স্মৃতির কারবালা
- সালাম মালিতা
এই হৃদয়ের গহীন অরণ্যে
না জানি কত-
স্মৃতি দাফন করেছি,
তার কোনো হিসাব নেই!
অব্যক্ত কথার
অপরিণত মুকুলগুলো-
বেহিসাবি হয়ে যখন-তখন
অকাতরে ঝরে যায়..!
অদৃশ্য এই কারবালায়
কবর খননের প্রয়োজন নেই,
বাঁশ কাটতেও হয় না
লাগে না কাফনের কাপড়-
তাই জানাজা ছাড়াই
ইচ্ছে খুশি মত স্মৃতির
কবর দিয়েছি...!
বাইরে থেকে প্রাচীর নেই
নেই কোনো রেলিঙ,
বড় বড় হরফে লেখা নেই-
" কারবালা "
অথচ নিত্যদিন গত হওয়া
সকল আকুতির মাটি হয়!
এত বড় কবরশালায়
নেই কোনো প্রহরী,
লাগানো হয়নি কোনো ফটক-
শুধু নীরবে নিভৃতে
চাওয়ার অপমৃত্যু হওয়ায়-
সেগুলোকে সমাহিত করা হয়েছে!
বিশাল এই কারবালা
তবু অন্যের স্মৃতি দাফন হয় না,
অন্যের প্রবেশ নিষিদ্ধ..
অন্যের সমালোচনা বন্ধ...
লেখালেখি, চিত্রাঙ্কন থেকে
অন্যের তদারকি সম্পূর্ণ নিষেধ।
শুধু আত্মদহণ...
আত্ম গোঙরানির চিৎকার...
বিষাদের কুহেলিকা...
আর বেওয়ারিশ ফুল জন্মানো
কষ্টের ভেজা স্যাঁতসেঁতে-
নামহীন সব কবর...!!

৩টি মন্তব্য:
মন ছুঁয়ে গেল। ❤️
ধন্যবাদ।
একজন পাঠক ও বিশ্লেষক হিসেবে বলতে চাই, “স্মৃতির কারবালা” কবিতাটি শুধু স্মৃতিচারণ নয়, এটি এক গভীর অন্তর্দাহের ভাষ্য। “কারবালা” শব্দটির প্রতীকী ব্যবহার কবিতাকে দিয়েছে এক অসাধারণ ব্যঞ্জনা— যেখানে হৃদয়ের ভেতরে প্রতিদিন দাফন হয় না বলা কথা, অপূর্ণ ইচ্ছে আর নীরব আকুতি।
কবিতার প্রতিটি স্তবকে বিষাদ, নিঃসঙ্গতা ও আত্মদহনের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা পাঠককে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে—
“জানাজা ছাড়াই ইচ্ছে খুশি মত স্মৃতির কবর দিয়েছি...”
লাইনটি ভীষণ মর্মস্পর্শী।
এখানে অনুভূতির মৃত্যু যেন এক নীরব সামাজিক বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।
কবির শব্দচয়ন খুবই শক্তিশালী ও চিত্রধর্মী।
“বেওয়ারিশ ফুল জন্মানো নামহীন সব কবর” — এই চিত্রকল্প দীর্ঘসময় মনে থেকে যায়। পুরো কবিতাজুড়ে এক ধরনের নীরব আর্তনাদ আছে, যা কৃত্রিম নয়, বরং গভীরভাবে অনুভূত।
সালাম মালিতা হৃদয়ের গোপন ক্ষতকে অত্যন্ত শিল্পিত ও দার্শনিকভাবে তুলে ধরেছেন। এই কবিতা শুধু পড়ার নয়, অনুভব করার।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন