প্রাপ্তি, অপূর্ণতা ও প্রত্যাশা।
লেখকঃ তপন বৈদ্য
বইমেলা কেবল বই কেনার স্থান নয়, এটি এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা—চিন্তা, অনুভূতি ও সৃষ্টির উৎসব। বইমেলা ২০২৬-এ গিয়ে মনে হয়েছে, প্রযুক্তির ঝলমলে যুগেও মানুষ এখনো ছাপার অক্ষরের প্রেমে অটুট। রঙিন স্টল, নতুন বইয়ের ঘ্রাণ, প্রিয় লেখকের সাক্ষাৎ—সব মিলিয়ে ছিল এক উচ্ছ্বাসময় পরিবেশ।
প্রথমেই পেলাম বৈচিত্র্যময় বইয়ের সমারোহ। কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণা, অনুবাদ—সব ধারাতেই ছিল নতুনত্বের ছাপ। বিশেষ করে তরুণ লেখকদের লেখায় সময়ের বাস্তবতা ও সমাজচেতনা স্পষ্ট হয়েছে। পাঠকদের উৎসাহও ছিল চোখে পড়ার মতো। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ভিড় প্রমাণ করেছে, বই এখনো জ্ঞানের প্রধান আশ্রয়। আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বইমেলাকে করেছে প্রাণবন্ত ও অর্থবহ।
তবে কিছু অপূর্ণতাও চোখে পড়েছে। ছোট প্রকাশনা সংস্থার অনেক ভালো বই প্রচারের অভাবে আড়ালে থেকে গেছে। বইয়ের মূল্য অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ পাঠকের সাধ্যের বাইরে মনে হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য আরও ছাড় বা সহায়তা থাকলে ভালো হতো। এছাড়া ভিড় নিয়ন্ত্রণ, বসার জায়গা ও বিশ্রামের ব্যবস্থায় কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল, যা একটি বৃহৎ আয়োজন হিসেবে আরও উন্নত হওয়া উচিত।
প্রান্তিক ও গ্রামীণ লেখকদের জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম থাকলে সাহিত্য আরও সমৃদ্ধ হতো। শিশু-কিশোরদের জন্য সৃজনশীল কর্মশালা বইমেলাকে শিক্ষণীয় করে তুলতে পারত। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ—প্লাস্টিক কমানো ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা—আরও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। বইমেলা যেন কেবল কয়েক দিনের উৎসব না হয়ে সারা বছরের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার আন্দোলনে পরিণত হয়, সেই প্রত্যাশাও রইল।
সবশেষে বলতে চাই, বইমেলা ২০২৬ আমাকে দিয়েছে আনন্দ, অনুপ্রেরণা ও নতুন ভাবনার দিগন্ত। একই সঙ্গে শিখিয়েছে—উন্নতির সুযোগ সবসময় থাকে। প্রাপ্তি ও অপূর্ণতার এই মিশ্র অভিজ্ঞতাই বইমেলাকে করে তোলে জীবন্ত ও অর্থবহ।
৩টি মন্তব্য:
অসাধারণ লিখেছেন
খুশি হলাম যারপরনাই স্বজন।
অনবদ্য নিবেদন!
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন