"হাড়ের সাক্ষ্য"
(উড়িষ্যায় দিদির কঙ্কাল কাঁধে ভাই)
- সেখ মঈনুল হক
আমি আজ প্রমাণ নিয়ে এসেছি —
কাগজ নয়,
হাড়ের ঠাণ্ডা শব্দে লেখা এক ইতিহাস।
তোমরা বলেছিলে —
“মৃত্যুর সনদ দাও !”
আমি বলিনি কিছু,
শুধু কবরের মাটি সরিয়ে
দিদির ঘুম ভেঙে এনেছি —
কাঁধে তুলে,
তোমাদের টেবিলের সামনে দাঁড় করিয়েছি শূন্যতা।
দেখো —
এই যে পাঁজরের ফাঁকে বাতাস ঢোকে,
এই যে চোখের গর্তে জমে থাকা অন্ধকার —
এই কি যথেষ্ট নয় তোমাদের জন্য ?
নাকি তোমাদের নিয়মের চোখ
এখনও অন্ধই রয়ে গেছে ?
তোমরা সই চাও, সিল চাও,
আমি রক্তের দাগ দেখাই —
তোমরা বলো, “প্রসিডিউর !”
আমি বলি, “এটা মানুষ!”
কাগজের চেয়ে কি হাড় কম সত্যি ?
নাকি তোমাদের ব্যাংকের দরজায়
মানুষ ঢোকার আগে
তার মৃত্যু দু’বার প্রমাণ করতে হয় ?
আজ আমি শুধু ভাই নই —
আমি এক বিদ্রোহ,
যে কাঁধে করে বয়ে আনে
এই ব্যবস্থার লজ্জা।
এই কঙ্কাল —
শুধু আমার দিদি নয়,
এটা তোমাদের মানবিকতার মৃতদেহ,
যাকে তোমরাই কবর দিয়েছিলে
নিয়মের নামে।
শোনো —
আর কোনো কবর খোঁড়া হবে না!
আর কোনো ভাই
হাড় কাঁধে নিয়ে
দরজায় দরজায় ভিক্ষা করবে না!
আজ থেকে —
প্রমাণ চাইলে
আমরা কাগজ নয়,
তোমাদের বিবেক খুলে দেখাবো —
যদি তাতে এখনও
এক ফোঁটা মানুষ বেঁচে থাকে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন