ভোর হতে রাত ঘাম ঝরানোই বিধিলিপি যার হাতে,
অন্ন জোটায় হাড়ভাঙা খাটুনি, জীর্ণ থালার ভাতে।
সারা মাস ধরে জালের বাঁধন অথবা যন্ত্রের মেলা,
শ্রমিক কাটায় প্রতিটি প্রহর, বিষণ্ণ অবহেলা।
অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ— বেতনের দিন আসে,
মালিকের মুখে মেঘের ছায়া, জটিলতার পাশে।
হিসেবের খাতা পাল্টে যায় কৌশলী অজুহাতে,
ন্যায্য পাওনা কমে যায় আজ শঠতার সংঘাতে।
বুকের ভেতরে বিদ্রোহ জাগে, কণ্ঠ রুদ্ধ থাকে,
প্রতিবাদের ওই মশালটি তারা কেবল মনেই আঁকে।
একটি শব্দ তুললেই ভয়— যদি যায় হাতের কাজ,
বিকল্প হাতে পূর্ণ হবে এ শূন্য কারখানা আজ।
হাজারো বেকার দ্বারে দাঁড়িয়ে, সস্তায় শ্রম দিতে,
তাই তো শ্রমিক বাধ্য মাথাটা নীরবে নুয়ে নিতে।
সামান্য কটি টাকার দোহাই, আপসে মেটায় ক্ষুধা,
প্রতিবাদহীন এ যন্ত্রণাই কি বেঁচে থাকার সুধা?
এরই মাঝে জাগে হঠাৎ স্লোগান, ওড়ে লাল নিশান,
নেতারা হাঁকেন অধিকারের বুলি, যেন বিধাতার শান।
কোট-বুট পরা বাবুরা সাজেন শ্রমিকের বড় নেতা,
শ্রমিক দরদী মুখগুলো সব, স্বার্থের অগ্নিচিতা।
যারা মিছিলে হেঁটে ঘাম ঝরায় না, সয় না রোদের আঁচ,
নেতা হয়ে তারা খেলে যাচ্ছে আজ ক্ষমতার পাশা-কাঁচ।
শ্রমিকের ঘাম বিক্রি করে কেনেন দামি গাড়ি,
শ্রমিক তখনো না খেয়েই থাকে, জীর্ণ তাহার বাড়ি।
আন্দোলনের যে দিনটিতে শ্রমিক মিছিলে যায়,
মালিকের খাতায় হাজিরা কাটে, মজুরি সে নাহি পায়।
পেটে ক্ষুধা নিয়ে স্লোগান দেয় সে নেতার আসন তরে,
সেই নেতা কাল মন্ত্রী হবে, রাজার প্রাসাদে চড়ে।
বিধায়ক হয়ে ভুলে যাবে আজ রাজপথের এই সাথী,
শ্রমিকের ঘরে জ্বলবে না কভু একবেলাও সুখের বাতি।
একদিনের ঐ লোক দেখানো মায়া, আর রঙিন ভাষণ,
তৈরি করছে নেতাদের শুধু গদিতে বসার প্রহসন।
শ্রমিক যেমন তেমনই থাকে, বদলায় শুধু মুখ,
নেতারা ভোগেন বিলাসের নদী, শ্রমিক সয় অসুখ।
বইয়ের পাতায় মে দিবস আছে, বাস্তবে নেই আলো,
শ্রমের বাজারে আজও আধিপত্য শোষণের রঙ কালো।
তবে কেন আজ রাস্তার মাঝে বৃথা এই চিৎকার?
ভণ্ড নেতার হাত ধরে কেন হবে এ পারাপার?
প্রয়োজন নেই কোনো ছদ্মবেশী নেতার ঝাণ্ডা হাতে,
শ্রমিকের লড়াই হোক আজ ন্যায়ের সংবিধানের সাথে।
যে সংস্থানেই করুক কাজ, কলকারখানা কি ঘর,
ন্যায্য পাওনা চাইলে কেন মালিক ভাববে পর?
প্রতিবাদে মুখ খুললেই কেন ছাঁটাই করার ভয়?
শোষিত প্রাণ কেন তবে সব হারাবার ভয়ে রয়?
এখানেই চাই রাষ্ট্রের হাত, কঠোর আইনি বিধান,
শ্রমিককে যেন না হতে হয় মালিকের করুণা-দান।
সংবিধানে থাক এমন ধারা, শ্রমিকের রক্ষাকবচ,
অকারণে ছাঁটাই করলে মালিকের দম্ভ হবে খচমচ।
সরকার নেবে সঠিক তথ্য, কেন সে কাজ হারাল?
মালিকের মর্জির আগুনে কেন তার জীবন পুড়ল?
আইন হবে তার আসল নেতা, বিচার হবে মূল ভিত্তি,
তবেই ঘুচবে শ্রম বাজারে সব পৈশাচিক কৃতি।
কোনো আন্দোলন নয়, চাই শুধু নীতির স্বচ্ছ রূপ,
শ্রমিক যেখানে নির্ভয় রবে, শোষক হবে চুপ।
নেতার চরণে নয়, বরং আইনের ছত্রতলে,
শ্রমিক বাঁচুক আত্মসম্মানে, সত্যের দীপ জ্বলে।
প্রতারক ঐ নেতার মুখোশ ভাঙুক আজ বহুদূর,
শ্রমিকের হাতে অধিকার আসুক, আসুক নতুন ভোর।
সংবিধান যদি ঢাল হয়ে দাঁড়ায় শ্রমিকের দ্বারে,
তবেই মুক্তি আসবে সবার, এই শোষণের আঁধারে।

1 টি মন্তব্য:
অসাধারণ ছন্দবদ্ধ নিগুঢ় সত্য কথনগুলোর অকপট প্রকাশ৷ মুগ্ধতা একরাশ। 🌹🌹
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন