বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

আটশো ত্রিশ... - সালাম মালিতা

 
সালাম মালিতা



আমি....
কয়েদি নম্বর আটশো ত্রিশ!
যে প্রাণহীন ভূতুড়ে গারদে-
লিকলিকে আঙুল দিয়ে 
জীবনের সকল বসন্ত কেটেছে।
অন্ধকার কক্ষ 
ছিদ্র স্টিলের থালা,
দুমড়ানো ছোট্ট গ্লাস-
কালো চিটচিটে ছেঁড়া কম্বল 
আটশো ত্রিশ নম্বর 
কয়েদির ধুলোমলিন পোশাক 
শেষ সম্বল..
ব্যাস এইটুকুই! 
আত্মীয়ের মধ্যে 
আগন্তুক কয়েকটি চামচিকা, 
নিয়মিত রক্তচোষা মশা
লাল-কালো মিলিয়ে 
বেশ কতক পিঁপড়া-
এই আমার পরিবার! 

আমি....
কয়েদি নম্বর আটশো ত্রিশ!
যাকে নিত্য দু'বেলা ধমক খেয়ে 
সেন্ট্রির খাবার নিতে হয়, 
উকুনের থাকার উপযুক্ত 
মাথাভর্তি চুল, 
বনমানুষের মত গোঁফদাড়ি 
হলুদ বর্ণের নোংরা দাঁত, 
বড় বড় নখ 
আর পিচুটি ওঠা ঘুমহীন চোখ। 

আমি.....
কয়েদি নম্বর আটশো ত্রিশ!
যে তৃতীয় তলার 
একদম শেষ কক্ষে আছে, 
কুষ্ঠরোগ হওয়ায় 
পাগলের প্রলাপ বকে,
আবোলতাবোল প্রশ্ন
সবসময় মাথার মধ্যে ঘোরে
এই যেমন-
আমি কী বেঁচে আছি? 
নাকি মরে গেছি? 
আবার কখনো মনে হয় 
আমি স্বর্গে আছি? 
নাকি নরকে? 

আমি.....
কয়েদি নম্বর আটশো ত্রিশ!
যে বিনাদোষে সাজা খাটছি,
স্বার্থের সংঘাতে হেরে গিয়ে 
বোকা হয়েছি,
বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে 
এজলাসে মুক্তি পেলেও-
মানুষের তৈরি 
অসাম্যের আদালতে 
আমি সহজেই দোষী। 
তবে, আমি আজ
কোন বিচারের কথা বলব?
যেখানে মানুষ ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়েও 
সবচেয়ে বেশি মিথ্যা কথা বলে!

আমি....
কয়েদি নম্বর আটশো ত্রিশ!
যার অভিযোগগুলো
শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তা শোনে,
এই যাবজ্জীবন কারাবাসে
দেওয়ালের প্রতিটা ইট-
নিঃশব্দ সাক্ষ্য বহন করছে। 
শুকনো খটখটে 
চোখ থেকে ঝরে পড়া রক্ত-
আমারই বাঁচার অভিশাপ, 
তাই চোখের পাতাদুটো 
বিনা নোটিশে 
আজ অবসরে যেতে চায়।

আমি....
কয়েদি নম্বর আটশো ত্রিশ!
যার ক্ষমতা আর টাকার অভাবে 
পৃথিবীর বুকে 
সঠিক বিচার জোটেনি, 
এই চার দেওয়ালের মাঝে 
সকল খুশির জলাঞ্জলি দিয়ে-
শেষ বিচারের আশায় আছি।
মাটির সাথে মিশে যাওয়া 
এই জঠর নির্গত কথা-
কারো ভালো লাগে না,
তাই পৃথিবীর ঋণ পরিশোধে
দুনিয়ার কারাবাস থেকে-
আজ আমি মুক্তি চাই!

আমি....
কয়েদি নম্বর আটশো ত্রিশ!!

রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

হাসির আলো বেশ ভালো... কলমে- মারিয়াম রামলা

 
মারিয়াম রামলা


হাসির আলো বেশ ভালো,
পেটটা মোটা, আমি একটু কালো।
দাদা ভাই বুঝি ওই গেলো—
বাজারে নাকি নতুন বউ পেলো!
বল দেখি ভাই, একি কাজ বাড়ালো?

সোনা দাদা এবার পান্তা আনতে—
নুনটাও যে ঘরে ফুরালো!
আগের বউ নাকি ভীষণ পেটালো,
দাদা ভাই বলে—
“যতই পেটাও, আমি কিছুতেই নাহি শুধরাবো!”

বুঝলে বড় বউ?
ছোট বউ নাকি ঘরে আগুন জ্বালালো,
সেই চুলাতে তোমার জন্য রান্নাও বসালো।

তুমি এবার আরাম করো গিয়ে—
ছোট বউ এসে আমার বুকে জড়ালো।

হাটটা ঘুরে মাথাটা যে ঘোরালো,
বড় বউ সারা জীবন শুধু দুধই ফাটালো।
ছোট বউয়ের কি বুদ্ধি রে বাবা—
সেই দুধেই মিষ্টি আর ছানা বানালো!

বেশ মজা, স্বাদে ভরা—
পরান আর জীবন দুটোই জুড়ালো।
কানাকানি করে আর কি হবে?

বিয়েই তো করেছি, সংসার আরও গড়ালো।
নতুন জামাই ভাব নিয়ে ঘরে আবার এলো,
আস্ত খাসি, ইলিশ আর হাঁস—

নতুন শ্বশুরবাড়ি থেকে ডাল সাজিয়ে এলো।
হাতটা চুবিয়ে এবার যে খাবো—
দুই শ্বশুরবাড়ির রসমালাই আর দইয়ের হাঁড়ি।

ঘরে আমার আর অভাব নেই গো—
হাসির আলো বেশ ভালো,
পেটটা মোটা, আমি একটু কালো।

অ'সুখের ইতি! - রকিবুল ইসলাম


রকিবুল ইসলাম


স্রোত যখন ছুটে চলে নিরন্তর নিরবধি!
ভাটায় বদলে যায় তার জীবনের রীতি।
নিয়ে যায় মায়া,মমতা,সখ্যতা,পিরিতি।
পূর্ণ করে অপূর্ণতায়!বাজিয়ে বিরহের বাঁশি।
জরা ভুলে যবে হাসেন সূর্য গ্রহণ মুক্ত রবি,
নিশিথের গগনে উঠে তখন নীলাভ আলোর শশী।
কলুষতা হতে আত্মা কখনো বা পেলে মুক্তি,
সুখের অথৈ সরোবরে আমোদিত হয়ে ভাসে মহী।
আমি শুধু  পেলাম না পলি চাষের লাগি,
উর্বরতায় ধরা যখন সোনার ফসলে উঠে ভরি।
যাযাবর দিকভ্রান্ত শঙ্খচিল শালিকও আসে ঘরে ফিরি,
অশান্ত মন শান্ত হয়-এই বুঝি অ'সুখের ঘটল ইতি।

আমি সাম্প্রদায়িক... - সর্বানী দাস

 

 নিজের পিঠ বাঁচাতে 
অকপটে বলতেই পারি 
 আমি সাম্প্রদায়িক,
 এটা আমার নিজের বানানো 
 নিজেকে মানুষ বলা বিপজ্জনক 
 মানুষের চামড়া আছে 
দেহ আছে, 
অস্থি কঙ্কালও আছে 
 কিন্তু মনুষ্যত্ব নেই 
 আমি সাম্প্রদায়িক।

 আমি সাম্প্রদায়িক 
 সকালে উঠেই নিজেকে বলি
  ভাগ  করতে হবে 
   নষ্ট করতে হবে 
  সুস্থ মানবতা অ - সুখ 
 হিংসা ছড়িয়ে 
 স্বার্থচরিতার্থ করে 
 অপবাদ দিতে পারলেই 
আমি সাম্প্রদায়িক।
এই পৃথিবী সত্য চায় 
 মিথ্যের বুনিয়াদ 
 টিকে থাকে কি?
 এ পৃথিবী অন্যায় 
মেনে নেবে না,
 আমি সাম্প্রদায়িক।

 আমি সাম্প্রদায়িক 
কবিতায় লিখি-
 ভাতের খিদে 
রাস্তার মোড়ে
বাচ্চা ভাত চাইছে 
খিদে দাঁড়িয়ে চৌরাস্তায় 
আমি খুঁজি ধর্ম 
দেখি জাত 
চোখ ফেরাই ঘৃণায় 
জরাজীর্ণ শরীর 
ছেঁড়া জামা 
বস্ত্রহীন বক্ষে মা 
শুষ্ক স্তনে শিশুর কামড় 
শিশুর খিদে তেষ্টা 
মায়ের চোখে নীরব ধারা 
আমি চোখ ফেরাই 
এই ভদ্র সমাজ শেখায় 
আগে পরিচয় 
তারপরে সহানুভূতি 
আমি সাম্প্রদায়িক।

ভোটের লাইন 
জলের লাইন 
চাকরি লাইন 
লাইন আর লাইন 
সব লাইনেই 
খিদে লেখা 
একই খিদে 
অপেক্ষার স্ট্যাম্প -
তবু পার্থক্য শেখায় 
আমরা আর ওরা 
কুঁড়েঘর আর আস্তাকুঁড়
 ওরা আলাদা 
আমার মাটির ভাঁড় 
 ওদের মাটির উনুন 
আমি সাম্প্রদায়িক।

রাত বাড়ে 
 ফুটপাতের গালিচায় 
 ওদের ফুলশয্যা 
 আর মখমলি চাদরে 
 আমার নির্ঘুম রাত 
  ওদের বৃষ্টি
   পলিথিন ওড়ার আতঙ্ক 
    আমার নেশা গজল 
   কান চেপে ধরলেই 
   শব্দ থেমে যায় না 
    গেঁথে দেওয়া বিভেদ 
    মিথ্যে বুক বন্দরে 
     গালভরা বুলি 
     আমি সাম্প্রদায়িক।

   ভাঙাচোরা টিনের বেড 
    পানের পিকে দেওয়াল 
    অমলিন সাদা চাদর 
    ডাক্তার এগিয়ে আসে 
     জিজ্ঞাসা করে নাম 
    দুধ ফল লেবু নিয়ে 
    স্বেচ্ছাসেবী দাঁড়িয়ে 
     আমি চেয়ে দেখি 
     কারণ,
    আমি সাম্প্রদায়িক।


  চোখের সামনে দেখি 
  কেউ হাসে 
   কেউবা কাঁদে 
   কারোর আইটেম সঙ
   কেউ রাস্তায় আইটেম 
    টিভি খুলি 
    নিখোঁজের তালিকা 
     নগ্ন দেহ রাস্তার পাশে
    তু চিজ বাড়ি হ্যায় মস্ত মস্ত 
   আমি পাশ কাটিয়ে যাই 
   আমি সাম্প্রদায়িক।

   থরে থরে সাজানো 
   বেদ উপনিষদ গীতা 
    বাইবেল কোরান 
   চেয়ে আছে ফ্যালফ্যাল 
     আমার ভেতরের আমি 
    ভেঙে পড়ি মুহূর্তে 
     রাউল পিন্ডি এক্সপ্রেস 
     দৌড়াচ্ছে বল নিয়ে 
     হাতের তালুতে বলের জাদু 
   কোথায় ধর্ম 
   কে রাখে পর্দা 
  গোলাম আলী 
  রবিশঙ্কর 
 এ আর রহমান 
 লতা মঙ্গেস্কর 
এ পি জে আব্দুল কালাম 
মানচিত্র খুঁজি 
কোনটা আমার 
এটা না ওটা 
দাগ টানতে যাই 
পেন্সিল বিট্রে করে 
ভেঙে যায় অহংকার।

খিদে তাকিয়ে 
রক্ত বাড়িয়েছে হাত 
মৃত্যু হাসছে 
কেউ উত্তর দেয় নি 
শিশুর হাসি 
শুনলাম 
আমার মিথ্যে বর্ম 
আমি সাম্প্রদায়িক 
ছেড়ে, ছুঁড়ে ফেললাম 
লিখলাম 
নিরাপত্তা
 ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প 
রিক্ত হলাম 
নিঃস্ব হলাম 
উন্মুক্ত হলাম 
আজ আমি 
মানুষ হলাম।


সর্বানী দাস 


শনিবার, ২ মে, ২০২৬

কাপুরষ... - সালাম মালিতা

সালাম মালিতা 

 

অন্ধ পুরুষ স্বপ্ন দেখে
করতে সুখের ঘর,
পঙ্গুর বউটা স্বামীর আদেশ 
রাখে মাথার পর।

সভ্য বলে ডিগ্রি দেখায়
চুড়ি বিহীন হাত,
উলঙ্গ স্ত্রীর লেংটা ভিউজে 
খাচ্ছে গরম ভাত।

এরা নাকি শিক্ষিত সব
সম্ভ্রম বেচে রোজ,
স্তন দেখিয়ে পয়সা কামাই 
হারাম করছে ভোজ।

পতিতা-দের লজ্জা থাকে 
রাস্তায় ভদ্র হয়,
বউ ব্যবসায়ী পথের পরে
বউকে কিনতে কয়।

হিজড়া শুধু লিঙ্গের হয় না 
অর্থে তৈরি আজ,
বৌমা, মেয়ে, বৌ, নাতিনি 
ব্যবসায় নেইকো লাজ!

খদ্দের খোঁজে দুর্বল স্বামী 
যাদের আছে কাম,
চোখের খিদে মেটায় তাদের 
নিয়ে কতক দাম। 

পুরুষ নামের কলঙ্ক সব
বিকলাঙ্গ মন,
বিবেক বেচে পুরুষত্ব
নষ্ট প্রতি ক্ষণ।

নোংরা ছড়ায় অনলাইনে 
কাপুরুষের দল,
রাতে দিনে যোনি দেখায়
সমাজ নষ্টের ছল!

উচ্ছেদ করি লোভী কীটদের
রক্ষায় যুবক কুল, 
শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিই
ফোটাই জ্ঞানের ফুল।

সভ্যতার কারিগর কলমে- ঝরনা দত্ত

ঝরনা দত্ত 




 শ্রমিকরা কাজ করে চলে 
 সভ্যতার কারিগর রূপে,
 দাঁড় টেনে, খেয়া বেয়ে চলে -
 স্তরে স্তরে ক্ষেপে ক্ষেপে।

 শ্রমের বিনিময়ে তৈরি প্রাসাদ,
 অট্টালিকা-মঠ-মন্দির যতো,
 তাজমহল থেকে কুতুবমিনারও
 শ্রমিক গড়েছে মনের মতো।

 সভ্যতার চাকা চলছে সদাই 
 শ্রমিকের অবদানে,
 সভ্য মানুষ সবাই তো বোঝে 
 প্রকৃত শ্রমের মানে।

 ঘরবাড়ি আর কারখানা সব 
 রয়েছে যা দেশ জুড়ে,
 জানো কি এসব শ্রমিকের দান
 তবু শ্রমিক এখনো ভবঘুরে!

 মুখের অন্ন এরাই যোগায় 
 রোদে জলে চাষ করে,
 ধনী বিলাসী বসে থাকে সদা 
 আরামে নিজের ঘরে।

 যানবাহনের নতুনত্বে দেখো 
 শ্রমিকের আছে রক্ত,
 ফোঁটা ফোঁটা রক্তে উঠেছে গড়ে
 যা ছিল বড়োই শক্ত।

 সেই শ্রমিকের ক্ষুধার অন্ন
 বলতো জোগাবে কারা?
 শ্রমের ফল ভোগ করে যারা  
 হাত বাড়াবে কি তারা?

 শ্রমিকের শ্রম  অকৃপণ দান 
 উন্নয়নের প্রতিটি কাজে‌,
 শ্রমিকের কথা সবার কলমে 
 যেনো অবদান হয়ে রাজে।

 দেশের হাল ধরে আছে যারা 
 তারাই তো শ্রমিক দল,
 সব সভ্যতার কারিগর এরা
 এরা বিশুদ্ধ পরিমল।

প্রবন্ধ - শাশুড়িও বান্ধবী হয়... - মারিয়াম রামলা

  মারিয়াম রামলা একটি উঠোনের পা দুটো থাকে, কিন্তু সম্পর্কের ফাটল একটি আঙুল থেকেই শুরু হয়। ঘরে কন্যা সন্তান না জন্ম নিলে কত দোয়া, কত মিনতি কর...

জনপ্রিয় পোস্ট