হাত বাড়ালেই বন্ধু
- সুবর্ণা দাশ
কিছুদিন ধরে রিমির মা লক্ষ্য করল, রিমির মধ্যে যেন আতঙ্ক কাজ করছে। সারাক্ষণ নিজের রুমের মধ্যে বন্দি হয়ে থাকে। ডাকলে আঁতকে উঠে। স্কুলে যেতে ভয় পায়, কিন্তু কিছুই বলে না। রিমি পড়াশোনায় খুব একটা মেধাবী না হলেও একেবারে খারাপ ছাত্রী সে নয়। রিমির মা সোমা খুব চিন্তায় আছে মেয়ের এরকম হাব ভাবে। একদিন দুপুর বেলা স্কুল থেকে রিমি ফিরার পর সোমা রিমির ঘরে গিয়ে, রিমির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে জিজ্ঞাসা করে, মা রিমি আজকে তুমি আমাকে তোমার পাশে একটু শুতে দেবে মা? রিমি অনেকক্ষণ কি যেন ভেবে মা'কে জড়িয়ে ধরে বলে কেন নয় মা! সোমাও মেয়েকে অনেক দিন পর এভাবে জড়িয়ে ধরতে দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে যায়।
মেয়ের সাথে নানা কথা বলার পর গল্পের ছলে জিজ্ঞাসা করে, তোর কি হয়েছে মা? আমায় খুলে বলবি? সন্তানের বন্ধু হচ্ছে 'মা'। তুই আমাকে সব বলতে পারিস। সব বলতে সবকিছু, এমনকি তুই যদি খারাপ কিছুও করে থাকিস তাও আমাকে বলতে পারিস। রিমি একটু যেন হতাশা থেকে আলোর মুখ দেখলো। রিমি মাকে বলে, জানো মা আমার ক্লাসের অর্ক আমাকে কি সব বলে। আমাকে নাকি সে ভালোবাসে, আমার খুব ভয় হয় মা। অর্ক আমার পিছু নেয়। এমনকি আমাদের বাড়ি অবধি চলে আসে। আমাকে ফুল দেয়। আমি নিতে অস্বীকার করলে, রেগে যায় অর্ক। আমি কি করবো মা? অর্ক'র জন্য আমার স্কুলে যেতে ভয় হয়।
বোকা মেয়ে এ জন্য তুই এত কষ্ট পাচ্ছিস! গুমরে যাচ্ছিস ভেতরে ভেতরে! শোন মা অর্ক'র বয়স কম, সবে তোদের বয়স চৌদ্দ কি পনেরো। এ বয়সটা হলো একটা কৌতূহলের সময়। অর্ক তোর ক্লাসমেট, ওর আচরণে ভয় না পেয়ে বুঝিয়ে বলবি যে, তোদের এখন ভালো করে পড়াশোনা করতে হবে। দেখিস অর্ক ঠিক বুঝবে।
পরের দিন রিমি স্কুলে গেলে, অর্ক আবারও রিমিকে ভালোবাসার কথা বলে। রিমি ভয় না পেয়ে অর্ককে বলে, আমার তো দুজন বন্ধু হতে পারি। ভালো বন্ধু, আমাদের ভালো করে পড়ালেখা করে মাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট করতে হবে। অযথা অন্য কথা ভেবে সময় নষ্ট করা ঠিক হবে না। অর্ক ভেবে চিন্তে রিমির কথাতে সায় দেয়। রিমি অর্ক দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হলো এবং দুজনে খুব খুশি।
রিমি মাকে এসে সব কথা খুলে বলল। সোমা ও খুশি হয়ে মেয়েকে কপালে চুম্বন করলো। আর বলল, হাত বাড়ালেই যে মায়ের মতো বন্ধু পাবি, সেখানে তুই কিছু আমাকে না বলে নিজে নিজে এতটা কষ্ট পেলি। কখনো মা'র কাছে কোনো কথা লুকাবে না। মা পরম বন্ধু মনে রেখো।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন