রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

কুরবানি - উজ্জ্বল কান্তি দাশ

উজ্জ্বল কান্তি দাশ

 কুরবানি
- উজ্জ্বল কান্তি দাশ


রহিম মিয়ার বেশ কিছুদিন
বুকে ভীষণ কষ্ট, 
ডাক্তার তাকে জানিয়ে দিল
হৃদয়ের ভালভ নষ্ট। 

সুস্থ তোমায় করতে হলে
অনেক টাকা দরকার, 
বুকের ভেতর বসাতে হবে
একটি পেসমেকার। 

রহিম মিয়া ভাবে বসে
কী হবে হায় উপায়? 
তার কাছে যে উপশমের
অত টাকা নাই! 

কেমন অসুখ হলো খোদা
কিসের পেলাম সাজা? 
কে আমাকে দেবে টাকা
সামনে ঈদুল আযহা! 

রহিমকে তার মেয়ে বলে 
শুনো আব্বাজান, 
আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন
মিলবে দয়াবান। 

কেউ যদি তার ঈদের টাকা
তোমায় করেন দান, 
আমাদের এই দুশ্চিন্তার
হবে অবসান। 

পথে যেতে রসূল মিয়া
ওদের কথা শুনে, 
বাড়ি গিয়ে বাক্স খুলে
টাকা নিয়ে গুনে। 

টাকা হাতে এসে বলে
শুনো রহিম ভাই, 
তোমার সুস্থ হওয়া নিয়ে
কোনো চিন্তা নাই। 

রহিম বলে তোমার টাকা
কি করে ভাই নেবো? 
পরে কি করে তোমার টাকা
ফেরত আমি দেবো? 

রসূল বলে চাই'না ফেরত
আল্লাহ'র মেহেরবানী, 
এই টাকাটা খোদার নামে
দিলাম যে কুরবানি।

তোমায় যেন সুস্থ করেন
আল্লাহ'র কাছে বলো, 
এই প্রথম কুরবানি মোর
সার্থক মনে হলো।

২টি মন্তব্য:

সমর্পিতা রাহা বলেছেন...

ভালো লেখা

মারিয়াম রামলা বলেছেন...

পশু উৎসর্গের চেয়ে মানুষের জীবন বাঁচানোই যে প্রকৃত ও স্বার্থক কুরবানি, সেই পরম মানবিক ও ত্যাগের মহিমাকে এক অপূর্ব অনুভবে ফুটিয়ে তুলেছে এই কবিতা।

"ধোঁয়া ওঠা রাত " - রত্না রায়

রত্না রায়   "ধোঁয়া ওঠা রাত "      - রত্না রায়  স্কুলের ঘণ্টা পড়তেই ঘরে ফেরার তাড়ায় স্কুল প্রাঙ্গণে হৈচৈ লেগেই থাকতো। কো এডুক...

জনপ্রিয় পোস্ট