প্রজাতন্ত্র দিবস-২০২৬ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রজাতন্ত্র দিবস-২০২৬ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬

২৬শে জানুয়ারি (লেখক- উজ্জ্বল কান্তি দাশ)

২৬শে জানুয়ারি
লেখক- উজ্জ্বল কান্তি দাশ

আমাদের মহান প্রজাতন্ত্র দিবস
২৬শে জানুয়ারি, 
উন্নিশো পঞ্চাশ হতে প্রতিটি বছর
শ্রদ্ধায় পালন করি। 

সাম্য মৈত্রী অবাধ স্বাধীনতা
গণতন্ত্রের মূল কথা, 
বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে মোরা
এক সুতোতে গাঁথা। 

লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া
মোদের পবিত্র সংবিধান, 
কোনদিন মোরা ভুলতে পারিনা
লাখো শহীদের অবদান।

তীব্র গতিতে ছুটছে ভারত
বিশ্বকে করে আপন, 
তেমনি করে প্রতিষ্ঠিত হোক
সুবিচার সুশাসন। 

সবার মুখে অন্ন জুটবে
সবাই সুখে রবে, 
আমার ভারত মাকে দেখে
বিশ্ব অবাক হবে। 

পৃথিবী শ্রেষ্ঠ দেশ হবে মোদের
সবাই অধিকার পাবে, 
সেই দিনটির স্বপ্ন দেখি
ভীষণ ভীষণ ভাবে।

সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রজাতন্ত্র দিবস (লেখিকা- সুবর্ণা দাশ)

প্রজাতন্ত্র দিবস
লেখিকা- সুবর্ণা দাশ

স্বাধীনতা আজ মাথা খুঁড়ে মরে, 
অসাধু নরপশুদের দ্বারে দ্বারে। 
ক্ষমতার অপব্যবহার করে সমাজপতি, 
সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? 
কি হবে তাদের গতি? 
নাগরিক মোরা স্বাধীন দেশের, 
লজ্জায় তবু নত হয়ে আসে শির! 
এমন দেশ গড়তে কি দিয়েছিল প্রাণ? 
দেশমাতৃকার লাখো বীর! 

ক্ষমা করো, যারা জীবন বিপন্ন করেছিলে, 
গর্জে উঠেছিলে, হাতে তুলে নিয়েছিলে অস্ত্র, 
লেলিহান শিখায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলে, 
মাতৃভূমিকে করতে রক্ষা। 
তোমাদের আত্ম বলিদানের মোরা
করতে পারিনি সম্মান! 
ক্ষমা করো, হে দেশমাতৃকার বীর সন্তান, 
ক্ষমা করো এ অধম অযোগ্য সন্তানদের। 

প্রতিটি বছর পালন করি গণতন্ত্র দিবস, 
উড়ে জাতীয় পতাকা, 
পারছি কি মোরা রাখতে
এই তিরঙ্গার মহীয়ান! 
খর্ব হচ্ছে আজ নাগরিক অধিকার-
বিচার পায় না সন্তান হারা বাবা-মা, 
পথে পথে ঘুরে সুবিচারের আশায়, 
হয়তো চোখ খুলবে রাষ্ট্রযন্ত্র, 
হায়, হায়রে প্রজাতন্ত্র!

প্রজাতন্ত্র দিবসের তাৎপর্য (লেখক- জয়দীপ বসু)

প্রজাতন্ত্র দিবসের তাৎপর্য
লেখক- জয়দীপ বসু

ভূমিকাঃ
২৬ শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস। ভারতের জাতীয় জীবনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবোজ্জ্বল দিন। প্রতি বছর ২৬শে জানুয়ারি সারা দেশজুড়ে এই দিনটি গভীর শ্রদ্ধা, দেশপ্রেম ও উৎসাহের সঙ্গে উদযাপন করা হয়। এই দিনটি ভারতের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক, কারণ ১৯৫০ সালের এই দিনে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সম্পূর্ণ প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়। স্বাধীন ভারতের শাসনব্যবস্থা এই দিন থেকেই সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হতে শুরু করে।
 
প্রজাতন্ত্র’ শব্দটির অর্থ হলো—যে রাষ্ট্রে দেশের শাসনক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে। এখানে কোনো রাজা বা সম্রাট শাসন করেন না; বরং জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশ পরিচালনা করেন। ভারতের মতো একটি বিশাল ও বৈচিত্র্যময় দেশে প্রজাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা নাগরিকদের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের ঐতিহাসিক পটভূমিঃ
দীর্ঘ প্রায় দুই শতাব্দীর ব্রিটিশ শাসনের পর ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল একটি স্থায়ী, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক সংবিধান প্রণয়ন করা।
এই উদ্দেশ্যে একটি সংবিধান সভা গঠন করা হয়। বহু বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, আইনজ্ঞ ও জাতীয় নেতার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে প্রায় ২ বছর ১১ মাস ১৮ দিন ধরে সংবিধান রচনার কাজ চলে। "ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকর ছিলেন সংবিধান খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান এবং তাঁকেই ভারতের সংবিধানের প্রধান রূপকার বলা হয়"।

২৬শে জানুয়ারি তারিখটি বিশেষভাবে নির্বাচন করা হয়, কারণ ১৯৩০ সালের এই দিনেই পূর্ণ স্বরাজ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি ভারতের সংবিধান কার্যকর করা হয় এবং ভারত একটি সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

ভারতের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যঃ
ভারতের সংবিধান বিশ্বের দীর্ঘতম লিখিত সংবিধান। এতে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার মৌলিক কর্তব্যএবং রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতিমালাৎবিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সংবিধান জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ ও ভাষার ভেদাভেদ দূর করে সকল নাগরিককে সমান অধিকার প্রদান করে। বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শিক্ষা ও জীবনের অধিকার সংবিধানের মাধ্যমে সুরক্ষিত হয়েছে। প্রজাতন্ত্র দিবস আমাদের এই সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।

প্রজাতন্ত্র দিবসের জাতীয় অনুষ্ঠানঃ
প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কর্তব্য পথ (রাজপথ)। এই দিন ভারতের রাষ্ট্রপতি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সম্মিলিত কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।
স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজ দেশের সামরিক শক্তি ও প্রস্তুতির পরিচয় দেয়। বিভিন্ন রাজ্যের সাংস্কৃতিক ট্যাবলো ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, লোকশিল্প ও উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে। সাহসিকতা, বীরত্ব ও সামাজিক অবদানের জন্য নাগরিকদের বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত করা হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজে প্রজাতন্ত্র দিবসঃ
বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে প্রজাতন্ত্র দিবস অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে পালন করা হয়। পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, আলোচনা সভা, প্রবন্ধ পাঠ, আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক গান এই দিনের বিশেষ আকর্ষণ।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, নাগরিক দায়িত্ব ও সংবিধান সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলাই এই উদযাপনের প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রজাতন্ত্র দিবসের তাৎপর্যঃ
প্রজাতন্ত্র দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা কেবল রাজনৈতিক মুক্তি নয়; বরং ন্যায়, সমতা ও আইনের শাসনের মাধ্যমে স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখা। এই দিনটি আমাদের নাগরিক হিসেবে কর্তব্য পালনের কথা মনে করিয়ে দেয়।
জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও দেশপ্রেম জাগ্রত করার ক্ষেত্রে প্রজাতন্ত্র দিবসের ভূমিকা অপরিসীম।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রজাতন্ত্র দিবসঃ
বর্তমান যুগে প্রজাতন্ত্র দিবসের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। গণতন্ত্র রক্ষা, সংবিধানের মূল্যবোধ বজায় রাখা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। দুর্নীতি, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলাও এই দিনের অন্যতম শিক্ষা।

উপসংহারঃ
প্রজাতন্ত্র দিবস কেবল একটি জাতীয় উৎসব নয়; এটি ভারতের গণতান্ত্রিক আত্মার প্রতিফলন। এই দিনটি আমাদের শপথ নিতে শেখায় যে আমরা সংবিধানের আদর্শ মেনে চলব, দেশের আইনকে সম্মান করব এবং জাতির উন্নতিতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখব। ঐক্য, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে ভারতবর্ষ একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও আদর্শ প্রজাতন্ত্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে—এটাই প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল বার্তা।

ভারত বর্ষ আবার স্বপ্নের দেশে পরিণত হবে। উন্নয়নশীল নয়, উন্নত দেশে পরিণত হবে।

প্রজাতন্ত্র (লেখক- অতনু চৌধুরী)

প্রজাতন্ত্র
লেখক- অতনু চৌধুরী 

রাজা প্রজায় চাইনি তফাৎ 
দোঁহের মিলন সহাবস্থান,
তাই নিয়ে যে প্রজাতন্ত্র 
ভারত দেশের নয়া বিধান।

ভারতীয় সব নাগরিক কয়
ধর্ম নহে রাষ্ট্রের অঙ্গ,
ধর্মাচরণ অধিকার হয় 
সব নাগরিক সঙ্গ।

ধর্ম,বর্ণ, নির্বিশেষে 
চলা,বলার স্বাধীনতা,
খাদ্য পোশাক গমনাগমন 
ব্যক্তি সবের স্বতন্ত্রতা।

আইন বিচার সংবিধানে 
সর্বক্ষেত্রে সমান গনে,
শিক্ষা দীক্ষা স্বাস্থ্য সবার 
সমান দাবি সার্বিক মনে।

উড়ছে দেখো তে-রঙা ভাই 
গাইছি সবাই ভারতের গান,
দেশের তরে দশের তরে 
দিচ্ছে ভাষণ প্রজ্ঞাবান।

সংবিধান কি রক্ষাকবচ
দেশের,ব্যক্তির -তোমরা মানো?
উন্নাও হাথরস ঘটছে কেন?
বিচার পায় না বিলকিস বানো?

মন্দির হচ্ছে রাষ্ট্রদ্যোগে 
যবন,হিন্দু,দলিত ব্রাত্য,
কোন্ পথে আজ চলছে রে দেশ
সম্প্রীতি বাদ মিল সৌহার্দ্য।

"প্রজাতন্ত্র" বাক্য কেবল
নিছক নিখাত ছুটির আসর,
মন মানসে চেতন রঙে
ঢিলেঢালা খুশির বাসর।

ধুলোমাখা সম্মান (লেখক- সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ)

ধুলোমাখা সম্মান
লেখক- সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ

আজ ২৬শে জানুয়ারী। দিনটা অন্য দিনগুলোর থেকে আলাদা। কুয়াশার চাদর সরিয়ে সিঁদুরের টিপের মতো লাল সূর্যটা উঁকি দিচ্ছে আকাশে।সারা শহর সেজেছে গেরুয়া, সাদা আর সবুজের সমারোহে। মাইকে দেশের গান বাজছে। বড় বড় প্রাসাদের মাথায় উড়ছে জাতীয় পতাকা।

ফুটপাথের একপাশে দাঁড়িয়েছিল অয়ন। কোঁকড়া চুলের মিষ্টি চেহারার  বছর দশেকের অয়নের হাতে একগুচ্ছ প্লাস্টিকের পতাকা। উদ্দেশ্য ছিল সবকটি পতাকা বিক্রি করা। সেই পয়সা দিয়ে সে তার মায়ের ওষুধ কিনবে।

সিগন্যালে দাঁড়িয়ে পতাকা বিক্রি করতে করতে তার হঠাৎ নজরে পড়ল-ডাস্টবিনে পড়ে আছে একটা মলিন, ছেঁড়া জাতীয়পতাকা।

হঠাৎ তার মনে পড়ল বিদ্যালয়ে শিক্ষকমশাই বলেছিলেন-"পতাকা শুধু কাপড় নয়, এটি দেশের সম্মান। "ডাস্টবিনের দিকে এগিয়ে গেল সে।নিজের জল খাওয়ার বোতলের জল দিয়ে পতাকাটি ধুয়ে ফেলে তার ঝুড়িতে তুলে রাখল।

সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অবনীবাবু বিষয়টি লক্ষ্য করলেন। তিনি অয়নের কাছে গিয়ে তার সবকটি পতাকা কিনে নিতে চাইলেন। অয়ন মাস্টারমশাইকে পতাকাগুলো বেচে দিলেন। শুধু ছেঁড়া পরিস্কার করা পতাকাটা বাদে।

অবনীবাবু বললেন-"ঐ পতাকাটা দিলি না?"

অয়ন বলল, "না দাদু,ওটা ছেঁড়া। বিক্রির জন্য নয়।এটা আমি ঠিক করে আবার উড়াবো।"

তোকে দেখে আবার আমি নতুন করে দেশভক্তি শিখলাম।

না দাদু,দেশভক্তি জানিনা। তবু শিখেছি- এটার অসম্মান মানে দেশের অসম্মান।

পকেট থেকে অবনীবাবু অয়নের হাতে একটা একশো টাকার নোট ধরিয়ে দিয়ে বললেন-"ওই পুরনো ছেঁড়া পতাকাটাই আজ আমার কাছে সবচেয়ে দামি। ওটা আমায় দে।"

অবাক চোখে তাকিয়ে রইল অয়ন। সকালের কনকনে ঠাণ্ডাটা একনিমেষে ওধাও হয়ে গেছে।একটা অদ্ভূত উষ্ণতা  তার সারা শরীরে।

অবনীবাবু অয়নকে সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন একটা বড় মাঠে। সেখানে তিনি প্রতিবছর এই দিনে পতাকা তোলেন। বড় প্যাণ্ডেল হয়েছে। চারদিক তেরঙা কাপড়ে মোড়া মাইকে বেজে চলেছে-"বন্দেমাতরম, সুজলাং, সুফলাং...।"

মাস্টারমশাই মঞ্চে উঠে মাইক ধরলেন। গুঞ্জন থেমে গেল। তিনি আবেগমথিত গলায় বলতে লাগলেন-"আজ আমার দেশকে ভালোবাসার দিন।দেশকে রক্ষার জন্য শপথের দিন...।"

অয়নকে কাছে ডাকলেন। কাঁপতে কাঁপতে অয়ন মঞ্চে উঠলো। মাষ্টারমশাই সবার সামনে অয়নের দেশভক্তির গল্পটা শোনালেন। সবার চোখে এক অদ্ভূত শ্রদ্ধা। অবনীবাবু অয়নকে কাছে ডেকে বললেন-"টান দে দাদুভাই,আজ ভারতের আত্মা তোর হাতেই জেগে উঠুক।"

এই বয়সে প্রথম পতাকা তুললো অয়ন। প্রথম স্যালুট। অনুভব করলো-মায়ের ওষুধের টাকা রোজগার নয়, সে এমন সম্মান পেয়েছে তা সে কল্পনাও করতে পারেনি।

এবার ফেরার পালা। অয়ন মাষ্টারমশাইয়ের চরণ ছুঁয়ে বলল-"পরের বছর আমি আর পতাকা বেচবো না। আমি স্কুলে যাবো। বড় হয়ে ঐ পতাকার মতো আকাশ ছোঁব।"

রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রজাতন্ত্র দিবস (লেখিকা- সমর্পিতা দে রাহা)

প্রজাতন্ত্র দিবস
লেখিকা- সমর্পিতা দে রাহা

প্রজাতন্ত্র দিবসের সংক্ষিপ্ত কথাঃ
আজ ২৬শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস সারা ভারতবর্ষ জুড়ে মহা আড়ম্বরের সাথে পালিত হচ্ছে ভারতের ছিয়াত্তর তম প্রজাতন্ত্র দিবস বা সাধারণ তন্ত্র দিবস।

প্রতিটি ভারতবাসীর কাছে আজকের দিনের গুরুত্ব অপরিসীম।কারণ ১৯৫০ সালে আজকের দিনেই ভারতীয় সংবিধান কার্যকরী হয়।

নতুন গণতান্ত্রিক ভারতের জন্ম হয়। আজকের দিনটি ভারতের জাতীয় দিবসগুলির মধ্যে অন‍্যতম।

প্রায় দুশোবছর পরাধীন থাকার পরে গান্ধীজি, নেতাজি, নেহেরু, লালা লাজপত রায়, বালগঙ্গাধর তিলক, বিপিনচন্দ্র পাল, সর্দার বল্লভভাই প‍্যাটেল,
আরো অনেক বিপ্লবীদের নেতৃত্বে...
১৯৪৭ সালে ১৫ইআগষ্ট –
আমাদের দেশ স্বাধীন হয়।

স্বাধীনতার পরে ও দেশে নির্দিষ্ট কোন আইন ছিল না। তাই ভারতের সংবিধান তৈরির জন‍্য ১৯৪৭ সালে ২৮শে আগষ্ট থেকে একটি খসড়া কমিটি ১৬৬বার সংসদের অধিবেশনে মিলিত হয়।

যেখানে সাধারণ মানুষ ও অংশগ্রহণ করেছিলেন।প্রায় তিনবছরের কাছাকাছি চলেছিল। এই খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন ডঃ ভিমরাও রামজি আম্বেদকর।

১৯৪৭ সালের ৪ঠা নভেম্বর তারিখে কমিটি একটি খসড়া সংবিধান প্রস্তুত করে গণপরিষদে জমা দেন। বহু বিতর্ক ও কিছু সংশোধনীর পর ১৯৫০ সালে ২৪শে জানুয়ারি গণপরিষদে ৩০৮জন সদস্য চূড়ান্ত সংবিধানের হাতে লেখা ২টি নথিতে স্বাক্ষর ক‍রেন।

এর দুদিন পর ২৬শে জানুয়ারি ১৯৫০ সালে সারা দেশব্যাপী সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতায় আসে। ২৬শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস গ্রণ‍্য হয়েছিল। 

এই প্রসঙ্গে বলি-
১৯৩০, ২৬শে জানুয়ারি দিনটিকে তৎকালীন কংগ্রেস কমিটি স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ধার্য করে।
তারপর থেকেই ওই দিনটিকে পরবর্তী ১৭বছর ধরে পুর্ণ স্বরাজ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
কিন্তু স্বাধীনতা আসে ১৫ইআগষ্ট তাই ২৬শে জানুয়ারি দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য পালন করা হয়, পরাধীন ভারতবর্ষ থেকে আধুনিক গণতন্ত্রে রূপান্তরিত হওয়ার দিন অর্থাৎ প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে।

ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী ভারতবর্ষ একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, প্রজাতান্ত্রিক, ধর্ম নিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণ তান্ত্রিক দেশ।প্রজাতান্ত্রিক – যেখানে প্রজার ক্ষমতায় সর্বোপরি।
এককথায় বলতে গেলে ভারতের শাসন ব‍্যবস্থা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সদস্যমন্ডলির দ্বারা পরিচালিত হয়।

তাই আমাদের দেশকে গণতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্র বলে।
আর সেই গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনেই আমাদের দেশে ভোটের দ্বারা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়।

সার্বভৌম অর্থাৎ আমাদের দেশের অভ‍্যন্তরীণ যে কোনো বিষয়ে আমরাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।বাইরের কোন দেশ ভারতের অভ‍্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।

ধর্মনিরপেক্ষ– ভারতের সংবিধান কোন ধর্মের প্রতি পক্ষপাত করবে না। গণতান্ত্রিক অর্থাৎ জনসাধারণের দ্বারাই দেশের শাসক নির্বাচিত হবে।

সর্বোপরি ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি ভারতবাসীর মৌলিক অধিকার সমান হবে। ১৯৫০ সাল থেকে প্রতিবছর ২৬শে জানুয়ারি দিল্লির লালকেল্লা, ইন্ডিয়া গেট, ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অন‍্যান‍্য প্রথম সারির নেতা।

মাননীয় রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে এই দিন রাজধানী দিল্লির রাজপথে আড়ম্বরপূর্ণ কুচকাওয়াজ ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। যা ভারত রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়। আজ সমগ্র দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং ক্লাবে ক্লাবে জাতীয় সংগীত ও বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গানের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বীর শহিদের উদ্দেশ্যে ফুল অর্পণ করে স্মরণ করা হয়। সম্মান জানান হয়।

এই ২৬শে জানুয়ারি মাতৃভূমি  আমাদের দেশাত্মবোধের দেশপ্রেমে আমাদের দীক্ষা দেয়।
বাইরের কোন দেশ বাইরের কোনো শত্রু আমাদের দেশের সার্বভৌমত্বের উপরে যদি আঘাত হানে তাকে চূড়ান্ত শিক্ষা দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আর "সহযোগিতায়  বাড়িয়ে দু হাত" আছি।

আসুন দেশের অখন্ডতাকে অক্ষুন্ন রাখার জন‍্য দেশের সার্বিক উন্নতি সাধনে দেশের মানুষের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি একে অটুট  রাখার লক্ষ্যে সংবিধানকে নিজের ধর্মে পরিণত করার জন্য এই ২৬শে জানুয়ারি পবিত্র দিনে আমরা দেশমাতৃকার কাছে দৃঢ়সংকল্প হই।

ভারতবর্ষকে জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন নেবার জন্য আমরা আপ্রান চেষ্টা করব।

জয় হিন্দ,
জয় ভারত।

পতাকার আবেদন (গল্প) লেখক- বিমলশঙ্কর (ভৃগু)

পতাকার আবেদন (গল্প)
লেখক- বিমলশঙ্কর (ভৃগু)

২৬ শে জানুয়ারি আমাদের প্রজাতন্ত্র দিবস । খুব ভোর রাতে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে, সকালে বৃষ্টি নেই কিন্তু ঠান্ডা হওয়ায় ঠান্ডা ঠান্ড আমেজে ঘুমটা ভাঙলো চারিদিকে দেশাত্মবোধক গান, দেশাত্মবোধক ভাষণ, পতাকা উত্তোলন, "বন্দেমাতরম" আর ডিজের কান ফাটানি হিন্দি গানের আওয়াজে আটায় উঠেও কান চাপা দিয়ে শুয়ে রইলাম কিন্তু দিলে কি হবে বুকের ভিতর ধপ ধপ শুরু হতেই ধড়ফড় করে উঠে বসলাম, জোড়ে চিৎকার করে রান্নাঘরের উদ্দেশ্যে বললাম "চা" দাও, কি জানি কি মনে করে সকালের চা দিয়ে গেলো গিন্নীকে বললাম বাজারের থলেটা দিও।

সকালের জলখাবার খেয়ে একটু বেলাতেই বেড়লাম বাজারের উদ্দেশ্যে, যেতে যেতে ভিজে রাস্তায় কোথাও কোথাও অল্প জল জমে আছে সেগুলো ডিঙিয়ে ডিঙিয়ে চলতে চলতে একজায়গায় এসে পা'টা তুলেও আটকে গেলো, সঙ্গে সঙ্গে পিছিয়ে এসে দাঁড়াই দেখি ঠিক পায়ের তলায় একটা কাক ভেজা কাগজের বাচ্চা জাতীয় পতাকা, তার উপর দিয়ে দু'চাকা থেঁতলে দিয়েছে, বেশ কিছু পায়ের চাপে ক্ষত বিক্ষত হয়ে আছে, মাথার উপর লম্বা দড়ি বাঁধা ভিজে যাওয়া পতাকার সারি কোনটা কোনটা ঝুলে আছে ‌পড়বো পড়বো করছে দেখলাম, ভাবছি "এভাবে জাতীয় পাতাকা নিয়ে কেনো ছেলে খেলা, পায়ের তলায় আমাদের "জাতীয় পতাকা, স্বাধীনতার ফল"! 

আমি পথের সেই কাক ভেজা পতাকাটা আস্তে আস্তে তুললাম যাতে ছিঁড়ে না যায়, দু'হাতে আলতো করে সামনের শান বাঁধানো বকুল গাছের বেদীতে শুইয়ে দিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম, মনে একটা প্রশ্ন, এই কি আমাদের স্বাধীনতার ফল ? কতো তাজা রক্ত ঝড়িয়ে.....কতো সিঁথির সিঁদুর মুছিয়ে.....কতো মায়ের কোল খালি করে...…কতো তাজা প্রাণের আত্মবলিদানে অর্জিত বহু আকাঙ্খিত আমাদের স্বাধীনতা ! 

আজ মানুষের পায়ের তলায় ! তারপর ধীরে ধীরে হাঁটতে শুরু করলাম । রাস্তার মোড়ে স্কুলের বাচ্চাদের লাইন, সেখানে ২৬ জানুয়ারির পতাকা উত্তোলন হচ্ছে, সেখানে গিয়ে এক স্কুলের আন্টিকে বললাম, "একটু শুনবেন, কথা ছিলো....." আন্টি এগিয়ে আসতে আমি বললাম, "এইভাবে আপনারা যে দড়ি দিয়ে ছোট ছোট জাতীয় পতাকা টাঙিয়েছেন তার থেকে পতাকাগুলো জলে ভিজে মাটিতে পড়ে আছে, কতো লোক বাইকের চাপে পায়ের চাপে থেঁতলে গেছে, সেটাকি দেখেছেন......
আরো কিছু বলতে চাইতে উনি বললেন, "আপনি বরং হেড দি কে বলুন" বলে উনি হেড দিদিমনিকে ডেকে বললেন, "উনি কিছু বলতে চাইছেন.....
হেডে দিদি বললেন, "বলুন...

আমি বলতে শুরু করলাম, "আজ প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে এই যে লম্বা দড়িতে কাগজের পতাকা টাঙিয়েছেন ভোরের বৃষ্টিতে সেগুলো খুলে মাটিতে পড়ছে তার উপর দিয়ে কতো বাইক কতো মানুষ পাড়িয়ে যাচ্ছে এতে জাতীয় পতাকার অপমান হচ্ছে না ! কতো রক্ত ঝড়িয়ে, কতো মায়ের চোখের জল ঝড়িয়ে, কতো সিঁদুর মুছিয়ে বহু আকাঙ্খিত স্বাধীনতা, এই আমাদের জাতীয় পতাকা জলে ভিজে আজ মানুষের পায়ের তলায়, সেই পতাকার এভাবে অসম্মান কি ঠিক ? সব শোনার পর উনি আমার হাত দুটো ধরে বললেন, "আপনি যথার্থ বলেছেন ......

আমি আরো বললাম, পতাকা একটাই থাক, যদি সাজাতে হয় তবে রঙিন কাগজে পতাকা বানিয়ে সাজান এতে দোষের নয় শুধু কাগজের পতাকা কেনো, উনি বললেন, "আমারা দেখছি ব্যাপারটা, যদি দয়া করে এ সম্পর্কে বাচ্চাদের সামনে কিছু বলেন খুব ভালো হয়, বলে আমাকে মাইকটা দিলেন।

আমি নির্ভিক ভাবে বলতে শুরু করলাম - 
দেশাত্মবোধক গান গান, দেশাত্মবোধক ভাষণ, পতাকা উত্তোলন করে প্রজাতন্ত্র দিবস, স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে বন্দমাতরম ধ্বনি দিলেই সব শেষ, তাতো নয়, এই কি আমাদের শিক্ষা, যে শিক্ষা আমাদের জাতীয়তা বোধ শেখায় না, দেশাত্মবোধ শেখায় না, মননে মেধায় স্বাধীনতার চেতনা জাগায় না। 

সেই শিক্ষার নীট ফল পায়ের তলায় স্বাধীনতা, আজ এই যে কাগজের ছোট পতাকা জলে ভিজে কতো মানুষের পায়ের তলায় চাপা পড়েছে, বাইকের চাকায় পিষ্ট হয়েচ্ছে, এরপর হয়তো নর্দমায় বা ডাস্টবিনে চলে যাবে এইসব পতাকা, তাতে আমাদের জাতীয় পতাকার অপমান, আমারা নিশ্চয়ই সেটা চাইবো না, দরকার পরলে কগজের জাতীয় পতাকার পরিবর্তে রঙিন কাগজে পতাকা বানিয়ে সাজাতে পারি। 

জাতীয় পতাকা হোক একটাই, যেটা পত পত করে মাথা উঁচু করে উড়বে তবেই আমরা জাতীয় পতাকার সম্মান দিতে পারবো, আশেপাশে সকলের কাছে অনুরোধ এভাবে কাগুজে জাতীয় পতাকা ব্যাবহার না করে রঙিন কাগুজে পতাকা ব্যাবহার করে জাতীয় পতাকার মর্যাদা রাখুন...
"জয় হিন্দ, বন্দেমাতরম"

বলে মাইকটা এক দিদির হাতে দিয়ে আমি বেড়িয়ে পড়লাম গন্তব্য ।

প্রজাতন্ত্রের চেতনায় বাংলা সাহিত্য (লেখক- বিধান চন্দ্র সান্যাল)

প্রজাতন্ত্রের চেতনায় বাংলা সাহিত্য
(লেখক- বিধান চন্দ্র সান্যাল)

১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভাটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সাথে সাথে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন যুগের সূচনা হয়। রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, সংবিধানে বর্ণিত নাগরিক অধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের চেতনা বাংলা গদ্য, পদ্য ও উপন্যাসে গভীর প্রভাব বিস্তার করে। ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বাংলা সাহিত্য অনন্য ভূমিকা পালন করেছে।

প্রজাতন্ত্রের যুগে বাংলা সাহিত্যে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের চেয়ে সমষ্টির কল্যাণ, শোষণহীন সমাজ এবং গণতন্ত্রের স্থায়িত্বের চেতনা বেশি গুরুত্ব পায়। সাহিত্যে সাধারণ মানুষের অধিকার, বাক-স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের প্রতি সমর্থন ফুটে ওঠে।  জরুরি অবস্থা (১৯৭৫-৭৭) বা সাম্যবাদী আন্দোলনের সময় বাংলা সাহিত্য, বিশে করে কবিতা ও উপন্যাসে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতার দাপটের প্রতিবাদ ছিল স্পষ্ট। 

আধুনিক বাংলা সাহিত্য 'মানুষ' ও তার মনস্তত্ত্বকে প্রধান আলোচ্য বিষয় করে তুলেছে, যা ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের ধর্মনিরপেক্ষ ও সাম্যবাদী আদর্শের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। সাহিত্যে মুক্তিকামী নারীর জীবনচিত্র, তাদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত স্বাতন্ত্র্য এবং অধিকারের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।  ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের সংবিধান স্বীকৃত ভাষা হিসেবে বাংলা তার বৈচিত্র্যময় রূপের মাধ্যমে দেশের অখণ্ডতাকে ফুটিয়ে তুলেছে। 

দেশভাগের ক্ষত এবং শরণার্থী জীবনের বাস্তবতা বাংলা সাহিত্যে এক বড় জায়গা জুড়ে রয়েছে। ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসন, নাগরিক পরিচয়সংকট এবং নতুন রাষ্ট্রের প্রতি প্রত্যাশা ও হতাশা নিয়ে রচিত সাহিত্য, ভারতের গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার দাবি ছিল না, এটি ছিল প্রজাতন্ত্রের চেতনা—জনগণের ভাষা ও সংস্কৃতির উপর অধিকারের লড়াই। এই চেতনা সাহিত্যে শোষক ও নিপীড়কের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার প্রেরণা যুগিয়েছে, যেমন—জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’ ।
 ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অসাম্প্রদায়িক ও সেক্যুলার চেতনার জোয়ার আসে। সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায়, বিশেষ করে কবিতায় ও উপন্যাসে, সাধারণ মানুষের মুক্তির কথা প্রাধান্য পেয়েছে ।
 আধুনিক বাংলা সাহিত্য, বিশেষ করে বাংলাদেশ অংশে, গণমানুষের দাবি আদায়ের সংগ্রাম, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে বিকশিত হয়েছে। এটি স্বৈরাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ।

পরিশেষে বলা যায়, প্রজাতন্ত্রের চেতনায় ভারতের বাংলা সাহিত্য কেবল শিল্পসৃষ্টি নয়, বরং একটি সচেতন নাগরিক সত্তার বিকাশ ঘটিয়েছে। এটি ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে মুক্ত ও গণতান্ত্রিক ভারত গড়ার সংগ্রামে সাহিত্যিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই চালিয়ে গেছে।

প্রজাতন্ত্র দিবস ও সংবিধান (লেখিকা- সর্বানী দাস)

প্রজাতন্ত্র দিবস ও সংবিধান
(লেখিকা- সর্বানী দাস)

ভারতের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসে ২৬ শে জানুয়ারি গণতন্ত্রের জয়ের দিন হিসেবে একটি মাইলফলক। সংবিধানসভা গঠিত হয় ৯ ডিসেম্বর ১৯৪৬ এবং প্রণয়নের কাজ শুরু হয় ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯। ভারতীয় সংবিধান ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ তারিখে কার্যকর হয়। ভারতে এই দিনটিকে গণতন্ত্র দিবস (Republic Day) হিসেবে পালন করা হয়। এই দিনে ভারত একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। 

প্রজাতন্ত্র কেবল একটি আনুষ্ঠানিক জাতীয় উৎসব নয়। জনগণের সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক নৈতিকতার  একটি প্রক্রিয়া। প্রজাতন্ত্র দিবস ভারতের রাষ্ট্রগঠনে  মূল ভিত্তি। ভারতীয় সংবিধান, জনগণের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্রের নীতির এক অনন্য অধ্যায়। ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে, সাংবিধানিক শাসনের সূচনার ইতিহাস রচনা করে প্রজাতন্ত্র দিবস।আব্রাহাম লিংকনের বিখ্যাত উক্তি "Government of the people, by the people, for the people" এর বাংলা অর্থ হলো—"জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা (নির্বাচিত/পরিচালিত) এবং জনগণের জন্য (নিবেদিত)" । এটি গণতন্ত্রের মূল মন্ত্র, যেখানে সরকার জনগণের অংশগ্রহণ, তাদের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং তাদের কল্যাণে কাজ করে থাকে।

ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে ২৬ শে জানুয়ারি  অজ্ঞানিকভাবে যুক্ত। ১৯২৯ সালের লাহোর কংগ্রেসের অধিবেশনে "পূর্ণ স্বরাজ" এর প্রস্তাব গৃহীত হয়। এবং ২৬ শে জানুয়ারি স্বাধীনতা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সংবিধানকে কার্যকর করার জন্য ২৬ শে জানুয়ারি দিনটি ভারতের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা। ডঃ বি. আর আম্বেদকর এর নেতৃত্বে  ন্যায় সাম্য ও স্বাধীনতার নীতিগুলোকে স্পষ্ট ভাবে লিখিত আকারে তুলে ধরেন। গ্র্যানভিল অস্টিন এর মতে  ভারতীয় সংবিধান একটি "সামাজিক বিপ্লবের দলিল "। তিনি আরও বলেন ভারতীয় সংবিধানের লক্ষ্য গণতান্ত্রিক উপায়ে সমাজের বৈষম্যমূলক কাঠামো দূরীকরণ। 

২৬ শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের তাৎপর্য হলো জনগণের সার্বভৌমত্বের বাস্তবতা কে রূপায়ণ করা। সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা প্রতিষ্ঠিত করা। ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা নির্দিষ্ট করা সংবিধানের মূল লক্ষ্য। প্রজাতন্ত্র দিবসের রাষ্ট্রীয় আচার অনুষ্ঠান ভারতীয় জনগণকে সংবিধান সম্পর্কে সচেতন করতে ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে সাহায্য করে।

ডঃ বি আর আম্বেদকর ' সাংবিধানিক নৈতিকতা 'র উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং গণতন্ত্র কেবল আইনি কাঠামোর উপর নয়, নাগরিকদের নৈতিক চর্চার ওপরও নির্ভরশীল, এই কথা সুস্পষ্ট করেছিলেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হ্যারল্ড জে লাস্কি বলেছিলেন" একটি রাষ্ট্রকে শুধু তার ভূখণ্ড বা জনসংখ্যা দিয়েছে চেনা যায় না, রাষ্ট্রকে চেনা যায় সেই নীতির মাধ্যমে, যার ওপর ক্ষমতা সংঘটিত হয় "।  প্রজাতন্ত্র বলতে বোঝায় এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা যেখানে জনগণ সর্বোচ্চ ক্ষমতার উৎস।

সার্বভৌমত্ব তত্ত্বের প্রবর্তক জঁ বোদান বলেন -- " সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ও স্থায়ী ক্ষমতা "। ভারতের ক্ষেত্রে এই চূড়ান্ত ক্ষমতা কোন রাজা সাম্রাজ্য বা শাসক গোষ্ঠীর হাতে নয়, সংবিধানের মাধ্যমে জনগণের হাতে ন্যাস্ত। ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনায় ব্যবহৃত " আমরা ভারতের জনগণ " এই বাক্যটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনগণের সার্বভৌমত্ব ধারণায়  অনন্য।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার রাষ্ট্রক্ষমতার বৈধতাকে  ১) প্রথাগত বৈধতা, ২) ক্যারিশ মাটিক বৈধতা, ৩) আইনগত - যুক্তি নির্ভর বৈধতা, এই তিনটি পর্যায়ে ভাগ করেছেন। তিনি আরো বলেছেন "-- আধুনিক রাষ্ট্রের বৈধতা মূলত আইন ও যুক্তি নির্ভর কাঠামোর উপর প্রতিষ্ঠিত। আইন এবং যুক্তি নির্ভর বৈধতার কেন্দ্রবিন্দু হল সংবিধান।

প্রজাতন্ত্র দিবস ভারতের গণতান্ত্রিক চেতনার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। ২৬শে জানুয়ারী প্রজাতন্ত্র দিবস ভারতের রাষ্ট্রতত্ব, সার্ভভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক নৈতিকতার প্রতীক। এই দিনটি ভারতীয় জনগণের ক্ষমতা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনের পুনঃঅঙ্গীকারের দিন। তাই প্রজাতন্ত্র দিবস আত্মসমালোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রজাতন্ত্র দিবস - লেখক: আল মাওয়াকিফ (ছদ্ম নাম)

প্রজাতন্ত্র দিবস

লেখক: আল মাওয়াকিফ (ছদ্ম নাম)

উৎসবের মুখোশ ও রাষ্ট্রের নয় এটি রাষ্ট্রের বিবেককে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর। এই দিন রাষ্ট্র নিজেই নিজের দিকে তাকায় যদি তাকাতে সাহস করে।পতাকা উত্তোলনের আড়ালে যে আয়নাটি সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়, সেখানে রাষ্ট্রের নৈতিক মুখচ্ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উৎসব তখনই অশোভন হয়ে পড়ে, যখন ন্যায় কেবল বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ থাকে, আর বাস্তব জীবনে তা অনুপস্থিত।

প্রজাতন্ত্র কেবল শাসনের কাঠামো নয় এটি একটি নৈতিক প্রতিশ্রুতি। রাষ্ট্র নাগরিকের উপর ক্ষমতা প্রয়োগ করবে কিন্তু সেই ক্ষমতা সীমাহীন নয়। সংবিধান সেই সীমারেখা, যেখানে রাষ্ট্র নিজেকে সংযত করতে বাধ্য হয়। যে রাষ্ট্র এই সংযম হারায়, সে শক্তিশালী হতে পারে কিন্তু ন্যায়পরায়ণ থাকে না।

আমরা প্রজাতন্ত্র উদ্‌যাপন করতে জানি, কিন্তু তার দায় বহন করতে ভয় পাই। সংবিধান পাঠ করি, কিন্তু তার সামাজিক প্রয়োগ এড়িয়ে যাই। রাষ্ট্র যখন দুর্বল নাগরিককে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তখন প্রজাতন্ত্র একটি শব্দে পরিণত হয় একটি শূন্য প্রতীক, যার ভেতরে কোনো মানবিক স্পন্দন থাকে না।

গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় আত্মপ্রবঞ্চনা হলো এটিকে কেবল ভোটাধিকার হিসেবে কল্পনা করা। অথচ গণতন্ত্র একটি দৈনন্দিন নৈতিক অনুশীলন। প্রশ্ন করার স্বাধীনতা, ভিন্নমতের সহনশীলতা এবং ন্যায়বিচারের অবিচল দাবি এই তিনটি অনুপস্থিত হলে গণতন্ত্র কেবল একটি প্রাতিষ্ঠানিক নাটক হয়ে ওঠে। যেখানে প্রশ্নকারী নাগরিক রাষ্ট্রের অস্বস্তিতে পরিণত হয়, সেখানে গণতন্ত্র আগেই পরাজিত।

প্রান্তিক মানুষের জীবনে প্রজাতন্ত্র কোনো তত্ত্ব নয় এটি বেঁচে থাকার শেষ নৈতিক আশ্বাস। 

যে মানুষটি ভূমিহীন, যে শ্রমিকটি অদৃশ্য, যে নারীটি প্রতিদিন নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে বসবাস করে তাদের কাছে সংবিধান মানে রাষ্ট্র এখনো সম্পূর্ণরূপে মানবিকতা বিসর্জন দেয়নি এই ক্ষীণ বিশ্বাস। এই বিশ্বাস ভেঙে গেলে রাষ্ট্র আর রাষ্ট্র থাকে না তখন সে কেবল ক্ষমতার এক নির্মম কাঠামো।

রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি তার অস্ত্রে নয়, তার স্মৃতিতে। স্মৃতি রাষ্ট্রকে নৈতিক রাখে কারণ স্মৃতিই অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি রোধ করে। রাষ্ট্র যখন নিজের ভুলগুলো ভুলে যায়, তখন সে ক্ষমতাবান হয় কিন্তু মানবিক থাকে না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় স্মৃতিহীন রাষ্ট্র কখনো ন্যায়বান হতে পারে না।

প্রজাতন্ত্র দিবসে আমার কোনো উল্লাস নেই, নেই কোনো আনুষ্ঠানিক আনন্দ। আমার কাছে এই দিনটি আত্মজিজ্ঞাসার দিন। প্রশ্নটি সহজ, কিন্তু ভয়ংকর

রাষ্ট্র কি আজও সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকটির পাশে দাঁড়ানোর নৈতিক সক্ষমতা রাখে?

রাষ্ট্র কি প্রশ্নকে ভয় না পেয়ে তাকে নিজের সংশোধনের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করতে পারে?

যদি রাষ্ট্র এই প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি দাঁড়াতে না পারে, তবে পতাকা উত্তোলন কেবল একটি অভ্যাসে পরিণত হবে আর প্রজাতন্ত্র থাকবে, কিন্তু তার আত্মা অনুপস্থিত থাকবে।

আজ প্রজাতন্ত্র দিবসে আমার কোনো উৎসব নেই। আছে কেবল একটি অনড় দাবি সংবিধান শ্লোগান হয়ে নয়, জীবনের নৈতিক অনুশাসন হয়ে উঠুক।

রাষ্ট্র শাসন করুক কিন্তু আগে ন্যায়ের কাছে জবাবদিহি করুক।

প্রজাতন্ত্র দিবস (কবিতা) লেখক-অপূর্ব চক্রবর্তী

প্রজাতন্ত্র দিবস 
লেখক-অপূর্ব চক্রবর্তী

আজ ভারতের সাতাত্তরতম প্রজাতন্ত্র দিবস 
ছাব্বিশে জানুয়ারি,
সব বলিদানিদের আমরা আজকে স্মরণ করি।
বারোই জানুয়ারি জাতীয় যুব দিবস 
আর তেইশে জানুয়ারি পরাক্রম দিবসের
ভেরী মাতিয়ে তোলে ভারতের আকাশ বাতাস 
পূর্ব থেকে পশ্চিম হয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ।
পরাক্রম দিবসের পর পূর্ণ স্বরাজ লাভ করেছিল 
আজকের একুশ শতকের নতুন ভারতবর্ষ। 
প্রথমে পশ্চিম দেশে ভারতের সনাতন শাশ্বতবাণী 
প্রচার করেছিলেন চির উন্নত শির 
যুবশক্তির পুরোধা বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ।
তারপর রত্নগর্ভা ভারত মাতার 
পরাধীনতার শেকল খোলার সশস্ত্র আহ্বানে 
ব্রিটিশ সিংহ কে সন্মুখ যুদ্ধে ব্যতিব্যস্ত করেছিলেন ভারত মাতার দামাল ছেলে সুভাষ।
কেঁপে উঠেছিল দু’শোবছরের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ।
নেতাজী আজ আমাদের জাতীয়তাবাদে
উদ্বুদ্ধ করার জনক।
সুভাষ বলেছিল স্বাধীনতা কোন ভিক্ষা বা দান নয়
শুধু রক্তের বিনিময়েই আসে স্বরাজের অধিকার।
১৯৫০ এর ছাব্বিশে জানুয়ারি অবশেষে 
পূর্ণ স্বরাজ প্রতিষ্ঠা করে 
প্রজাতন্ত্রের মর্যাদা পেয়েছে আমাদের ভারত দেশ।
আজকের প্রজাতন্ত্র দিবস ক্ষুদিরাম বাঘাযতীন
সূর্যসেন প্রফুল্ল চাকী আর বিনয় বাদল দীনেশ 
আর রত্নগর্ভা ভারত মাতার জানা অজানা 
সব দামাল ছেলেদের হুংকার,
তাঁদেরই ত্যাগ তিতিক্ষা আর অমরত্বের অহংকার।
হে নির্ভিক হে দেশপ্রেমিক হে অমর বলিদানি
আজকের এই পূণ্য দিবসে তোমাদের স্বরন করি।

মুক্তি - রাজ কিশোর দাস

  মুক্তি - রাজ কিশোর দাস আজ থেকে তোর নাম নেব না, এখন তুই অন্য ললনা। জীবন তো সবার এক হয় না, তাই আর বিরহে বসে থাকা মানায় না। জানি, তুই ঠিক স...

জনপ্রিয় পোস্ট