শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রাপ্তির মাঝে (লেখক- রত্না রায়)

প্রাপ্তির মাঝে
লেখক- রত্না রায়

আন্তর্জাতিক বইমেলা মানেই কবি সাহিত্যিকদের আনন্দ নিকেতন । লেখক পাঠক ,প্রকাশকদের ভিড়। কলতানের মহা সমাবেশ উৎসব। 

তবুও ...
বইমেলায় বই প্রাঙ্গণে প্রকাশিত নতুন নতুন বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করতে বেশ বেগ পেতে হয় শ্রদ্ধেয় গুণী কবিদের, প্রকাশকদেরও ।
কারণ মঞ্চ অভাব ভীষণ বেগ দেয় সকলকেই।জ্ঞানী গুণীর হাতে বই পাওয়া , নেওয়া সমস্যা হয় ভীষণ।....

নতুন কবিদের হাতে সম্মাননা তুলে দিতে ,কাব্য রত্ন সম্মাননা দিতে খুবই অসুবিধা সহ্য করতে হয়, সকল শ্রদ্ধেয় শ্রদ্ধেয়া গুণী জনদের এবং প্রাপকগণ কেও।

বিশাল জায়গা জুড়ে বই দোকানগুলো সুসজ্জিত থাকে । বিশ্ব জগৎ ভিড়ে  ওই সম্মাননা সম্পূর্ণ আনন্দ   দেয়না কারণ বিপুল সংখ্যক জনগণ বসার আসন পান না চেয়ার অভাবে।এখানেই উপদেষ্টা কমিটির ব্যর্থতা প্রকাশ পায়।

এই ব্যর্থতা বইমেলায় আনন্দ নষ্ট করে।
বইমেলায় সাহিত্যিক গণ নব জাগরণ সৃষ্টি করে নিঃসন্দেহে।তাই অনুষ্ঠান উপভোগ করতে আসেন আবাল বৃদ্ধবণিতা ।

স্বাভাবিক ভাবেই বসার আসন বিন্যাস চায় তাঁরা সকলেই। আসন থাকে দু একটি মঞ্চের আসে পাশে খোলা আকাশের নিচে ।রোদ্দুর ঝলমল করে জ্বালা ধরায়। । আনন্দের ঘাটতি তখনই দেখা যায়,অনুভব করে বিশ্ব বাসী।

ভিড় দেখা যায় ভীষণ বেশি খাওয়ার স্টলগুলিতে ।
সকাল সন্ধ্যা ধুলোবালি ......

মেখে বই মেলায় ঘুরে ক্ষুধার্থ হয়ে যা খুশি খেয়েই খুশি থাকে। তবে বইমেলা প্রাঙ্গণে প্রতিটি খাদ্য চড়া দামে বিক্রি হয় ।ফলে শিশু কিংবা ঘর পরিবার বেশ অসুবিধা ভোগ করেন। দুর্মূল্যের প্রাঙ্গণ দেখে বইঘরে আর মন বসেনা তাঁদের।
দূর দূরান্ত থেকে মানুষ জন  বইমেলায় এসে বিখ্যাত কবিদের বই কেনেন ।

.....বিকিকিনি পর্ব অনুষ্ঠিত হয় বই বাণিজ্য মেলায় বিভিন্ন রকম আয়োজনের দ্বারা। জীবিকা নির্বাহ করার সুযোগ পান কিছু অভাবী মেধার মানুষজন দেখে ভালোলাগে।

মেলা চত্বরে সমাবেশ নিয়ে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রচার চোখে পড়বেই।ভালো মন্দের নির্দেশ দেখে সাহিত্যিক গণ লেখার রসদ সরবরাহ করতে পারেন বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় । 

বইমেলায় বই স্টলে ভিড় বেশি হয় নতুন লেখক লেখিকার বই প্রকাশ ,উদ্বোধন ,নিজেদের বই বিক্রির কারণে।কেউ কেউ ভিড়ের চাপে ওই ছোট্ট স্থানে বই দেখার সুযোগও পান না।যা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

........ অনেক গুণীজনের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়,শিক্ষার  আলোচনা, সভায় উঠে আসে সাহিত্য জগৎ নিয়ে সমালোচনা,যা ভালো মন্দ জ্ঞান বাড়ায়। উপকৃত হন বিশ্ব বাসী।

....... আন্তর্জাতিক বইমেলা উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট গুণী জনেরা। অত বিশাল জায়গা জুড়ে লোক সমাগম করার আয়োজন করেই ক্ষান্ত থাকেন উপদেষ্টা কমিটি। শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা দেন।কিন্তু জনসাধারণের বসার আসন সংখ্যা এতই নিম্ন মানের এবং অভাব সেটা দেখে কারোই বইমেলায় যেতে ইচ্ছা করবে না।

...... পরিশেষে বলা ভালো যতটা জায়গা জুড়ে বইঘর আছে বা বইমেলার আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় সেই পরিমাণ শৌচালয় নেই বা রাখা হয়না যা সকলকেই ভাবায়। 

তবুও মানুষ বিশেষ করে বই প্রেমীরা বইমেলায় যায় নিজের প্রিয় বই কিনতে ।কারণ বই এমনি এক বিশ্বস্ত বন্ধু যা যান্ত্রিক যুগকেও হার মানায় ।পুরোনো ঐতিহ্য কে খুঁজে পাওয়া যায় বইতেই । যার বিকল্প নেই। 

তবে বইমেলার আয়োজন আরও উন্নত মানের হওয়া উচিত সাধারণ মানুষ জনদের,বই প্রেমীদের কথা ভেবে ।।

২টি মন্তব্য:

নামহীন বলেছেন...

সুন্দর উপস্থাপনা!

Sarbani Das বলেছেন...

অপূর্ব লেখা 🥰🙏🏻

জনপ্রিয় পোস্ট