বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সুভাষ (লেখক- সর্বানী দাস)

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সুভাষ 
(লেখক- সর্বানী দাস) 

ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা । তিনি কেবল একজন বিপ্লবী নেতা নন, তিনি একাধারে দূরদর্শী, ক্লান্তদর্শী, বাস্তববাদী  রাজনৈতিক চিন্তাবিদ, আন্তর্জাতিক কূটনীতিক এবং আদর্শবাদী দেশনায়ক। তাঁর চিন্তাধারা, কর্মপন্থা ও আদর্শ ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে এক নতুন পথের সন্ধান দিয়েছিল। 

বর্তমানে বহুমুখী বৈশ্বিক সংকট, শক্তির রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থের টানাপোড়েনে নেতাজির চিন্তা ও দর্শন নতুন আঙ্গিকে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে । বলা বাহুল্য তার আন্তর্জাতিক কূটনীতি, তিনি যে প্রথম ভারতীয় নেতাদের মধ্যে অন্যতম, তার দাবি রাখে প্রতি মুহূর্তে। 

তিনি বুঝিয়ে ছিলেন যে ভারতের স্বাধীনতা কেবল অভ্যন্তরীণ আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, শক্তির ভারসাম্যকে কাজে লাগিয়েই অর্জন করতে হবে।তাঁর রাজনৈতিক দর্শন থেকে তাঁর উক্তি “স্বাধীনতা ভিক্ষায় পাওয়া যায় না, একে ছিনিয়ে নিতে হয়।”

মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও নেতাজী মনে করতেন,কেবল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে নৈতিক আবেদন দিয়ে পরাস্ত করা কখনই সম্ভব নয়। তিনি মনে করতেন শক্তির বিরুদ্ধে শক্তিই একমাত্র কার্যকর পথ। যা তাঁর উক্তিতে প্রতিফলিত হয়, “শক্তি দিয়েই শক্তিকে পরাস্ত করতে হয়।” 

নেতাজীর রাজনৈতিক দর্শনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হলো অকুতোভয় চিত্ত। তাঁর মতে ভয়ই পরাধীনতার প্রধান অস্ত্র। তাই তিনি বলেছিলেন, "ভয়ই মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু, জীবনে সবচেয়ে বড় পাপ হলো ভয়।” তার এই মনস্তাত্ত্বিক  দর্শন ভারতীয় যুবসমাজকে মানসিক দাসত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার আহ্বান জানায়। তাঁর আদর্শে পরিস্ফুট "দেশপ্রেম কেবল  কথা নয়, কর্ম।"

আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদঃ
নেতাজী  প্রথম ভারতীয় নেতাদের একজন, যিনি স্বাধীনতা আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিচার বিশ্লেষণ করেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে ভারতের স্বাধীনতা কেবল অভ্যন্তরীণ আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, আন্তর্জাতিক শক্তি সমীকরণের মাধ্যমেও অর্জিত হতে পারে।

বিদেশে অবস্থানকালে তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেন এবং প্রবাসী ভারতীয়দের সংগঠিত করে আজাদ হিন্দ সরকার গঠন করেন। এটি তাঁর আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক ঐতিহাসিক নিদর্শন। “জাতীয় ঐক্যই স্বাধীনতার চাবিকাঠি” তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গির মূলে ছিল জাতীয় স্বার্থ, যা তিনি প্রকাশ করেছিলেন।

নেতাজীর আন্তর্জাতিক কূটনীতি কোনো অন্ধ অনুসরণ তো ছিলই না বরং তা ছিল বাস্তববাদী ও উদ্দেশ্যনিষ্ঠ। তিনি বিশ্বাস করতেন, “শক্তিশালী জাতিই স্বাধীন থাকতে পারে।” আদর্শ ও মূল্যবোধ বরাবরই নেতাজীর নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে বিরাজ করতো। ত্যাগ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ পালনে তাঁর আদর্শ অনস্বীকার্য। " ত্যাগ ছাড়া মহত্ব আসেনা " বলে তিনি মনে করতেন। তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজ এর স্লোগান ছিল "শৃঙ্খলা ও ত্যাগে গড়ে ওঠে সেনাবাহিনী, দুর্বলতা পরাধীনতার মূল কারণ, সংগ্রাম হীন জীবন মৃতপ্রায়।"  

তাঁর মূল্যবোধের দৃষ্টি থেকে আমরা জানতে পারি লক্ষ্য স্থির থাকলে পথ বের হবেই। তিনি দেশের যুবশক্তিকেই জাতির ভবিষ্যৎ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। "দেশই আমার ধর্ম " আর "দায়িত্ববোধই প্রকৃত দেশপ্রেম "  তার এই আদর্শে তিনি ভবিষ্যতে যুবসমাজকে দেশ নির্মাণের কারিগর বলে উল্লেখ করেছেন। সুভাষচন্দ্র বসুর চিন্তা চেতনা আদর্শ কর্ম আমাদের প্রত্যেক দেশবাসীকে সাহসী ও স্পষ্টবাদী হতে শেখায়।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এমন একজন নেতা যাকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন " সুভাষচন্দ্র দেশের সংকটের মুহূর্তে নিজেকে উৎসর্গ করেছে"। বিশ্বকবি নেতাজির আত্মত্যাগ ও দায়িত্ববোধের  প্রশংসায় স্বীকার করেছেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নেতা নেতাজি। বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম বলেছেন " সুভাষ মানেই বিদ্রোহ ", সুভাষ মানেই স্বাধীনতার অগ্নিশিখা "। 

বর্তমান প্রেক্ষাপটে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শ, মূল্যবোধ আন্তর্জাতিক কূটনীতি, রাজনৈতিক দর্শন আমাদের বাস্তববাদী হতে ও অনুপ্রেরণা যোগাতে সাহায্য করে।

1 টি মন্তব্য:

Sarbani Das বলেছেন...

অসংখ্য ধন্যবাদ

জনপ্রিয় পোস্ট