সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

সভ্যতার যোনি চেরা চিৎকার... - সর্বানী দাস

সর্বানী দাস 

সভ্যতার যোনি চেরা চিৎকার
- সর্বানী দাস 

লাশ হয়ে যাইনি এখনো মা'গো,
 আমি এখনো ছটফট করছি ব্যথায়-
ভাঙা হাড়ের টুকরোগুলো
 বিঁধছে মজ্জায়,
বিঁধছে শিরায়-উপশিরায়...

উপড়ে নেওয়া চোখের কোটর
 গলগল করে নামছে রক্ত-
লোহার রডে ফালাফালা হওয়া যোনি— 
ভীষণ যন্ত্রণা মা'গো -
পারছি না.. আর সহ্য করতেপারছি না..

আজ এই নরকের শেষ তখতো রক্তাক্ত...
বুকের ভেতরে বাতাস ফুরিয়ে আসছে..
জিভটা জড়িয়ে যাচ্ছে মা..
পশুগুলো ভীষণ জোরে কামড় দিচ্ছিল-
আমার ছটফটানি দেখে 
ওরা উল্লাস করেছে মা..

আমার গোঙানি শুনে ওরা হাসছিল, 
বলছিল— "উচ্ছন্নে যাক মেয়েমানুষ!
এরা করবে দেশের সেবা দশের সেবা...
"আজ ওদের ঘরেও তো বোন আছে , 
তবে কেন..
কেন ওরা এত  জানোয়ার ?

ধিক্কার দিই এই নপুংসক সমাজকে...
 ঘৃণা করি এই কাগজের চাটুকারিতাকে..
যে দেশে মেয়েরা বাঁচে কুকুরের মতো, 
আর মরে অসুরের হাতে 
 বিচার আটকা পড়ে ফাইলে-বিয়ানে!
সেই দেশে নারীর যোনি চেরা আর্তনাদ শোনা যায় কি?

আইন নাকি অন্ধ? 
ওরে শোন! 
আইন অন্ধ নয়, 
আইন আসলে পঙ্গু আর ভীরু,
যেখানে ধর্ষক বুক ফুলিয়ে ঘোরে, 
আর মরে যায় আমার মতো সব জেনে ফেলা মেয়েরা বা -
কোনো ছোট্ট আট বছরের বাচ্চা...

কোনো মায়ের কোল খালি করার আগে, 
এবার হাত কাঁপবে তোদের- শকুনের দল!
তোদের বীরত্ব শুধু নারীর দেহে?
 তোদের পুরুষত্বে বিষাক্ত গরল?
 আজ মরার আগে 
এই ফালাফালা যোনি থেকে এক অভিশাপ ছুঁড়ে দিয়ে গেলাম—
তোদের যেন চরম শাস্তি হয় -
তোদের জীবনে যেন নামে চিরকালের নিকষ অন্ধকার -
যদি সমাজ পাল্টাতে চাও,
 তবে মোমবাতির নাটক এবার বন্ধ করো,
আদালতের নেতার আড়ালে ন্যায়ের ভিক্ষা নয়, 
ধর্ষকের গলা টিপে ধরো!
ফাঁসি দিয়ে হবে না রেহাই, 
তবু বিশ্বাস আজ জন্মেছে মা -
 সংবিধানের আবার সঠিক ব্যবহার হবে -
আমার শেষ স্বপ্ন অধরাই রইলো 
মা'গো... 

ওই তো! ওই তো তোমার হাত...
 তোমার আঁচলের গন্ধ পাচ্ছি বাতাসে,
আর কয়েকটা সেকেন্ড মাত্র...
 তারপর আমি হারিয়ে যাবো 
ওই দূর আকাশে।
আমি চলে যাচ্ছি মা, 
কিন্তু এই বন্ধ চোখে 
আমি এক নতুন আগুন জ্বেলে গেলাম,
এই নড়বড়ে নরক সমাজকে এক নারীর আর্তনাদ শোনালাম !
আমি মরছি না মা! 
আমি প্রতিটা ঘাতকের রাতের ঘুম কাড়তে আসবো,
সমাজের ওই অন্ধ আইনের মুখে নরকের রক্তমাখা হাতে।

৬টি মন্তব্য:

Sarbani Das বলেছেন...

আমার লেখা প্রকাশ করায় অফুরান কৃতজ্ঞতা আমার প্ৰিয় পরিবারের প্রতি 🙏🏻🥰

সমর্পিতা রাহা বলেছেন...

খুব ভালো লাগল

মারিয়াম রামলা বলেছেন...

নারীর ওপর হওয়া পাশবিকতার বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার ও ঘুমন্ত সমাজের বিবেক জাগিয়ে তোলার মতো একটি বজ্রকঠিন প্রতিবাদী কবিতা!

সৌরভী করমহাপাত্র বলেছেন...

রুঢ় বাস্তব ছবি ফুটিয়েছেন কবি

MD munnaf Sheikh বলেছেন...

সভ্যতার যোনি চেরা চিৎকার’ কেবল একটি কবিতা নয়, এটি আসলে আমাদের পচে যাওয়া সমাজব্যবস্থার বুকে এক তীব্র চাবুক। কবিতার প্রতিটি শব্দ যেন এক রক্তাক্ত আর্তনাদ এবং একই সাথে প্রতিবাদের জ্বলন্ত স্ফুলিঙ্গ।কবি যেভাবে নির্যাতনের অবর্ণনীয় যন্ত্রণা ও পাশবিকতাকে শব্দের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা পাঠককে শিউরে উঠতে বাধ্য করে। অন্ধ ও পঙ্গু আইনের নিষ্ক্রিয়তা এবং মোমবাতি জ্বালানোর মতো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদের অসারতাকে কবি যেভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সাহসী।সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো, মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও নির্যাতিতার কণ্ঠে যে প্রতিবাদের আগুন ঝরে পড়েছে— "আমি মরছি না মা! আমি প্রতিটা ঘাতকের রাতের ঘুম কাড়তে আসবো।" এই পঙ্ক্তিগুলো কাপুরুষ সমাজকে এক চরম হুঁশিয়ারি দেয়।এটি একটি অসামান্য ও বিবেকঝাকুনি দেওয়া সৃষ্টি। কবিকে তাঁর এই সাহসী ও ধারালো লেখনীর জন্য গভীর শ্রদ্ধা ও কুর্নিশ জানাই।

সৌরভী করমহাপাত্র বলেছেন...

অসামান্য লেখনী

"ধোঁয়া ওঠা রাত " - রত্না রায়

রত্না রায়   "ধোঁয়া ওঠা রাত "      - রত্না রায়  স্কুলের ঘণ্টা পড়তেই ঘরে ফেরার তাড়ায় স্কুল প্রাঙ্গণে হৈচৈ লেগেই থাকতো। কো এডুক...

জনপ্রিয় পোস্ট