![]() |
| হাসিনা খাতুন |
সাজিয়েছি এক তাসের প্রাসাদ অতি যতন করে,
ভেবেছি কি আর পড়বে সে ভেঙে সামান্য এই ঝড়ে?
রঙিন তাসের সারিগুলো সব নিপুণ হাতের কাজ,
মাথার উপরে সাজানো রয়েছে মিথ্যে সুখের তাজ।
একে একে সব বসিয়েছি কার্ড পরম অনুরাগে,
স্বপ্নের ঘোর লেগেছিল চোখে গভীর অনুরাগে।
দখিনা বাতাস হঠাৎ নামলে কাঁপন জাগে ঐ গায়,
ক্ষণিকের এই বসতি যে আজ লুটাতে চাবে ধূলায়।
ভিত্তিবিহীন অহংকারের স্তম্ভ ওঠে যে উঁচুতে,
পারবে না কেউ ধ্বংসের হাত থেকে তাকে বাঁচাতে।
উঁচু নীচু সব সমান হবে একটি ফুঁয়ের টানে,
গর্বের সেই অট্টালিকা হারাবে তাহার মানে।
একটু অবুঝ খেয়াল ছিল আর ছিল কিছু আবেগ,
বুঝিনি তো কেন জমেছিল ঐ ঘন কালো মেঘ।
ইটের বদলে কাগজের এই মিছে দালান কোঠা,
নিজের হাতেই সঁপেছি আমার পথের কাঁটা খোঁচা।
হাসছি যখন ভাবছি তখন সবটা পরম সুখের,
জানিনি যে এর অন্তিমে আছে এক নদী ভরা দুঃখের।
পতন যখন শুরু হবে আর থাকবে না কোনো পথ,
ছুটবে না তো স্বপ্নের সেই সোনার বরণ রথ।
বিছানো রয়েছে চারিপাশে ঐ হরতন রুইতন,
হারিয়ে যাবেই এই মিছে সব বৃথা আয়োজন।
তাসের ঘরেতে কোনোদিনও কি স্থায়ী শান্তি মেলে?
সবটা ফুরায় মিছে মায়া আর মিথ্যে এই খেলে।
জীবন যেন তাসের ঘরই ঠুনকো বড় বেশি,
কখনও তো নেই গাম্ভীর্য আর কখনও শুধুই হাসি।
হারানো দিনের স্মৃতির মাঝে মিলবে তাহার খোঁজ,
নতুন করে ঘর বাঁধিবার ফন্দি আঁটি রোজ।
আগের দিনের ধ্বংসস্তূপে নতুন তাসের সারি,
আবার বুঝি সাজিয়ে তুলি মিথ্যে জমিদারী।
তবুও মানুষ স্বপ্ন সাজায় নেই যে কোনো ডর,
ভেঙে যাবে জেনেও গড়ে তোলে ফের তাসের ঘর।
বালির বাঁধের মতোই অলীক এই দুনিয়ার খেলা,
কাগজে মোড়ানো মিছে মায়া আর শুধু সময়ের মেলা।
পতন জেনেও গড়ার মাঝেই প্রাণের সার্থকতা,
রয়ে যায় শুধু ধুলোর পরে এক বিষণ্ণ নীরবতা।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন