আমি....
কয়েদি নম্বর আটশো ত্রিশ!
যে প্রাণহীন ভূতুড়ে গারদে-
লিকলিকে আঙুল দিয়ে
জীবনের সকল বসন্ত কেটেছে।
অন্ধকার কক্ষ
ছিদ্র স্টিলের থালা,
দুমড়ানো ছোট্ট গ্লাস-
কালো চিটচিটে ছেঁড়া কম্বল
আটশো ত্রিশ নম্বর
কয়েদির ধুলোমলিন পোশাক
শেষ সম্বল..
ব্যাস এইটুকুই!
আত্মীয়ের মধ্যে
আগন্তুক কয়েকটি চামচিকা,
নিয়মিত রক্তচোষা মশা
লাল-কালো মিলিয়ে
বেশ কতক পিঁপড়া-
এই আমার পরিবার!
আমি....
কয়েদি নম্বর আটশো ত্রিশ!
যাকে নিত্য দু'বেলা ধমক খেয়ে
সেন্ট্রির খাবার নিতে হয়,
উকুনের থাকার উপযুক্ত
মাথাভর্তি চুল,
বনমানুষের মত গোঁফদাড়ি
হলুদ বর্ণের নোংরা দাঁত,
বড় বড় নখ
আর পিচুটি ওঠা ঘুমহীন চোখ।
আমি.....
কয়েদি নম্বর আটশো ত্রিশ!
যে তৃতীয় তলার
একদম শেষ কক্ষে আছে,
কুষ্ঠরোগ হওয়ায়
পাগলের প্রলাপ বকে,
আবোলতাবোল প্রশ্ন
সবসময় মাথার মধ্যে ঘোরে
এই যেমন-
আমি কী বেঁচে আছি?
নাকি মরে গেছি?
আবার কখনো মনে হয়
আমি স্বর্গে আছি?
নাকি নরকে?
আমি.....
কয়েদি নম্বর আটশো ত্রিশ!
যে বিনাদোষে সাজা খাটছি,
স্বার্থের সংঘাতে হেরে গিয়ে
বোকা হয়েছি,
বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে
এজলাসে মুক্তি পেলেও-
মানুষের তৈরি
অসাম্যের আদালতে
আমি সহজেই দোষী।
তবে, আমি আজ
কোন বিচারের কথা বলব?
যেখানে মানুষ ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়েও
সবচেয়ে বেশি মিথ্যা কথা বলে!
আমি....
কয়েদি নম্বর আটশো ত্রিশ!
যার অভিযোগগুলো
শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তা শোনে,
এই যাবজ্জীবন কারাবাসে
দেওয়ালের প্রতিটা ইট-
নিঃশব্দ সাক্ষ্য বহন করছে।
শুকনো খটখটে
চোখ থেকে ঝরে পড়া রক্ত-
আমারই বাঁচার অভিশাপ,
তাই চোখের পাতাদুটো
বিনা নোটিশে
আজ অবসরে যেতে চায়।
আমি....
কয়েদি নম্বর আটশো ত্রিশ!
যার ক্ষমতা আর টাকার অভাবে
পৃথিবীর বুকে
সঠিক বিচার জোটেনি,
এই চার দেওয়ালের মাঝে
সকল খুশির জলাঞ্জলি দিয়ে-
শেষ বিচারের আশায় আছি।
মাটির সাথে মিশে যাওয়া
এই জঠর নির্গত কথা-
কারো ভালো লাগে না,
তাই পৃথিবীর ঋণ পরিশোধে
দুনিয়ার কারাবাস থেকে-
আজ আমি মুক্তি চাই!
আমি....
কয়েদি নম্বর আটশো ত্রিশ!!

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন