রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

"ধোঁয়া ওঠা রাত " - রত্না রায়

রত্না রায় 

 "ধোঁয়া ওঠা রাত "
     - রত্না রায় 

স্কুলের ঘণ্টা পড়তেই ঘরে ফেরার তাড়ায় স্কুল প্রাঙ্গণে হৈচৈ লেগেই থাকতো। কো এডুকেশন স্কুলে অচিন আর তুলির প্রেম শিক্ষক মহলে শংকিত করেছিলো।তাই চারটে বাজলেই গেটে তালা পড়তো।

অন্য ছাত্র ছাত্রীদের কথা ভেবে ওদের দুজনকে স্কুল থেকে বিতাড়িত করেন স্কুলের হেডমাস্টার জয়ন্ত ঘোষাল।

স্কুল ত্যাগ করতেই অচিন আর তুলির কেউ খোঁজ রাখেনি । অচিন আর তুলির নাম বেঞ্চে কম্পাস দিয়ে খোদাই করেছিলো অচিন।শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য অনেক শাস্তিও পেয়েছিলো সেদিন ।

বহু বছর পরে সেই স্কুলেই বাংলার শিক্ষক হয়ে জয়েন করলো অচিন।

স্কুল অনেক বদলে গেছে নতুন ভাবে সেজেছে। ক্লাসঘর বেড়েছে।ছেলে মেয়েরা এখন স্বাধীন। স্কুলের গাছ তলায় বসে গল্প করে নিশ্চিন্তে।যা আগে ছিলো না।

- একদিন টিফিন টাইমে সুচরিতা অচিনকে তার জন্মদিনে নিমন্ত্রণ করে বসে। 
অচিন যায় ওদের বাড়িতে ।

- সুচরিতার বাবা এডভোকেট ।মা হাউস ওয়াইফ।

সুচরিতা স্যারকে দেখেই আনন্দে অস্থির।

বাবা সূর্য দস্তিদার বলে আপনার কথা আমার মেয়ে খুব গল্প করে ।আপনি এতো ভালো বাংলা পড়ান আমার মেয়ে সেইজন্যই বাংলায় কথা বলতে শিখে গেছে বুঝলেন ।কি যে গর্ব হয় আমার!

অচিনের ভালো লাগে উনার মন্তব্য।উনি চলে যেতেই 
সুচরিতার মা বেরিয়ে আসে।

- স্যার এই যে আমার মা ।
- আরে অচিন ! তুমিই আমার মেয়ের স্যার! ?
কতদিন হোলো আনন্দ নিকেতন স্কুলে চাকরি করছো? 

- দুমাস হোলো ।
- কাকু কাকিমা কেমন আছে গো ?
- তাঁরা বেঁচে নেই।
- ও সরি অচিন ।

সুচরিতা বেরিয়ে যেতেই অচিন বললো

- আমি আসি তুলি ।
- আমার উপর রাগ নেই তো অচিন !?
- না । তুমি এডভোকেটের স্ত্রী হয়েছো।রাগ করতে পারি?
- তবে.বিয়ের খবর টা জানালে আমার বাবা ,মা আমাদের কে নিয়ে বিয়ের স্বপ্নটা দেখতো না . বলেই বেরিয়ে গেলো দ্রুত ঘর ছেড়ে।

-  সেদিন সিগারেট মুখে সারারাত জেগে ছিলো অচিন।মাথার মধ্যে ঘুরছিল তুলির আচরণ। অসহ্য যন্ত্রণা বুকে নিয়েই...

- পরদিনই স্কুলে রিজাইন দিয়ে ব্যাঙ্গালুরু চলে গেলো সে।  

সুচরিতার মুখে অচিনের.চলে যাওয়ার কথা শুনে তুলির খারাপ লাগে ।যোগাযোগ করার চেষ্টাও করে তুলি, অচিন এড়িয়ে যায়......।।

খোলা চিঠি তোমার কাছে - সর্বানী দাস

সর্বানী দাস


 খোলা চিঠি তোমার কাছে
- সর্বানী দাস

জানো, তুমি আমার কাছে-
সব পাওয়ার ভিড়ে,  এক না-পাওয়া আকাঙ্খা ।

তুমি সেই খোলা চিঠি-
যার  পংক্তিতে পংক্তিতে লেখা নীরবতার চন্দ্রশোক ।

তুমি সেই গোপন গান-
যার সুর হৃদয়ের খোলা চিঠি 
 নির্জন অলিন্দে চৈতি দুপুর আঁকে।

তুমি সেই উতল সমীরণ ,-
যার স্পর্শে বর্ষা রাখে ধরিত্রীর অধরে সৃষ্টি-কোলাজ।

তুমি সেই মনের মানুষ-
যাকে না দেখেও দেবতার স্থানে রেখেছি  অনন্ত বিশ্বাসে।

হয়তো বা, হয়তো বা কেন?কোনো একদিন নিশ্চিত তুমি-
পড়ে নেবে আমার খোলা চিঠির চুপ কথা।

খোকার মনে বিচিত্র ইচ্ছা... -শুভ্রা রায়

শুভ্রা রায়

 খোকার মনে বিচিত্র ইচ্ছা
-শুভ্রা রায়

খোকার ইচ্ছা হলো সে হবে সূর্য ওই পূব আকাশে,
তার কিরণে আলোকিত হবে
সারা বিশ্ব ভুবন।
কখোনো তার ইচ্ছা জাগে হবে সে ভোরের পাখি,
তার গানেতে উঠবে জেগে 
যতো জগৎবাসী।
পাখি হয়ে আকাশ মাঝে
হারিয়ে যাবে সে,
মা বলবে কোথায় গেলি 
খোকা আমার?
খোকা বললো আমি তোমার খোকা আছি,একটু হারিয়ে গেলাম।
মেঘের সাথে করে খেলা আবার আসবো তোমার কোলে।
আবার খোকার ইচ্ছা হলো
হবে সে পুকুর জলের মাছ,
সাঁতার কেটে পার হবে সে, পুকুরের এপার ওপার।
মাছের মতো থাকবে জলে দিবারাতি।
সেই খোকার ইচ্ছা হলো হবে সে গাছের ফুল,
বাগানের শোভা বাড়াবে সে
আনবে আনন্দ সবার মনে।
প্রজাপতি হবে খোকা মনেতে
হলো সাধ,
এদিক ওদিক ঘুরবে খোকা
হবে নাতো মন্দ।
ফুলে,ফুলে মধু খাবে সারাটা
দিন ধরে,
কখনো বা ইচ্ছা জাগে হবে 
রাতের তারা,
নিশিরাতে জ্বলবে সে আকাশ মাঝে।
কখনো হবে চাঁদ ওই পূর্ণিমা রাতে,
হঠাৎ করে মা বললো খোকা তুই আয় চলে,
তোর মনের ওই বিচিত্র সাধ কেবল ই থাক তোর স্বপ্ন হয়ে।
তুই কেবল আমার খোকা ,
এতেই আমার শান্তি মনে।

কুরবানি - উজ্জ্বল কান্তি দাশ

উজ্জ্বল কান্তি দাশ

 কুরবানি
- উজ্জ্বল কান্তি দাশ


রহিম মিয়ার বেশ কিছুদিন
বুকে ভীষণ কষ্ট, 
ডাক্তার তাকে জানিয়ে দিল
হৃদয়ের ভালভ নষ্ট। 

সুস্থ তোমায় করতে হলে
অনেক টাকা দরকার, 
বুকের ভেতর বসাতে হবে
একটি পেসমেকার। 

রহিম মিয়া ভাবে বসে
কী হবে হায় উপায়? 
তার কাছে যে উপশমের
অত টাকা নাই! 

কেমন অসুখ হলো খোদা
কিসের পেলাম সাজা? 
কে আমাকে দেবে টাকা
সামনে ঈদুল আযহা! 

রহিমকে তার মেয়ে বলে 
শুনো আব্বাজান, 
আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন
মিলবে দয়াবান। 

কেউ যদি তার ঈদের টাকা
তোমায় করেন দান, 
আমাদের এই দুশ্চিন্তার
হবে অবসান। 

পথে যেতে রসূল মিয়া
ওদের কথা শুনে, 
বাড়ি গিয়ে বাক্স খুলে
টাকা নিয়ে গুনে। 

টাকা হাতে এসে বলে
শুনো রহিম ভাই, 
তোমার সুস্থ হওয়া নিয়ে
কোনো চিন্তা নাই। 

রহিম বলে তোমার টাকা
কি করে ভাই নেবো? 
পরে কি করে তোমার টাকা
ফেরত আমি দেবো? 

রসূল বলে চাই'না ফেরত
আল্লাহ'র মেহেরবানী, 
এই টাকাটা খোদার নামে
দিলাম যে কুরবানি।

তোমায় যেন সুস্থ করেন
আল্লাহ'র কাছে বলো, 
এই প্রথম কুরবানি মোর
সার্থক মনে হলো।

ফাইট - সমর্পিতা রাহা

সমর্পিতা রাহা

ফাইট
- সমর্পিতা রাহা

বিনা মেঘে বজ্রপাত! 
বাড়িটার ভিত আচমকা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল, 
ফাঁটল ধরল বাড়ির মজবুত ছাদে, 
স্বার্থপর দুনিয়ায় যেন
বিষ্ময় হাহাকার! 
যুদ্ধে সাইরেন শুনে রমনী 
ব্যতিব্যস্ত! 
দমকা হাওয়ায় রমনীর নশ্বর দেহ কেঁপে ওঠে
চোখে ভাসছে চাপ চাপ রক্ত। 
রমনীর শরীরে ভর করল 
ঐশ্বরিক দানব শক্তি, 
ভালোবাসার বিস্ফোরিত চক্ষু কিছু বলতে চাইছে! 
রমনী স্তম্ভিত হয়ে চোখে বরফ ঝরায়
বীরের মতো বলে চলেছে
ফাইট ফাইট ফাইট। 
কিছুক্ষণের দৌড় ঝাঁপ! 
কিছুদিনের মানসিক যন্ত্রণা! 
ধীরে ধীরে যন্ত্রনার মলম, 
কষ্টগুলো কাউকে কিছু বলতে পারে না। 
ভবিষ্যৎ..... 
ফলস সিলিং এর তলে এসেছে! 
অতীত স্মৃতি  বড্ড ডাকতে থাকে। 
ওই সানাই এর সুর আকুলিত মন–
শুভক্ষণ ঘন্টা বাজিয়ে চলছে। 
মিষ্টি মুহুর্তর ভালো ভালো সব স্মৃতি। 
বহু সময় কেটে গেছে–
অসময়ে যুদ্ধের দামামা বেজে চলেছে–
গুমোট হাওয়ায় মনটা ছটফট–
রমনী হেঁটে চলেছে ধীরে ব্যথার সোপানে
আকাশের তারাগুলোর মাঝে
প্রিয়জনেরা বলছে কষ্ট হচ্ছে! 
এইতো জীবন! 
ফাইট ফাইট ফাইট।

হাত বাড়ালেই বন্ধু... - সুবর্ণা দাশ

সুবর্ণা দাশ

হাত বাড়ালেই বন্ধু
- সুবর্ণা দাশ


                    কিছুদিন ধরে রিমির মা লক্ষ্য করল, রিমির মধ্যে যেন আতঙ্ক কাজ করছে। সারাক্ষণ নিজের রুমের মধ্যে বন্দি হয়ে থাকে। ডাকলে আঁতকে উঠে। স্কুলে যেতে ভয় পায়, কিন্তু কিছুই বলে না। রিমি পড়াশোনায় খুব একটা মেধাবী না হলেও একেবারে খারাপ ছাত্রী সে নয়। রিমির মা সোমা খুব চিন্তায় আছে মেয়ের এরকম হাব ভাবে। একদিন দুপুর বেলা স্কুল থেকে রিমি ফিরার পর সোমা রিমির ঘরে গিয়ে, রিমির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে জিজ্ঞাসা করে, মা রিমি আজকে তুমি আমাকে তোমার পাশে একটু শুতে দেবে মা? রিমি অনেকক্ষণ কি যেন ভেবে মা'কে জড়িয়ে ধরে বলে কেন নয় মা! সোমাও মেয়েকে অনেক দিন পর এভাবে জড়িয়ে ধরতে দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে যায়। 

                   মেয়ের সাথে নানা কথা বলার পর গল্পের ছলে জিজ্ঞাসা করে, তোর কি হয়েছে মা? আমায় খুলে বলবি? সন্তানের বন্ধু হচ্ছে 'মা'। তুই আমাকে সব বলতে পারিস। সব বলতে সবকিছু, এমনকি তুই যদি খারাপ কিছুও করে থাকিস তাও আমাকে বলতে পারিস। রিমি একটু যেন হতাশা থেকে আলোর মুখ দেখলো। রিমি মাকে বলে, জানো মা আমার ক্লাসের অর্ক আমাকে কি সব বলে। আমাকে নাকি সে ভালোবাসে, আমার খুব ভয় হয় মা। অর্ক আমার পিছু নেয়। এমনকি আমাদের বাড়ি অবধি চলে আসে। আমাকে ফুল দেয়। আমি নিতে অস্বীকার করলে, রেগে যায় অর্ক। আমি কি করবো মা? অর্ক'র জন্য আমার স্কুলে যেতে ভয় হয়। 

                        বোকা মেয়ে এ জন্য তুই এত কষ্ট পাচ্ছিস! গুমরে যাচ্ছিস ভেতরে ভেতরে! শোন মা অর্ক'র বয়স কম, সবে তোদের বয়স চৌদ্দ কি পনেরো। এ বয়সটা হলো একটা কৌতূহলের সময়। অর্ক তোর ক্লাসমেট, ওর আচরণে ভয় না পেয়ে বুঝিয়ে বলবি যে, তোদের এখন ভালো করে পড়াশোনা করতে হবে। দেখিস অর্ক ঠিক বুঝবে। 

পরের দিন রিমি স্কুলে গেলে, অর্ক আবারও রিমিকে ভালোবাসার কথা বলে। রিমি ভয় না পেয়ে অর্ককে বলে, আমার তো দুজন বন্ধু হতে পারি। ভালো বন্ধু, আমাদের ভালো করে পড়ালেখা করে মাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট করতে হবে। অযথা অন্য কথা ভেবে সময় নষ্ট করা ঠিক হবে না। অর্ক ভেবে চিন্তে রিমির কথাতে সায় দেয়। রিমি অর্ক দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হলো এবং দুজনে খুব খুশি। 

রিমি মাকে এসে সব কথা খুলে বলল। সোমা ও খুশি হয়ে মেয়েকে কপালে চুম্বন করলো। আর বলল, হাত বাড়ালেই যে মায়ের মতো বন্ধু পাবি, সেখানে তুই কিছু আমাকে না বলে নিজে নিজে এতটা কষ্ট পেলি। কখনো মা'র কাছে কোনো কথা লুকাবে না। মা পরম বন্ধু মনে রেখো।

অমোঘ সমাচার... - সালাম মালিতা

সালাম মালিতা 

অমোঘ সমাচার 
- সালাম মালিতা 

আমার এই ঘরদোরে
মৃত্যু বহুবার কড়া নেড়েছে, 
কখনো কালবৈশাখীর রূপে ধেয়ে আসে
টিনের ছাপড়া উচ্ছেদ করতে-
মাঝ খুঁটিটা উপড়ে সঙ্গে করে নিয়ে যায়! 
ভেঙেচুরে, দুমড়ে-মুচড়ে তছনছ করে 
শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নেয়। 

মৃত্যু কখনো এসেছে চৈতী খরা হয়ে 
পেটে লাথি মারতে-
ধানের থোড় ফোলার পূর্বেই 
শুকিয়ে খড় করে দেয়।
অভুক্ত পেটের গুদামে তালা মেরে
তাই দিনের পর দিন জল খেয়েই-
নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে! 

মৃত্যু কখনো আবার এসেছে বন্যারূপে
চারিপাশ ভাসিয়ে সয়লাব করে দেয়,
নবযৌবনে বেড়ে ওঠা ফসলের ক্ষেত 
আমার ঘর-বাড়ি, গরু-ছাগল-
পুরানো হাঁড়ি-পাতিল, জিনিসপত্র 
এমনকি ছেঁড়া অ্যালবাম, উপন্যাসের বই
সবকিছুই তার দখলে।

মৃত্যু শেষবার আসে প্রিয়তমার রূপে
যে বিনা রক্তপাতে-
জীবন্ত লাশ করে যমদূতের ভূমিকা নেয়।
তার অবহেলা, প্রতারণা-প্রবঞ্চনা, পরিবর্তনে
আমি বারবার পুড়েছি....
বারবার মরেছি....
আর দুর্গন্ধের অভাবে যন্ত্রমানব হয়ে-
নকল হাসির অসীতে আজও ঘুরে বেড়াচ্ছি...!

বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

অনুপ্রবেশের চরম হাল... - সৌরভী করমহাপাত্র


অনুপ্রবেশের চরম হাল
- সৌরভী করমহাপাত্র

ভীষণ ঝুঁকি ঝামেলাতে
স্বচ্ছতার এই অভিযানে, 
বঞ্চিত হয় কারা তারা
রয় যে দুঃখে অভিমানে! 

অনুপ্রেরণ জোগানেতে
কারা ছিল সীমানাতে, 
অনুপ্রবেশ ক্যামনে হলো
গণতন্ত্রের জামানাতে! 

পড়শি দেশে সুযোগ বুঝে
কারা এলো ভালোবেসে!
কেমন দেশের সুরক্ষা হায়
উটকো খবর সর্বনেশে!

আছে আইন নিয়ম কানুন
বিদেশ নীতির বিনিময়ে,
নানান রাজ্যের দেখভালে যে
ত্রুটি কিসের অভিনয়ে!

রাজার নিশ্চিৎ পরিবর্তন
নয় যে তাহা চিরস্থায়ী,
কাঁটাতারের শক্ত বেড়া
অনুশাসন অনুযায়ী।

সীমানার ওই প্রান্তে তবে
থাকুক কড়া নজরদারী, 
ভুল যেন আর রাজার না হয়
নইলে হবে মহামারী।

💦-----------------------------💦
💧


সৌরভী করমহাপাত্র




সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

সভ্যতার যোনি চেরা চিৎকার... - সর্বানী দাস

সর্বানী দাস 

সভ্যতার যোনি চেরা চিৎকার
- সর্বানী দাস 

লাশ হয়ে যাইনি এখনো মা'গো,
 আমি এখনো ছটফট করছি ব্যথায়-
ভাঙা হাড়ের টুকরোগুলো
 বিঁধছে মজ্জায়,
বিঁধছে শিরায়-উপশিরায়...

উপড়ে নেওয়া চোখের কোটর
 গলগল করে নামছে রক্ত-
লোহার রডে ফালাফালা হওয়া যোনি— 
ভীষণ যন্ত্রণা মা'গো -
পারছি না.. আর সহ্য করতেপারছি না..

আজ এই নরকের শেষ তখতো রক্তাক্ত...
বুকের ভেতরে বাতাস ফুরিয়ে আসছে..
জিভটা জড়িয়ে যাচ্ছে মা..
পশুগুলো ভীষণ জোরে কামড় দিচ্ছিল-
আমার ছটফটানি দেখে 
ওরা উল্লাস করেছে মা..

আমার গোঙানি শুনে ওরা হাসছিল, 
বলছিল— "উচ্ছন্নে যাক মেয়েমানুষ!
এরা করবে দেশের সেবা দশের সেবা...
"আজ ওদের ঘরেও তো বোন আছে , 
তবে কেন..
কেন ওরা এত  জানোয়ার ?

ধিক্কার দিই এই নপুংসক সমাজকে...
 ঘৃণা করি এই কাগজের চাটুকারিতাকে..
যে দেশে মেয়েরা বাঁচে কুকুরের মতো, 
আর মরে অসুরের হাতে 
 বিচার আটকা পড়ে ফাইলে-বিয়ানে!
সেই দেশে নারীর যোনি চেরা আর্তনাদ শোনা যায় কি?

আইন নাকি অন্ধ? 
ওরে শোন! 
আইন অন্ধ নয়, 
আইন আসলে পঙ্গু আর ভীরু,
যেখানে ধর্ষক বুক ফুলিয়ে ঘোরে, 
আর মরে যায় আমার মতো সব জেনে ফেলা মেয়েরা বা -
কোনো ছোট্ট আট বছরের বাচ্চা...

কোনো মায়ের কোল খালি করার আগে, 
এবার হাত কাঁপবে তোদের- শকুনের দল!
তোদের বীরত্ব শুধু নারীর দেহে?
 তোদের পুরুষত্বে বিষাক্ত গরল?
 আজ মরার আগে 
এই ফালাফালা যোনি থেকে এক অভিশাপ ছুঁড়ে দিয়ে গেলাম—
তোদের যেন চরম শাস্তি হয় -
তোদের জীবনে যেন নামে চিরকালের নিকষ অন্ধকার -
যদি সমাজ পাল্টাতে চাও,
 তবে মোমবাতির নাটক এবার বন্ধ করো,
আদালতের নেতার আড়ালে ন্যায়ের ভিক্ষা নয়, 
ধর্ষকের গলা টিপে ধরো!
ফাঁসি দিয়ে হবে না রেহাই, 
তবু বিশ্বাস আজ জন্মেছে মা -
 সংবিধানের আবার সঠিক ব্যবহার হবে -
আমার শেষ স্বপ্ন অধরাই রইলো 
মা'গো... 

ওই তো! ওই তো তোমার হাত...
 তোমার আঁচলের গন্ধ পাচ্ছি বাতাসে,
আর কয়েকটা সেকেন্ড মাত্র...
 তারপর আমি হারিয়ে যাবো 
ওই দূর আকাশে।
আমি চলে যাচ্ছি মা, 
কিন্তু এই বন্ধ চোখে 
আমি এক নতুন আগুন জ্বেলে গেলাম,
এই নড়বড়ে নরক সমাজকে এক নারীর আর্তনাদ শোনালাম !
আমি মরছি না মা! 
আমি প্রতিটা ঘাতকের রাতের ঘুম কাড়তে আসবো,
সমাজের ওই অন্ধ আইনের মুখে নরকের রক্তমাখা হাতে।

নীরবতার সৌন্দর্য (একটি মননশীল নিবন্ধ) - জয়দীপ বসু

জয়দীপ বসু

নীরবতার সৌন্দর্য (একটি মননশীল নিবন্ধ)
- জয়দীপ বসু

আমাদের এই স্বপ্ন সুধাময়  স্বর্ণদ্যুতি সুবলিত পৃথিবীতে যারা সাফল্যের সুউচ্চ চূড়ায় আরোহণ করেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই নীরবে, নিভৃতে কাজ করেছেন।তাদের এই নিঃশব্দ সাধনাই  তাদের কাজের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। জীবনের অমৃতরসে অভিসিঞ্চিত করে। সাফল্যের জন্য সর্বাগ্ৰে প্রয়োজন মনঃ সংযোগ, একাগ্ৰ সাধনা, নীরবতা ও সঠিক কর্ম পরিকল্পনা। আগেই ঢাক ঢোল পিটিয়ে, লোকজনকে জানিয়ে অধিকাংশ কাজেই চূড়ান্ত সফল হওয়া যায় না। কিছু দূর এগিয়ে থেমে যেতে হয়।

পড়াশোনার ক্ষেত্রে দেখেছি যারা জীবনে চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করেছেন তাঁরা নীরবে সাধনা করে একের পর এক কঠিন ধাপ অতিক্রম করে গিয়েছেন। তারপর সাফল্যের সুউচ্চ শৃঙ্গ স্পর্শ করেছেন। আর যারা সামান্য পথ অতিক্রম করেই তা নিয়ে ঢাকঢোল পেটাতে থাকেন তাদের চূড়ান্ত সাফল্য অধরাই থেকে যায়। শুধু পড়াশোনা নয়, জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রেই সাফল্যের অভিমন্ত্র হলো সঠিক পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে নীরবতা। নীরবতাই সৌন্দর্য।
জীবনে সাফল্য লাভের সব ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য।

সভ্যতার ইতিহাসের দিকে আলোকপাত করলে দেখি শ্রেষ্ঠ  সঙ্গীত সাধকরা নীরবে, নিভৃতে সুরের সাধনা করে গিয়েছেন। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত জেগে সাধনা করেই তাঁরা শ্রেষ্ঠত্বের সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন। বড় খেলোয়াড়রা নীরবে নিরলসভাবে অনুশীলন করে যান। একইভাবে বড় শিল্পী কিন্তু নিভৃতে কঠিন শিল্প সাধনায় ডুবে যান। বড় চিকিৎসক, প্রযুক্তিবিদ, স্থাপত্য বিশারদ, কবি, লেখক সকলেই কিন্তু নীরবে সুকঠিন সাধনায় নিজেকে নিমজ্জিত রাখেন। আসলে ফুল নীরবে ফোটে, তার ঐশ্বর্য, সৌরভ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে।

এবার আসি প্রকৃতির জগতে। সুপ্রাচীন কাল থেকে হিমালয় পর্বত নীরবে ভারতকে রক্ষা করে চলেছে। তাই ভারতকে হিমালয়ের দান বলা হয়। তার অপার্থিব সৌন্দর্যের ইন্দ্রজাল মানুষকে মোহসিক্ত করে চলেছে। অনেক নদীই খুব ধীর ছন্দে বয়ে চলে। কিন্তু তাদের অপার ঐশ্বর্য। আর শ্যাম বনানী তো একেবারেই নীরবে সৌন্দর্য সুধা পান করায়।
তাদের রূপের অনাবিল মায়াদ্যুতি, সবুজ রাগ মূর্ছনা মানুষকে  অপরূপতার অবগাহন করায়। চিন্তা চেতনায় অস্ফুট মায়াবী চিত্রধ্বনি তৈরি করে।

আমরা দেখেছি সৃষ্টির সেই অনাদি লগ্ন থেকে আধ্যাত্মিক জগতে যারা সিদ্ধিলাভ করেছেন তাঁরা কি কঠিন সাধনা নীরবে করে গিয়েছেন। তবেই তাঁরা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী / অধিকারিণী হয়েছেন। এই অলৌকিক ক্ষমতা জীবনের সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নীরব সাধনাই অলৌকিক ক্ষমতার জন্ম দেয়। তার সাফল্যের মধু কিরণ সকল হৃদয়কে প্লাবিত করে যায়।

অতএব জীবনে চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করতে গেলে নীরবে সাধনা করে যেতে হবে। যার সাধনা যত বেশি তার সিদ্ধিলাভ তত বেশি।

রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

প্রবন্ধ : একটি গাছ একটি প্রাণ - সর্বানী দাস


 প্রবন্ধ :
 একটি গাছ একটি প্রাণ 

- সর্বানী দাস 


"পৃথিবী আমরা পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাইনি; 
আমরা এটি আমাদের সন্তানদের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।”
- নেটিভ আমেরিকান প্রবাদ

ভূমিকা 🌴

একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবী অভূতপূর্ব পরিবেশ সংকটের মুখোমুখি। যে প্রকৃতি একদিন মানুষকে দিয়েছিল নির্মল বাতাস, শীতল ছায়া, উর্বর মাটি ও জীবনের অফুরন্ত সম্ভার, আজ সেই প্রকৃতিই মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ডে বিপন্ন। বনভূমি উজাড় হচ্ছে, নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, বায়ু দূষিত হচ্ছে এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক উন্নয়নের নামে আমরা প্রকৃতির বুক থেকে সবুজ কেড়ে নিচ্ছি, অথচ ভুলে যাচ্ছি—প্রকৃতি ধ্বংস মানেই মানবসভ্যতার ভিত্তি দুর্বল করে দেওয়া।

এই বাস্তবতায় বৃক্ষরোপণ কেবল পরিবেশ রক্ষার কর্মসূচি নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম।


সবুজ হারানোর করুণ বাস্তবতা 🌴

একসময় গ্রামবাংলার পথঘাট, মাঠ, বনভূমি এবং নদীতীর সবুজে আচ্ছাদিত ছিল। শাল, তমাল, বট, অশ্বত্থ কিংবা কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায় মানুষ যেমন আশ্রয় পেত, তেমনি অসংখ্য পাখি ও প্রাণী খুঁজে পেত নিরাপদ আবাস। কিন্তু আজ নগরায়নের বিস্তার, অবাধ বৃক্ষচ্ছেদন এবং শিল্পায়নের ফলে সেই সবুজ পৃথিবী দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে।

ইট-পাথরের অট্টালিকা বাড়ছে, কিন্তু কমছে বৃক্ষের সংখ্যা। ফলে শহরগুলো ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মানুষের তৈরি কংক্রিটের জঙ্গল প্রকৃতির স্বাভাবিক শীতলতাকে গ্রাস করছে। এর প্রভাব শুধু পরিবেশেই নয়, মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও পড়ছে।


গ্রিনহাউস গ্যাস ও উষ্ণায়নের বিপদসংকেত 🌴

পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। শিল্পকারখানা, যানবাহন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। এই গ্যাসগুলো সূর্যের তাপকে পৃথিবীর চারপাশে আটকে রাখে এবং ধীরে ধীরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে।

ফলস্বরূপ মেরু অঞ্চলের বরফ গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং আবহাওয়ার স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, অতিবৃষ্টি, খরা এবং দাবানলের মতো দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৃথিবী যেন ধীরে ধীরে এক অজানা বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে চলেছে।


আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ও বাস্তবতার ফারাক 🌴

পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রিও সম্মেলন, কিয়োটো প্রোটোকল এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল পরিবেশ দূষণ কমানো এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় অনেক দেশ এখনও পরিবেশগত অঙ্গীকার যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না। ফলে আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো অনেক সময় কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যায়। এই পরিস্থিতিতে কেবল সরকারি উদ্যোগ নয়, সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।


কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন 🌴

বৃক্ষ কেবল অক্সিজেনের উৎস নয়; কৃষি ও জীববৈচিত্র্যেরও প্রধান সহায়ক। বনভূমি বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে, মাটির উর্বরতা রক্ষা করে এবং ভূগর্ভস্থ জলের ভারসাম্য বজায় রাখে। যখন বনভূমি ধ্বংস হয়, তখন প্রকৃতির এই স্বাভাবিক চক্রও ব্যাহত হয়।

ফলে কৃষক খরার কবলে পড়েন, ফসল উৎপাদন কমে যায় এবং খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়। পাশাপাশি অসংখ্য পাখি, প্রাণী ও উদ্ভিদ তাদের আবাসস্থল হারায়। জীববৈচিত্র্যের এই ক্ষয় ভবিষ্যতের পৃথিবীকে আরও অনিরাপদ করে তুলছে।


দাবানল ও মরুকরণের আশঙ্কা 🌴

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানলের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘ খরা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং বনভূমি ধ্বংসের ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। লক্ষ লক্ষ গাছপালা এবং প্রাণীর জীবন বিনষ্ট হচ্ছে।

অন্যদিকে বহু উর্বর অঞ্চল ধীরে ধীরে মরুকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মাটির আর্দ্রতা কমে যাচ্ছে, জলাশয় শুকিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতের জন্য এক অশনি সংকেত।


বৃক্ষরোপণ : আশার সবুজ দিশা 🌴

পরিবেশ সংকটের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর ও সহজ প্রতিরোধ হলো বৃক্ষরোপণ। একটি গাছ শুধু ছায়া দেয় না; এটি বাতাসকে বিশুদ্ধ করে, কার্বন শোষণ করে, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে এবং পরিবেশকে পুনরুজ্জীবিত করে।

বিদ্যালয়, কলেজ, গ্রাম, শহর, রাস্তার ধারে কিংবা বাড়ির আঙিনায়—যেখানেই সুযোগ আছে, সেখানেই বৃক্ষরোপণ করা উচিত। পাশাপাশি রোপিত গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। একটি চারাগাছকে বড় করে তোলার মধ্যেই লুকিয়ে আছে ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে রক্ষা করার সম্ভাবনা।


উপসংহার 🌴

আজ পৃথিবী আমাদের কাছে একটি প্রশ্ন রেখেছে—আমরা কি ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাব, নাকি সবুজের পথে ফিরে আসব? উত্তরটি আমাদের হাতেই। যদি আমরা এখনই সচেতন না হই, তবে আগামী প্রজন্মকে একটি উষ্ণ, দূষিত ও বিপর্যস্ত পৃথিবী উপহার দিতে হবে। কিন্তু যদি আমরা বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে পারি, তবে এখনও সময় আছে পরিস্থিতি বদলানোর।

তাই আসুন, অঙ্গীকার করি—একটি গাছ কাটা হলে অন্তত কয়েকটি গাছ লাগাব। প্রকৃতিকে ভালোবাসব, বনভূমি রক্ষা করব এবং সবুজ পৃথিবী গড়ার অভিযানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করব। কারণ একটি চারাগাছের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আগামী দিনের নির্মল বাতাস, শান্ত ছায়া এবং মানবসভ্যতার নিরাপদ ভবিষ্যৎ।

🌴----------------------------------------------🌴

- সর্বানী দাস 


নীরব দর্শক - ড.তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়

ড.তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়

নীরব দর্শক 
- ড.তুষার কান্তি মুখোপাধ্যায়

তোমার নিঃশব্দ আঘাতে
শুধু কষ্ট পেয়েছি তাই নয় ,
হৃদয়ে রক্ত  ঝরেছে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ,
নির্বাক মৌন করেছে মোরে ,
তাই তো নিঃসঙ্গ একাকী হয়ে
চুপচাপ থাকা ।

বাইরে কত হই হুল্লোড়  ,
কত আনন্দ  ,
তবু মানুষগুলো ভিতরে ভিতরে
কত নিঃসঙ্গ কত একা ,
ঠিক যেন আমার মতো  !

এই রকম তো হবার কথা ছিল না ,
আমার জীবন টা আমাদের জীবন টা
পাল্টে যেতে তো পারতো ,
পারতো পাল তোলা নৌকার মতো
নিস্তরঙ্গ  নদীতে বয়ে যেতে ,
শীতল সমীরণে হৃদয় মন তো
শান্ত হতে পারতো  !

কিন্তু তা তো হোল না ,
নদীর দুই পাড়ে দুই জন ,
ওপারের ঝড় এপাড়ে আলোড়ন তোলে ,
এপাড়ের ঢেউ ধীর গতিতে
ওপারে ধাক্কা মারে  হয়তো ,
নিঃসঙ্গ একাকী চুপচাপ থেকে
দুই জনের দুই পাড়ে থাকা
নীরব দর্শক হয়ে  ।

কালো দুধের দেশ - সালাম মালিতা

সালাম মালিতা 

কালো দুধের দেশ 
- সালাম মালিতা 

কেমন একটা উল্টো রাজার দেশে
উল্টো দিকে মুখ করে হেঁটে চলেছি,
না না-নাক,কান, মুখ সবই আছে 
কিন্তু সবগুলোই উল্টো। 
আর বিবেকের কথা বলছেন 
সে-তো বহু আগেই মারা গিয়েছে-
এতদিনে সেটা ফসিল। 

দামি দামি শার্ট-প্যান্ট, কোট পরি
সাথে লম্বা টাই ঝোলায়,
তবে সবকিছুই উল্টো থাকে..!
দিনে নিয়ম করে তিনবেলা খায়
শুধু পার্থক্য হল-
খাবারের পরিবর্তে-গরীবের হক,
রাতে যথারীতি ঘুমায় 
কারো না কারো চোখের ঘুম কেড়ে। 

ডিগ্রির কোনো অভাব নেই 
শুধু নেতানো বিবেক,
লেবাসধারী ধার্মিক আমরা
মানুষকে কষ্ট দিয়ে-
উল্টো পথে আয় করি।
তৃষ্ণা পেলে তরল পান করি
তবে জলের পরিবর্তে-
শোষনের কালো দুধ,
লেখালেখির বেশ শখ আছে
সাধুর বেশ ধরে তোয়াজ করে-
দোষীর গায়ে হাত বুলিয়ে চলি।

আমাদের দেশে চাঁদ, তারা, সূর্য 
ফুল-ফল, পাখি,নদী-সবই আছে
শুধু আকাশটা কালো মেঘে ঢাকা, 
চারদিকে ধোঁয়াশা, কুয়াশা 
আর অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ। 
এখানে আইন-কানুন, পুলিশ-কোর্ট
সবই আছে....
সবকিছুই আছে, 
তবে সবার চোখে কালো পটি-
আর আইন নিজেই লালসায় কারাবন্দি!

বিপ্লবী কথা - রত্না রায়


 বিপ্লবী কথা
 - রত্না রায় 

বিপ্লবী গণ প্রাণ দিয়েছে দেশকে স্বাধীন করতে।
ব্রিটিশ দল ফাঁসি দিলো শাসন শোষণ চালাতে।
ক্ষুদিরাম বসু,সূর্যসেন ( মাস্টার দা), 
কানাই লাল দত্ত,তারকেশ্বর দস্তিদার ... 
ফাঁসির যন্ত্রণা সইলো,
ইংরেজদের বিচার এড়াতে প্রফুল্ল চাকী আত্মহত্যা করলো।

স্বাধীনতা যাঁরা ছিনিয়ে এনেছে, তাঁরা আছে , থাকবে অন্তরে,
ভারত মাতার সন্তান ত্যাগের শোক, ব্যথা আজও ওড়ে প্রান্তরে।

নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর বিপ্লবী সংগ্রাম দেখেছে বিশ্ব নিখিল,
রণবীর শৌর্য,ইতিহাসে অলংকৃত  করেছে অখিল।
ভগৎ সিং,উধাম সিং আরও বহু শ্রদ্ধেয় প্রাণ ,
জীবন করেছে উৎসর্গ ,চায়নি দেশের অপমান।

বিপ্লবীদের বিপ্লবে পেয়েছি মোরা স্বাধীনতার জয়,
ভুলিনি সে নিঠুর কথা,,
পাঠ্য বইতে হোক উদয়।
উল্লাস কর দত্তের সাহসী কর্ম যজ্ঞ ভীত করেছে ব্রিটিশ দলকে,
কাবু করতে অপারগ ব্রিটিশ  পাগল বানিয়ে মেরেছে পলকে।

বিপ্লবীদের বিপ্লব কান্তি দিয়েছে স্বাধীকার,
পাঠ্য বইতে শোভিত হোক বিপ্লবী যোদ্ধাদের কীর্তি ,অগ্রাধিকার।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার মাতঙ্গিনী হাজরা আরও আছে বহু শ্রদ্ধেয়া গুণী,
ইতিহাসের পাতায় ভরা জীবন যন্ত্রণা পড়েছি, হৃদয়ে রেখেছি বুনি।

ভেঙো না মেঘ ! - মেফ্তাহুল জান্নাত


 ভেঙো না মেঘ ! 
- মেফ্তাহুল জান্নাত 

তোমায় আমি ভাঙতে চাইনা মেঘ!
জানি এমন বাঁধন জুড়ে, দু’খানা মন আটকে পড়ে—
আমিই তোমায় মুক্ত করার করেছিলাম পণ?
সেই কথাতে রাত পোহালো, আবেগ নদী কুল হারালো;
মেঘ-বৃষ্টির এবার পালা ভীষণ বিসর্জন!
তাই তো ভয়, এ সংশয়– ভীষণতর কষ্ট হয়!
তোমার বুকে বিঁধবে কী-না আমার ভুলের ক্ষয়?
আমার বুকের ব্যথায় এখন কীসের অবক্ষয়! 
মেঘ— যেও না দূরে, মেঘ? বৃষ্টি এমনই হয়?

ওই যে জল ঝর্ণা হতে, যায় যে ঝরে মুক্ত হতেই
দেখায় অমন অক্লেশে সে; 
আনন্দতেই বয়—
তাও কি বলো পাহাড়-ছোঁড়া’র;
এই বেগতিক অশ্রুধারার— হয়েছে অপচয়?
হয়তো প্রেম এমনই অন্ধ,
হয়তো রাতের জীবন কারাবন্ধ!
তাও তো হাতের কড়ায় গোনা অগণন স্বপ্ন বয়?
জানি হঠাৎ প্রস্থান ভয়, আছে যে তা–নিঃসংশয়!
মুষড়ে পড়বে হাজার স্মৃতির দালান-কোঠার দেহ, 
ভিত্তি গড়া এসব রাত, আগ্নেয়গিরি ও শীতকাল!
অনিঃসীম প্রলয়!
প্রলয়… প্রলয়…

তোমায় আমি ভাঙতে চাইনা মেঘ, চাইনি জানো!
তবুও এমন কাছে টেনে, বৃষ্টি মেঘের রাগভাঙানো,
বিষাদ ও প্রেম গাল মেলালো— দুঃখমনে স্বপ্ন এলো,
এইযে এমন সুতোয় বাঁধা,
শাড়িতে– আঁচলে অনেক কথা— হারায় বেখবর!
বৈরাগ্যতার অনেক ব্যথা—- প্রেমও স্বার্থপর?

দুঃখ জেনেই ভালোবাসে, মেঘ-বৃষ্টি অবিনাশে,
কষ্টগুলো মেঘলা রাতের ঝড়ের মতো ওই আকাশে…
ছেঁড়া ফুলের গন্ধ মাখা, চাঁদের রাতের আলোকপাতে
ভুলিয়ে মারে সকল ভয়, যুক্তিরা সব হারিয়ে লয়—
বোকাপ্রেমে বোকা সাজে কবিতারই ছন্দতে!

তোমার ভাঙন, আমার মরণ–মৃত্যু আনে এসব স্মরণ!
রক্তক্ষরণ, অন্তীমতা— বুকে বিঁধে বিদায়কাঁটা।
কষ্ট তোমার মুছে দিতেই তটস্থ খুব হই…
তাও যদি ওই শমন আসে, এই ব্যপ্তির বলয় নাশে?
তখন আমার শুনবে বারণ? করবে জীবন অনুসরণ? 

জীবন কেনও এমনতর?
ভাগ্যবিধির ভয়ের চাদর, জোড়াতালির সুতোয় আদর?
আসে আবার ভয় ও ভাঙ্গন, খণ্ডবিখণ্ডন…

তবুও এসো কোলটি ঘেঁষে, এই আবহ ভালোবাসে;
কাছে এসে— কাছে এসে—
জুড়াও ততক্ষণ।

ভাঙন তোমার আসলে পরে, মুদবো নয়ন দূরে সরে,
তোমার ভাঙন ভয়ের তোড়ে, এই জানলা আছড়ে পড়ে!
ভুলের মাশুল না-কী সুখের? ভয়ের নাকি এই অসুখের? 
কীসের মাশুল তোমায় ডাকে? মৃত্যু আপোষের?

তোমায় আমি ভাঙতে চাইনা আজও,
তুমি বাঁচো..  তুমি বাঁচো… শুধুই বাঁচো!! 
জীবনে বাঁচো, প্রেমে বাঁচো
আঁচে বাঁচো, ওমে বাঁচো, সকল ভুলে আবার বাঁচো.. 

আছি কাছে। আছি আজও।
ভেঙোনা মেঘ, ভাঙনে বড় ভয়।

💢-----------------------------💢

মেফ্তাহুল জান্নাত 


আমার শপথ - শিশির হুদা



আমার শপথ 
- শিশির হুদা 

আমি ফিরবো বলে শপথ নিয়েছি
ঘুরে দাড়ানোর জন্য আত্নসম্মান আকড়ে ধরেছি, 
যারা বলছে আমার মনে নেই জোর
ফিরব আমি আলো হাতে পাবো কোন এক ভোর।

আমি জিতবো বলে শপথ নিয়েছি 
ময়দানে লড়বো চোখে রেখে চোখ বলে রেখেছি
সবাই হয়তো বলবে সামনে ঘোর অন্ধকার 
আমার কাছে  আছে বিশ্বাস যা হবে অঙ্গীকার।

আমি হাসবো বলে শপথ নিয়েছি 
যা আমাকে দেবে ভরে দু:হাত যা আমি পেয়েছি
বলবে সবাই করিনি আশা এতোদুর যাবো আমি
বলবো আমি ওরে বড় স্বপ্ন জীবনে আমার জানে অন্তর্যামী।

ব্যঙ্গে লেখা... -দেবাশীষ হালদার

দেবাশীষ হালদার 

ব্যঙ্গে লেখা
-দেবাশীষ হালদার 

রঙ্গকরে ব্যাঙ্গে লেখায় লাগে  বেজায় কেরামতী
সাহিত্যে কি পড়ে এ লেখা যেথায় কথার যাদুকরী ।

সুকুমার বা অন্নদাশঙ্কর, রায কি পেলেন বড়কবি ?
সাহিত্যের মানে এসব লেখা বড় আজগুবি !

কঠিন কথা বলতে সোজা ব্যাঙ্গে যদি রাখো
রাজা-উজির ধরে না তা যতই তাদের বলো ।

হেসে হবেন লুটোপুটি যেন কত মজার কথা
এই মজাতেই রাজা- উজির কাটে প্রজার মাথা ।

বুদ্ধি করে শোনায় কবি রাজা-প্রজার কাহিনী
সাহিত্য তার নয়তো লক্ষ্য, কথা বলাটা জরুরী ।

এসব পড়েই চিত্রকর চিত্রশিল্পী পায় অনুপ্রেরণা
ক্যানভাসে আঁকা ছবি,চলৎচিত্রে পাই প্রচুর নমুনা ।

থাকুক বেঁচে অল্প-স্বল্প সোজা কথা বলার লোক
সাহিত্যে থাক পাশে , নীচুমাথা উঁচু করাই হোক ।

বর্ষার ছন্দে... - সৌরভী করমহাপাত্র


বর্ষার ছন্দে
- সৌরভী করমহাপাত্র

মেঘলা আকাশ শীতল বাতাস
পাগল মনে দেখা, 
তপ্ত ধরায় তৃপ্তি ভরায়
ফোটে হাসির রেখা।

গাছের দোলা আপন ভোলা
সিক্ত ধরার মাটি, 
বর্ষণ মুখর মেঘের গরগর
ফলবে ফসল খাঁটি।

পুকুর নদী ভরে যদি
বাঁচবে তবে সৃষ্টি, 
আপন বেগে নয়তো রেগে
ঝরছে ক্রমে বৃষ্টি।

স্বচ্ছ পাতা তরুর ছাতা
দুলে দুলে নড়ে,
বোটা খসে পাকল রসে
আম ও জামরুল পড়ে।

খেজুর কুলে হৃদয় ভুলে
হলুদ রঙে গাছে,
কাঁদি ধরে বর্ষা ঝরে
পাকতে দেরি আছে।

বৃষ্টির সুরে সৃজন ঘুরে
গজায় কচি চারা,
সৃষ্টি সুখে খুশি মুখে
ধরা পাগল পারা।

💦----------------------------------------------------------💦


সৌরভী করমহাপাত্র


শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

লাভের কড়ি - দীপ্তি নন্দন

- দীপ্তি নন্দন 

লাভের কড়ি
- দীপ্তি নন্দন 


সেদিন সন্ধেবেলা তার ঘরের  দাওয়ায় হরিশ খুব মনমরা হয়ে বসেছিল। একটু আগেই  সুকুলের ঠেক-এ গিয়ে কয়েক গেলাস ধেনো চড়িয়ে এসে তারই নেশায় নিজের পোড়া কপালের কথা ভাবছিল বসে বসে।সেই দুপুরে এক মুঠো ভাত খেয়েছিল সে তারপর আর পেটে কিছু পড়েনি। উপরন্তু বৌ -এর লুকোনো টাকা থেকে পয়সা নিয়ে সে মনের দুঃখে ধেনোর ঠেক -এ গিয়েছিল।

খালি পেটে নেশাটা যেন ভীষণ জোরদার হয়েছে মনে হচ্ছে তার।
এখন ভরা বর্ষায় মাছ ধরার মরশুম চলছে, কিন্তু তার নৌকোর তলাটা ফেঁসে অকেজো হয়ে পড়ে আছে বেশ কিছুদিন ধরে। হাতে এমন  পয়সা নেই যে সারাবে। এসময় কেউ চট করে নৌকো ব্যবহার করতে দিতেও চাইবেনা।এখন তার নৌকো নেই ,টাকাও নেই তাই এবার নদীতে মাছ ধরার পারমিটও নেওয়া হয়নি। তাই সে এখন বেকার হয়ে ঘরে বসে আছে আর দুবেলা বৌ - এর মুখ ঝামটা শুনছে। কারণ বৌ এখন অন্যের বাড়ির ধান, চিঁড়ে কুটে, মুড়ি ভেজে সংসার চালাচ্ছে।

মনের দুঃখে একপেট ধেনো খেয়ে সে দাওয়ায়  বসে থেকে থেকে একসময় শুয়েই পড়ে ছিল। এমন সময়,শোনে একটা চাপা গলা --

" এ্যাই হরিশ আজ একটু বেশি রাতে যাবি নাকি মাছ ধরতে? "

এটা কালুর গলা না! 'হরিশ লাফিয়ে উঠল। 

সাগ্রহে বলল," কোথায় রে?"

  কালু বলে, " কেন, নদীতে ! অনেক মাছ  পাওয়া যাবে এখন গেলে । যাবি তো বল্!
---   "সে কি রে? ওখানে রাতে পাহারা থাকে না?"

---" হ্যাঁ থাকে তো। কিন্তু আমার কাছে খবর আছে, জল পুলিশের পাহারার লঞ্চ আজ এদিকে থাকবে না,  অন্য দিকে থাকবে।কাল সকালের আগে ফিরবে না। "

 ---"  তাই নাকি? আচ্ছা তবে চল্ ! "হরিশ চুপিচুপি দাওয়ার একধারে রাখা মাছ ধরার সরঞ্জামের ঝোলা আর খেপলা জালটা নিয়ে বলে,-- 

" চল এবার দেখি কটা মাছ নিয়ে আসতে পারি। "

কালু, হরিশের মাছ ধরার নানা কৌশলের কথা জানতো। জানতো তার অব্যর্থ কোঁচ দিয়ে গেঁথে মাছ ধরার দক্ষতার কথা। তাই আজকের এই পাহারাহীন নদীতে মাছ ধরে কিছু বেশি লাভের কড়ি গোনবার জন্যই তো তার হরিশকে সঙ্গে নেওয়া! 

একটুক্ষণ পরেই অন্ধকারে দুটি ছায়া মূর্তি সকলের অগোচরে নদীর দিকে রওয়ানা হয়।একটা নিরিবিলি অন্ধকার ঘাটে কালুর নৌকোটা বাঁধা ছিল। দুজনে নিঃশব্দে নৌকোয় গিয়ে ওঠে। ঘাটের ধারের বড় গাছটায় বাঁধা রশি খুলে ঠেলে জলে নামিয়ে দিতেই নৌকোটা নদীর স্রোতে তরতরিয়ে চলতে থাকে।একটু পরে ঘন অন্ধকারের মধ্যে বিশাল বড়ো নদীর অথৈ কালো জলে নিঃশব্দে কালু তার নৌকো বাইতে থাকে আর হরিশ তার খেপলা জালটা ফেলে মাছ ধরার তোড়জোড় করতে গিয়ে দ্যাখে ,ঠিক নৌকোর পাশেই বড়ো বড়ো মাছ খলবল করছে ।  

সে বুঝল,এত কাছ থেকে মাছ ধরতে এই জালে কোনো কাজ হবে না।সে তার জাল গুটিয়ে রেখে মোক্ষম অস্ত্র  কোঁচটি বের করে  হাতে কোঁচ চালিয়ে  মাছ গেঁথে  তোলার চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু ধেনোর নেশায় হাত ঠিক মতো না চালাতে পেরে  খুব একটা বেশি মাছ গেঁথে তুলতে পারলনা। কালু ,হরিশের এই  বিশেষ গুণের কথা জানত বলেই, তাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু নেশার ঘোরে এই হঠাৎ পাহারাহীন নদী থেকে ফায়দা তুলতে সে অপারগ হচ্ছে দেখে রেগে গিয়ে বলল, --  

" তুই যে নেশা করে আছিস আগে আমাকে বললি না কেন?   আজকের দিনটাই তো মাটি করে দিলি একেবারে। আমার তো সবটাই ক্ষতি।এতক্ষণ ধরে  নৌকো চালিয়ে লাভ কি হলো! ঐ দুএকটা মাছ বিক্রি করে ক'টা টাকা পাওয়া যাবে ? এর চেয়ে আমি একা এলে তবুও লাভ থাকত কিছু! "

রাগে সে গজগজ করতে লাগল। হরিশ অনেকক্ষণ ধরে  কালুর কথাগুলো শুনছিল।  তারও তো পরিশ্রম হয়েছে যথেষ্ট। ক্লান্ত হয়ে সে নৌকোর গলুই- এ বসে হাঁফাচ্ছিল। একেই কদিন তার কোনো আয় নেই। তেমন খাওয়াও জুটছে না, তার ওপরে রয়েছে ধেনোর নেশার প্রভাব।তাই ক্লান্তির মাত্রাটা একটু বেশিই ছিল হরিশের।

কিছুক্ষণ চেঁচামেচি করার পর কালু নৌকোর একেবারে ধারে বসে ঢুলতে লাগল ঘুমে। তার আগেই সে পাড়ের কাছাকাছি একটা খুঁটিতে তার নৌকোটা বেঁধে রেখেছিল।

হরিশ ক্লান্তির ভারে নুয়ে পড়ে শুতেই যাচ্ছিল। তখনি হঠাৎ একটু আগে বলা কালুর কথাগুলো ভেবে তার মাথায় যেন আগুন জ্বলে উঠল।

তখন হঠাৎই হরিশের মনে হলো, আচ্ছা আর তো কেউ জানে না, আজ কালুর আর তার রাতের অভিযানের কথা !এখন যদি সে কালুকে তার রাস্তা থেকে হটিয়ে দেয়, তাহলে কেউই তো  কিছু জানতে পারবে না।খোলের মধ্যে যে পরিমাণ মাছ আছে , কাল সকালে নদীর ঘাটে কিংবা হাটে বিক্রি করতে পারলে, কিছু তো পাওয়া যাবে! 

সে নৌকোর পাশে বসে ঘুমে ঢুলতে থাকা  কালুর গলায় পেছন থেকে তার হাতের কোঁচটা চালিয়ে দিয়ে, ঠেলে ফেলে দিল তাকে জলের মধ্যে। হরিশ দেখল তার কোঁচের ঘায়ে, কালুর গলাটা প্রায় পুরোটাই কেটে দুই টুকরো হয়ে গেছে। এবার সে খুব নিশ্চিন্ত হয়ে নৌকোর মধ্যে শুয়ে  পড়ল, আর সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়েও পড়ল। 

অল্পক্ষণ পরেই তার মনে হলো যেন নৌকোর পাশেই একটা বড়ো মাছের খলবলানির শব্দ আসছে। সে উঁকি মেরে দেখে একটা বিশাল মাছ নৌকোর ঠিক পাশেই খলবল করছে। সে হাতের কোঁচটা চালিয়ে দিয়ে সেটাকে একবারেই গেঁথে , অনেক কষ্টে সেই বৃহৎ মাছকে নৌকোর খোলে তুলে রেখে আবার ঘুমিয়ে পড়ল। 

ভোরের আলো ফুটে গেলেও তার সেই ঘুম ভাঙলো না। এদিকে উপকূল রক্ষী বাহিনীর লঞ্চ এদিকে ততক্ষনে চলে এসেছিলো। তারা কালুর নৌকায় হরিশকে অঘোরে ঘুমোতে দেখে তাকে ওঠাতে গেলো।

জল পুলিশের লোকের লাঠির খোঁচা  খেয়ে  ঘুম ভাঙল হরিশের। বেআইনি ভাবে পারমিট ছাড়া মাছ ধরার অপরাধে তাকে ধরতে গেলে, সে তাড়াতাড়ি বলে ওঠে ,-- 

" হুজুর যে মাছ ধরেছি তার  থেকে কটি মাছ আপনার বাড়িতে পাঠিয়ে দিই! " 

পুলিশের লোক কিছু বলার আগেই ঝামেলা থেকে ছাড় পেয়ে যাবার আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে সে নৌকোর খোল থেকে মাছ বের করতে গেল। 

পাশ থেকে পুলিশ ইন্সপেক্টর  উঁকি মেরে দেখতে গেলেন কত মাছ রয়েছে সেখানে , কিন্তু  তাঁরা অনেক মাছের বদলে দেখলেন, নৌকোর খোলের মধ্যে কালু, তার প্রায়  দু ফাঁক করা গলা নিয়ে সেখানে শুয়ে আছে!


বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

মা যখন লাশ - সালাম মালিতা

সালাম মালিতা 

মা যখন লাশ 
- সালাম মালিতা 

শরীর জুড়ে ভীষণ দুর্গন্ধ 
পচা-গলা মাংসপেশিগুলো খুলে খুলে পড়ছে,
ঈদের আনন্দে পুরো দেশ যখন 
সেমাই-পায়েস, মাংস-পোলাও খেতে ব্যস্ত-
মাছি,পিঁপড়ে,আরশোলা, মাইটেরা তখন
মহাতাণ্ডব চালিয়ে আমার শরীর দখল নিয়েছে।
মানুষের ঘরে ঘরে যখন
আতর-পারফিউমের সুগন্ধে ম-ম করছে,
তখন আমার ঘরটা লাশ পঁচার বিটকেল গন্ধে
নাসারন্ধ্রকে উত্যক্ত করতে শুরু করেছে।

দশমাস উদরে সযত্নে রেখে
যে সন্তানদের লালন-পালন করলাম, 
তাদের উচ্চ শিক্ষার কাছে 
আমার সেই প্রাচীন মমত্ব বড্ড অসহায়। 
শিক্ষক, প্রফেসর, প্রবাসী 
নামকরা মানুষ হলেও শিকড় ভুলে গেলো ,  
ইয়াব্বড় বড় ডিগ্রি আর নামি-দামি কোর্ট-প্যান্ট 
তারা সব মেকি জেন্টলম্যান...!

জীবনের পঁচাত্তরটা বসন্ত কেটেছে
সন্তানদের নিয়ে একটু সুখের আশায়, 
সন্তানেরা বড় হল, বড় চাকরি পেল
অনেক অর্থ উপার্জন করল-
কিন্তু এক টুকরো সুখ আর মাকে দিতে পারলো কই...!
ঘরের ব্যয়বহুল আসবাবপত্রের মাঝে 
মৃতপ্রায় বুড়িটাই ছিল সর্বনিম্ন পণ্য, 
তাই গৃহবন্দি করে জীবনের অন্তিম মুহুর্ত কাটল
নির্জলা হয়ে। 
জল পিপাসায় বুকের পাঁজর 
দুমড়ে-মুচড়ে গেলেও 
আর্তনাদ শোনার মত কেউ ছিল না,
তথাকথিত শিক্ষিত সভ্যতার ভাগাড়ে
কুসন্তান শকুনেরা শেষ বয়সে আর খুবলে ছিঁড়ে খেল!

সন্তানের জন্য সকল খুশির জলাঞ্জলি দিয়ে 
সকল চাওয়ার বলিদান দিয়ে..
আবেগ-অনুভূতি সব বিসর্জন দিয়ে...
তাহলে এই ছিল আমার কপালে..! 
পৃথিবীর আবাদকারী একজন মায়ের ভালে
সৃষ্টিকর্তা এই বিধান লিখেছিলেন..? 

যমদূতের অনাগ্রহ সত্ত্বেও 
পৃথিবীর বুকে সন্তানরূপী যমদূতরা-
টেনে-হিঁচড়ে দমটা বার করে নিল,
এই তাদের শিক্ষিত বিবেক...!
এই তাদের আধুনিকতা...!
এই তাদের সভ্যতা...!
এই তারা আধুনিক মানুষ..? 

যে মায়ের পায়ের নিচে সৃষ্টিকর্তা 
এক টুকরো স্বর্গ রেখেছেন, 
হায়! সেই মায়ের শেষ পরিণতি হল এতটাই নির্মম...!
নিজের পুরো জীবনটা সন্তানের জন্য উৎসর্গ করেও
নিজের দুধের ঋণ পরিশোধে-
রক্তমাখা কলিজা খেয় নিল ঐ নরখাদকেরা-
আর জনমদুখিনী মা হল এক লাশ....!!

চেতনার ভাঙা আয়নায়.... - মুন্নাফ সেখ


চেতনার ভাঙা আয়নায়
- মুন্নাফ সেখ

যে মাটির বুকে মিশে আছে আজও বীর শহীদের রক্ত,
সে মাটি ভুলেছে আপন ইতিহাস, আজ শুধু ধর্মের ভক্ত।
হিন্দু-মুসলিমে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিল সেই রণে,
দেশমাতা ছিল সবার উপরে, ভেদ ছিল না কো মনে।
তিতুমীর আর মঙ্গল পাণ্ডে গড়েছিল একই ধারা,
ক্ষুদিরাম, আশফাকুল্লাহ দেশের জন্য হয়েছিল আত্মহারা।
নেতাজির ডাক, আজাদের জেদ কাঁপিয়েছিল ব্রিটিশের ঘর,
এক থালায় খেয়ে এক সাথে সবে তাড়ালো বিদেশী পর।
সেই স্বাধীনতা আজ ধুলোয় মেশে একাকী কাঁদে এক কোণে,
দেশপ্রেমের সেই খাঁটি আগুন আর জ্বলে না কারো মনে।

সেই ভারত আজ টুকরো হয়েছে রাজনীতির বিষাক্ত চালে,
ক্ষমতার লোভের বিষ ঢালা হচ্ছে ভাইয়ে-ভাইয়ের গালে।
ব্রিটিশ আমলে শত্রু ছিল শুধু ওই শ্বেতাঙ্গ দল,
আজ ঘরে ঘরে শত্রু বানায় নেতার স্বার্থের বল।
তখন সাধারণ মানুষ লড়েছে দেশের স্বাধীনতার তরে,
আর আজ তারা লড়ছে কেবল রুটি আর রুজির ঘরে।
সাধারণের পেটে ভাত নেই আজ, শিক্ষা-স্বাস্থ্য শেষ,
তবু ধর্মের নামে জল্লাদ সেজে পুড়ছে স্বাধীন দেশ।
নেতার লোভের অনলে পুড়ছে আজ মানুষের বিশ্বাস,
স্বাধীন দেশের বাতাস কেড়েছে সাধারণের দীর্ঘশ্বাস।

সবচেয়ে বড় আজব তামাশা আজকের এই মিডিয়া,
সত্য বিকিয়ে ক্ষমতার পায়ে ধরেছে চামচাগিরি বাছিয়া।
যে চাটুকার দল গদি মিডিয়া নামে পরিচিত আজ ভুবনে,
তারা বিষ ঢেলে যায় দিন আর রাত মানুষের কানে কানে।
বেকারের কান্না, কৃষকের ফাঁসি দেখায় না টিভির পর্দায়,
শুধু হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বাঁধিয়ে টিআরপি বাড়ে সস্তায়।
ভোটব্যাংকের নোংরা খেলায় মেতেছে শাসক দল,
আর মূর্খ মিডিয়া ঢাক-ডোল পিটিয়ে বাড়ায় তাদের বল।
কলম বিক্রি, বিবেক বন্ধক, সত্য আজ নির্বাসিত,
মিডিয়ার ঘরে টাকার পাহাড়ে সমাজ আজ কলঙ্কিত।

একটা সময় হিন্দু-মুসলিম ছিল যে প্রাণের মিতা,
আজ মিডিয়ার বিষে একজন অন্যজনের চিতা।
প্রতিবেশীর ঘরে উৎসব হলে আসত যে আনন্দের বান,
আজ সেখানে সন্দেহের চোখে খোঁজা হয় ধর্ম আর স্থান।
ধিক্কার জানাই সেই সরকারকে, ধিক্কার সেই রাজে,
যে রাজা নিজের আসন বাঁচাতে ধর্মের ফায়দা খোঁজে।
মানুষের রক্তে গদি রাঙানো এ কেমন রাজনীতি?
মানবতার চেয়ে বড় হতে পারে না কোনো দিন কোনো নীতি।
ধর্মের নামে ক্ষমতার লোভ ডেকে আনে শুধু ধ্বংস,
এই কুৎসিত নোংরা খেলায় মরে যে সাধারণের অংশ।

পিয়নের চাকরিতেও দেশে লাগে ডিগ্রির সংশাপত্র,
অথচ মূর্খ-অশিক্ষিতে ভরে গেছে আজ রাজতন্ত্র!
চোর-ডাকাত আর মূর্খের হাতে সোনার দেশের চাবি,
যোগ্যতাহীন নেতা-মন্ত্রী তাড়াতে আজ উঠেছে দাবি।
পাস করতে হবে নতুন আইন, আনতে হবে সংস্কার,
উচ্চ ডিগ্রি ছাড়া মিলবে না ভোটে দাঁড়ানোর অধিকার।
যে নিজে বোঝে না শিক্ষার আলো, বোঝে না সংবিধান,
তার হাতে কেন সঁপে দেওয়া হবে কোটি মানুষের জান?
মূর্খ নেতা-মন্ত্রীর চাটুকারিতায় দেশ আজ তলিয়ে যায়,
শিক্ষিত যুব সমাজ আজ তাই যোগ্য নেতার হাত বাড়ায়।

যেখানে হিন্দু-বৌদ্ধ-শিখ-জৈন-পারসিক-মুসলমান-খ্রিস্টানি,
এক হয়ে সুর মেলাবে শুনে দেশমাতার সেই উদার বাণী।
সেই বাণীতে মিশে আছে ত্যাগের আর একতার মহান গান,
যার ছায়াতলে এক হয়ে যায় কোটি মানুষের জাতি ও প্রাণ।
কিন্তু আজকের রাজারা করেছে সেই সুরকে খণ্ড খণ্ড,
সিংহাসনে বসে চালায় শুধু ভেদাভেদের খেলা ভণ্ড।
আমরা আবার এক করব সেই হারিয়ে যাওয়া সুরের মেলা,
ভেঙে চুরমার করে দেব নেতার এই স্বার্থের নোংরা খেলা।
একতাই হবে আমাদের মন্ত্র, একতাই হবে আমাদের বল,
এক সাথে লড়বে দেশের যুব শক্তি আর শ্রমিক দল।

ওগো সাধারণ মানুষ, তোমরা এবার চোখ দুটো মেলে চাও,
নেতার মুখের মিছে প্রতিশ্রুতি ছুড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দাও।
কেন বলির পাঁঠা হচ্ছ তোমরা অন্যের স্বার্থের তরে?
যে নেতা দাঙ্গার উস্কানি দেয়, সে তো এসি রুমে মরে।
রক্ত তো সবার লাল রঙের হয়, ধর্ম তো শুধু মনে,
তবে কেন ভাই ভাইয়ের বুকে ছুরি মারো খামোখা খনে?
ভাঙতে হবে এই মিডিয়ার মিথ্যে কথার জাল,
রুখে দাঁড়াতে হবে আমাদের, বদলাতে হবে হাল।
জেগে ওঠো আজ শোষিত মানুষ, ভাঙো এই মোহের ঘুম,
নেতাদের ঘরে যেন নেমে আসে প্রতিবাদের চণ্ডীধুম।

আমাদের ভবিষ্যৎ এমন হোক, যেখানে থাকবে না কোনো ভয়,
মন্দিরে জপ আর মসজিদে আজান একসাথে শান্তিময়।
ভবিষ্যৎ হোক শিক্ষার, ভবিষ্যৎ হোক কাজের,
দূর হয়ে যাক সব কলঙ্ক এই ভণ্ড ধূর্ত রাজের।
তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠুক আবার নতুন আলোর খোঁজে,
যে আলোয় মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াবে মন বুঝে।
আবার ফিরুক সেই সম্প্রীতি, আবার জাগুক দেশ,
ধর্মের নামে রাজনীতি যেন চিরতরে হয় শেষ।
ভারত হোক সেই ভারতের মতো, যা চেয়েছিলেন শহীদেরা,
একতাই হোক আমাদের বল, ভেঙে যাক সব ধর্মের বেড়া।

ধর্ম রক্ষার্থে যুদ্ধ..... - রামকৃষ্ণ পাল

রামকৃষ্ণ পাল

ধর্ম রক্ষার্থে যুদ্ধ
- রামকৃষ্ণ পাল
 
পরিবর্তনের ঝড়ে সুনামি বিশাল,
ভাঙছে তীর ভাঙছে ছুটে গেছে হাল।
সুর অসুরের যুদ্ধে কাঁপছে প্রকৃতি, 
অস্ত্রশস্ত্রে ঝনঝনি রোষে গায় গীতি।

সাধারণ জনার্দন শিক্ষা দেবে বলে,
ভীম সেনের মতন উঠেছিল জ্বলে।
মুহুর্মুহু বজ্রাঘাতে মরে পাপীগণ,
ধর্ম রক্ষার্থে সমরে চলছে নিধন।

জাগরন জনগণে অধিকার বলে, 
প্রতারণা বঞ্চনার বাঁধা যাঁতাকলে।
মেঘমল্লা আগমনে কম্পিত কৌরবে,
বধিবে অসুরে যত জাগিয়া গৌরবে।

ত্রাহি ত্রাহি রবে সদা নিষ্পাপ জনতা, 
দ্রৌপদী বস্ত্রহরণ অশোভন কথা।
শেষকালেতে পাল্টালে রক্ষার্থে স্বধর্ম,
শুভ বুদ্ধির উদয়ে যাচনা সুকর্ম।

"ধোঁয়া ওঠা রাত " - রত্না রায়

রত্না রায়   "ধোঁয়া ওঠা রাত "      - রত্না রায়  স্কুলের ঘণ্টা পড়তেই ঘরে ফেরার তাড়ায় স্কুল প্রাঙ্গণে হৈচৈ লেগেই থাকতো। কো এডুক...

জনপ্রিয় পোস্ট