শুদ্ধ মনের কোরবানি
- হাসিনা খাতুন
শুধু কি পশুর রক্ত ঝরালে কোরবানি দেওয়া হয়?
মনের পশুটি না মরলে তো ত্যাগ বৃথা হয়ে যায়।
লোকদেখানো এই আয়োজনে মেতে আছি আমরা সবাই,
ভেতরের নোংরা চিন্তাগুলোর কোনো পরিবর্তন নাই।
মনের ভেতর লুকিয়ে আছে হিংসা ও বিদ্বেষ,
পরনিন্দা আর পরচর্চাতে জীবন করছি শেষ।
অন্যের ভালো দেখলে পরে নিজের মনে জ্বলে আগুন,
এই কুৎসিত মানসিকতাই নষ্ট করে সব গুণ।
কোরবানির আসল অর্থ হলো আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগ,
অহংকার সব দূর করে দাও, মুঁছে যাক অনুরাগ।
মুখের ভাষায় থাকবে না আর কোনো অপবাদ,
ভালোবাসায় মিটিয়ে দেবো সব রকমের বিবাদ।
নিজের ভেতরের স্বার্থপরতায় চালাও ত্যাগের ছুরি,
তবেই তো মন শান্ত হবে, সুখ পাবে ভুরি ভুরি।
গরীবের হক ফিরিয়ে দিয়ে মেলাও আজ হাত,
তবেই সফল হবে পবিত্র এই কোরবানির রাত।
ভালো মানুষের ছদ্মবেশে থেকো না আর কেউ,
মনের নদী থেকে দূর করো নোংরা চিন্তার ঢেউ।
মিথ্যা কলঙ্ক রটিয়ে যারা সময় কাটায় রোজ,
কোরবানির এই পবিত্র দিনে নিক তারা নিজের খোঁজ।
শুদ্ধ করো নিজের মন, ধুয়ে নাও সব পাপ,
অন্যের নামে দিও না আর কোনো অভিশাপ।
ক্ষমা করতে শেখো আজ, মনে রাখো বল,
তবেই তো জীবনে আসবে শান্তির সুশীতল জল।
ঘৃণা নয়, ভালোবাসায় ভরিয়ে দাও এই ধরা,
তবেই তো সার্থক হবে কোরবানি দেওয়া সারা।
অন্যের ভালো দেখে তুমি খুশি হতে শেখো ভাই,
সুন্দর এক পৃথিবীর চেয়ে বড় তো কিছু নাই।
বিসর্জন দাও আজ মনের যত কলুষিত রূপ,
আলোয় আলোয় ভরে উঠুক হৃদয়ের ঐ কূপ।
মাংস বিলানো নয় শুধু, বিলিয়ে দাও প্রীতি,
ইসলামের এই তো আসল সুন্দর এক রীতি।
মানুষের জয় হোক, ঘুচে যাক সব কালো,
প্রতিটি মনের ভেতর জ্বলুক সত্যের আলো।
এই হোক আমাদের কোরবানির অঙ্গীকার,
সুন্দর মনে বাঁচুক সবাই, ঘুচুক অন্ধকার।

1 টি মন্তব্য:
কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য—আত্মশুদ্ধি, মানবতা ও মনের পশুকে ত্যাগ করার বার্তাটি অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে।
কবিতাটি শুধু ধর্মীয় অনুভূতি নয়, সুন্দর সমাজ গঠনের এক গভীর মানবিক আহ্বান বহন করে।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন