রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

বৃথা আস্ফালন! - রকিবুল ইসলাম


"মহারাণী!"

আজ অনেকদিন পর কলম ধরলাম তোমাকে নিয়ে তোমাকে কিছু লিখব বলে,নয়ত কিছু বৃথা আস্ফালন হবে। 

তবুও তো লেখা হবে,তা ও আবার তোমাকে! যে তুমি আমার অন্তরাত্নার মাঝে বসবাস করেও আজ  কোথায়,কতদূরে! "মহারাণী!!"আজো আমার নির্ঘুম রজনী কাঁটে তোমায় ভেবে।"মহারাণী!' মল্লিকা'দি''র কথা শুনেছ নিশ্চয়? 

মল্লিকা'দিরা কিন্তু কালজয়ী,।কালে-ভাদ্রে আসে।ঠিক হ্যালির ধূমকেতুর মত। তোমার মত মহিয়সী ললনারাও ঠিক"বেগম রোকেয়া"না হলেও তাদের কাতারের,সেই স্তরের। নিজে রঙ্গীন হয়ে নয়,স্বীয় রঙ্গে অন্যকে রাঙ্গিয়ে রঙ্গীন হও তোমরা।

এতেই তোমাদের চরম পরিতৃপ্তি,পরম পুলক।

এতসব পুলকের সমারোহে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার বদলে দিনশেষে তোমার মুখাবয়বে অতৃপ্তির বলিরেখা সুস্পষ্ট হয়ে উঠে। কি যেন এক অজানা উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় আরো ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে মনটা।একটু একটু করে জমে উঠে বেদনার ভারী কালো মেঘ।একটা সময় আর ভার সইতে না পেরে অক্ষিযুগল নিঃসৃত অশ্রু হয়ে কপল বেয়ে নেমে আসে ফোঁটা ফোঁটা মুক্তবিন্দু।    

কি জানি! কোন আক্ষেপ হয়ত তাড়িয়ে বেড়ায় তোমাকে সারাক্ষণ।  

তোমরা তো অস্পৃশ্য, যাদের বসবাস শুধুমাত্র কল্পনা ও স্বপ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আর এই কারণেই তোমার হর্ষ- বিষাদ কিছুই আর অবলোকন করা হয় না আমার।আজন্ম লালিত স্বপ্ন-আকঙ্খা নিয়ে চেয়ে আছি ভবিষ্যপানে- আমি নই,সুখী হও তুমি।পূরণ হোক তোমার সকল স্বপ্ন,আশা- আকাঙ্খা,কল্পনা,কামনা-বাসনা।   

                                                                                                     -তোমার অপছন্দের আমি।


রকিবুল ইসলাম




মলাটহীন ডায়েরির পাতা... (কবিতা) - হাসিনা খাতুন


হাসিনা খাতুন


ম - মনটা আমার ছিল একা,
পাইনি যখন তোমার দেখা।
মলাটহীন এই খাতার ভাঁজে,
শব্দরা তাই একাই সাজে।

লা - লালচে আলোয় বিকেল বেলা,
স্মৃতিরা সব করছে খেলা।
লুকিয়ে রাখা মনের কথা,
মুছিয়ে দেবে বুকের ব্যথা।

ট - টানাপোড়েন সব ঘুচিয়ে,
রাখব তোমায় খুব গুছিয়ে।
টুকরো যত অভিমান সব,
করবে মনেই কলরব।

হী - হীন হয়ে দিন কাটানো,
যায় না তো আর সময় মানো।
হারিয়ে যাওয়া সুখের দিন,
স্বপ্নরা হোক আবার রঙিন।

ন - নীল আকাশে ডানা মেলে,
সবটুকু দুঃখ দেব ফেলে।
নতুন করে বাঁচতে শেখা,
হবে কি তবে আবার দেখা?

ডা - ডায়েরি জুড়ে তোমার কথা,
রইবে না আর কোনোই ব্যথা।
ডাকলে তুমি আসব ফিরে,
তোমার ঐ সুখের ভিড়ে।

য়ে - চেয়ে থাকা সেই পথের পানে,
সব হবে আজ নতুন গানে।
মেঘের মতো ভেসে চলা,
সহজ হবে সব কথা বলা।

রি - রিনরিনে সেই হাসির সুর,
লাগে আমার বড্ড মধুর।
রিদম খুঁজে পাবে গান,
জুড়াবে এবার মনের প্রাণ।

র - রঙিন ঘুড়ির সুতোটা ধরে,
থাকব মোরা আপন ঘরে।
রোজ রাতে এই চাঁদের আলোয়,
কাটবে সময় বড্ড ভালোয়।

পা - পাখি হয়ে উড়তে চাই,
তোমার মাঝে হারানো চাই।
পাথর চাপা মনের কষ্ট,
হবে না আর কোনোই নষ্ট।

তা - তারা ভরা আকাশ পানে,
থাকব সুখে দুজনে মিলে।
তারপরে এই ইতি টানলাম,
নতুন এক পথ চিনে নিলাম।

আমার কান্না... (কবিতা) - সর্বানী দাস

সর্বানী দাস 


নদী তুমি দুহাত বাড়াও আমার কান্না পূর্ণ হোক ,
সকল দুঃখ ভুলতে গেলে ভুলতে হবে মৃত্যু শোক ।
একুল ওকুল ভাসাও তুমি কান্না বুকে নদীর ক্ষয়,
আমার সকল সৃষ্ট আবেগ  জীবন বৃক্ষে গল্প হয়।
সূর্য তবু অস্ত গেলে গোধূলিতে বসবে পাট,
আমি তখন  অপেক্ষাতে প্রদীপ জ্বেলে দেখবো বাট।
ঢেউ ভেঙে ঢেউ গড়বে আবার বলবে কথা মনের মন,
তখন আমার অশ্রু খুঁজে বসবে যত আপন জন।
মায়ের কোলে মুখটি গুঁজে খুশির কান্না ভাঙলো ঢেউ,
তারপরে তো সুখের ক্লেশে এখন পাশে নেই তো কেউ।
আমি শুধু ভাবতে থাকি দন্ড পেলাম কেনো আজ,
সবাই কেমন সুখে কাটায় দুঃখ যামি আমার রাজ।
নদীর কাছে দুঃখ কয়ে হালকা হলাম একটু যেই,
 ঠিক তখনই দেখি পাশে সঙ্গী আমার কেউ তো নেই।
আপন জনে দুঃখ দিলে চলে মরণ খেলার রেশ,
জীবন থাকতে মৃত্যু আপন  কালবেলাতে সময় শেষ।
হে বিধাতা কি অপরাধ শাস্তি দিলে মোরে হায়!
রইছি বসে একলা ঘরে বিনিদ্র রাত কেঁদেই যায়।
 প্রাণের প্রভু নাশ করো হে সকল দুঃখ কষ্ট মোর,
বেঁচে থাকতে বিরহতে নষ্ট জীবন কষ্ট ঘোর।

অসুখী সময়ের ডায়েরি... (কবিতা) - বিধান চন্দ্র সান্যাল

        বিধান চন্দ্র সান্যাল


সেদিন বিকেলে যখন রোদ আর বৃষ্টির লুকোচুরি খেলা চলছিল,
তখন আমার টেবিলে একটা আস্ত কবিতা এসে বসল।
ডানাভাঙা পাখির মতো, ক্লান্ত, ধূসর।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, "তুমি কি সুখী?"
কবিতাটি মলিন হেসে বলল, "আমি তো সময়ের আয়না,
মানুষের হাসি দেখলে আমি ঝলমল করি,
আর যখন কারো বুকভরা হাহাকার দেখি,
তখন আমিই হয়ে যাই নীল বিষাদের কাব্য ।"
বুঝলাম, কবিতা কোনো নির্দিষ্ট ডেরায় থাকে না।
কখনো প্রেমের জোয়ারে সে সুখী,
কখনো বিচ্ছেদের রিক্ততায় সে ভীষণ দুখী।
সে আসলে সুখ আর দুঃখের মাঝখানের একটা সাঁকো,
যাতে ভর দিয়ে কবিরা পার করে অসীম শূন্যতা ।
সেদিন রাতে যখন তারাগুলো নিভে আসছিল,
কবিতাটি আবার ফিসফিস করে বলল,
"আমার কোনো জাত নেই, আমার কোনো সুখ-দুঃখ নেই,
তোমরা ভালোবাসলে আমি আনন্দ,
ঘৃণা করলে আমিই বেদনা।
আমি শুধু বেঁচে থাকি মানুষের মনের গহীন অরণ্যে

বাংলা... (কবিতা) ✍️ উজ্জ্বল কান্তি দাশ

উজ্জ্বল কান্তি দাশ


বাংলা, 
এ শুধু একটি ভাষা নয়, 
এ যে বাঙালীর হৃদয়ের স্পন্দন, 
এ ভাষার সাথে মিশে আছে মোর 
ছেলে হারা মায়ের ক্রন্দন। 
এ শুধুই একটি ভাষা নয়, 
এ যে বাঙালীর দেহে প্রবাহিত রক্ত, 
সোজা নয়!এতো সোজা নয় 
মাথা নত করানো, 
এ মাথা বড় ইস্পাত কঠিন শক্ত। 
এ শুধু একটি ভাষা নয়, 
এ যে প্রতিবাদের জ্বলন্ত আগুন, 
লড়তে শেখানো মরতে শেখানো
দিনটি ছিলো সেই, 
বায়ান্নের ৮ই ফাগুন। 
দানে পাওয়া ভাষা নয় এটি, 
এ যে প্রাণের ভাষা, 
পাকিস্তানের প্রসারিত গালে, 
সজোরে চর কষা। 
যেনতেন কোন ভাষা নয় এটি, 
বাঙালীর শরীরে প্রাণ, 
কান পেতে শুন দিকে দিকে বাজে, 
বাংলার জয় গান।
কুড়িয়ে পাওয়া ভাষা নয় এটি, 
এ যে বাঙালীর বুকে গর্ভ, 
ভাষার উপর আঘাত এলে, 
ততবার মোরা লড়'ব।
মায়ের ভাষার অধিকার চেয়ে, 
রক্তে রাঙালো বাংলা মায়ের শাড়ি, 
কী করে ভুলি গো? 
সে দিনটি ছিল ২১শে ফেব্রুয়ারি।

আলোর পথে ফেরা (কবিতা) - মুন্নাফ সেখ

 
মুন্নাফ সেখ 


অন্ধকারের বিভীষিকা নিয়ে যারাই পথ চলে,
শান্তির এই সবুজ ধরায় বিষের অনল জ্বলে।
সন্ত্রাস কভু আনে না মুক্তি, আনে শুধু হাহাকার,
রক্তের স্রোতে মুছে যায় হাসি, নামে শুধু অন্ধকার।

মায়ের চোখের তপ্ত অশ্রু, শিশুর আর্তনাদ,
হিংসার অনলে পুড়ে ছাই হয় মানুষের সংবাদ।
কিসের নেশায় মত্ত তুমি? কিসের এই রণ?
মানুষ হয়ে মানুষের কেন কাড়ো অমূল্য প্রাণ?

অস্ত্র ফেলে হাত বাড়াও তুমি ভ্রাতৃত্বের তরে,
ভালোবাসার মশাল জ্বালো প্রতিটি ঘরে ঘরে।
মৈত্রী আর সহমর্মিতাই জীবনের শ্রেষ্ঠ গান,
সন্ত্রাস রুখে আসুক ধরায় শান্তির সুধাপান।

হিংসা ভুলে এসো মোরা এক সুরে কথা বলি,
বিভেদের দেয়াল ভেঙে আলোর পথে চলি।
একই সাথে হাতে হাত রেখে গড়ি নতুন দেশ,
যেথায় থাকবে না কোনো ঘৃণা বা হিংসার রেশ।

মুছে যাক সব গ্লানি আর হানাহানির কালো ছায়া,
হৃদয়ে হৃদয়ে জেগে উঠুক অকৃত্রিম মমতা ও মায়া।
ভোরের শিশিরে ধুয়ে যাক সব ঘৃণার কণা,
সুন্দর এই পৃথিবীতে হোক মানবতার আল্পনা।

মুক্তি - রাজ কিশোর দাস

  মুক্তি - রাজ কিশোর দাস আজ থেকে তোর নাম নেব না, এখন তুই অন্য ললনা। জীবন তো সবার এক হয় না, তাই আর বিরহে বসে থাকা মানায় না। জানি, তুই ঠিক স...

জনপ্রিয় পোস্ট