কালির আলো
লেখক- আকাশ আহমেদ
গ্রামের শেষ মাথায় পুরোনো লাইব্রেরি ঘরটা অনেকদিন ধরেই বন্ধ। লোহার গেটের রং উঠে গেছে, জানালার কাঁচে ধুলো জমে আলো ঢোকে না। তবু প্রতিদিন বিকেলে ওই ঘরের সামনে এসে দাঁড়ায় নীলয়।
নীলয় লেখে।
কিন্তু কেউ জানে না।
তার বাবা চান সে সরকারি চাকরি করুক। মা চান সংসার সামলাক। গ্রামের লোকজন চায়—সে “কিছু একটা” হোক। কিন্তু নীলয় শুধু চায় শব্দের সঙ্গে বাঁচতে। চায় অক্ষরের ভেতর আশ্রয় নিতে।
একদিন সাহস করে সে লাইব্রেরির তালা ভাঙে না, খুলে ফেলে। ভেতরে ঢুকে দেখে—মলিন তাক, ছেঁড়া বই, বিবর্ণ পৃষ্ঠা। কিন্তু সেই ধুলো-মাখা বইগুলোর ভেতর যেন জমে আছে বহু মানুষের না-বলা কথা, চাপা কান্না, অদম্য স্বপ্ন।
নীলয় প্রতিদিন সেখানে বসে পড়ে। লেখে। কখনও কবিতা, কখনও গল্প। কখনও নিজের কথা, কখনও গ্রামের মানুষের। কলমের কালিতে সে খুঁজে পায় নিজের অস্তিত্ব।
একদিন গ্রামের স্কুলের এক ছাত্রী আসে লাইব্রেরিতে। বলে, “দাদা, আমি একটা কবিতা লিখেছি। ঠিক হয়েছে কি না জানি না।”
নীলয়ের চোখে জল এসে যায়। সে বুঝতে পারে—সাহিত্য একা থাকার জায়গা নয়, এটি আলো ছড়ানোর পথ।
ধীরে ধীরে আরও মানুষ আসে। কেউ পড়তে, কেউ লিখতে, কেউ শুধু শুনতে। লাইব্রেরি ঘরটা আবার প্রাণ পায়। দেয়ালে টাঙানো হয় হাতে লেখা কবিতা, গল্প। সন্ধ্যাবেলা আলো জ্বলে।
একদিন নীলয়ের বাবা সেখানে এসে দাঁড়ান। ছেলের লেখা গল্প পড়ে চুপ করে থাকেন অনেকক্ষণ। তারপর শুধু বলেন, “তুই ঠিকই করেছিস।”
নীলয় সেদিন বুঝে যায়—সাহিত্য চর্চা মানে শুধু লেখা নয়, এটি মানুষের ভেতরের অন্ধকারে আলো জ্বালানো।
ধুলো জমা লাইব্রেরি ঘরটা এখন গ্রামের সবচেয়ে জীবন্ত জায়গা।
আর নীলয় জানে—কালির আলো কখনও নিভে যায় না।
৮টি মন্তব্য:
খুব ভালো লাগলো, সত্যি কথা সাহিত্য একা থাকার জায়গা নয়, এটি আলো ছড়ানোর পথ, বাহ্! 🌹🌹
আন্তরিক ধন্যাবাদ 🌹
ভালো লাগল
ভীষণ সুন্দর লেখা
সুন্দর লেখা
অন্ধকার থেকে আলোর পথে সাহিত্য মর্মে মর্মে উপলব্ধি করি।
আন্তরিক ধন্যাবাদ 🌹
আন্তরিক ধন্যাবাদ 🌹
আন্তরিক ধন্যাবাদ 🌹
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন