ক্ষমা করো নেতাজী
লেখিকা- সুবর্ণা দাশ
অমিতের বুক ঝাঁঝরা করে দিল একটি গুলি। গলগল করে রক্তে ভেসে যাচ্ছে অমিত। বড় বড় চোখে তাকিয়ে একবার দেখলো চারদিক, দেখে মনে মনে বলে ক্ষমা করো প্রিয় দেশ ও দেশবাসী, ক্ষমা করো নেতাজী, পোড়াদেশ আমার প্রাণের দেশ ক্ষমা করো এ অধমকে।
পারলাম না কিছু করতে। নিমিষে স্থির হয়ে গেল অমিতের দেহ। বয়স যখন চৌদ্দ অমিতের তখন থেকে বীর সুভাষের আদর্শে চলতো অমিত। ভাবতো দেশের জন্য, আপামর জনসাধারণের জন্য। নিজেকে নিয়োজিত রাখতো দেশের কাজে।
অমিতরা কজন মিলে একটা সংগঠন করেছিল, নাম তার নেতাজী সংঘ। যেখানে সন্ত্রাস সেখানে ঝাপিয়ে পড়তো সন্ত্রাসবাদীর হাত থেকে দেশকে মুক্ত রাখার জন্য। নেতাজী সংঘের কাজের জন্য সমাজের কিছু প্রভাবশালী লোকের কাছে অমিত শত্রু হয়ে উঠে।
প্রভাবশালী লোকেরা তাদের অসামাজিক কুকির্তীর পর্দা ফাঁস হয়ে যাচ্ছে বলে অমিতকে টার্গেট করে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার। অমিত জানে তার চলার পথে অনেক বাঁধা আসবে। ভালো কাজে তো বাঁধা আসেই তাই বলে কি হাত গুটিয়ে বসে থাকা যায়। দেশের নিরাপরাধ মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া কি মানা যায়!
অমিত প্রতিবাদ করে দৃঢ় কণ্ঠে। প্রতিরোধ করতো এ অপরাধ মূলক কাজ। তাই দিনের পর দিন প্রভাশালী ব্যাক্তিরা হুমকি দেয় অমিতকে মেরে ফেলার। অনড় অমিত তার সেবা মূলক কাজে, সমাজ সেবক হিসেবে। বুকচিতিয়ে দেয় শত্রুর সামনে তবুও মাথা নোয়াবে না।
একদিন নেতাজীর পটচিত্রের দিকে তাকিয়ে বলে, "তোমার আদর্শ যখন একবার হৃদয়ে ধারণ করেছি, এ পথ থেকে সরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। দেশে চলছে নোংরা রাজনীতি, এ নোংরামি থেকে মুক্ত হওয়ার দায় তো আমার, তোমার দেশবাসী সকলের। তবে কেন প্রতি পদক্ষেপে এত বাঁধা?
হঠাৎ দরজায় কারা যেন ধাক্কা দিচ্ছে। অমিত দরজা খুলে দেখে অপরিচিত কিছু লোক। কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই অমিতের শার্ট ধরে হেঁচকা টান দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় আর হাত দুটি পিছমোড়া করে ধরে রাখে কয়েক জন। বেদম পেটাতে থাকে অমিতকে। এক পর্যায়ে পিস্তল বুকে ঠেকিয়ে গুলি করে অমিতকে। মুহুর্তে ধূলিসাৎ হলো অমিতের সুন্দর দেশ গড়ার স্বপ্ন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন