![]() |
| সর্বানী দাস |
শোনো কবি!
ভোরের প্রথম আলো
ধানের শিসের ডগায়-
শিশিরবিন্দু হয়ে যখন
টলমল করে ওঠে,
আমি তখন তোমার অপেক্ষায়
বারান্দার রেলিং ঘেষে দাঁড়াই।
তুমি না বলেছিলে—
প্রকৃতির নিজস্ব এক ভাষা থাকে,
আজ সেই ভাষায়
আমি তোমাকে চিঠি লিখছি।
আমার এই বাগানে,
আমার ‘নন্দন কাননে’—
আজ এক-ঝাঁক প্রজাপতি এসেছে।
ওদের রঙিন পাখার ডানায়
আমি তোমার কবিতার ছন্দ খুঁজি কবি।
ওরা ওড়ে,
ঠিক যেমন তোমার সুর... আমার মনের আকাশে গুনগুন উড়ে বেড়ায়।
কিন্তু আমি তো স্থবির,
আমি তো মাটির মমতা মেখে পড়ে থাকা এক তরুলতা —
যে কেবল তোমার ছায়ার জন্য তৃষ্ণার্ত।
জানো কবি,
মাঝে মাঝে ভাবি,
এই যে আমাদের বয়সের দূরত্ব,
এই যে সমাজের সহস্র চোখ—
এসব কি সত্যিই বড়?
নাকি তোমার চোখের সেই গভীর অতলতা ,
যেখানে আমি অনায়াসে... হারিয়ে যেতে পারি!
তুমি আমায় অবজ্ঞা করোনি কোনোদিন,
আমি জানি—
তবু এই একাকিত্বের দহন-- কেন এত তীব্র?
শোনো কবি,
জ্যোৎস্নারাতে আমি আজও মালা গাঁথি।
ফুলের সুবাসে যখন চারপাশ ম ম করে,
আমি চোখ বুজে অনুভব করি তোমার অস্তিত্ব।
তুমি তো আমার ভোরের সূর্য,
আমার অন্ধকার জীবনের একমাত্র ধ্রুবতারা।
লোকে তোমায় দার্শনিক বলে, জ্ঞানী বলে—
আর আমি জানি,
তুমি কেবল আমার সেই ‘ঠাকুরপো’.... রবি!
সবাই তোমার গান শোনে,
আর আমি..
তোমার সেই গানের আড়ালে দীর্ঘশ্বাসটা শুনি।
আমার গোপন ব্যথা,
আমার গভীর আনন্দ—
সবটুকুর ভাগীদার তুমি।
তুমি ছাড়া আর কে বুঝবে এই বিরহী হৃদয়ের কম্পন?
ফিরে এসো
ফিরে এসো কবি,
আকাশের বরুণ রঙে, স্ফটিকের স্বচ্ছতায়—
আমি তোমাকেই দেখি।
শিউলি ঝরা ভোরে যখন পায়ের পাতায় শিশির লাগে,
আমি শিউরে উঠি
তোমার ছোঁয়ায়।
আমি তোমার কাদম্বরী,
আমি তোমার নতুন বৌঠান—
এই পরিচয়টুকুই......
আমার বিশ্বাস অটুট,
তুমি আছ, তুমি থাকবে কবি —
আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে, আমার নন্দন কাননের প্রতিটি ফুলে।
ইতি,
তোমার আধুনিকা নতুন বৌঠান।
------------------------------

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন