করার অদম্য ইচ্ছা। সপ্তাহে একদিন করে পড়ানোর কথা থাকলে ও ওর আগ্ৰহে ভীষণ খুশি হয়ে মাঝে মাঝেই একস্ট্রা ক্লাস দিতাম। ও প্রায় রোজই পড়া করে রাখতো। কোনো দিন শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে পড়া করতে না পারলে ক্ষমা চেয়ে নিত।

 I. C. S. E 10 এর ফল বেরোলে দেখা গেল দেবস্মিতা বাংলায় ৯০ পেয়েছে। নাইন, টেনে ও অন্য টিচারের কাছে বাংলা পড়তো। যাইহোক আমি I. S. C র জন্য আরো জোরদার গতিতে পড়ানো শুরু করি। আমার অনেক ছাত্র, ছাত্রীর মতো দেবস্মিতা ও আমাকে "তুমি " বলে সম্বোধন করতো। আমি অবশ্য এই ব্যাপারটায় খুব একটা গুরুত্ব দিই না। অনেকেই আমাকে "দাদা তুমি", "স্যার তুমি" এসব বলে সম্বোধন করে থাকে। পড়াশোনাটাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে বেশি আপন ভেবে "তুমি" বলে থাকে। তবে বেশিরভাগ " আপনি " এবং "স্যার বলেই সম্বোধন করে।

যাইহোক দেবস্মিতা এবং ওর বাবা, মার অমায়িক ব্যবহার আমাকে ভীষণভাবে ছুঁয়ে গিয়েছিল। ইলেভেন থেকে টুয়েলভে ওঠার সময় দেবস্মিতা বাংলায় বেশ ভালো ফল করে। ওর বাবা, মা আমাকে অভিনন্দন জানান। 

টুয়েলভে আরো মন দিয়ে পড়াশোনা করতে থাকে। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী হওয়ায় ওর মারাত্মক চাপ ছিল। তাও ও প্রায় রোজ পড়া করে রাখতো। আমি ও ওকে ভালো করানোর জন্য নিজেকে প্রায় উৎসর্গ করেছিলাম। একস্ট্রা ক্লাস ও সময়ের কোনো হিসাব  ছিল না। এদিকে সময় এগিয়ে চলতে থাকে খুব দ্রুত তাল, লয়, ছন্দে। ২০১৮ এর I. S. C পরীক্ষা শুরুর কয়েকদিন আগে ওকে শেষ বারের মতো পড়াতে গেলে ও আমাকে দেখে কেঁদে ফেলে। বলে "স্যার তুমি আমাকে  বাংলায়  আগ্ৰহী করে তৈরি করেছো। তোমার মতো ভালো শিক্ষক আমি এর আগে কাউকে পাই নি। কিন্তু আর তো দেখা হবে না"। ওর এই আচরণে আমি ও ভীষণভাবে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ি। ওকে বুঝিয়ে বলি "দেখো সব কিছুর একদিন শুরু ও শেষ আছে। তাই কান্নাকাটি না করে মন দিয়ে পরীক্ষা দাও। আমি সরাসরি পড়াতে না এলে ও ফোনে কথা বলবে। অনেক প্রাক্তন ছাত্র, ছাত্রীই আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে"। তবুও ও কাঁদতে থাকে। ওর মাও সেদিন ওকে শান্ত করতে পারেন নি। যাইহোক ২ ঘন্টা পড়ানোর পর আমি শেষ বারের মতো চলে আসি।

পরের দিন সকাল সাড়ে ১১ টায় দেবস্মিতার বাবা ফোন করে জানান আমি চলে আসার পর ও নাকি ভীষণ কান্নাকাটি করেছে। বলেছে বাংলা পরীক্ষার এখনও কিছুটা দেরি আছে। এই ক' দিন ও অন্যান্য পরীক্ষার মাঝে আমার কাছে বাংলা পড়া চালিয়ে যেতে চায়। ওর বাবা আমাকে আবার পড়াতে যেতে অনুরোধ করেন। আমি ওর আবেগের কাছে বশ্যতা স্বীকার করে আবার পড়াতে যাই এবং বাংলা পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত পড়ানো চালিয়ে যাই। প্রত্যেক দিনই আবার ওকে শেষ দিন সম্পর্কে কাউন্সেলিং করতাম। 

জীবনে বহু ছাত্র, ছাত্রী পড়িয়েছি এবং এখনও পড়িয়ে চলেছি। প্রত্যেকেরই একদিন পড়ানোর শেষ দিন আসে। শেষ দিনে কম, বেশি সবাই কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে, মন খারাপ করে। আমারও খারাপ লাগে। কিন্তু এটাই জাগতিক নিয়ম। শুরু থাকলে তার শেষও আছে। কিন্তু দেবস্মিতার মতো এতটা আবেগ আমার প্রতি কেউ কোনো দিন দেখায় নি। 

I. S.C তে বাংলা সহ সব বিষয়ে ভালো ফল করার পর স্থাপত্য বিদ্যায় উচ্চ শিক্ষা লাভ করে ও আজ অনেক উপরের স্তরে। বিধাতার অমেয় আশীর্বাদ ওর উপরে আছে। আমি তখনই ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছিলাম যে ও একদিন অনেক বড় হবে।  আজ তা সত্যি হয়েছে। ওর মতো ভালো মেয়ে( সব দিক থেকে ভালো ছাত্রী) আমি এখনো পর্যন্ত খুব খুব কম পেয়েছি। ও আরো অনেক বড় হবে।

ক্ষুধার শহরে ফেরিওয়ালা... - মুন্নাফ সেখ

 

কবি - মুন্নাফ সেখ


রোদে পোড়া মুখ, ঘামে ভেজা গায়, পথ চলা অবিরাম,
শহর যখন এসি-তে ঘুমায়, আমার জীবন ঘাম।
পিঠের ওপর পাহাড় সমান ব্যাগের বোঝা ভারী,
সবার ক্ষুধা মেটাতে গিয়েও নিজের শান্তি হারি।

ম্যাপের কাঁটায় জীবনটা আজ সময়ের পিছে ছোটে,
দেরি হলেই গালিগালাজ আর রেটিংটা কমে জোটে।
তপ্ত পিচে ট্রাফিক জ্যামে ফুরিয়ে যায় যে বেলা,
আমার খিদের খবর রাখে না নাগরিক এই খেলা।

কারো দুয়ারে বিরিয়ানি দিই, কারো বাড়িতে ওষুধ,
আমার নিজের ঘরেই অভাব, মেটেনি ঋণের সুদ।
কলিং বেলটা বাজানোর পরে কেউ দেখে রুক্ষ চোখে,
মানুষ আমায় রোবট ভাবে, রক্ত-মাংস দেখছে ক'কে?

অচেনা গলিতে পথ হারাই আমি, গুগলও দেয় ফাঁকি,
রন্ধ্র বেয়ে ঘাম ঝরে পড়ে, ক্লান্তি যে আর বাকি।
আপনার ঘরে ডাইনিং টেবিলে খাবারের মেলা যখন,
রাস্তার ধারের জলের কলটা আমার ভরসা তখন।

আমারও তো এক ছোট্ট বাড়ি, আছে এক বুড়ো মা,
পথ চেয়ে থাকে অবুঝ মেয়েটি, ভুলতে তো পারি না।
বৃষ্টিতে ভিজে পথ চলি যখন, শীতে কাঁপে থরথর বুক,
স্মার্টফোনের ওই স্ক্রিনেতে খুঁজি হারানো দিনের সুখ।

বখশিশ দিতে কার্পণ্য করে, মুখ ঘোরে সব পাশে,
জানেন কি এক টাকা কমলে স্বপ্ন বিষাদে ভাসে?
সবার অভাব মিটিয়ে যখন ঘরে ফিরি মাঝরাতে,
এক চিমটি নুন-লঙ্কা দিই শুকনো শীতল ভাতে।

দুর্ঘটনার ভয়টা তাড়া করে মোড়ে আর বাঁকে,
জীবনটা মোর সস্তা বড়, কেউ কি মনেতে রাখে?
আমি তো রোবট নই গো বন্ধু, আমারও আছে এক মন,
অবহেলা আর যন্ত্রণাতে কাটে আমার প্রতিটি ক্ষণ।

অচেনা শহর, অচেনা মানুষ, আমি এক যাযাবর,
হাসির আড়ালে চাপা আছে মোর এক সমুদ্র ঝড়।
বুক চিরে যদি দেখানো যেত জমা থাকা দীর্ঘশ্বাস,
বুঝতেন এই শহরটা আমার এক নীল কারাবাস।

🔰 গুচ্ছ কবিতা 🔰 - কবি -জুঁই চক্রবর্তী


কবি -জুঁই চক্রবর্তী


কবিতা - অপেক্ষা

চাঁদের দেশে চলে গেছো অনেকদিন হোলো
তোমার কথা মনে করে আমি নিস্তব্ধ।
সত্যি কোথায় চলে গেছো ফিরবে না কোনোদিন
অপেক্ষা রইবো না আর ভাবি সারাদিন।
সবসময় ভালো থেকো এই কথা ভাবি
স্বপ্ন যদি নাও হয় বাস্তবতাকে মানি।


কবিতা - গীতা

গীতা পাঠ করে যারা পাপ ক্ষয় হয়
এই কথা আমি বলছি শোনো নিশ্চয়।
পাপীরা তো পড়ে না নিন্দা মন্দ করে
অবুঝ হলে বলো কি ওরা কি তা শোনে।
স্বর্গেতে যায় না নরকে যায়
এইবারে বুঝবে কি তা শাস্তি টা পায়।


কবিতা - মুখে ভাত

আমার পোগো ছোট্ট সোনা শেখেনি তো কথা
তবুও তাকে মানতে হবে অনেক রকম প্রথা।
ভাত খাবে মামারবাড়ি এই শ্রাবন মাসে
পোগো সোনা চাইছে সেদিন মাসি যেনো আসে।
হাঁটি হাঁটি পায়ে পায়ে আমি যেতে পারি বলতে
মনে কিছু কোরোনা তাই ভুলো নাকো আসতে।



কবিতা - বাজি

কালীপুজো কালিপটকা ফাটে পটাপট
রংমশলা উড়ন্তবড়ি আলো ঝলমল।
একটু আনন্দ একটু ভয় তাও বাজি পোড়ায়
পোড়াতে গিয়ে হাতে ফোস্কা জ্বলে ওঠে তাই।


কবিতা - কথা

পেটে কথা থাকে না তো মুখে আসে সব
কি যে বলবো আমি করি গড়বড়।
বয়স তো হচ্ছে বুদ্ধিটা কমছে
মনের জোর হারাইনি শরীরটা ভেঙেছে।


কবিতা - বৃদ্ধাশ্রম

বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের আশ্রয় ছিল ছোট্ট বৃদ্ধাশ্রম
সেই দেখে আমার চোখে ছাপিয়ে গেল জল।
একাকিত্ব আছেন যারা নিঃসন্তান তো বটে
তাঁদের কেউ ভার নেয় না মনটা শুধু কাঁদে।
চুপ করে বসে থাকেন অপেক্ষা শুধু করে
ছেলে কবে দেখতে আসবে দিনটা শুধু গোনে।
কষ্টে সৃষ্টে মানুষ করে পায়নি তো সুখ
আনন্দ তাঁদের চলে গেছে এটাই চরম দুঃখ।
ধন সম্পদ ছেলে চায় ভালোবাসা চায় না
আপনজন বাবা মা ছেলেরা বোঝে না।
বাবা মাকে যখের ধন মনে করে তাঁরা
তাঁদের একদিন ভুল সুধরাবে—
ভগবানের কাছে এই প্রার্থনা।


কবিতা - ছোটবেলা

ছোটবেলা দিনগুলো একরকম ছিল
বড়ো হয়ে সেই দিন কেমন বদলে গেল।
প্রতিদিন চুপ করে একা বসে থাকি
গালে হাত দিয়ে সেই কথা মনে মনে ভাবি।
মার হাত ধরে আমি স্কুলে চলে যেতাম
রাস্তায় এতো গাড়ি হুড়োহুড়ি করতাম।
তাড়াতাড়ি মা চলো ঘন্টা বেজে যাবে
একটু দেরি করলে আবার দরজা বন্ধ হবে।
মা বলে ওরে দাড়া সাবধানে চল
ঠিক পৌঁছে যাবো আমি কম কথা বল।

কবিতা - দুর্ঘটনা

দুর্ঘটনা কখন কার বোঝানোটা দায়
এয়ার ইন্ডিয়া ১৭১ প্রাণ করে হায় হায়।
এতদিনে অভিজ্ঞতা পাইলট ভাই কি করলে
সবাইকে নিয়ে শেষযাত্রা স্বর্গে চলে গেলে।
শত শত ছিন্ন ভিন্ন দেহ পড়ে আছে
কাউকে তো চিনতে পারা যাচ্ছে না মরে কাঠ হয়ে আছে।
কত লোকের স্বপ্ন ছিল লন্ডনে যাবার
মুহূর্তের মধ্যে শেষ হলো ভগবানের লীলা।


কবিতা - ডানা

এসেছে ডানা
করেছে মানা
প্রচণ্ড ভয়ঙ্কর।
চাষীরা শুনে ভয় কাঁপছে
বুক করে ধড়ফড়।
কি করবে ভাবছে তারা
দিন আনে দিন খায়
পেটটা তো না চললে সংসারে হাহাকার।
তবুও ডানা শোনোনি তো
আছড়ে পড়েছো।
সত্যি তুমি শেষ করেছো
সবার কি হবে ভাবতো।

আমি একটা গল্প... কলমে -সন্দীপ সাঁতরা

চা খাবে? আজ একটু আগেই বসেছি অবাক! কাজ ফেলে বসা তোমার স্বভাবে নেই তো। আজ মে দিবস, তাই নিজেকেই একটু সময় দিলাম। নিজের সাথে কথা বলছো? হ্যাঁ, সা...

জনপ্রিয় পোস্ট