বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

রবিঠাকুর... - রেজাউল করীম

 



তুমি কি সত্যিই মানুষ ছিলে, রবিঠাকুর?
নাকি জোড়াসাঁকোর উঠোনে দাঁড়িয়ে থাকা
একটা বিশাল বটগাছ—
যার শিকড়ে ঝুলে থাকত
বাংলা ভাষার সমস্ত দুপুর।

আমি যখন খুব ক্লান্ত হই,
দেখি—
মানুষেরা ছেঁড়া পোস্টারের মতো
নিজেদের মুখ বদলায়।

শুধু তুমি
পুরোনো রেডিওর ভিতর থেকে
বৃষ্টির শব্দ হয়ে ভেসে আসো।

তোমার দাঁড়িতে নিশ্চয়ই লুকিয়ে ছিল
শীতের সকালের কুয়াশা,
নইলে এত শান্তি কোথা থেকে এলো?

এখন চারদিকে শুধু
অ্যালুমিনিয়ামের শব্দ,
কাঁচের ভিতরে আটকে থাকা নিঃসঙ্গতা,
আর বিজ্ঞাপনের নীল দাঁত।
তুমি যখন লিখেছিলে—
মানুষের ভিতরেই ঈশ্বরের বাস,
হয়তো কোনো ভাঙা নৌকার মাঝি
দূরে বসে কাঁদছিল।

তুমি সেই কান্নাকে
শঙ্খের ভিতর পুরে
গান বানিয়ে দিলে।
আমরা এখন গান ভুলে গেছি, রবিঠাকুর।

এখনকার প্রেম
মোবাইলের স্ক্রিনে আটকে থাকা
অর্ধেক চাঁদ।

এখনকার মানুষ
নিজের ছায়াকেও সন্দেহ করে।
তবু মাঝরাতে
কারা যেন তোমার কবিতার জানালায় এসে
ধূপকাঠির মতো জ্বলে ওঠে।

আজও গ্রামের বুড়ি ঠাকুমারা
ধান শুকোতে শুকোতে
অজান্তেই তোমার সুর গেয়ে ওঠেন।
তোমার নাম যেন
একটা গোপন নদী—
যার জল কেউ চোখে দেখে না,
তবু তৃষ্ণা পেলে
সবাই সেখানে যায়।

তোমাকে আমি কখনো শুধু কবি ভাবিনি।
তুমি বরং একটা বিশাল রেলস্টেশন,
যেখানে দুঃখ এসে বসে থাকে
শেষ ট্রেন মিস করা যাত্রীর মতো।

আর আনন্দ—
তোমার পকেটে রাখা
একটা লাল কাঁচের মার্বেল।
এখন সভ্যতা
নিজের শরীর নিজেই খেয়ে ফেলছে।
বাচ্চাদের চোখে আর জোনাকি নেই,
আছে অনলাইন ক্লাসের ক্লান্ত আলো।

মাঠগুলো ধীরে ধীরে
সিমেন্টের জ্বর হয়ে যাচ্ছে।
তখন তোমার কথা খুব মনে পড়ে।

মনে হয়—
কেউ যদি আবার শালবনের ভিতর দাঁড়িয়ে বলত,
“মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।”
কেউ যদি আবার
পৃথিবীর কপালে হাত রেখে
জ্বর মাপত ভালোবাসার।

রবিঠাকুর,
তুমি কি এখনও
শান্তিনিকেতনের কোনো কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে
চুপচাপ বসে আছো?

তোমার চারপাশে উড়ছে হলুদ পাতা,
আর দূরে কোনো বালক
খাতার শেষ পাতায় লিখছে—
“বাংলা ভাষা মানে
একটা জানালা,
যেখানে দাঁড়ালে আজও
রবীন্দ্রনাথের বাতাস এসে লাগে।”



লেখক - রেজাউল করীম 


কোন মন্তব্য নেই:

আমি একটা গল্প... কলমে -সন্দীপ সাঁতরা

চা খাবে? আজ একটু আগেই বসেছি অবাক! কাজ ফেলে বসা তোমার স্বভাবে নেই তো। আজ মে দিবস, তাই নিজেকেই একটু সময় দিলাম। নিজের সাথে কথা বলছো? হ্যাঁ, সা...

জনপ্রিয় পোস্ট