বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

শূন্য চেয়ার - সমর্পিতা রাহা

সমর্পিতা রাহা




বারান্দায় যে চেয়ারটা  আপন মনে দোদুল্যমান –
চেয়ারটার উপবিষ্ট মানুষ টার বেশ কিছু দিন দেখা নেই !
অজান্তে রোজ চোখ চলে যায় ওই শূন্য চেয়ারটার দিকে ,
যেতে আসতে বিনিময় হতো একটু মিষ্টি হাসি ।
হাত নেড়ে চোখের ভাষায় বুঝিয়ে দিতেন ঠিকঠাক।
একদিন গল্পচ্ছলে 
জানলাম ওই চেয়ারে উপবিষ্ট মহিলার স্বামী মারা গেছেন।
কোনোদিন হয়তো রাস্তায় দাঁড়িয়ে হয়েছে কিছু আলাপ–
দুই ছেলে বড়ো হয়ে গেছে যে যার কাজে ব্যস্ত 
বড় ছেলের দুই মেয়ে নিয়ে বৌমা ব্যতিব্যস্ত 
বৌমার গুণকীর্তন নাতনীদের প্রশংসা ।
আবার একদিন মনে হলো ছোটছেলের কথা জানা হল না –
কথাচ্ছলে জানলাম ছোট ছেলেটা বহু দূরে চলে গেছে ,
আরো চমকালাম একাকিত্ব মাসিমার কথা শুনে 
বললেন ছোট ছেলেটা চলে গেছে আজ দু বছর হল–
বহু দূরে ওই তারাদের দেশে ওর বাবুর কাছে 
বুকটা বেশ ধড়পড় করে উঠলো।
রোজ দেখি বারান্দায় বসে চুপচাপ মশার কামড় খাচ্ছেন।
আমায় দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করতেন
কি গো কেমন আছো?
আমি কাছে গিয়ে বলতাম টিভি দেখুন
সময় কেটে যাবে।
দুই বাচ্চার অনেক পড়া দুই ঘরে পড়ছে
ডাইনিং এ টিভি চালালে ওদের পড়ার ক্ষতি হবে যে!
ফিসফিস করে বলে একাকিত্বের বড্ড জ্বালা  রে!
বেশ কিছুদিন চেয়ারটা ফাঁকা লাগছে 
হঠাৎ দেখি বাড়ির সামনে সাদা প্যান্ডেল
তাহলে মাসিমা নেই!
চেয়ারটা তাই একাকিত্বে কাঁদে।
কেউ জিজ্ঞেস করবেন না কি গো কেমন আছো!
রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে কেমন একটা অভ্যাস হয়ে গেছিল 
অজান্তে চোখ চলে যায় ওই শুন্য চেয়ারের দিকে

৩টি মন্তব্য:

Sarbani Das বলেছেন...

বাহ্

নামহীন বলেছেন...

ধন্যবাদ

Salam Malita বলেছেন...

দারুণ লেখনী।

মৃত্যুকাতর (কবিতা) - সর্বানী দাস

   সর্বানী দাস জীবনডাঙায় হাট বসেছে  আসা-যাওয়ার চলছে মেলা, সাধের মাটির দেহখানায়  নিঃশ্বাসে পার করবে ভেলা। শ্বাসের বাঁশি নাভির টানে  আটকে আগল ...

জনপ্রিয় পোস্ট