"ধোঁয়া ওঠা রাত "
- রত্না রায়
স্কুলের ঘণ্টা পড়তেই ঘরে ফেরার তাড়ায় স্কুল প্রাঙ্গণে হৈচৈ লেগেই থাকতো। কো এডুকেশন স্কুলে অচিন আর তুলির প্রেম শিক্ষক মহলে শংকিত করেছিলো।তাই চারটে বাজলেই গেটে তালা পড়তো।
অন্য ছাত্র ছাত্রীদের কথা ভেবে ওদের দুজনকে স্কুল থেকে বিতাড়িত করেন স্কুলের হেডমাস্টার জয়ন্ত ঘোষাল।
স্কুল ত্যাগ করতেই অচিন আর তুলির কেউ খোঁজ রাখেনি । অচিন আর তুলির নাম বেঞ্চে কম্পাস দিয়ে খোদাই করেছিলো অচিন।শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য অনেক শাস্তিও পেয়েছিলো সেদিন ।
বহু বছর পরে সেই স্কুলেই বাংলার শিক্ষক হয়ে জয়েন করলো অচিন।
স্কুল অনেক বদলে গেছে নতুন ভাবে সেজেছে। ক্লাসঘর বেড়েছে।ছেলে মেয়েরা এখন স্বাধীন। স্কুলের গাছ তলায় বসে গল্প করে নিশ্চিন্তে।যা আগে ছিলো না।
- একদিন টিফিন টাইমে সুচরিতা অচিনকে তার জন্মদিনে নিমন্ত্রণ করে বসে।
অচিন যায় ওদের বাড়িতে ।
- সুচরিতার বাবা এডভোকেট ।মা হাউস ওয়াইফ।
সুচরিতা স্যারকে দেখেই আনন্দে অস্থির।
বাবা সূর্য দস্তিদার বলে আপনার কথা আমার মেয়ে খুব গল্প করে ।আপনি এতো ভালো বাংলা পড়ান আমার মেয়ে সেইজন্যই বাংলায় কথা বলতে শিখে গেছে বুঝলেন ।কি যে গর্ব হয় আমার!
অচিনের ভালো লাগে উনার মন্তব্য।উনি চলে যেতেই
সুচরিতার মা বেরিয়ে আসে।
- স্যার এই যে আমার মা ।
- আরে অচিন ! তুমিই আমার মেয়ের স্যার! ?
কতদিন হোলো আনন্দ নিকেতন স্কুলে চাকরি করছো?
- দুমাস হোলো ।
- কাকু কাকিমা কেমন আছে গো ?
- তাঁরা বেঁচে নেই।
- ও সরি অচিন ।
সুচরিতা বেরিয়ে যেতেই অচিন বললো
- আমি আসি তুলি ।
- আমার উপর রাগ নেই তো অচিন !?
- না । তুমি এডভোকেটের স্ত্রী হয়েছো।রাগ করতে পারি?
- তবে.বিয়ের খবর টা জানালে আমার বাবা ,মা আমাদের কে নিয়ে বিয়ের স্বপ্নটা দেখতো না . বলেই বেরিয়ে গেলো দ্রুত ঘর ছেড়ে।
- সেদিন সিগারেট মুখে সারারাত জেগে ছিলো অচিন।মাথার মধ্যে ঘুরছিল তুলির আচরণ। অসহ্য যন্ত্রণা বুকে নিয়েই...
- পরদিনই স্কুলে রিজাইন দিয়ে ব্যাঙ্গালুরু চলে গেলো সে।
সুচরিতার মুখে অচিনের.চলে যাওয়ার কথা শুনে তুলির খারাপ লাগে ।যোগাযোগ করার চেষ্টাও করে তুলি, অচিন এড়িয়ে যায়......।।

৩টি মন্তব্য:
ভালো লাগলো
ভালো লাগলো
কৈশোরের হারানো প্রেমের নির্মম সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, স্মৃতি আর অপূর্ণতার তীব্র যন্ত্রণায় এক শিক্ষকের নীরবে দূরে সরে যাওয়ার এক বেদনাবিধুর আলেখ্য এই গল্প।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন