বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬

লুকানো পাপের ঘ্রাণ... - মুন্নাফ সেখ

- মুন্নাফ সেখ




 লুকানো পাপের ঘ্রাণ
- মুন্নাফ সেখ


স্রষ্টার দয়া অন্যায়ের কোনো গন্ধ ছড়ায় না,
নইলে এ ধরায় কেউ তো বাঁচতে পারত না।
চারিদিকে শুধু পচা দুর্গন্ধে ভরে যেত বাতাস,
লুকিয়ে থাকত না মানুষের কোনো কালো ইতিহাস।

যে জন সেজেছে সমাজে আজ পরম সাধু সাধক,
তার গা থেকেও বের হতো তীব্র বিষাক্ত মাদক।
বিচারালয়ে জজের আসনে বসা যে বিচারক,
ঘুষের গন্ধে সেও হয়ে যেত নরকের এক কীটক।

নেতার মঞ্চে সুবাসের বদলে ছুটত তীব্র ঘেন্না,
মুখোশধারী ভালো মানুষদের চিনে নিত সর্বজনা।
উচ্চ অট্টালিকা থেকে আসত যে দুর্গন্ধের ঢেউ,
লজ্জায় তখন মুখ দেখাতে পারত না তো কেউ।

মিথ্যা কথার দুর্গন্ধ যদি ছড়াত বাতাসে তীব্র,
চেনা চেনা সব আপন মানুষ হয়ে যেত অতি ক্ষিপ্র।
পাপের ভারেতে বাতাস হতো যে ভীষণ ভারী,
নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হতো রে দুনিয়াতে সবারই।

লোভ আর হিংসার কুৎসিত সেই উৎকট বাসে,
মানুষ পালাত মানুষ দেখলেই আতঙ্কে ত্রাসে।
প্রেমের আড়ালে লুকিয়ে থাকা যে স্বার্থের বিষ,
গন্ধ পেলেই চমকে উঠত মনের চাতক দীশ।

বিধাতা তাই তো দয়া করে মোদের ঢেকেছেন লজ্জায়,
অন্যায়ের কোনো গন্ধ দেননি মানুষের মজ্জায়।
নইলে এ বিশ্ব এক নিমেষেই হয়ে যেত শ্মশান,
বাস অযোগ্য হতো ধরণী, হারাতে হতো প্রাণ।

তাই তো মানুষ বুক ফুলিয়ে আজও হাঁটে এ পথে,
পাপের গন্ধ লুকিয়ে রেখে চলে মিথ্যার রথে।
যদি কোনোদিন প্রকাশ পেত সেই লুকানো ঘ্রাণ,
মানুষের থেকে দূরে পালাত মানুষেরই পরান।

স্রষ্টার দয়া অন্যায়ের কোনো দূরগন্ধ নেই,
নইলে পৃথিবী থমকে যেত আজ এই খানেতেই।
লজ্জাহীন এই মানবজাতি পেত না কোনো ঠাঁই,
মানুষের মাঝে মানুষের আর অস্তিত্ব থাকত নাই।

1 টি মন্তব্য:

অতীতের পোড়া গন্ধ” কবিতায় স্মৃতি, দুঃস্বপ্ন আর মানসিক ক্ষয়ের অনুভূতিগুলো অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে। প্রতিটি পঙক্তিতে যেন পোড়া সময়ের আর্তনাদ শোনা যায়— গভীর, বিভৎস অথচ ভীষণ বাস্তব। বলেছেন...

লুকানো পাপের ঘ্রাণ” কবিতাটি মানুষের ভেতরের মুখোশ আর সমাজের গোপন অন্ধকারকে গভীর ব্যঞ্জনায় তুলে ধরেছে।
ভাবনা, উপমা ও বাস্তবতার মিশেলে কবিতাটি পাঠকের মনে তীব্র প্রশ্ন আর উপলব্ধির জন্ম দেয়।

ভাগ্যের ইশতেহার - সালাম মালিতা

সালাম মালিতা    ভাগ্যের ইশতেহার  - সালাম মালিতা  চাঁদিফাটা হাঁসফাঁস গরম কৃষকের দৃঢ় প্রত্যয় অপেক্ষা ভঙ্গুর,   জৈষ্ঠ্য মাসের সূর্য কৃষাণীর পরি...

জনপ্রিয় পোস্ট