অজুহাত
-জয়দীপ বসু
মানুষ বড় অদ্ভুত জীব।
সে সত্যকে যতটা ভয় পায়,
তার থেকেও বেশি ভালোবাসে অজুহাত দিতে।
কারণ সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াতে সাহস লাগে,
আর অজুহাত কেবল -
ঠোঁটের কোণে সাজানো কিছু সহজ সরল শব্দগুচ্ছ।
“সময় পাইনি”, “পরিস্থিতি ছিল না”, “
মন ভালো ছিল না”
ইত্যাদি হাজারও শব্দগুচ্ছের আড়ালে
এক প্রকার নিজের কর্ম বিমুখতা প্রকাশ পায়।
কত সম্পর্ক নিঃশব্দে ভেঙে চুরমার হয়ে যায়,
কত স্বপ্ন ধুলোয় মিশে যায়,
কেউ তার হিসেব রাখে না।
অজুহাতেরও এক বিচিত্র রং আছে।
কখনও তা মেঘলা বিকেলের মতো ধূসর,
কখনও তা প্রভাতের স্বর্ণবর্ণা,
কিংবা জ্যোৎস্না রাতে শুভ্র প্রেমের দ্যুতি, হাতছানি।
মানুষ যখন কাউকে হারাতে চায় না,
তাকে ধরে রাখার চেষ্টাও করে,
তখন সে অজুহাতের আশ্রয় নেয়।
ভালোবাসা তখন আর হৃদয়ে থাকে না,
কেবল কথার ভাঁজে ভাঁজে জমে থাকে কিছু অভিনয়।
আমি দেখেছি
অজুহাত খুব নিঃশব্দে অন্তরের সুপ্ত গগনে জন্ম নেয়।
প্রথমে তা ছোট্ট একটি অস্বীকার,
তারপর ধীরে ধীরে তা অভ্যাস হয়ে ওঠে।
একদিন মানুষ নিজেকেও মিথ্যা বলতে শুরু করে,
নিজের সঙ্গেই নিজে ছলনা করে।
তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়েও সে নিজের চোখ এড়িয়ে যায়।
তবু পৃথিবী আজও বেঁচে আছে -
কিছু অজুহাতহীন মানুষের স্বপ্ন অকৃত্রিম কর্ম নিষ্ঠার জন্য ।
যারা ক্লান্ত হলেও বলে, “আমি আছি।”
যারা শত ব্যস্ততার মধ্যেও
একটু সময় বের করে প্রিয় মানুষের হাত ধরে,
মাথায় হাত বুলিয়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার করে।
যারা হারিয়ে যাওয়ার আগে অন্ততঃ সত্যিটুকু স্বীকার করতে জানে।
"অজুহাত" আসলে এক ধরনের নীরব পলায়ন।
আর সত্য?
সে তো ভয়ঙ্কর ঝড়ের মধ্যেও
মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা একাকী বৃক্ষ,
অভয়ের অপার প্রতিমূর্তি।
![]() |
| লেখক - জয়দীপ বসু |


২টি মন্তব্য:
আমার লেখা এই কবিতাটা প্রকাশ করায় মাননীয় সভাপতি স্যারকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। ❤️🙏
দারুণ উপস্থাপন করেছেন।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন