অবাক কাণ্ড
(লেখিকা- সমর্পিতা রাহা)
নির্জন স্টেশনে ট্রেনটা থামল।
বেশ কিছু সময় ট্রেণ দাঁড়িয়ে রইল।
ভাবলাম সারা ট্রেণ ফাঁকা, আমি একা। এই স্টেশন থেকে হয়ত লোক উঠবে।
রাত দুটো বাজে। বেশ খিদে লাগছিল। ব্যাগে তো একটা চানাচুর এর প্যাকেট ছাড়া কিছু নেই। বার করে খেতে যাব। হঠাৎ ছোট্ট ছেলের হাত। কী ঠাণ্ডা হাত।
আমি জিজ্ঞেস করি –
কি নেবে চানাচুর?
খুব ঝাল তো! খেতে পারবে না।
জানো বাবু তোমার মতো আমার একটা ছেলে আছে।
ছেলেটা খিলখিল করে হেসে বলল মু তো তুর ছিল্যাই বাব্বু। চিনতে পারছে্ক লাই। মু তর বাবুয়া বটে।
আরিব্বাস ঠিক বলেছ তো। আমার ছেলের নাম ও বাবুয়া বটেই।
হেই বাপু মন দিয়া শুন ক্যানে , মু তুর আস্সল ছিল্যাই বট্টেক। তু তো মাম্মার ঘরটোতে আসুস লা। তাইতো বুইঝতে লারছক।
ইরপর লামবিক তো। যা জিনিস গুছায় লে বাপু।
পরের স্টেশনে ওর হাত ধরে নেমে যায়। একটা চা ওয়ালা বললক চা খাবেন বাবুসাব।
চা খেয়ে শান্তি পেলাম। ছেলেটা দূরে আঁধারে তিরিং বিরিং করে লাফাচ্ছে। গান করছে
চিঠ্ঠি আয়ি হেই চিঠ্ঠি আয়ি।
বাব্বু ছিলেটার সব থিকা দুষ অখন সুব্বাই আছেক, তবুও উর কেউ লাই জানেন।
উর মা গতবছর কুথায় চল্যে গেছেক। বাবাটা বহুদিন খোঁজ লেয় লাই।
হুনেছি উর বাবার একটা দুর্ঘটনায় অতীত স্মৃতি ভুইলে গ্যাছেক।
আচ্ছা এত খবর আপনারা জানলেন কি করে?
জানেন কোলকাতার বাবু উর ঠাকমা দাদু উকে অস্বীকারট করেছে!
তাদ্দের ছিলা অসুস্থ তাই লাতি বৌমার দায়িত্বট লেন নি। ওই বাচ্চার মাটো, যার সঙ্গে পালায়ছেক।
ছেলেটাকে অপছন্দ নতুন বরের। ছিলাটা প্রায় ছমাস ধরে হুজ্জতি করে। আমার কাছকেই থাক্কে ক্যানে এখন।
আমি বলি ছেলেটাকে দেবেন। কিন্তু যার ছিলা সে যদি খুঁজ করতে আসেক।
বাচ্চাটা ছুট্টে এসে বলে এই যে বাব্বু চায়ের দাম পাঁচ সিকা। এক টাকা পঁচিশ পয়সা দ্যান দেখি। ইবার যাই ক্যানে পরের টেরেনে মুর বাপট যদি আসেক।
আমি বাচ্চার হাত চেপে বলি। আমি তোর বাবা। দেখবি ছবি।
পকেট থেকে ছেলে বৌয়ের ছবি দেখালাম। ছেলেটা বেশ চিন্তায় পড়ল। বাচ্চাটা বলেক–হেবাব্বু মুর মা ট ঠিক লাগছে। ছিলাটা কুত ছোট লাগছেক। আমি বলি তুই তো তিন বছর আগে ছোট ছিলিস।
চা ওয়ালার বাড়ি গেলাম। রাত কাটিয়ে ছেলেকে নিয়ে আসলাম বাড়ি। দাদু ঠাকমার ছবি দেখিয়ে বললাম ইনারা হলেন তোমার দাদু ঠাকমা।
ছেলেটা বিড়বিড় করে বলল তোমরা আমাকে কাছে ডাকলে না কেন?
এত কষ্ট করে তাহলে থাকতাম না।
যেন বাবা মু কে সবাই কষ্ট দিয়েছেক।
মা থাকতে মা লাই। বাবা থাকতে বাবা ও লাই।
আমি জড়িয়ে ধরে বলি আর কোনো কষ্ট নয় সোনা। এবার থেকে তুই আর আমি আনন্দে থাকব, পড়ব, বেড়াব। ছেলে বলে আর চা খাব।
আমি হেসে বলি চা শুধু নয় ভাত রুটি শাকসবজি মাছ, মাংস সব খাব।
৭টি মন্তব্য:
অপূর্ব। চা নিয়ে লেখা মন ছুঁয়ে দেয় 🥰🥰🥰🥰🌹❤️ অসাধারণ লিখেছেন ম্যাম🙏🌻
ধন্যবাদ
ধন্যবাদ
ধন্যবাদ
ধন্যবাদ
ধন্যবাদ
দারুন
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন