শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

মুক্তি - রাজ কিশোর দাস


 মুক্তি
- রাজ কিশোর দাস

আজ থেকে তোর নাম নেব না,
এখন তুই অন্য ললনা।

জীবন তো সবার এক হয় না,
তাই আর বিরহে বসে থাকা মানায় না।

জানি, তুই ঠিক সব কাটিয়ে নিবি,
কিন্তু এই একা মনটাকে বোঝাব কী করে?

মন থেকে চলে যাওয়া এত সহজ হয়, জানতাম না।
কী আর করি, এখন সবই তোর।

কখনো মনে পড়লেও পাবি না আমায়,
ক্ষমা করা সহজ হবে না তোকে।

ভুল-ত্রুটি সব বাকি রেখে,
যা তুই অন্য নীড়ে।

তোকে কেউ আটকাবে না,
কারণ তুই এখন অন্য ললনা।

নিঃসন্তান - সালাম মালিতা

 

নিঃসন্তান 
- সালাম মালিতা 

কেমন একটা দুশ্চিন্তায় আজ
নির্ঘুম সব দীর্ঘ রাত কাটে,
শত চেষ্টার পরেও
এক সেকেন্ডের জন্যও দুটি চোখের পাতা-
মেলাতে পারি না।
পেট ভর্তি খাবারের জন্য নয়
বরং আমার উত্তরসূরির বড্ড আকাল,
মৃত্যুর পর এই ছোট্ট ভিটায়
প্রদীপ জ্বালবে কে-
অসীম চিন্তা দিনরাত কুরে কুরে খায়! 

সমাজ যে আমাকে কলঙ্কিত বলল
অপবাদ দিল..
সকল দোষের ভাগি করল-
আমার অপরাধ আসলে কী?
স্বামীর শারীরিক অক্ষমতায় 
আমি আজ নিঃসন্তান, 
অথচ সকল কুক্ষণের জন্য 
আমাকেই দায়ী করা হল।
আমার চারিপাশের আত্মীয়-স্বজন 
যাদের আমি পরিবার মনে করতাম, 
তারাই আজ পাইথনের মতে বসে থেকে-
আমার শেষ সম্বলটুকু গিলতে চায়..!
শকুনের মত চোখ ঠিকরে আছে
কখন জানি দমটা বন্ধ হয়,
সুযোগ বুঝে বুকে বসেই
কলিজাটাকে খুবলে-ছিঁড়ে খাবে।

আমি তো বড় কোনো বাড়ি চাইনি
গোলাভরা ধান, মাছ ভর্তি পুকুর 
অবারিত ফসলের ক্ষেত...
গোয়াল ভরা গরু-ছাগল-মহিষ..
এসব কিছুই আশা ছিলো না।
ছোট্ট একটা কুঁড়েঘর
ফুটফুটে বাচ্চা, চাঁদের হাট
ব্যাস! এইটুকুই দাবি ছিল।
অথচ বিনা অপরাধে 
আমি আজ অভিশপ্ত ডাইনি,
অস্পৃশ্য, চোগলখোর, কালনাগিনী 
সবশেষে নিঃসন্তান এক অভাগী...!

মক মক - সমর্পিতা রাহা

 

মক মক
- সমর্পিতা রাহা 


গ্রীষ্মকালের দাবদাহে 
   উত্তপ্ত যে ধরা,
জলাভূমি শুকনো সব'ই
প্রাণীকুল আধ মরা।

ঝমঝমিয়ে হঠাৎ বৃষ্টি 
বর্ষা এলো বুঝি,
ব্যাঙের গানে জাগল পাড়া 
প্রাণের পরশ খুঁজি।

গ্যাঙর গ্যাঙর কত শব্দ 
প্রকৃতি মা হাসে,
কৃষকেরা অপেক্ষাতে
ছিল ভীষণ ত্রাসে।

বৃষ্টি রানির আগমনে 
  গাছেরা সব তাজা,
প্রাণীসকল ফুরফুরে সব
সবাই দেখি রাজা।

অনাবৃষ্টি অতিবৃষ্টি 
কোনটায় নয় ভালো,
বন্যা খরা সব কিছুতেই 
জীবন সবার কালো।

ঋতু চক্র ঘুরতে থাকে 
    ঠাণ্ডা গরম নিয়ে,
কদম ফুলের সুবাস কত
বর্ষারানির বিয়ে।

ব্যাঙেরা সব জলসা করে 
   মক মক কত শব্দ,
খোকা খুকি নৌকা ভাসায়
  ঘরের মধ্যে জব্দ।

শিশুর শ্রম - রত্না রায়


শিশুর শ্রম 
- রত্না রায় 

শিশুর শ্রম আর যেন না হয়
এসো শপথ করি
কচি কাঁচার ব্যথা লাগে ,কেঁদে কয় তরী।
ইঁটের বোঝা মাথায় করে কাজ করে ওরা,
খিদে মুখে ঘেমে নেয়ে কাঁদতে থাকে ত্বরা।

শিশুর মনে পাপ নেই সকল কাজই করে,
রাঘব বোয়াল কাজ করায় হুকুম করে জোরে।
ছোট্ট শিশু বোঝে নাতো শ্রম কাকে বলে,
তাইতো সবাই খাটিয়ে নেয়, ছলে বলে কৌশলে।

শিশুর কভু হয়না ভেদ সব শিশুরাই পবিত্র,
শ্রমিক সেজে ভুখ মেটায় দীন দরিদ্র অরিত্র।
ভাগ্য গুণে কতক শিশু স্কুলে যায় পড়তে,
গরিব যীশু ময়লা কুড়ায় সড়ক সাফাই করতে।

শিশু শ্রম বিরোধী দিবস,মনে রাখা চাই,
সকল শিশু পড়তে যাক ,সহমত হোক তাই।
কচি কাঁচার মুখের হাসি সারা জীবন থাক,
মায়ের কোলে মানুষ হোক বাজুক হৃদয় ঢাক।

শিশু শ্রমিক দেখলে পরে হবে প্রতিবাদ,
ফুলের হাসি বাঁধ ভেঙে যাক ,হোকনা শুভ আবাদ।
শিশুর শ্রমে কেঁদে ওঠে প্রতিটি প্রাণ মন,
নিষ্পাপ সব শিশু যীশু খেলুক সারাক্ষণ।

মুক্তি - রাজ কিশোর দাস

  মুক্তি - রাজ কিশোর দাস আজ থেকে তোর নাম নেব না, এখন তুই অন্য ললনা। জীবন তো সবার এক হয় না, তাই আর বিরহে বসে থাকা মানায় না। জানি, তুই ঠিক স...

জনপ্রিয় পোস্ট