সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

আবেগ না নিঃশব্দ প্রতিবাদ (ছোট গল্প) লেখক- শুভাশীষ মিত্র (ইন্দ্র)

আবেগ না নিঃশব্দ প্রতিবাদ
লেখক- শুভাশীষ মিত্র (ইন্দ্র)

রাহুল পরিবারের বড়ো ছেলে আর ছোট বেলা থেকেই ডাকাবুকো। বাবা ছোট একটি বেসরকারি অফিসের কর্মচারী, রাহুল হওয়ার পর থেকে সে রকম কোনো যত্নও পায়নি। 

দুবছরের ছোট ভাই বাবা মায়ের বেশি প্রিয় কারণ সে হবার পরই বাবা একটি ৫০০০০ টাকার লটারি পেয়েছিলেন। সেই থেকেই ভাই রোহিত সবার কাছে নাকি লাকি। যাইহোক রাহুল লোকাল প্রাইমারি স্কুলে পড়ার পর সরকারি স্কুলে মাধ্যমিক অবধি পড়েছে। ভাই রোহিতকে বাবা মা কষ্ট করে হলেও ইংরাজি মাধ্যমের স্কুলে পড়িয়েছেন। 

পাড়ার বন্ধুরা রাহুল কে ইয়ার্কি করে বলতো তুই তো সৎ ছেলে। রাহুল চুপ করেই শুনতো কোনো দিন কিছু প্রতিবাদ করেনি। তবে খেলাধুলা, কারুর বিপদে দৌড়ানো, বন্ধুদের নেতৃত্ব দেওয়া, এমন কী ছোট ভাইকে বড়ো দাদার মত আগলে রাখা, সব কিছুই দক্ষতার সাথে করতো। ছোটবেলা থেকেই ভালো আঁকতে পারাও তার ছিল সহজাত প্রতিভা। 

ভাই কে বাবা মা দামি জামা কাপড় কিনে দিলে রাহুল বলতো তার জন্য না কিনতে। সে ফুটপাথের দোকান থেকে বাবার সাথে গিয়ে জামা কাপড় কিনতো। তার মনের ভিতরটা না কেউ জানতে চাইতো না সেও কাউকে বলতো। বাবা মায়ের ইচ্ছা রাহুল বড়ো হয়ে বাবার সাথে কোনো কাজে হাত লাগাক। ছোট ছেলে রোহিত কে পুলিশ অফিসার বানানোর ইচ্ছা বাবা মায়ের। 

মাধ্যমিক পাস করেই রাহুল ছোট ক্লাস এর বাচ্চাদের পড়াতো ও আঁকা শেখাতো। ছোট ভাই যখন ইংরেজি স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করলো, রাহুল সরকারি স্কুল থেকে কমার্স নিয়ে দ্বিতীয় বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পাস করলো। ভাইয়ের উঁচু ক্লাস এর পড়ার খরচের দোহাই দিয়ে বাবা রাহুলকে আর কলেজে পড়াতে না পারার কথা জানালেন। 

রাহুল একটা রা পর্যন্ত না করে শুধু হেসেছিলো। হটাৎ একদিন বাবার হাতে পিয়ন একটি খাম দিয়ে গেলো। খাম খুলে বাবা মা অবাক বিস্ময়ে রাহুল কে ডাকলেন। মিলিটারি একাডেমি তে তার সিলেকশন হয়েছে, কিন্তু কী করে? মাস চারেক আগে কলকাতায় পিসির বাড়ি গিয়েছিলো রাহুল তিন দিনের জন্য। সেখানে গিয়ে পিসি পিসেমশাই সাহায্যে পরীক্ষা ও ট্রায়াল দিয়ে এসেছিলো। সে কথা পিসিরাও জানান নি। 

টিউশনি আর আঁকা শেখানোর কটা পয়সা দিয়ে সে বই কিনে পড়তো, বুদ্ধির সাহায্য ও পরামর্শের জন্য পেতো পাশের পাড়ার এক অবসর প্রাপ্ত পুলিশ জেঠু কে। যিনি নিজে বেচেলর ছিলেন আর ভালো ফুটবল খেলার সুবাদে রাহুলকে খুব ভালো বাসতেন। যাইহোক সিলেকশন হবার সুবাদে সে দেরাদুনে চলে গেলো মা বাবা বন্ধু বান্ধব প্রতিবেশী সবাইকে অবাক করে দিয়ে। এদিকে ছোট ভাই রোহিত বাবা মায়ের অতি আদরে বোকাটে হয়ে উঠছিলো। সে আর্টস নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক কোনো মতে পাস করলো। বাবা মা মনে মনে হয়তো আফসোস আর অনুশোচনা তে জর্জরিত হচ্ছিলেন। তারা তো আসল সোনাই চেনেন নি। 

ভাই পড়াশুনা ছেড়ে এখন বাবার লোন করা ১০০০০০ টাকার বিনিময়ে টোটো কিনে চালাচ্ছে। এই অবস্থায় ৩ বছর পর রাহুল বাড়ি ফিরলো ফৌজি পোশাকে। ফিরেই বাবা মা কে প্রণাম করলো। বাবা তাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে বললেন আমায় ক্ষমা করিস। সে তার উত্তরে বললো বাবা তুমি আমাকে শক্ত হতে শিখিয়েছো। মাও কান্না চেপে রাখতে পারেন নি। 

এর পর গিয়ে তার পুলিশ জেঠুকে প্রণাম করলো। দুদিন পর ডিউটি জয়েন করার সময় বাবা মা কে বিদায় জানিয়ে সেই পুলিশ জেঠুকে সাথে নিয়ে দিল্লি চলে গেলো। এই হলো রাহুলের নীরব অভিমান আর সাথে তার ভালোবাসার প্রতিদান। সবার চোখে জল। আজ রাহুলের চোখে মুখে আনন্দ আর প্রতিবাদের হাসি। 

কোন মন্তব্য নেই:

খেয়াপার... - সালাম মালিতা

সালাম মালিতা   বিচিত্র এই জীবন বন্দরে,কষ্টের নোনাজল  যখন-তখন আছড়ে পড়ে!  ভয় হয়...  তূল্যমূল্য বিষাদের দিনলিপি অদৃশ্য ব্যথার কলমে স্বয়ং আমাকেই...

জনপ্রিয় পোস্ট