প্রজাতন্ত্র দিবস
লেখিকা- সমর্পিতা দে রাহা
প্রজাতন্ত্র দিবসের সংক্ষিপ্ত কথাঃ
আজ ২৬শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস সারা ভারতবর্ষ জুড়ে মহা আড়ম্বরের সাথে পালিত হচ্ছে ভারতের ছিয়াত্তর তম প্রজাতন্ত্র দিবস বা সাধারণ তন্ত্র দিবস।
প্রতিটি ভারতবাসীর কাছে আজকের দিনের গুরুত্ব অপরিসীম।কারণ ১৯৫০ সালে আজকের দিনেই ভারতীয় সংবিধান কার্যকরী হয়।
নতুন গণতান্ত্রিক ভারতের জন্ম হয়। আজকের দিনটি ভারতের জাতীয় দিবসগুলির মধ্যে অন্যতম।
প্রায় দুশোবছর পরাধীন থাকার পরে গান্ধীজি, নেতাজি, নেহেরু, লালা লাজপত রায়, বালগঙ্গাধর তিলক, বিপিনচন্দ্র পাল, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল,
আরো অনেক বিপ্লবীদের নেতৃত্বে...
১৯৪৭ সালে ১৫ইআগষ্ট –
আমাদের দেশ স্বাধীন হয়।
স্বাধীনতার পরে ও দেশে নির্দিষ্ট কোন আইন ছিল না। তাই ভারতের সংবিধান তৈরির জন্য ১৯৪৭ সালে ২৮শে আগষ্ট থেকে একটি খসড়া কমিটি ১৬৬বার সংসদের অধিবেশনে মিলিত হয়।
যেখানে সাধারণ মানুষ ও অংশগ্রহণ করেছিলেন।প্রায় তিনবছরের কাছাকাছি চলেছিল। এই খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন ডঃ ভিমরাও রামজি আম্বেদকর।
১৯৪৭ সালের ৪ঠা নভেম্বর তারিখে কমিটি একটি খসড়া সংবিধান প্রস্তুত করে গণপরিষদে জমা দেন। বহু বিতর্ক ও কিছু সংশোধনীর পর ১৯৫০ সালে ২৪শে জানুয়ারি গণপরিষদে ৩০৮জন সদস্য চূড়ান্ত সংবিধানের হাতে লেখা ২টি নথিতে স্বাক্ষর করেন।
এর দুদিন পর ২৬শে জানুয়ারি ১৯৫০ সালে সারা দেশব্যাপী সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতায় আসে। ২৬শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস গ্রণ্য হয়েছিল।
এই প্রসঙ্গে বলি-
১৯৩০, ২৬শে জানুয়ারি দিনটিকে তৎকালীন কংগ্রেস কমিটি স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ধার্য করে।
তারপর থেকেই ওই দিনটিকে পরবর্তী ১৭বছর ধরে পুর্ণ স্বরাজ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
কিন্তু স্বাধীনতা আসে ১৫ইআগষ্ট তাই ২৬শে জানুয়ারি দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য পালন করা হয়, পরাধীন ভারতবর্ষ থেকে আধুনিক গণতন্ত্রে রূপান্তরিত হওয়ার দিন অর্থাৎ প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে।
ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী ভারতবর্ষ একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, প্রজাতান্ত্রিক, ধর্ম নিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণ তান্ত্রিক দেশ।প্রজাতান্ত্রিক – যেখানে প্রজার ক্ষমতায় সর্বোপরি।
এককথায় বলতে গেলে ভারতের শাসন ব্যবস্থা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সদস্যমন্ডলির দ্বারা পরিচালিত হয়।
তাই আমাদের দেশকে গণতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্র বলে।
আর সেই গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনেই আমাদের দেশে ভোটের দ্বারা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়।
সার্বভৌম অর্থাৎ আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ যে কোনো বিষয়ে আমরাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।বাইরের কোন দেশ ভারতের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।
ধর্মনিরপেক্ষ– ভারতের সংবিধান কোন ধর্মের প্রতি পক্ষপাত করবে না। গণতান্ত্রিক অর্থাৎ জনসাধারণের দ্বারাই দেশের শাসক নির্বাচিত হবে।
সর্বোপরি ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি ভারতবাসীর মৌলিক অধিকার সমান হবে। ১৯৫০ সাল থেকে প্রতিবছর ২৬শে জানুয়ারি দিল্লির লালকেল্লা, ইন্ডিয়া গেট, ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য প্রথম সারির নেতা।
মাননীয় রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে এই দিন রাজধানী দিল্লির রাজপথে আড়ম্বরপূর্ণ কুচকাওয়াজ ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। যা ভারত রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়। আজ সমগ্র দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং ক্লাবে ক্লাবে জাতীয় সংগীত ও বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গানের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বীর শহিদের উদ্দেশ্যে ফুল অর্পণ করে স্মরণ করা হয়। সম্মান জানান হয়।
এই ২৬শে জানুয়ারি মাতৃভূমি আমাদের দেশাত্মবোধের দেশপ্রেমে আমাদের দীক্ষা দেয়।
বাইরের কোন দেশ বাইরের কোনো শত্রু আমাদের দেশের সার্বভৌমত্বের উপরে যদি আঘাত হানে তাকে চূড়ান্ত শিক্ষা দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আর "সহযোগিতায় বাড়িয়ে দু হাত" আছি।
আসুন দেশের অখন্ডতাকে অক্ষুন্ন রাখার জন্য দেশের সার্বিক উন্নতি সাধনে দেশের মানুষের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি একে অটুট রাখার লক্ষ্যে সংবিধানকে নিজের ধর্মে পরিণত করার জন্য এই ২৬শে জানুয়ারি পবিত্র দিনে আমরা দেশমাতৃকার কাছে দৃঢ়সংকল্প হই।
ভারতবর্ষকে জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন নেবার জন্য আমরা আপ্রান চেষ্টা করব।
জয় হিন্দ,
জয় ভারত।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন