বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

মৃত্যুকাতর (কবিতা) - সর্বানী দাস

  

সর্বানী দাস


জীবনডাঙায় হাট বসেছে 
আসা-যাওয়ার চলছে মেলা,
সাধের মাটির দেহখানায় 
নিঃশ্বাসে পার করবে ভেলা।

শ্বাসের বাঁশি নাভির টানে 
আটকে আগল খাঁচার পাখি,
দমের সুরে প্রাণের ঝাঁপি 
মৃত্যুকাতর অশ্রু আঁখি।

কামের ফাগুন জ্বলছে বুকে,
সুখের নেশায় "আমার আমি,"
ক্রোধের আগুন পোড়ায় দেহ 
লোভের লালায় পরাণ যামি।

মোহমায়ার ডুবসাগরে 
সত্য মিথ্যে যাচাই বিনে,
মদের নেশায় অহংকারে 
পাপের ঘড়া পূর্ণ ঋণে।

মাতসর্যের কালো বিষে 
অহর্নিশি  অন্তর দ্বন্দ্ব,
দেহপুরীর গুপ্ত ধনে 
চৌর্যবৃত্তি স্বভাব মন্দ।

উচ্চ-নীচে বর্ণ ভেদে 
জাতজুয়ারি আসছে ধেয়ে,
খুঁজিস যারে পরের দ্বারে 
দর্পণেতে দেখরে চেয়ে।

রাজপোশাকে বাহির সাজে 
মনের ঘরে ঘৃণা দম্ভ,
রক্তমাংসে মৃত্যুকাতর 
দুশো ছয়ে কঙ্কাল স্তম্ভ।

গয়নাগাটি টাকা মাটি 
স্বর্গ গড়া মায়ার সাজ্য,
শমণ এসে মুচকি হাসে 
মৃত্যুপুরীর অসীম রাজ্য।

সব কোলাহল হবে স্তব্ধ 
দেহের হাটে রইবে পড়ে,
মাটির মানুষ ছাই -কবরে 
দশদুয়ারে বিচার তরে।

মনের ভিতর মন যদি রয় 
চুপটি করে অচেনাতে,
মনের মানুষ মনমুকুরে 
মৃত্যুকাতর প্রার্থনাতে।

শেষের পথিক গান ধরেছে 
অনন্ত জ্ঞান  বাঁধে ছায়া 
মনবাউলে কইছে শোনো 
কায়া ভাঙা মিথ্যা মায়া।

বলছি আমি আউল বাউল 
দেহতত্ত্বের গোপন কথা,
অনুরাগের এতো পরব 
কিসের তরে মনের ব্যথা।

শূন্য চেয়ার - সমর্পিতা রাহা

সমর্পিতা রাহা




বারান্দায় যে চেয়ারটা  আপন মনে দোদুল্যমান –
চেয়ারটার উপবিষ্ট মানুষ টার বেশ কিছু দিন দেখা নেই !
অজান্তে রোজ চোখ চলে যায় ওই শূন্য চেয়ারটার দিকে ,
যেতে আসতে বিনিময় হতো একটু মিষ্টি হাসি ।
হাত নেড়ে চোখের ভাষায় বুঝিয়ে দিতেন ঠিকঠাক।
একদিন গল্পচ্ছলে 
জানলাম ওই চেয়ারে উপবিষ্ট মহিলার স্বামী মারা গেছেন।
কোনোদিন হয়তো রাস্তায় দাঁড়িয়ে হয়েছে কিছু আলাপ–
দুই ছেলে বড়ো হয়ে গেছে যে যার কাজে ব্যস্ত 
বড় ছেলের দুই মেয়ে নিয়ে বৌমা ব্যতিব্যস্ত 
বৌমার গুণকীর্তন নাতনীদের প্রশংসা ।
আবার একদিন মনে হলো ছোটছেলের কথা জানা হল না –
কথাচ্ছলে জানলাম ছোট ছেলেটা বহু দূরে চলে গেছে ,
আরো চমকালাম একাকিত্ব মাসিমার কথা শুনে 
বললেন ছোট ছেলেটা চলে গেছে আজ দু বছর হল–
বহু দূরে ওই তারাদের দেশে ওর বাবুর কাছে 
বুকটা বেশ ধড়পড় করে উঠলো।
রোজ দেখি বারান্দায় বসে চুপচাপ মশার কামড় খাচ্ছেন।
আমায় দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করতেন
কি গো কেমন আছো?
আমি কাছে গিয়ে বলতাম টিভি দেখুন
সময় কেটে যাবে।
দুই বাচ্চার অনেক পড়া দুই ঘরে পড়ছে
ডাইনিং এ টিভি চালালে ওদের পড়ার ক্ষতি হবে যে!
ফিসফিস করে বলে একাকিত্বের বড্ড জ্বালা  রে!
বেশ কিছুদিন চেয়ারটা ফাঁকা লাগছে 
হঠাৎ দেখি বাড়ির সামনে সাদা প্যান্ডেল
তাহলে মাসিমা নেই!
চেয়ারটা তাই একাকিত্বে কাঁদে।
কেউ জিজ্ঞেস করবেন না কি গো কেমন আছো!
রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে কেমন একটা অভ্যাস হয়ে গেছিল 
অজান্তে চোখ চলে যায় ওই শুন্য চেয়ারের দিকে

কার দোষ ? - মেঘদূত


দিনটা হল পয়লা এপ্রিল 
এপ্রিল ফুল যে বলে,
কে কাহাকে বোকা বানায়
তাহার খেলা চলে।

এখন তো যুগ মুঠো ফোনের
হ্যালো হাই তে ঢলে,
দুই জনেতে কথা হলো
মিলবে শিমুল তলে।

সময় থাকতে সেজে গুজে
হাজির দুজন এসে,
মনকে নাড়ায় আকু পাকু
দখিন হাওয়া ভেসে।

এক বসেছে ঝিলের পুবে
অন্য পছিম পাড়ে,
সারা সন্ধ্যা উজাড় হলো
খুঁজতে ঝোপে ঝাড়ে।

অনেক খুঁজে যখন সবে
দুজন দেখা হলো,
পার্কের গার্ড আদেশ দিল,
'এবার বাড়ি চলো।'

প্রেমিক প্রবর বললো চটে
সব বলোনা খুলে,
জায়গাটা তো বললেই না আর
তাড়াহুড়োয় ভুলে!

আদর করে হাতটি ধরে
বললো প্রিয় শোনো,
আজকে ছিল পয়লা এপ্রিল 
"এপ্রিল ফুল" জেনো।

মৃত্যুকাতর (কবিতা) - সর্বানী দাস

   সর্বানী দাস জীবনডাঙায় হাট বসেছে  আসা-যাওয়ার চলছে মেলা, সাধের মাটির দেহখানায়  নিঃশ্বাসে পার করবে ভেলা। শ্বাসের বাঁশি নাভির টানে  আটকে আগল ...

জনপ্রিয় পোস্ট