ভাগ্যের ইশতেহার
- সালাম মালিতা
চাঁদিফাটা হাঁসফাঁস গরম
কৃষকের দৃঢ় প্রত্যয় অপেক্ষা ভঙ্গুর,
জৈষ্ঠ্য মাসের সূর্য
কৃষাণীর পরিশ্রমের কাছে পরাজিত।
বোরো ধানের আঁটি
ড্রামের উপর শপাং শপাং শব্দ,
মুক্তো ঝরা হাসিতে
গোলায় ওঠে।
শুষ্ক বাতাস
মুখের চামড়া পোড়াতে দ্বিধাবোধ করে না,
নবযৌবনে বেড়ে ওঠা পাটগাছ
খেটে-খাওয়া মানুষের উপর ভর করে।
পান্তায় একটু লঙ্কা হলেই যথেষ্ট
কপালের নোনাজল-
বাসি ভাতে পড়তে সদাই ব্যস্ত।
রজনী ফুলের আগাছারা
নিজের সৈন্য-সামন্ত বৃদ্ধি করে নেয়,
খোঁয়াড়ে বেঁধে রাখা গাভীর
বাছুরের জন্য প্রাণপনে হাম্বা-হাম্বা ডাক।
দীঘির জলে পাতিহাঁসের জলকেলি
মাছরাঙার মাছের প্রতীক্ষা,
কাকের কা-কা-কা তীক্ষ্ণ চিৎকার
কুকুরের লালাক্ষরণ-সবই বেড়ে যায়।
দলবদ্ধ মহিষের জলে ডুবে থাকা
শালিকের কিচিরমিচির,
আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, জামরুল
পাকার বড্ড তোড়জোড়।
জলীয়বাষ্পহীন খণ্ড মেঘ
হঠাৎ থমথমে পরিবেশ,
তীব্র ঝড়ের ফলে ছিন্নভিন্ন জনজীবন-
মুষলধারে বৃষ্টিতে জলাশয় পূর্ণ,
বিদ্যুৎ বিভ্রাট...বিনিদ্র নিশিযাপন!
বিধির বিধান সংরক্ষিত ললাটে
ঘোষনা বিহীন সাইরেন,
ভাগ্যের ইশতেহার পূর্ব নির্ধারিত
সুকর্মে প্রাপ্তি ঘটে...!

২টি মন্তব্য:
ভাগ্যের ইশতেহার” কবিতায় গ্রামবাংলার প্রকৃতি, শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম আর জীবনের অনিশ্চয়তাকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
প্রতিটি চিত্রকল্প যেন বাস্তবতার গভীর থেকে উঠে এসে পাঠকের মনে দাগ কেটে যায়।
অসংখ্য ধন্যবাদ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। শুভকামনা নিরন্তর। 🙏
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন