শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

মহেন্দ্রর প্রতি এক নারী... - মারিয়াম রামলা

 

মারিয়াম রামলা

মহেন্দ্র, 

হয়তো বিষণ্ণতা সত্যিই আমার কপালে লেখা ছিল। কখনও কখনও মনে হয়, নিজের সুখগুলোকে আমি নিজের হাতেই বিসর্জন দিয়েছি। কিন্তু তুমি? তুমি অন্তত তোমার স্ত্রীকে একটু সময় দাও—যে নারী তার পুরো জীবনটা তোমার ছায়ার নিচে কাটিয়ে দিল।

কখনও তাকে সোজাসাপ্টা জিজ্ঞেস করেছ—
“তোমার হাতে ব্যথা করছে? এসো, আমি একটু টিপে দিই...।”

এখন তোমার বয়স হয়েছে, কিন্তু ভেবে দেখো, তোমার স্ত্রী আজও অটল পাহাড়ের মতো তোমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সারাদিন যন্ত্রের মতো মোবাইলে ডুবে না থেকে, অন্তত একবার তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলো— “পিঠে কি খুব ব্যথা করছে? এই শীতে তোমার কি ঠান্ডা লাগছে?”

বিশ্বাস করো মহেন্দ্র, প্রতিটি স্ত্রী তার স্বামীর কাছে পাহাড়প্রমাণ কিছু চায় না। সে শুধু চায় একটু সময়, দুটি মিষ্টি কথা আর সামান্য মায়ার পরশ। তুমি সত্যিই ভাগ্যবান যে তোমার স্ত্রী তোমার পাশে আছে। অনেক নারী আছে যাদের এই সৌভাগ্যটুকুও নেই—কারও স্বামী থেকেও পাশে নেই, আর কারও তো স্বামীই নেই।

শুধু মা-বাবার সেবা করাই কি জীবনের একমাত্র ধর্ম? স্ত্রীরও তো তার স্বামীর সঙ্গ পাওয়ার অধিকার আছে। পুরুষেরা চাইলে যেকোনো সময় ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারে, কিন্তু নারীরা যাবে কোথায়? কার কাছে উগরে দেবে মনের জমে থাকা সব কষ্ট? সব স্ত্রী তার যন্ত্রণা মুখে বলতে পারে না মহেন্দ্র, পুরুষকে তা চোখের ভাষা দেখে বুঝে নিতে হয়।

দিনভর ক্লান্তি কি শুধু স্বামীরই হয়? ঘরের ঘানি টানা স্ত্রীর শরীর কি ক্লান্ত হয় না? আমি মাঝে মাঝে ভাবি—একদিন যদি আমার পাশে কেউ না থাকে, তবে আমার খবর কে নেবে? রাতে যখন কাঁধের ব্যথায় কুঁকড়ে যাবো, তখন কাকে বলবো— “একটু টিপে দাও না গো...?” হৃদয়ের রক্তক্ষরণ কি যথেষ্ট নয়, যে শরীরের এই তীব্র যন্ত্রণাটাও আজীবন একাই সইতে হবে?

একবার ভেবে দেখো মহেন্দ্র, সেসব নারীদের কথা—যাদের স্বামী যৌবনেই পাড়ি দিয়েছে পরপারে, কিংবা যাদের সাজানো সংসার মাঝপথে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। তারা বাইরে থেকে হাসলেও ভেতরে ভেতরে প্রতিদিন একটু একটু করে মরে। তাদের এই নিঃসীম নিঃসঙ্গতা কেউ দেখে না।

নারী শক্ত হতে পারে, কিন্তু সে তো আর পাথর নয়! তারও প্রয়োজন হয় ভরসা করার মতো একটা কাঁধের, একটু স্নেহভরা স্পর্শের। জীবনের এই দীর্ঘ পথ একা হাঁটা বড় কঠিন মহেন্দ্র—পাশে ভালোবাসার কেউ থাকলে দুর্গম পথটাও বড় সহজ মনে হয়।

1 টি মন্তব্য:

Kanti Ujjal Das বলেছেন...

খুব সুন্দর

পরার্থের আকাশ... - সর্বানী দাস

সর্বানী দাস আমি সর্বানী। একদম সাদামাটা বাঙালি ঘরের বউ। লোভ বলতে একটু ভালোবাসা। স্নেহ মায়া মমতায় শাশুড়ি মাকে নিয়ে দেওর ননদের সঙ্গে সুসম্পর্...

জনপ্রিয় পোস্ট