শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

আবেগের পরিণতি... কলমে- সুবর্ণা দাশ

 


ত্বন্নী ও তনয় দুজনকে দুজন খুবই ভালোবাসতো। 
পড়াশোনায়ও দুজন তুখোড়। এম, বি, এ'র ছাত্র-ছাত্রী দুজন। রোজ দুজন দেখা করতো সময় মতো। এমন একদিনও ছিলো না দুজন দেখা না করে থেকেছে। কিন্তু পৃথিবীর অমোঘ নিষ্ঠুর নিয়মের কাছে হার মানতে হয় সবাইকে। 

জন্ম নিলে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী কিন্তু অপমৃত্যু বা সময়ের আগে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেওয়া কেইবা সহ্য করতে পারে! তনয় বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। বাবার কাছে তনয় আবদার করে একটা ভালো থেকে বাইক কিনে দেবার জন্য। মা-বাবাও ভাবলো একটা বাইকের খুব দরকার। কাছে পিঠে কোথাও যেতে বাইকের প্রয়োজন হয়। তাই বাবাও তনয়ের কথা মতো ভালো দেখে একটা বাইক কিনে দিলো। সেই বাইক যে কাল হবে কে জানতো। কে জানতো মৃত্যুর ফাঁদ পেতে বসে আছে ঐ বাইক। 

প্রথম যেদিন বাইক নিয়ে তনয় বের হয়, বাড়ির কিছু দূর যেতে না যেতেই রাস্তায় গাছের সাথে ধাক্কা লেগে বাইক থেকে ছিটকে পড়ে স্পট ডেথ। নিথর দেহ পড়ে আছে রাস্তার উপর। সাধের বাইক পড়ে আছে রাস্তার ধারে। লোকজন জড়ো হয়ে তনয়ের নিথর দেহ খানা তুলে হসপিটাল নিয়ে গেল। ডাক্তার দেখে বলে, দেহে প্রাণ নেই। তনয় নেই পৃথিবীতে, কি করে জানাবে তনয়ের মা-বাবাকে? নিষ্ঠুর সত্য জানাতেই হবে তাই অগত্যা তনয়ের মা-বাবাকে খবর দেওয়া হলো। ত্বন্নীর কাছেও খবর গেল। আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠলো তনয়ের মা-বাবা ও আত্মীয় স্বজনদের কান্নায়। সে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য! ত্বন্নীর মুখে কোনো কথা নেই। নির্বাক তাকিয়ে আছে তনয়ের দেহর দিকে। 

রোগা হয়ে গেছে ত্বন্নী। সবাই অনেক চেষ্টা করলো একটু কাঁদুক বা মুখে কিছু একটা বলুক। কিন্তু না চুপ হয়ে গেল ত্বন্নী। বুকের ভেতর দুমড়ে মুষড়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে হৃদয়। আর সহ্য করতে পারছে না ত্বন্নী। কী করবে তনয়কে ছাড়া ত্বন্নী? ওরা যে কথা দিয়েছিলো একজনকে ছাড়া একজন বাঁচতে পারবে না। 

ত্বন্নীর মা-বাবা পাহারায় রেখেছে ত্বন্নীকে। আদর করে বুকে ধরে রাখে ত্বন্নীর মা। মুখে কিছু তোলে না, কিছু বলেও না। মহা চিন্তায় পড়ে গেল ত্বন্নীর মা-বাবা। ত্বন্নী যে তনয়কে প্রচন্ড ভালোবাসতো। 

রাতে শোয়ার সময় ত্বন্নীর মা ত্বন্নীর সাথে শোয়। না ঘুমতে ঘুমতে ত্বন্নীর মাও বড় ক্লান্ত। একদিন রাতে ত্বন্নীর মা চোখ লেগে এলো ঘুমে হঠাৎ চোখ মেলে দেখে ত্বন্নীর দেহ পাখার সাথে ঝুলছে। চিৎকার করে ওঠে ত্বন্নীর মা। একি সর্বনাশ করলি মা! পাশের ঘর থেকে ত্বন্নীর বাবা ছুটে আসে। মেয়ের এই অবস্থা দেখে হতভম্ব হয়ে, দিশা হারিয়ে বুক চাপড়াতে থাকে। প্রেমের আবেগে উদাসীন হয়ে যন্ত্রনাদায়ক মৃত্যুকে শেষ পরিণতি হিসেবে বেছে নিলো ত্বন্নী। হয়তো 

ত্বন্নী মনে প্রাণে বিশ্বাস করে ওদের অমর প্রেমের পরিণয় মৃত্যু।


সুবর্ণা দাশ


কোন মন্তব্য নেই:

কোনটাই না... - ত্রিদিবেশ দে

  ত্রিদিবেশ দে  অনেকেই হয়তো মনে করে বেশ আনন্দে দিন কাটাচ্ছে।  ফেসবুকে নিত্য নতুন ছবি আপলোড, হাসি মজা,আড্ডা সব নিয়ে  বেশ আনন্দেই দিন কাটাচ্ছে...

জনপ্রিয় পোস্ট