আমি তো বাইকার, গতির চাকা ঘোরে আমার হাতে,
রোদ পুড়ে আর বৃষ্টি ভিজে লড়াই করি ভাতে।
সেদিন ছিল অন্যরকম, রাইডটা ছিল চেনা,
গন্তব্যের শেষে ছিল কিছু পাওনা আর দেনা।
রাইড ছিল মানুষের, কিন্তু হাতে ছিল ব্যাগ,
খাবার পৌঁছে দেওয়ার আবদার, এক অদ্ভূত ট্যাগ।
ডেলিভারি নয় কাজ আমার, তবুও নিলাম মেনে,
মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াবে— এই কথাটি জেনে।
পিকআপে সেই আশ্বাস ছিল— "আসছি দু-মিনিটে",
রোদের তলে পুড়লাম আমি মরীচিকার ইটে।
দুই মিনিট যে চল্লিশ হলো, তবু আমি রইলাম খাড়া,
সময়ের কি দাম নেই আমার? কেউ দিল না তো সাড়া।
অবশেষে এলেন যখন— খাকি পোশাকের দাপট,
একশ পঞ্চাশ হাতে দিয়ে, দেখালেন কি কপট!
বিল ছিল একশ উনষাট, নয় টাকা তার বাকি,
পুলিশ পরিচয় দিলেন ঠিকই, দিলেন আমায় ফাঁকি।
ওহে ইন্সপেক্টর সাহেব! এ কেমন বিচার আপনার?
আইন রক্ষার নামে কেন শ্রমিকের ওপর এই ভার?
নয় টাকা তো বড় নয়, বড় আপনার ওই মন,
পোশাকের নিচে লুকিয়ে কেন এক ক্ষুদ্র স্বার্থান্বেষী জন?
আমি খেটে খাই, ঘাম ঝরাই, কারো দয়া তো চাইনি,
ন্যায্য পাওনা কেড়ে নিয়ে কোন মহত্ত্ব আপনি নিলেন জানি?
নয় টাকা হয়তো আপনার কাছে এক চুটকি ধুলো,
আমার কাছে ওটাই শ্রমের শেষ সম্বলটুকু ছিল।
জেনে রাখুন, উর্দির জোর শুধু লাঠিতে নয় থাকে,
আসল মানুষ চেনা যায় সামান্য এই নয় টাকার খাঁজে।
আমি গরিব হতে পারি, কিন্তু মেরুদণ্ড আছে খাড়া,
আপনার মত বেইমানির চেয়ে, আমার সততাই লক্ষ গুণ সেরা।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন