![]() |
| - উজ্জ্বল কান্তি দাশ |
ছুটি
- উজ্জ্বল কান্তি দাশ
এই কোলাহল নিত্য পাঁচালী,
এসব আর ভালো লাগে না।
কোন কিছুতেই নেই মনোযোগ,
কারো প্রতি নেই কোনো অভিযোগ।
প্রতি দিন বাড়ি ফিরে
নিজেই ঘরের তালা খুলে,
আপন মনে বকতে থাকা।
সবই যেন বেকার খাটা,
এটা ওটা সাজিয়ে রাখা!
চমকে গিয়ে হঠাৎ ভাবি
কত দিন আর
হয় না কবিতা লেখা,
যেটুকু লিখেছি হয়নি কখনো
উল্টে পাল্টে দেখা।
কি হবে লিখে?
পড়বে বলো কে তা?
যা কিছু লিখেছি
সবই মনে হয় বৃথা!
খাতা কলম কোথায় কোথায়
গেছে হারিয়ে?
প্রিয় বইগুলো এখানে
ওখানে ছড়িয়ে!
পড়া হবে না,
পড়বো না হয়তো আর,
কোনো আগ্রহ,নেই কিছুতে বাকী,
বুঝে গেছি সব শুভঙ্করের ফাঁকি।
একঘেয়েমি ছন্নছাড়া জীবন,
একটু দূরে মুচকি হাসে মরণ,
সব বুঝি এসে
মিশেছে শেষের পথে,
এবার বুঝি চড়তে হবে
স্বর্গ পাড়ির রথে!
কোনো ব্যথা নেই,
দুঃখ নেই আমার,
যা কিছু ভাঙ্গার
তা ভেঙ্গে যাক এবার।
সব থমকে গেলেও
কিচ্ছু যায় আসে না আর-
আলোর মাঝে থেকেও দেখি
ভীষণ অন্ধকার।
চেনা কন্ঠের সুর
একলা দুপুর, বৃষ্টির নূপুর,
দিগন্তের হাতছানি,
টানে না তো আর,
ডাকে না আমায়!
বলে না তো ছুটে আয়!
ইট পাথরের শহর,
নানান গাড়ির বহর,
হৃদয় হীন ভালোবাসা,
প্রেয়সীর ছুঁয়ে থাকা,
মিথ্যে স্বপ্ন আঁকা,
কোন কিছুতেই নেই কোনো তৃষা,
পেতেও চাই না ,
নতুন কোনো দিশা।
এখন শুধু বাকি আমার
পঞ্চভূতে মিশা।
ধীরে ধীরে একটু একটু করে
সবকিছুই গেছে আমার টুটি,
এবার আমি বিদায় নেবো,
নিয়েই নেবো জীবন হতে
চিরস্থায়ী ছুটি।

1 টি মন্তব্য:
“ছুটি” কবিতায় জীবনের ক্লান্তি, একাকীত্ব আর অন্তর্গত শূন্যতার অনুভূতি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শীভাবে ফুটে উঠেছে।
প্রতিটি পঙক্তি যেন নীরব বিষাদের ভাষা হয়ে পাঠকের মনকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন