রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ও আমার ভারত মাতা (লেখিকা- সর্বানী দাস)

ও আমার ভারত মাতা
লেখিকা- সর্বানী দাস 

দ্বিধাবিভক্ত ভারতভূমির উপর দাঁড়িয়ে,
ভাতের লড়াই করতে করতে 
কঙ্কালসার চেহারাটাই ভারতমায়ের প্রতীক..
যে কৃষক বলদের মতো লাঙ্গল টানছে,
বুভুক্ষুর প্রতিনিধিত্বে সে ব্যারিকেট ভাঙতে চায়।

নটার সাইরেন থেমে গিয়েছে কবে,
তবু ধর্মঘটে বসে থাকতে থাকতে 
শ্রমিকের চোখে জ্বলে মশাল।

কাঁখে-কোলে-পেটে সন্তান নিয়ে জননী জন্মভূমি, 
ইঁটের বোঝা মাথায় গাইছে ভাতের গান।

দুবেলা দু মুঠো ভাত যোগান দিতে ঘর ছেড়েছিল যে শিক্ষিত ছেলে,
ঘরে ফেরার তাড়ায় লাশের পাণ্ডুলিপিতে প্রথমেই তাকে দেখি।
  
হে পূণ্য  জন্মভূমি, 
ও আমার ক্রন্দনরত ভারতমাতা!

তোমার তিরঙ্গা আঁচলে বিদেশী ভাষার কাঁটা,
ভেঙে দিয়েছে মাজা
কেড়ে নিয়েছে খিদে
তবুও তুমি থাকবে চুপ?
গাইবে না ভাতের গান?

জাতির মেরুদন্ড ভেঙে পঙ্গু করতে চেয়েছে খিদের লড়াইকে।

ভাষা নয় খিদে নয় -
বুটের আঘাতে প্রমাণ করে দিয়েছে 
ভাতের লড়াই লড়তে এলে হতে হবে রক্তের তাল।

যে ভাষা প্রশ্ন জাগায়
ভাতের গান গাইতে শেখায় 
সেই ভাষার জিহ্বার হাড় ভেঙে 
কৃষকের অন্ন কেড়েছে,
কেড়েছে গর্ভবতীর খিদে বিশ্রাম,
শ্রমিকের হকের মজুরি -

তবু আমরা বেঁচে আছি!
হতাশার সাগরে  এক পেট খিদে নিয়ে।

হরিবোল প্রেম (লেখিকা- সমর্পিতা রাহা)

হরিবোল প্রেম
লেখিকা- সমর্পিতা রাহা

লাল গোলাপে প্রেম নিবেদন
কাকে করব ভাই, 
ছেলে মেয়ে সংসার নিয়ে
জীবন ভেসে যাই। 

রসিক প্রেমিক নয়কো আমি
দেবো  গোলাপ ফুল, 
আমার বৌয়ের দেখি না যে
খোলা লম্বা চুল। 

ফুলের পাপড়ি ঝরে গেছে
ধর্মে কর্মে মন, 
ভালোবাসা অভ্যাস এখন
চিন্তা প্রতি ক্ষণ। 

গোড়ের মালা পরে বিয়ে
আনন্দের'ই রব, 
যাবার বেলায় বলছ কি গো
এখন আমি শব। 

প্রেম দিবসে একত্রেতে
বাজে করুণ সুর, 
গোলাপ নিয়ে চলি স্বর্গে
যাচ্ছি বহু দূর। 

এসো প্রিয়ে কাছে এসো
প্রেম দিবসের মাস, 
গোলাপ ফুলের ছড়াছড়ি
লাগে কেন ত্রাস।

শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ডিজিট্যাল প্রেম (লেখিকা- সমর্পিতা রাহা)

ডিজিট্যাল প্রেম
লেখিকা- সমর্পিতা রাহা

একাকিত্বে তোমার আমার
ডিজিট্যাল প্রেম হলো, 
কথা হলো দুজনেতে
দেখা করি চলো।

টেলিফোনে যোগাযোগে
হৃদয় মেলে ধরি, 
মেসেঞ্জারে কত কথা
কাটে জীবন ঘড়ি। 

কত কথা গোপন ছিল
লুকিয়েছ তুমি, 
বেলাশেষে কাঁদে দেখো
প্রিয়তমা ভূমি। 

টাকা কড়ি সোনাদানা
চুরি করে নিলো, 
অবশেষে যোগাযোগটা
বন্ধ করে দিলো। 

ঠকবাজ জোচ্চর জানোয়ারের
মিষ্টি মিষ্টি কথা, 
ডিজিট্যাল প্রেম করে দেখি
দিল কত ব্যথা।

আগুন নিয়ে খেলা (লেখিকা- সর্বানী দাস)

আগুন নিয়ে খেলা 
লেখিকা- সর্বানী দাস 

আগুন নিয়ে খেলছে শিশু ডাইনি খিদের জ্বালা,
দড়ির উপর হাঁটলে তবে জুটবে ভাতের থালা।

আগুন নিয়ে মরণ কুয়োয় ঝাঁপ দিল যে নারী,
প্রতিমুহূর্ত পরীক্ষা তার শূণ্য ভাতের হাঁড়ি।

আগুন নিয়ে খেলা যে তার মশাল নিয়ে ভালে,
হাততালি দেয় সার্কাসে লোক জোকার  নাচে তালে।

আগুন নিয়ে খেলা হলো পুড়লো সাধের দেহ,
শুধু চিৎকার কানে এলো কারণ জানে কেহ?

আগুন নিয়ে খেললো চাষি  ঋণের দায়ে ঝুঁকে,
বিপ্লব আজও বেঁচে আছে এই রাজপথের বুকে।

আগুন নিয়ে খেললো যে জন অসি শক্ত করে,
প্রতিবাদের স্লোগান কাঁদে চিতাতে ছাই ওড়ে।
 
দুর্বল মনে আগুন ছুঁলে পুড়তে হবে জেনো,
আগুন জ্বালো বুকের খাঁচায় প্রশ্ন রেখো "কেনো"। 

পিপিলিকা ভয়ে মরে আগুনে ঝাঁপ দিয়ে,
সত্যের পথে শিবকে রেখো আগুন প্রদীপ নিয়ে।

সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নদী তরঙ্গে ভাষার গান (লেখিকা- সর্বানী দাস)

নদী তরঙ্গে ভাষার গান 
লেখিকা- সর্বানী দাস 

কুলকুল করে বয়ে চলেছে স্রোতস্বিনী নদী,  হারুণ মাঝি জলে হাত দিলেই, নদী এসে আদর মেখে যেত। হারুণ মাঝির সঙ্গে নদীর অদ্ভুত সখ্যতা।

মাঝি বলতো যে ভাষায় কথা, নদী ও সেই ভাষায় মাঝিকে উত্তর দিত। যখন মাঝনদীর বুকে ঝড় উঠতো, নদী বারংবার আঘাত করে মাঝিকে ফিরে যেতে বলতো তীরে। 

সে ভাষা বোঝা কি আমার-তোমার কম্য...

এইতো কিছু বছর আগে, এক বিশাল ঝড় এলো, ঘরের চাল গেল উড়ে। গাছগুলো দুমড়ে-মুচড়ে কেঁদে উঠলো। রফিক চাচার ধান গাছ গুলো মাটির বুকে নুইয়ে পড়েছিল, এই ঝড় আসার আগেই নাকি হারুণ মাঝি গাঁয়ে বলেছিল, নদী তাকে জানিয়েছে, জলে বিপদের আশঙ্কা আছে।

গাঁয়ের মোড়লসহ সবাই খুব হেসে উঠেছিল। মুখ্যু সুখ্যু মানুষ বড় লজ্জা পেয়েছিল। কিন্তু সে কাউকে বোঝাতে পারেনি, নদী ও কথা বলে, আর সে সত্যি কথা বলছে। 

নদী তাকে নৌকা ভরে ভরে মাছ দিত। যেদিকে মাছ থাকতো সেদিকে নিয়ে যেত। সে একমাত্র হারুণ মাঝিই জানে। নদী তো তার মা। কতবার কত বিপদ থেকে রক্ষা করেছে। মুষলধারে বৃষ্টিতে হারুণ মাঝির ভয় করেনি। যখন জল ফুলে ফেঁপে ফোঁসফোস করছিল, তখনো হারুন মাঝির মনে বিশ্বাস ছিল, ক্ষতি করবে না তার নদী মা। 

কেউ কোনদিন নদী তরঙ্গের কান্না শোনেনি। কেবলমাত্র হারুণ মাঝি শুনতো, হারুণ মাঝি  জানতো, হারুণ মাঝি বুঝতো। নদীর বুকে যে যন্ত্রণা জমছে, তার জন্য দায়ী তারই মত কিছু অকৃতজ্ঞ মানুষ। 

হারুণের গ্যাঁট ফাঁকা। দাঁড়,পাল আর ছোট্ট ডিঙি ছাড়া, নদী তার একমাত্র সম্বল। বড়লোক শিক্ষিত লোকেরা যত নোংরা আবর্জনা পোঁটলা বেঁধে নদীর বুকে জমা করছে। পলিথিন গুলো না যাচ্ছে মাটিতে মিশে, না হচ্ছে নষ্ট। নদী মায়ের বুকে বড় কষ্ট। ক্রমশু তার গভীরতা কমছে। 

একবার নাকি নদী মা হারুণ মাঝি কে বলেছিল, মাছেরা তার কাছে এসে ভীষণ কান্নাকাটি শুরু করেছে। পলিথিনের প্যাকেটের মধ্যে ঢুকে গিয়ে তাদের দম বন্ধ হয়ে আসছে। ভাসতে ভাসতে তাদের সন্তানরা পথ হারাচ্ছে। এসব দুঃখের কথা হারুণ মাঝি জানে। 

সে গাঁয়ের মোড়ল কে বলেও ছিল, নদী তার কাছে কান্না করেছে। মোড়ল সভায় সবার সামনে ভীষণ ধমক দিয়ে বলেছিল...

"প্রতিবাদ হচ্ছে, জিহ্বার হাড় ভেঙে দেবো" 

"বড্ড ভাষা ফুটেছে মুখে"

নদীর ভাষা হারুণ মাঝি বুঝলেও মানুষ বুঝবে কবে ?

গুণাবলী (লেখিকা- সমর্পিতা রাহা)

গুণাবলী
লেখিকা- সমর্পিতা রাহা

ক্রোধ প্রতিশোধ খারাপ কিন্তু
  মনকে নষ্ট করে, 
হাস্যমুখে স্বীকার করা
  চলবে তুমি বরে। 

কথায় কথায় খুনসুটি টা
  সেটা বলি ভালো, 
প্র তিহিংসা ত্যক্ত করে
আলোর দীপক জ্বালো। 

গল্প গুজব করা ভালো
  নিজের ওজন বুঝে, 
বোবার কোনো শত্রু আছে
 পাবে কোথাও খুঁজে। 

ভাঙা গড়ার খেলা চলে
গড়তে কজন পারে, 
ভাঙার দলে সংখ্যা বেশি
ধ্বংস করেই ছাড়ে।

মুক্তি - রাজ কিশোর দাস

  মুক্তি - রাজ কিশোর দাস আজ থেকে তোর নাম নেব না, এখন তুই অন্য ললনা। জীবন তো সবার এক হয় না, তাই আর বিরহে বসে থাকা মানায় না। জানি, তুই ঠিক স...

জনপ্রিয় পোস্ট