শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬

ভারত (লেখক- আকাশ আহমেদ)

ভারত

লেখক- আকাশ আহমেদ

আমি প্রশ্ন, তাই আমি ভারত

আমাকে চুপ করাতে চাইছ?

কিসের ভয়ে?

একটা প্রশ্নে যদি রাষ্ট্র কাঁপে,

তবে সমস্যা প্রশ্নে নয়—

সমস্যা শাসনে!

এই দেশ কোনো মঞ্চসজ্জা নয়,

এই দেশ ছবি তোলার ব্যাকড্রপ নয়।

এই দেশ লড়াই করে দাঁড়িয়ে থাকা

লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের নাম!

আমাকে বলো—লাইন মানো,

আমি বলি—সংবিধান মানো।

আমাকে দেখাও লাঠি,

আমি দেখাই অধিকার!

রাজা নেই বলেছিলে—

তবু কেন মুকুটের অহংকার?

প্রজা নেই বলেছিলে—

তবু কেন নতজানু হওয়ার নির্দেশ?

এই দেশ

হুকুমে চলে না,

হুমকিতে মাথা নোয়ায় না।

এই দেশ চলে যুক্তিতে,

চলে প্রশ্নের আলোয়!

২৬ জানুয়ারি

আমাকে উৎসব শেখায় না—

আমাকে জবাব চাইতে শেখায়।

কতটা ন্যায় দিলি?

কতটা সমতা রাখলি?

এই প্রশ্নটাই প্রজাতন্ত্র!

শোনো!

যেদিন নাগরিক ভয় পায় কথা বলতে,

সেদিন পতাকা শুধু কাপড় হয়ে যায়।

যেদিন সংবিধান পড়া বন্ধ হয়,

সেদিন স্বাধীনতা কবরে যায়!

আমি তাই চিৎকার করি—

কারণ চিৎকারটাই আজ দেশরক্ষা।

আমি তাই প্রশ্ন করি—

কারণ প্রশ্নটাই আজ দেশপ্রেম!

লিখে রাখো—

প্রজাতন্ত্র ভাঙলে

আমরা চুপ থাকিনি।

আমরা কণ্ঠ তুলেছিলাম,

কারণ

আমরা ভারত!

তিড়িং বিড়িং (লেখিকা- সমর্পিতা রাহা)

তিড়িং বিড়িং
লেখিকা- সমর্পিতা রাহা

বানর নাচে পলাশ ডালে
শালিক ঈষাণ কোণে, 
টুনি গাইছে মধুর সুরে
গাধা দেখি শোনে। 

ছাগল ছানা লাফায় শুধু
বায়স খোঁচা মারে
পায়রা ডাকে বকম বকম
ঘোটক নদীর পাড়ে। 

হাতি কেবল শুঁড়টি দোলায় 
খাচ্ছে বেলের পানা, 
কুকুর দেখি লম্ফ দিয়ে
ধরছে চড়ুই ছানা। 

বুলবুল টিয়ে লেজ ঝুলিয়ে
নাচে গাছের পরে, 
বিড়াল তখন ইঁদুর দেখে
ঝাঁপিয়ে যে ধরে। 

প্রকৃতিতে পশু পাখির
চলছে নানা খেলা, 
ব্যস্ত থাকে সারাটা দিন
ফুড়িয়ে যায় বেলা।

গৈরিক লীলা (লেখক- সর্বানী দাস)

গৈরিক লীলা 
লেখক- সর্বানী দাস 

গৈরিক আবির আকাশের সামিয়ানায়,
চঞ্চল বলাকা ক্লান্ত, ঘরে ফেরার তাড়া -
দিগন্তে আলো ছায়ার সন্ধিক্ষণ 
স্বর্ণচাঁপা গন্ধ রেখে যায় মৃদুমন্দ সমীরণে 
ঘরে ফেরার তাড়া রাখালের 
বাঁশির সুরে সূর্য ডুবছে রূপসার জলে..
নীললোহিতের আলুলায়িত তরঙ্গের মাদকতায় অজানা নাবিক 
ফিসফিস করে কথা বলে গেল বকুলের সই 
কামিনীর সোহাগে নোলক পড়বে অব্যক্ত বিহঙ্গম
"মিলন হবে কতদিনে "-- আউল বাউল ফিরছে গৈরিক বসনে
স্বর্গ নামে ধীরে গোঁসাইয়ের নিকোনো উঠানে
লীলা চলবে দুই চোখের তারায়..
প্রেমময় স্রষ্টার লীলা,,
"ধরি ধরি কি যে করি, ধরতে গেলে আর পেলেম না---"
রাত নামে আলোকানন্দায়--
তারপর একরাশ তমসা--
শুধু অপেক্ষা
বিভাবরী জাগো
জাগো ভৈরবী ভোর।

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

একুশ এক অবিনাশী অনির্বাণ (লেখক- জেড.আর.স্বপন)

একুশ এক অবিনাশী অনির্বাণ
লেখক- জেড.আর.স্বপন      
                                
একুশ মানে বাঙালীর মস্তিস্কে এক অবিনাশী চেতন। 
রফিক শফিক সালাম বরকত জব্বার আরও-
কত নাম না জানা তাজা প্রাণের অকাল নিপাতন। 

স্মৃতির জানালায় আজও উঁকি দেয় তাদের বুকের- রক্তে লেখা কাঙ্খিত ভাষার দৃঢ়চেতা পণ। 

আজ যে ভাষার বাগানে ছড়িয়ে আছে 
অবারিত শব্দ আর বর্ণমালার কহন- সেতো তাদেরই রক্তের কালিতে অর্জিত ফসলের জংশন।   
যে ভাষার জন্য ভিনদেশী কুকুরেরা বাংলার বুকে 
করেছিলো হাজার চক্রান্তের বাহানা। 

অকুত ভয় দামালেরা তাইতো বুলেটের আঘাত
বুকে নিয়ে রাজপথে দিয়েছিলো হানা। 

ক্লেশ অর্জিত বাংলা মায়ের ভাষা-
যার তরে তোমরা দিয়ে গেলে প্রান- 
স্মরণ করি তোমাদের সেই শৌর্যগাথা আত্মদান। 

যত দিন থাকবে পদ্মা মেঘনা বহমান- 
তোমরাই হয়ে থাকবে একুশের অনির্বাণ।

লাল সবুজের পতাকায় তোমাদের অনুরণন-
চীরদিন থাকবে হয়ে উষ্ণ প্রস্রবন!!
    ------!!!-------

মহান একুশে ফেব্রুয়ারি (লেখক ✑ মিজানুর রহমান)

মহান একুশে ফেব্রুয়ারি 
লেখক ✑ মিজানুর রহমান

আ মরি বাংলা ভাষা 
মহান একুশে ফেব্রুয়ারি, 
রক্ত দিয়েছে দামাল ছেলেরা
আমি কি ভুলিতে পারি? 

পাকিস্তানের কথিত জনক জিন্নাহ 
বলেছিল উর্দু হবে রাষ্ট্রভাষা, 
ভেবেছিল বাঙালি জাতি দুর্বল 
মেনে নেবে শ্রমিক চাষা। 

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত জাতীয় সংসদে 
জানিয়েছিলেন প্রথম প্রতিবাদ, 
বুঝে নিয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানিরা
বাঙালি কি জাত।

মাতৃভাষা কেড়ে নেওয়ার ঘোষণায়
গর্জে ওঠে রাজপথ, 
কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, জনতা 
গড়ে তোলে প্রতিরোধ। 

আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে অলিগলি 
গ্রাম, শহর, সারাদেশে, 
মিছিল মিটিং ফেস্টুন প্লাকার্ড
প্রতিবাদে গেলো ভেসে। 

আন্দোলন দমাতে রক্তলোলুপ পাকিস্তানিরা 
জারি করে একশো চুয়াল্লিশ ধারা, 
বাঙালি জাতি বীরের জাতি 
একশো চুয়াল্লিশ মানেনি তারা।

মিছিলের উপর চালালো গুলি 
লুটিয়ে পড়ল বীর সন্তান, 
মায়ের ভাষার মান রাখিতে 
প্রস্তুত শত প্রাণ। 

রফিক শফিক জব্বার বরকত
নাম না-জানা শহিদেরা, 
ভাষার তরে জীবন দিলো
হয়নি তাদের ঘরে ফেরা।

অসংখ্য শহিদের রক্তের বিনিময়ে 
বাংলা হলো রাষ্ট্রভাষা, 
বাংলায় লিখি, বাংলায় পড়ি 
মিটলো মায়ের আশা। 

বাংলাভাষা শুধু বাঙালির নয়, পেয়েছে -
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি, 
বিশ্বজুড়ে সবাই শ্রদ্ধায় স্মরণ করে 
ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি।

অবাক কাণ্ড (লেখিকা- সমর্পিতা রাহা)

অবাক কাণ্ড
(লেখিকা- সমর্পিতা রাহা)

নির্জন স্টেশনে ট্রেনটা থামল। 
বেশ কিছু সময় ট্রেণ দাঁড়িয়ে রইল। 
ভাবলাম সারা ট্রেণ ফাঁকা, আমি একা। এই স্টেশন থেকে হয়ত লোক উঠবে।

রাত দুটো বাজে। বেশ খিদে লাগছিল। ব্যাগে তো একটা চানাচুর এর প্যাকেট ছাড়া কিছু নেই। বার করে খেতে যাব। হঠাৎ ছোট্ট ছেলের হাত। কী ঠাণ্ডা হাত।

আমি জিজ্ঞেস করি –
কি নেবে চানাচুর? 
খুব ঝাল তো! খেতে পারবে না। 
জানো বাবু তোমার মতো আমার একটা ছেলে আছে। 

ছেলেটা খিলখিল করে হেসে বলল মু  তো তুর ছিল্যাই বাব্বু। চিনতে পারছে্ক লাই। মু তর বাবুয়া বটে। 

আরিব্বাস ঠিক বলেছ তো। আমার ছেলের নাম ও বাবুয়া বটেই। 

হেই বাপু মন দিয়া শুন ক্যানে , মু তুর আস্সল ছিল্যাই বট্টেক। তু তো মাম্মার ঘরটোতে আসুস লা। তাইতো বুইঝতে লারছক। 

ইরপর লামবিক তো। যা জিনিস গুছায় লে বাপু। 
পরের স্টেশনে ওর হাত ধরে নেমে যায়। একটা চা ওয়ালা বললক চা খাবেন বাবুসাব। 

চা খেয়ে শান্তি পেলাম। ছেলেটা দূরে আঁধারে তিরিং বিরিং করে লাফাচ্ছে। গান করছে
চিঠ্ঠি আয়ি হেই চিঠ্ঠি আয়ি।

বাব্বু ছিলেটার সব থিকা দুষ অখন সুব্বাই আছেক, তবুও উর কেউ লাই জানেন।
উর মা গতবছর কুথায় চল্যে গেছেক। বাবাটা বহুদিন খোঁজ লেয় লাই। 

হুনেছি উর বাবার একটা দুর্ঘটনায় অতীত স্মৃতি ভুইলে গ্যাছেক। 

আচ্ছা এত খবর আপনারা জানলেন কি করে? 
জানেন কোলকাতার বাবু উর ঠাকমা দাদু উকে অস্বীকারট করেছে!

তাদ্দের ছিলা অসুস্থ তাই লাতি বৌমার দায়িত্বট লেন নি। ওই বাচ্চার মাটো, যার সঙ্গে পালায়ছেক। 
ছেলেটাকে অপছন্দ নতুন বরের। ছিলাটা প্রায় ছমাস ধরে হুজ্জতি করে। আমার কাছকেই থাক্কে ক্যানে এখন। 

আমি বলি ছেলেটাকে দেবেন। কিন্তু যার ছিলা সে যদি খুঁজ করতে আসেক। 
বাচ্চাটা ছুট্টে এসে বলে এই যে বাব্বু চায়ের দাম পাঁচ সিকা। এক টাকা পঁচিশ পয়সা দ্যান  দেখি। ইবার যাই ক্যানে পরের টেরেনে মুর বাপট যদি আসেক। 

আমি বাচ্চার হাত চেপে বলি। আমি তোর বাবা। দেখবি ছবি। 

পকেট থেকে ছেলে বৌয়ের ছবি দেখালাম। ছেলেটা বেশ চিন্তায় পড়ল। বাচ্চাটা বলেক–হেবাব্বু মুর মা ট ঠিক লাগছে। ছিলাটা কুত ছোট লাগছেক। আমি বলি তুই তো তিন বছর আগে ছোট ছিলিস। 

চা ওয়ালার বাড়ি গেলাম। রাত কাটিয়ে ছেলেকে নিয়ে আসলাম বাড়ি। দাদু ঠাকমার ছবি দেখিয়ে বললাম ইনারা হলেন তোমার দাদু ঠাকমা। 
ছেলেটা বিড়বিড় করে বলল তোমরা আমাকে কাছে ডাকলে না কেন? 

এত কষ্ট করে তাহলে থাকতাম না।
যেন বাবা মু কে সবাই কষ্ট দিয়েছেক। 
মা থাকতে মা লাই। বাবা থাকতে বাবা ও লাই। 
আমি জড়িয়ে ধরে বলি আর কোনো কষ্ট নয় সোনা। এবার থেকে তুই আর আমি আনন্দে থাকব, পড়ব, বেড়াব। ছেলে বলে আর চা খাব। 
আমি হেসে বলি চা শুধু নয় ভাত রুটি শাকসবজি মাছ, মাংস সব খাব।

কিছু কথা আজও বাকি (লেখিকা- সর্বানী দাস)

কিছু কথা আজও বাকি 
লেখিকা- সর্বানী দাস 

কথা শেষ হবার পরও 
অনেক কথা বাকি থেকে যায়,
সেদিন রাতে যখন খুব ঝড় উঠলো 
গাছেরা একপাশে হেলে গিয়েও 
দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলো 
বাতাস ওদের কানে কানে 
ফিসফিসিয়ে কিছু বলেছিলো।

মুষলধারায় বৃষ্টি হলো,
শুকনো মাটির বুক ভিজে সুগন্ধ ছড়ালো 
চাঁপা ফুলের গন্ধ ছাড়িয়ে সেও কিছু বলেছিলো বাতাসের কানে কানে।

মেঘে মেঘে দ্বন্দ্ব হলো,
কেউ কাঁদলো অঝোরে,
কারোর বুক চিরে বেরিয়ে গেলো শক্তি 
ধুয়ে গেলো বেদনা 
তারপরে আবার পাশাপাশি হাসাহাসি 
মেঘেদের চুপিচুপি কিছু কথা বাকি ছিলো।

এই যে তোমার রঙে আমি রঙিন হয়ে উঠলাম 
তোমার আঘাতে রক্ত বের হলো 
তার কথা আমি তোমাকে বলতে চাইলাম,
বলা হলোনা...
আমার এই না পাওয়া হৃদয় প্রতিজ্ঞা পালনে 
বড়ো একা 
চুপকথারা আজ আবেগের চূড়ায় ছুঁতে চায় তোমায় কথায় কথায়।

কতটুকু পারে, তবু প্রয়াসের ফাঁকে ফাঁকে,
দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে ফাটল বোজানোর আশায়।
তবু কথা দিয়ে কথা রাখে না 
মিলিয়ে যায় কুহেলিকায়,
তারপর ও কথা থেকে যায় কথায় কথায়।

বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চলো পাল্টাই (লেখক- সালাম মালিতা)

চলো পাল্টাই
লেখক- সালাম মালিতা

চলো পাল্টাই
নিকষ কালো রাতে আকাশের বুক চুঁইয়ে পড়া ঐ শিশিরের মত করে-
যেখানে শুধু মানবতার শর্তের দলিলে সই করে 
দীনের হৃদয়ের মাটিতে জায়গা হয়।

চলো পাল্টাই
সকল অমানিশা দূর করা সূর্যের মত করে-
অতীতের সব মান-অভিমান ভুলে
সকলের মঙ্গলের জন্য নিজের অকৃত্রিম দান উপহার দিই।

চলো পাল্টাই 
প্রভাতের জানান দেওয়া মোরগের মত করে-
জাতপাতের উর্ধ্বে গিয়ে সকলের মঙ্গলের জন্য 
পরিবর্তনে মধুর সুরে ডাক দিই।

চলো পাল্টাই 
ফুটন্ত পুষ্পমঞ্জরির মত করে-
নিজের সুকর্মের সুবাস সকলের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে দেশ, সমাজ, জাতি গঠনে ভূমিকা রাখি।

চলো পাল্টাই ঋতুর মত করে 
চৈত্রের অসহ্য গরমের পর যেমন শ্রাবণের 
ধারা ঝরে-
মনের সকল ঈর্ষাকে চিরতরে হত্যা করে 
সাম্যের বৃষ্টিতে ভিজে হৃদয়টা শীতল করি।

চলো পাল্টাই 
শীতে সব পাতা হারানো ঐ বৃক্ষরাজিদের মত করে-
বারবার অট্টহাসির মুখোমুখি হলেও
আবারও মানবসেবায় নিবেদিত প্রাণ থাকি।

চলো পাল্টাই
জলশূন্য ঐ নদীর মত করে-
পরোপকারের বর্ষায় নিজের পরিপূর্ণতার জন্য 
শত প্রতিকূলতার পর আবার টিকে থাকি। 

চলো পাল্টাই
পুরানো ক্যালেণ্ডারের মত করে-
অতীতের সকল কর্মের গভীর সমালোচনায়
নিজেকে পরিবর্তনের মানসিকতা তৈরি করি।

চলো পাল্টাই
লাইনে দাঁড়ানো ঐ শেষ ব্যক্তির মত করে-
ধৈর্যের সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করতে করতে
অন্তিম লগ্ন পর্যন্ত সততার পথই অবলম্বন করি।

চলো পাল্টাই 
ঝড়ের কবলে পড়া দলছুট পাখির মত করে-
পথভ্রষ্ট হলেও শেষ বিচারের ভয়ে 
আবারও ধর্মের পথ অনুসরণ করে প্রত্যাবর্তন করি!

চলো পাল্টাই
দিনান্তে ঐ অস্তমিত সূর্যের মত করে-
নিজেকে প্রকৃত মানুষরূপে গড়ার লক্ষ্যে
আগামীকাল থেকে আবারও নতুন করে শুরু করি।

চায়ের আড্ডা (লেখিকা- সমর্পিতা রাহা)

চায়ের আড্ডা
লেখিকা- সমর্পিতা রাহা

সিধু বাবুর চায়ের দোকান
নানা লোকের আড্ডা, 
সব রকমের আলোচনা
হাসেন সিধু চাড্ডা।

লিকার চায়ের অর্ডার বেশি
স্টোভ সর্বদা জ্বলে
সিধু বাবু ব্যস্ত ভীষণ
কাজের চাপে টলে। 

মাঝে মাঝে গানের আসর
চা দোকানে বসে, 
বিভোর হয়ে চা প্রেমীরা
শব্দছক যে কষে। 

পার্টির গরম আলোচনা
মেজাজ গরম করে, 
সিধু বাবু হেসে বলে
এবার জান তো ঘরে। 

বৌ বলেছে ব্যবসা করলে
থাকতে হবে ঠান্ডা, 
হয়ত তারা নেতা মন্ত্রী
তোলেন রঙিন ঝান্ডা।

বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রজাপতির ডানায় (লেখক- আজিজ উন নেসা)

প্রজাপতির ডানায় 
লেখক- আজিজ উন নেসা

সবুজ হলুদ সর্ষে ক্ষেতে 
কোথায় যেন হারিয়ে যায়, 
আমি আমার থেকে অনেক দূরে.....
আমার একলা জগত, আমার একলা চলা 
এক্কা দোক্কা শব্দপাথর,
পায়ে পায়ে জল নুপুর,
কাঠের ডিঙ্গি পরলো গিয়ে সাগর জলে!
ব্ল্যাকবোর্ডের সাদা কালো জগত ছেড়ে 
খোলসে ঢুকে প্রিয় অন্ধকারের আঁস্তাকুড়ে, 
"কিচ্ছু হবে না! যত্ত সব ব্যাক বেঞ্চার..."
আমার আমি ধরমড়িয়ে আড়মোড়া ভাঙ্গে! 
ভিতরের বাতাস অগ্নি খর,
এদিক তাকাই ওদিক তাকাই
হাত পা ছোড়ে বাঁচার আশায়....

মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬

অক্ষরের ঘরবাড়ি (লেখক- আকাশ আহমেদ)

অক্ষরের ঘরবাড়ি
লেখক- আকাশ আহমেদ

শহরের শেষ প্রান্তে, রেললাইনের ধারে একটা ছোট্ট ঘর ছিল। টিনের চাল, একপাশে মরচে ধরা জানালা, আর দরজার গায়ে বহু বছরের পুরোনো পোস্টার—কোনোটায় কবিতার লাইন, কোনোটায় কোনো সাহিত্য সভার আহ্বান। ঘরটার নাম কেউ জানত না, কিন্তু আশপাশের মানুষ একে ডাকত—

“ওই লেখার ঘরটা।”

এই ঘরেই থাকত নীলয় সরকার। নীলয় কোনো নামী লেখক ছিল না। কোনো পত্রিকার নিয়মিত কলামিস্টও না। তার বই প্রকাশ পায়নি কোনো বড় প্রকাশনায়। তবু নীলয়ের ঘরে প্রতিদিন আলো জ্বলত—অক্ষরের আলো।

সে বিশ্বাস করত,
সাহিত্য মানে বিখ্যাত হওয়া নয়, সাহিত্য মানে বেঁচে থাকার আরেকটা ভাষা।

সকালের আলো জানালা দিয়ে ঢুকলে নীলয় প্রথমে তাকাত তার বইয়ের তাকটার দিকে। তাক নয় আসলে—ইট আর কাঠের তক্তা জুড়ে বানানো একটা অস্থায়ী আলমারি। সেখানে রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, মানিক, মহাশ্বেতা—সবাই পাশাপাশি। কারো গায়ে নতুন বাঁধাই, কারো মলাট ছেঁড়া, পাতায় পাতায় দাগ।

নীলয় বইগুলোকে মানুষ মনে করত।
সে প্রায়ই বলত—
“মানুষ যেমন কথা বলতে না পারলে ভেতরে ভেতরে ভেঙে যায়, বইও তেমনই—পড়া না হলে তারা নিঃশ্বাস নিতে পারে না।”

তার জীবিকার নাম ছিল টিউশন। সকালে দুটো, বিকেলে তিনটে। বাকিটা সময়—লেখা, পড়া, ভাবা।
একদিন বিকেলে, টিউশন শেষে ফিরতে ফিরতে সে দেখল, রেললাইনের পাশে একটা ছেলে বসে আছে। বয়স বড়জোর দশ-এগারো। চোখে অদ্ভুত একটা শূন্যতা।

নীলয় জিজ্ঞেস করল,
“কি রে, এখানে বসে আছিস কেন?”
ছেলেটা চুপ করে রইল।
নীলয় আবার বলল,
“বই পড়তে পারিস?”
ছেলেটা মাথা নাড়ল—না।
নীলয় হাসল।
“ভয় নেই। আমিও প্রথমে পারতাম না।”

ছেলেটার নাম ছিল রাহুল। বাবা নেই, মা লোকের বাড়িতে কাজ করে। স্কুলে যায় ঠিকই, কিন্তু পড়া তার কাছে বোঝা।

নীলয় রাহুলকে নিয়ে এল তার ঘরে।
সেই প্রথম রাহুল বইয়ের ঘর দেখল।
ওর চোখ বড় হয়ে গেল।
“এত বই!”
“এগুলো কি বিক্রি করো?”
নীলয় বলল,
“না। এগুলো আমার বন্ধু।”
রাহুল অবাক হয়ে তাকাল।
“বই আবার বন্ধু হয় নাকি?”

নীলয় একটা বই নামাল। পাতাটা খুলে পড়ল—
“এই তো বন্ধু। যখন কেউ কথা শোনে না, তখন এরা শোনে।”

সেই দিন থেকেই রাহুল প্রায় প্রতিদিন আসতে লাগল। প্রথমে শুধু বসে থাকত। তারপর ছবি দেখত। ধীরে ধীরে অক্ষর চিনল। তারপর শব্দ।
একদিন রাহুল হঠাৎ বলল,
“দাদা, আমি একটা গল্প লিখতে চাই।”
নীলয় চুপ করে তাকিয়ে রইল। চোখে জল চলে এল।

এই শহরে নীলয় একা ছিল না। কিন্তু সাহিত্যচর্চায় সে প্রায় একাই পড়ে গিয়েছিল। চারদিকে তখন দ্রুততার উৎসব—ভিউ, লাইক, ভাইরাল। সাহিত্য যেন ধীরে হাঁটা কোনো বৃদ্ধ।

একদিন পৌরসভার এক কর্মকর্তা এল।
“এই ঘরটা ভেঙে দিতে হবে। এখানে রাস্তা হবে।”
নীলয় জিজ্ঞেস করল,
“বইগুলো কোথায় যাবে?”
লোকটা হেসে বলল,
“বই দিয়ে রাস্তা বানানো যায় না, মাস্টারমশাই।”

সেই রাতে নীলয় ঘুমোতে পারল না। সে বইগুলোর দিকে তাকিয়ে বসে রইল। প্রতিটা বই যেন কিছু বলতে চাইছে।
রবীন্দ্রনাথ যেন বললেন—
“যেখানে ভয় নেই…”
জীবনানন্দ ফিসফিস করে বললেন—
“আবার আসিব ফিরে…”
নীলয় সিদ্ধান্ত নিল—
এই ঘর ভাঙলেও, সাহিত্যের ঘর ভাঙতে দেবে না।

পরদিন সে এলাকার ছেলেমেয়েদের ডাকল।
বলল—
“এখানে আমরা পড়ব, লিখব। যে যেমন পারে।”
প্রথম দিন এল তিনজন।
দ্বিতীয় দিন সাতজন।
এক সপ্তাহে—পঁচিশ।

কেউ কবিতা পড়ল, কেউ নিজের জীবনের কথা বলল। কেউ প্রথমবার কলম ধরল।
রাহুল সেদিন তার লেখা পড়ল—
“আমার বাবা নেই
কিন্তু আমার একটা গল্প আছে
যেখানে বাবা রোজ ফিরে আসে।”
সবার চোখ ভিজে গেল।

পৌরসভা আবার নোটিশ পাঠাল।
এবার লোকজন দাঁড়াল নীলয়ের পাশে।
একজন বলল—
“এই ঘর আমাদের বাচ্চাদের পড়তে শিখিয়েছে।”
আরেকজন বলল—
“এখানে আমার ছেলে কথা বলতে শিখেছে।”
মিডিয়াও এল। ছোট্ট খবর বেরোল—
“রেললাইনের ধারে সাহিত্যের আলো।”
শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হল—ঘরটা থাকবে। রাস্তা ঘুরে যাবে।

নীলয় সেদিন কিছু বলল না। শুধু তাকিয়ে রইল তার বইগুলোর দিকে।

বছর কেটে গেল।
রাহুল এখন কলেজে পড়ে। মাঝে মাঝে এসে বসে।
একদিন সে বলল—
“দাদা, আমার প্রথম গল্প ছাপা হয়েছে।”
নীলয় হাসল।
বলল—
“দেখলি, সাহিত্য কাউকে বড় করে না,
কিন্তু কাউকে একা থাকতে দেয় না।”
সন্ধ্যেবেলায় ঘরের আলো জ্বলে ওঠে।

রেললাইন দিয়ে ট্রেন চলে যায়।
কিন্তু অক্ষরের ঘরটা স্থির থাকে।
কারণ...
যেখানে সাহিত্য থাকে, সেখানে মানুষ ফিরে আসে।

২৬শে জানুয়ারি (লেখক- উজ্জ্বল কান্তি দাশ)

২৬শে জানুয়ারি
লেখক- উজ্জ্বল কান্তি দাশ

আমাদের মহান প্রজাতন্ত্র দিবস
২৬শে জানুয়ারি, 
উন্নিশো পঞ্চাশ হতে প্রতিটি বছর
শ্রদ্ধায় পালন করি। 

সাম্য মৈত্রী অবাধ স্বাধীনতা
গণতন্ত্রের মূল কথা, 
বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে মোরা
এক সুতোতে গাঁথা। 

লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া
মোদের পবিত্র সংবিধান, 
কোনদিন মোরা ভুলতে পারিনা
লাখো শহীদের অবদান।

তীব্র গতিতে ছুটছে ভারত
বিশ্বকে করে আপন, 
তেমনি করে প্রতিষ্ঠিত হোক
সুবিচার সুশাসন। 

সবার মুখে অন্ন জুটবে
সবাই সুখে রবে, 
আমার ভারত মাকে দেখে
বিশ্ব অবাক হবে। 

পৃথিবী শ্রেষ্ঠ দেশ হবে মোদের
সবাই অধিকার পাবে, 
সেই দিনটির স্বপ্ন দেখি
ভীষণ ভীষণ ভাবে।

বীর যোদ্ধা সুভাষ (লেখক- রাণা চ্যাটার্জী)

বীর যোদ্ধা সুভাষ 

লেখক- রাণা চ্যাটার্জী


আফসোস  হয় মনের মধ্যে নেতাজী তোমার জন্য বীর যোদ্ধা কি অসম সাহসী, ভারত ভূমি যে ধন্য। সূর্য যেমন প্রখর  উজ্জ্বল, তেমনি নেতাজী তুমি, আজাদ হিন্দ গড়ে দেখালে স্বপ্ন, খুশির জন্মভূমি।

ফিরে এসেছিলে প্রিয় সুভাষ দেশ নায়কের মতো, আড়াল করেছে রাষ্ট্রনেতা, ফল ভুগছে দেশ ক্ষত।

গগনচুম্বি ব্যাক্তিত্ব ছিল, অবিচল উচ্চ লক্ষ্যে স্থির, বিবেকানন্দের আদর্শে চরিত্র গঠন দৃঢ় নেতাজির।

রক্ত দাও আমি স্বাধীনতা দেবো, সুভাষের আহ্বান, ভুলতে পারি না এই দৃঢ়প্রত্যয় শ্রেষ্ঠত্বের সোপান।

মৃত্যু হয়নি এসেছিলে ফিরে, যোগ্য নেতা রূপে তুমি দুর্ভাগ্য দেশ- আমজনতার এ আক্ষেপে জন্মভূমি।

লহ প্রণাম জন্মদিনে হে রাষ্ট্র নায়ক, জনক-পিতা।ভাবুক হৃদয় আজও মানে সুভাষচন্দ্র সেরা নেতা।

সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রজাতন্ত্র দিবস (লেখিকা- সুবর্ণা দাশ)

প্রজাতন্ত্র দিবস
লেখিকা- সুবর্ণা দাশ

স্বাধীনতা আজ মাথা খুঁড়ে মরে, 
অসাধু নরপশুদের দ্বারে দ্বারে। 
ক্ষমতার অপব্যবহার করে সমাজপতি, 
সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? 
কি হবে তাদের গতি? 
নাগরিক মোরা স্বাধীন দেশের, 
লজ্জায় তবু নত হয়ে আসে শির! 
এমন দেশ গড়তে কি দিয়েছিল প্রাণ? 
দেশমাতৃকার লাখো বীর! 

ক্ষমা করো, যারা জীবন বিপন্ন করেছিলে, 
গর্জে উঠেছিলে, হাতে তুলে নিয়েছিলে অস্ত্র, 
লেলিহান শিখায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলে, 
মাতৃভূমিকে করতে রক্ষা। 
তোমাদের আত্ম বলিদানের মোরা
করতে পারিনি সম্মান! 
ক্ষমা করো, হে দেশমাতৃকার বীর সন্তান, 
ক্ষমা করো এ অধম অযোগ্য সন্তানদের। 

প্রতিটি বছর পালন করি গণতন্ত্র দিবস, 
উড়ে জাতীয় পতাকা, 
পারছি কি মোরা রাখতে
এই তিরঙ্গার মহীয়ান! 
খর্ব হচ্ছে আজ নাগরিক অধিকার-
বিচার পায় না সন্তান হারা বাবা-মা, 
পথে পথে ঘুরে সুবিচারের আশায়, 
হয়তো চোখ খুলবে রাষ্ট্রযন্ত্র, 
হায়, হায়রে প্রজাতন্ত্র!

প্রজাতন্ত্র দিবসের তাৎপর্য (লেখক- জয়দীপ বসু)

প্রজাতন্ত্র দিবসের তাৎপর্য
লেখক- জয়দীপ বসু

ভূমিকাঃ
২৬ শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস। ভারতের জাতীয় জীবনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবোজ্জ্বল দিন। প্রতি বছর ২৬শে জানুয়ারি সারা দেশজুড়ে এই দিনটি গভীর শ্রদ্ধা, দেশপ্রেম ও উৎসাহের সঙ্গে উদযাপন করা হয়। এই দিনটি ভারতের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক, কারণ ১৯৫০ সালের এই দিনে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সম্পূর্ণ প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়। স্বাধীন ভারতের শাসনব্যবস্থা এই দিন থেকেই সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হতে শুরু করে।
 
প্রজাতন্ত্র’ শব্দটির অর্থ হলো—যে রাষ্ট্রে দেশের শাসনক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে। এখানে কোনো রাজা বা সম্রাট শাসন করেন না; বরং জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশ পরিচালনা করেন। ভারতের মতো একটি বিশাল ও বৈচিত্র্যময় দেশে প্রজাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা নাগরিকদের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের ঐতিহাসিক পটভূমিঃ
দীর্ঘ প্রায় দুই শতাব্দীর ব্রিটিশ শাসনের পর ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল একটি স্থায়ী, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক সংবিধান প্রণয়ন করা।
এই উদ্দেশ্যে একটি সংবিধান সভা গঠন করা হয়। বহু বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, আইনজ্ঞ ও জাতীয় নেতার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে প্রায় ২ বছর ১১ মাস ১৮ দিন ধরে সংবিধান রচনার কাজ চলে। "ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকর ছিলেন সংবিধান খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান এবং তাঁকেই ভারতের সংবিধানের প্রধান রূপকার বলা হয়"।

২৬শে জানুয়ারি তারিখটি বিশেষভাবে নির্বাচন করা হয়, কারণ ১৯৩০ সালের এই দিনেই পূর্ণ স্বরাজ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি ভারতের সংবিধান কার্যকর করা হয় এবং ভারত একটি সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

ভারতের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যঃ
ভারতের সংবিধান বিশ্বের দীর্ঘতম লিখিত সংবিধান। এতে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার মৌলিক কর্তব্যএবং রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতিমালাৎবিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সংবিধান জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ ও ভাষার ভেদাভেদ দূর করে সকল নাগরিককে সমান অধিকার প্রদান করে। বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শিক্ষা ও জীবনের অধিকার সংবিধানের মাধ্যমে সুরক্ষিত হয়েছে। প্রজাতন্ত্র দিবস আমাদের এই সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।

প্রজাতন্ত্র দিবসের জাতীয় অনুষ্ঠানঃ
প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কর্তব্য পথ (রাজপথ)। এই দিন ভারতের রাষ্ট্রপতি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সম্মিলিত কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।
স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজ দেশের সামরিক শক্তি ও প্রস্তুতির পরিচয় দেয়। বিভিন্ন রাজ্যের সাংস্কৃতিক ট্যাবলো ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, লোকশিল্প ও উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে। সাহসিকতা, বীরত্ব ও সামাজিক অবদানের জন্য নাগরিকদের বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত করা হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজে প্রজাতন্ত্র দিবসঃ
বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে প্রজাতন্ত্র দিবস অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে পালন করা হয়। পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, আলোচনা সভা, প্রবন্ধ পাঠ, আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক গান এই দিনের বিশেষ আকর্ষণ।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, নাগরিক দায়িত্ব ও সংবিধান সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলাই এই উদযাপনের প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রজাতন্ত্র দিবসের তাৎপর্যঃ
প্রজাতন্ত্র দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা কেবল রাজনৈতিক মুক্তি নয়; বরং ন্যায়, সমতা ও আইনের শাসনের মাধ্যমে স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখা। এই দিনটি আমাদের নাগরিক হিসেবে কর্তব্য পালনের কথা মনে করিয়ে দেয়।
জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও দেশপ্রেম জাগ্রত করার ক্ষেত্রে প্রজাতন্ত্র দিবসের ভূমিকা অপরিসীম।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রজাতন্ত্র দিবসঃ
বর্তমান যুগে প্রজাতন্ত্র দিবসের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। গণতন্ত্র রক্ষা, সংবিধানের মূল্যবোধ বজায় রাখা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। দুর্নীতি, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলাও এই দিনের অন্যতম শিক্ষা।

উপসংহারঃ
প্রজাতন্ত্র দিবস কেবল একটি জাতীয় উৎসব নয়; এটি ভারতের গণতান্ত্রিক আত্মার প্রতিফলন। এই দিনটি আমাদের শপথ নিতে শেখায় যে আমরা সংবিধানের আদর্শ মেনে চলব, দেশের আইনকে সম্মান করব এবং জাতির উন্নতিতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখব। ঐক্য, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে ভারতবর্ষ একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও আদর্শ প্রজাতন্ত্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে—এটাই প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল বার্তা।

ভারত বর্ষ আবার স্বপ্নের দেশে পরিণত হবে। উন্নয়নশীল নয়, উন্নত দেশে পরিণত হবে।

প্রজাতন্ত্র (লেখক- অতনু চৌধুরী)

প্রজাতন্ত্র
লেখক- অতনু চৌধুরী 

রাজা প্রজায় চাইনি তফাৎ 
দোঁহের মিলন সহাবস্থান,
তাই নিয়ে যে প্রজাতন্ত্র 
ভারত দেশের নয়া বিধান।

ভারতীয় সব নাগরিক কয়
ধর্ম নহে রাষ্ট্রের অঙ্গ,
ধর্মাচরণ অধিকার হয় 
সব নাগরিক সঙ্গ।

ধর্ম,বর্ণ, নির্বিশেষে 
চলা,বলার স্বাধীনতা,
খাদ্য পোশাক গমনাগমন 
ব্যক্তি সবের স্বতন্ত্রতা।

আইন বিচার সংবিধানে 
সর্বক্ষেত্রে সমান গনে,
শিক্ষা দীক্ষা স্বাস্থ্য সবার 
সমান দাবি সার্বিক মনে।

উড়ছে দেখো তে-রঙা ভাই 
গাইছি সবাই ভারতের গান,
দেশের তরে দশের তরে 
দিচ্ছে ভাষণ প্রজ্ঞাবান।

সংবিধান কি রক্ষাকবচ
দেশের,ব্যক্তির -তোমরা মানো?
উন্নাও হাথরস ঘটছে কেন?
বিচার পায় না বিলকিস বানো?

মন্দির হচ্ছে রাষ্ট্রদ্যোগে 
যবন,হিন্দু,দলিত ব্রাত্য,
কোন্ পথে আজ চলছে রে দেশ
সম্প্রীতি বাদ মিল সৌহার্দ্য।

"প্রজাতন্ত্র" বাক্য কেবল
নিছক নিখাত ছুটির আসর,
মন মানসে চেতন রঙে
ঢিলেঢালা খুশির বাসর।

পতঙ্গ (লেখিকা- নিবেদিতা দাস)

পতঙ্গ 
লেখিকা- নিবেদিতা দাস

ঢিল মেরেছ প্রাণ কেড়েছ 
ভয় ঢেলেছ নেশার ঘোরে 
ত্রাসের শহর এই পৃথিবীর 
একটা কোনে বেঁচেই মরি।
এক পৃথিবীর সংবিধানের
এক মহড়ার এক এক পাতায়,
রাষ্ট্র চলে শাসন চলে
জীবন তবুও থমকে গেছে।
অন্ধকারে গুমরে মরি !
তুমি যেমন অস্ত্র শানাও,
এক পৃথিবীর বিরাট কোনে 
তোমার সৈন্য আগুন ঝরায়।
তোমার খেলার তুমুল নিনাদ
আমার বুকে আগুন ঝরে। 
অন্ধকারের ধোঁয়ার দেয়াল 
পিঠ তুলেছে আমার ঘরে , 
ক্লান্ত আমি যুদ্ধে তোমার 
দাও ফিরিয়ে এক একটা প্রাণ
আর্তনাদে আমার ঘরে 
মরছে তখন পতঙ্গ প্রাণ।
তখন তুমি লুঠ করেছ 
আমার জীবন্ত ধন
আত্মহারা তুমিও তখন ,
মরণ আমার দোলায় যখন !
প্রাণসুধা তোমার হাতে 
অট্টহাস্যে উঠছে মেতে
এক পৃথিবীর শাসন যাদের,
ঢিল মেরেছ প্রান নিয়েছ  
আগুন আমার গুমরে মরে।
এক পৃথিবী একলা ঘরে,
মরণ আমার তোমার জয়ে।

ধুলোমাখা সম্মান (লেখক- সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ)

ধুলোমাখা সম্মান
লেখক- সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ

আজ ২৬শে জানুয়ারী। দিনটা অন্য দিনগুলোর থেকে আলাদা। কুয়াশার চাদর সরিয়ে সিঁদুরের টিপের মতো লাল সূর্যটা উঁকি দিচ্ছে আকাশে।সারা শহর সেজেছে গেরুয়া, সাদা আর সবুজের সমারোহে। মাইকে দেশের গান বাজছে। বড় বড় প্রাসাদের মাথায় উড়ছে জাতীয় পতাকা।

ফুটপাথের একপাশে দাঁড়িয়েছিল অয়ন। কোঁকড়া চুলের মিষ্টি চেহারার  বছর দশেকের অয়নের হাতে একগুচ্ছ প্লাস্টিকের পতাকা। উদ্দেশ্য ছিল সবকটি পতাকা বিক্রি করা। সেই পয়সা দিয়ে সে তার মায়ের ওষুধ কিনবে।

সিগন্যালে দাঁড়িয়ে পতাকা বিক্রি করতে করতে তার হঠাৎ নজরে পড়ল-ডাস্টবিনে পড়ে আছে একটা মলিন, ছেঁড়া জাতীয়পতাকা।

হঠাৎ তার মনে পড়ল বিদ্যালয়ে শিক্ষকমশাই বলেছিলেন-"পতাকা শুধু কাপড় নয়, এটি দেশের সম্মান। "ডাস্টবিনের দিকে এগিয়ে গেল সে।নিজের জল খাওয়ার বোতলের জল দিয়ে পতাকাটি ধুয়ে ফেলে তার ঝুড়িতে তুলে রাখল।

সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অবনীবাবু বিষয়টি লক্ষ্য করলেন। তিনি অয়নের কাছে গিয়ে তার সবকটি পতাকা কিনে নিতে চাইলেন। অয়ন মাস্টারমশাইকে পতাকাগুলো বেচে দিলেন। শুধু ছেঁড়া পরিস্কার করা পতাকাটা বাদে।

অবনীবাবু বললেন-"ঐ পতাকাটা দিলি না?"

অয়ন বলল, "না দাদু,ওটা ছেঁড়া। বিক্রির জন্য নয়।এটা আমি ঠিক করে আবার উড়াবো।"

তোকে দেখে আবার আমি নতুন করে দেশভক্তি শিখলাম।

না দাদু,দেশভক্তি জানিনা। তবু শিখেছি- এটার অসম্মান মানে দেশের অসম্মান।

পকেট থেকে অবনীবাবু অয়নের হাতে একটা একশো টাকার নোট ধরিয়ে দিয়ে বললেন-"ওই পুরনো ছেঁড়া পতাকাটাই আজ আমার কাছে সবচেয়ে দামি। ওটা আমায় দে।"

অবাক চোখে তাকিয়ে রইল অয়ন। সকালের কনকনে ঠাণ্ডাটা একনিমেষে ওধাও হয়ে গেছে।একটা অদ্ভূত উষ্ণতা  তার সারা শরীরে।

অবনীবাবু অয়নকে সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন একটা বড় মাঠে। সেখানে তিনি প্রতিবছর এই দিনে পতাকা তোলেন। বড় প্যাণ্ডেল হয়েছে। চারদিক তেরঙা কাপড়ে মোড়া মাইকে বেজে চলেছে-"বন্দেমাতরম, সুজলাং, সুফলাং...।"

মাস্টারমশাই মঞ্চে উঠে মাইক ধরলেন। গুঞ্জন থেমে গেল। তিনি আবেগমথিত গলায় বলতে লাগলেন-"আজ আমার দেশকে ভালোবাসার দিন।দেশকে রক্ষার জন্য শপথের দিন...।"

অয়নকে কাছে ডাকলেন। কাঁপতে কাঁপতে অয়ন মঞ্চে উঠলো। মাষ্টারমশাই সবার সামনে অয়নের দেশভক্তির গল্পটা শোনালেন। সবার চোখে এক অদ্ভূত শ্রদ্ধা। অবনীবাবু অয়নকে কাছে ডেকে বললেন-"টান দে দাদুভাই,আজ ভারতের আত্মা তোর হাতেই জেগে উঠুক।"

এই বয়সে প্রথম পতাকা তুললো অয়ন। প্রথম স্যালুট। অনুভব করলো-মায়ের ওষুধের টাকা রোজগার নয়, সে এমন সম্মান পেয়েছে তা সে কল্পনাও করতে পারেনি।

এবার ফেরার পালা। অয়ন মাষ্টারমশাইয়ের চরণ ছুঁয়ে বলল-"পরের বছর আমি আর পতাকা বেচবো না। আমি স্কুলে যাবো। বড় হয়ে ঐ পতাকার মতো আকাশ ছোঁব।"

আবেগ না নিঃশব্দ প্রতিবাদ (ছোট গল্প) লেখক- শুভাশীষ মিত্র (ইন্দ্র)

আবেগ না নিঃশব্দ প্রতিবাদ
লেখক- শুভাশীষ মিত্র (ইন্দ্র)

রাহুল পরিবারের বড়ো ছেলে আর ছোট বেলা থেকেই ডাকাবুকো। বাবা ছোট একটি বেসরকারি অফিসের কর্মচারী, রাহুল হওয়ার পর থেকে সে রকম কোনো যত্নও পায়নি। 

দুবছরের ছোট ভাই বাবা মায়ের বেশি প্রিয় কারণ সে হবার পরই বাবা একটি ৫০০০০ টাকার লটারি পেয়েছিলেন। সেই থেকেই ভাই রোহিত সবার কাছে নাকি লাকি। যাইহোক রাহুল লোকাল প্রাইমারি স্কুলে পড়ার পর সরকারি স্কুলে মাধ্যমিক অবধি পড়েছে। ভাই রোহিতকে বাবা মা কষ্ট করে হলেও ইংরাজি মাধ্যমের স্কুলে পড়িয়েছেন। 

পাড়ার বন্ধুরা রাহুল কে ইয়ার্কি করে বলতো তুই তো সৎ ছেলে। রাহুল চুপ করেই শুনতো কোনো দিন কিছু প্রতিবাদ করেনি। তবে খেলাধুলা, কারুর বিপদে দৌড়ানো, বন্ধুদের নেতৃত্ব দেওয়া, এমন কী ছোট ভাইকে বড়ো দাদার মত আগলে রাখা, সব কিছুই দক্ষতার সাথে করতো। ছোটবেলা থেকেই ভালো আঁকতে পারাও তার ছিল সহজাত প্রতিভা। 

ভাই কে বাবা মা দামি জামা কাপড় কিনে দিলে রাহুল বলতো তার জন্য না কিনতে। সে ফুটপাথের দোকান থেকে বাবার সাথে গিয়ে জামা কাপড় কিনতো। তার মনের ভিতরটা না কেউ জানতে চাইতো না সেও কাউকে বলতো। বাবা মায়ের ইচ্ছা রাহুল বড়ো হয়ে বাবার সাথে কোনো কাজে হাত লাগাক। ছোট ছেলে রোহিত কে পুলিশ অফিসার বানানোর ইচ্ছা বাবা মায়ের। 

মাধ্যমিক পাস করেই রাহুল ছোট ক্লাস এর বাচ্চাদের পড়াতো ও আঁকা শেখাতো। ছোট ভাই যখন ইংরেজি স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করলো, রাহুল সরকারি স্কুল থেকে কমার্স নিয়ে দ্বিতীয় বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পাস করলো। ভাইয়ের উঁচু ক্লাস এর পড়ার খরচের দোহাই দিয়ে বাবা রাহুলকে আর কলেজে পড়াতে না পারার কথা জানালেন। 

রাহুল একটা রা পর্যন্ত না করে শুধু হেসেছিলো। হটাৎ একদিন বাবার হাতে পিয়ন একটি খাম দিয়ে গেলো। খাম খুলে বাবা মা অবাক বিস্ময়ে রাহুল কে ডাকলেন। মিলিটারি একাডেমি তে তার সিলেকশন হয়েছে, কিন্তু কী করে? মাস চারেক আগে কলকাতায় পিসির বাড়ি গিয়েছিলো রাহুল তিন দিনের জন্য। সেখানে গিয়ে পিসি পিসেমশাই সাহায্যে পরীক্ষা ও ট্রায়াল দিয়ে এসেছিলো। সে কথা পিসিরাও জানান নি। 

টিউশনি আর আঁকা শেখানোর কটা পয়সা দিয়ে সে বই কিনে পড়তো, বুদ্ধির সাহায্য ও পরামর্শের জন্য পেতো পাশের পাড়ার এক অবসর প্রাপ্ত পুলিশ জেঠু কে। যিনি নিজে বেচেলর ছিলেন আর ভালো ফুটবল খেলার সুবাদে রাহুলকে খুব ভালো বাসতেন। যাইহোক সিলেকশন হবার সুবাদে সে দেরাদুনে চলে গেলো মা বাবা বন্ধু বান্ধব প্রতিবেশী সবাইকে অবাক করে দিয়ে। এদিকে ছোট ভাই রোহিত বাবা মায়ের অতি আদরে বোকাটে হয়ে উঠছিলো। সে আর্টস নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক কোনো মতে পাস করলো। বাবা মা মনে মনে হয়তো আফসোস আর অনুশোচনা তে জর্জরিত হচ্ছিলেন। তারা তো আসল সোনাই চেনেন নি। 

ভাই পড়াশুনা ছেড়ে এখন বাবার লোন করা ১০০০০০ টাকার বিনিময়ে টোটো কিনে চালাচ্ছে। এই অবস্থায় ৩ বছর পর রাহুল বাড়ি ফিরলো ফৌজি পোশাকে। ফিরেই বাবা মা কে প্রণাম করলো। বাবা তাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে বললেন আমায় ক্ষমা করিস। সে তার উত্তরে বললো বাবা তুমি আমাকে শক্ত হতে শিখিয়েছো। মাও কান্না চেপে রাখতে পারেন নি। 

এর পর গিয়ে তার পুলিশ জেঠুকে প্রণাম করলো। দুদিন পর ডিউটি জয়েন করার সময় বাবা মা কে বিদায় জানিয়ে সেই পুলিশ জেঠুকে সাথে নিয়ে দিল্লি চলে গেলো। এই হলো রাহুলের নীরব অভিমান আর সাথে তার ভালোবাসার প্রতিদান। সবার চোখে জল। আজ রাহুলের চোখে মুখে আনন্দ আর প্রতিবাদের হাসি। 

রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রজাতন্ত্র দিবস (লেখিকা- সমর্পিতা দে রাহা)

প্রজাতন্ত্র দিবস
লেখিকা- সমর্পিতা দে রাহা

প্রজাতন্ত্র দিবসের সংক্ষিপ্ত কথাঃ
আজ ২৬শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস সারা ভারতবর্ষ জুড়ে মহা আড়ম্বরের সাথে পালিত হচ্ছে ভারতের ছিয়াত্তর তম প্রজাতন্ত্র দিবস বা সাধারণ তন্ত্র দিবস।

প্রতিটি ভারতবাসীর কাছে আজকের দিনের গুরুত্ব অপরিসীম।কারণ ১৯৫০ সালে আজকের দিনেই ভারতীয় সংবিধান কার্যকরী হয়।

নতুন গণতান্ত্রিক ভারতের জন্ম হয়। আজকের দিনটি ভারতের জাতীয় দিবসগুলির মধ্যে অন‍্যতম।

প্রায় দুশোবছর পরাধীন থাকার পরে গান্ধীজি, নেতাজি, নেহেরু, লালা লাজপত রায়, বালগঙ্গাধর তিলক, বিপিনচন্দ্র পাল, সর্দার বল্লভভাই প‍্যাটেল,
আরো অনেক বিপ্লবীদের নেতৃত্বে...
১৯৪৭ সালে ১৫ইআগষ্ট –
আমাদের দেশ স্বাধীন হয়।

স্বাধীনতার পরে ও দেশে নির্দিষ্ট কোন আইন ছিল না। তাই ভারতের সংবিধান তৈরির জন‍্য ১৯৪৭ সালে ২৮শে আগষ্ট থেকে একটি খসড়া কমিটি ১৬৬বার সংসদের অধিবেশনে মিলিত হয়।

যেখানে সাধারণ মানুষ ও অংশগ্রহণ করেছিলেন।প্রায় তিনবছরের কাছাকাছি চলেছিল। এই খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন ডঃ ভিমরাও রামজি আম্বেদকর।

১৯৪৭ সালের ৪ঠা নভেম্বর তারিখে কমিটি একটি খসড়া সংবিধান প্রস্তুত করে গণপরিষদে জমা দেন। বহু বিতর্ক ও কিছু সংশোধনীর পর ১৯৫০ সালে ২৪শে জানুয়ারি গণপরিষদে ৩০৮জন সদস্য চূড়ান্ত সংবিধানের হাতে লেখা ২টি নথিতে স্বাক্ষর ক‍রেন।

এর দুদিন পর ২৬শে জানুয়ারি ১৯৫০ সালে সারা দেশব্যাপী সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতায় আসে। ২৬শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস গ্রণ‍্য হয়েছিল। 

এই প্রসঙ্গে বলি-
১৯৩০, ২৬শে জানুয়ারি দিনটিকে তৎকালীন কংগ্রেস কমিটি স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ধার্য করে।
তারপর থেকেই ওই দিনটিকে পরবর্তী ১৭বছর ধরে পুর্ণ স্বরাজ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
কিন্তু স্বাধীনতা আসে ১৫ইআগষ্ট তাই ২৬শে জানুয়ারি দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য পালন করা হয়, পরাধীন ভারতবর্ষ থেকে আধুনিক গণতন্ত্রে রূপান্তরিত হওয়ার দিন অর্থাৎ প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে।

ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী ভারতবর্ষ একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, প্রজাতান্ত্রিক, ধর্ম নিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণ তান্ত্রিক দেশ।প্রজাতান্ত্রিক – যেখানে প্রজার ক্ষমতায় সর্বোপরি।
এককথায় বলতে গেলে ভারতের শাসন ব‍্যবস্থা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সদস্যমন্ডলির দ্বারা পরিচালিত হয়।

তাই আমাদের দেশকে গণতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্র বলে।
আর সেই গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনেই আমাদের দেশে ভোটের দ্বারা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়।

সার্বভৌম অর্থাৎ আমাদের দেশের অভ‍্যন্তরীণ যে কোনো বিষয়ে আমরাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।বাইরের কোন দেশ ভারতের অভ‍্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।

ধর্মনিরপেক্ষ– ভারতের সংবিধান কোন ধর্মের প্রতি পক্ষপাত করবে না। গণতান্ত্রিক অর্থাৎ জনসাধারণের দ্বারাই দেশের শাসক নির্বাচিত হবে।

সর্বোপরি ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি ভারতবাসীর মৌলিক অধিকার সমান হবে। ১৯৫০ সাল থেকে প্রতিবছর ২৬শে জানুয়ারি দিল্লির লালকেল্লা, ইন্ডিয়া গেট, ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অন‍্যান‍্য প্রথম সারির নেতা।

মাননীয় রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে এই দিন রাজধানী দিল্লির রাজপথে আড়ম্বরপূর্ণ কুচকাওয়াজ ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। যা ভারত রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়। আজ সমগ্র দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং ক্লাবে ক্লাবে জাতীয় সংগীত ও বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গানের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বীর শহিদের উদ্দেশ্যে ফুল অর্পণ করে স্মরণ করা হয়। সম্মান জানান হয়।

এই ২৬শে জানুয়ারি মাতৃভূমি  আমাদের দেশাত্মবোধের দেশপ্রেমে আমাদের দীক্ষা দেয়।
বাইরের কোন দেশ বাইরের কোনো শত্রু আমাদের দেশের সার্বভৌমত্বের উপরে যদি আঘাত হানে তাকে চূড়ান্ত শিক্ষা দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আর "সহযোগিতায়  বাড়িয়ে দু হাত" আছি।

আসুন দেশের অখন্ডতাকে অক্ষুন্ন রাখার জন‍্য দেশের সার্বিক উন্নতি সাধনে দেশের মানুষের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি একে অটুট  রাখার লক্ষ্যে সংবিধানকে নিজের ধর্মে পরিণত করার জন্য এই ২৬শে জানুয়ারি পবিত্র দিনে আমরা দেশমাতৃকার কাছে দৃঢ়সংকল্প হই।

ভারতবর্ষকে জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন নেবার জন্য আমরা আপ্রান চেষ্টা করব।

জয় হিন্দ,
জয় ভারত।

পতাকার আবেদন (গল্প) লেখক- বিমলশঙ্কর (ভৃগু)

পতাকার আবেদন (গল্প)
লেখক- বিমলশঙ্কর (ভৃগু)

২৬ শে জানুয়ারি আমাদের প্রজাতন্ত্র দিবস । খুব ভোর রাতে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে, সকালে বৃষ্টি নেই কিন্তু ঠান্ডা হওয়ায় ঠান্ডা ঠান্ড আমেজে ঘুমটা ভাঙলো চারিদিকে দেশাত্মবোধক গান, দেশাত্মবোধক ভাষণ, পতাকা উত্তোলন, "বন্দেমাতরম" আর ডিজের কান ফাটানি হিন্দি গানের আওয়াজে আটায় উঠেও কান চাপা দিয়ে শুয়ে রইলাম কিন্তু দিলে কি হবে বুকের ভিতর ধপ ধপ শুরু হতেই ধড়ফড় করে উঠে বসলাম, জোড়ে চিৎকার করে রান্নাঘরের উদ্দেশ্যে বললাম "চা" দাও, কি জানি কি মনে করে সকালের চা দিয়ে গেলো গিন্নীকে বললাম বাজারের থলেটা দিও।

সকালের জলখাবার খেয়ে একটু বেলাতেই বেড়লাম বাজারের উদ্দেশ্যে, যেতে যেতে ভিজে রাস্তায় কোথাও কোথাও অল্প জল জমে আছে সেগুলো ডিঙিয়ে ডিঙিয়ে চলতে চলতে একজায়গায় এসে পা'টা তুলেও আটকে গেলো, সঙ্গে সঙ্গে পিছিয়ে এসে দাঁড়াই দেখি ঠিক পায়ের তলায় একটা কাক ভেজা কাগজের বাচ্চা জাতীয় পতাকা, তার উপর দিয়ে দু'চাকা থেঁতলে দিয়েছে, বেশ কিছু পায়ের চাপে ক্ষত বিক্ষত হয়ে আছে, মাথার উপর লম্বা দড়ি বাঁধা ভিজে যাওয়া পতাকার সারি কোনটা কোনটা ঝুলে আছে ‌পড়বো পড়বো করছে দেখলাম, ভাবছি "এভাবে জাতীয় পাতাকা নিয়ে কেনো ছেলে খেলা, পায়ের তলায় আমাদের "জাতীয় পতাকা, স্বাধীনতার ফল"! 

আমি পথের সেই কাক ভেজা পতাকাটা আস্তে আস্তে তুললাম যাতে ছিঁড়ে না যায়, দু'হাতে আলতো করে সামনের শান বাঁধানো বকুল গাছের বেদীতে শুইয়ে দিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম, মনে একটা প্রশ্ন, এই কি আমাদের স্বাধীনতার ফল ? কতো তাজা রক্ত ঝড়িয়ে.....কতো সিঁথির সিঁদুর মুছিয়ে.....কতো মায়ের কোল খালি করে...…কতো তাজা প্রাণের আত্মবলিদানে অর্জিত বহু আকাঙ্খিত আমাদের স্বাধীনতা ! 

আজ মানুষের পায়ের তলায় ! তারপর ধীরে ধীরে হাঁটতে শুরু করলাম । রাস্তার মোড়ে স্কুলের বাচ্চাদের লাইন, সেখানে ২৬ জানুয়ারির পতাকা উত্তোলন হচ্ছে, সেখানে গিয়ে এক স্কুলের আন্টিকে বললাম, "একটু শুনবেন, কথা ছিলো....." আন্টি এগিয়ে আসতে আমি বললাম, "এইভাবে আপনারা যে দড়ি দিয়ে ছোট ছোট জাতীয় পতাকা টাঙিয়েছেন তার থেকে পতাকাগুলো জলে ভিজে মাটিতে পড়ে আছে, কতো লোক বাইকের চাপে পায়ের চাপে থেঁতলে গেছে, সেটাকি দেখেছেন......
আরো কিছু বলতে চাইতে উনি বললেন, "আপনি বরং হেড দি কে বলুন" বলে উনি হেড দিদিমনিকে ডেকে বললেন, "উনি কিছু বলতে চাইছেন.....
হেডে দিদি বললেন, "বলুন...

আমি বলতে শুরু করলাম, "আজ প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে এই যে লম্বা দড়িতে কাগজের পতাকা টাঙিয়েছেন ভোরের বৃষ্টিতে সেগুলো খুলে মাটিতে পড়ছে তার উপর দিয়ে কতো বাইক কতো মানুষ পাড়িয়ে যাচ্ছে এতে জাতীয় পতাকার অপমান হচ্ছে না ! কতো রক্ত ঝড়িয়ে, কতো মায়ের চোখের জল ঝড়িয়ে, কতো সিঁদুর মুছিয়ে বহু আকাঙ্খিত স্বাধীনতা, এই আমাদের জাতীয় পতাকা জলে ভিজে আজ মানুষের পায়ের তলায়, সেই পতাকার এভাবে অসম্মান কি ঠিক ? সব শোনার পর উনি আমার হাত দুটো ধরে বললেন, "আপনি যথার্থ বলেছেন ......

আমি আরো বললাম, পতাকা একটাই থাক, যদি সাজাতে হয় তবে রঙিন কাগজে পতাকা বানিয়ে সাজান এতে দোষের নয় শুধু কাগজের পতাকা কেনো, উনি বললেন, "আমারা দেখছি ব্যাপারটা, যদি দয়া করে এ সম্পর্কে বাচ্চাদের সামনে কিছু বলেন খুব ভালো হয়, বলে আমাকে মাইকটা দিলেন।

আমি নির্ভিক ভাবে বলতে শুরু করলাম - 
দেশাত্মবোধক গান গান, দেশাত্মবোধক ভাষণ, পতাকা উত্তোলন করে প্রজাতন্ত্র দিবস, স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে বন্দমাতরম ধ্বনি দিলেই সব শেষ, তাতো নয়, এই কি আমাদের শিক্ষা, যে শিক্ষা আমাদের জাতীয়তা বোধ শেখায় না, দেশাত্মবোধ শেখায় না, মননে মেধায় স্বাধীনতার চেতনা জাগায় না। 

সেই শিক্ষার নীট ফল পায়ের তলায় স্বাধীনতা, আজ এই যে কাগজের ছোট পতাকা জলে ভিজে কতো মানুষের পায়ের তলায় চাপা পড়েছে, বাইকের চাকায় পিষ্ট হয়েচ্ছে, এরপর হয়তো নর্দমায় বা ডাস্টবিনে চলে যাবে এইসব পতাকা, তাতে আমাদের জাতীয় পতাকার অপমান, আমারা নিশ্চয়ই সেটা চাইবো না, দরকার পরলে কগজের জাতীয় পতাকার পরিবর্তে রঙিন কাগজে পতাকা বানিয়ে সাজাতে পারি। 

জাতীয় পতাকা হোক একটাই, যেটা পত পত করে মাথা উঁচু করে উড়বে তবেই আমরা জাতীয় পতাকার সম্মান দিতে পারবো, আশেপাশে সকলের কাছে অনুরোধ এভাবে কাগুজে জাতীয় পতাকা ব্যাবহার না করে রঙিন কাগুজে পতাকা ব্যাবহার করে জাতীয় পতাকার মর্যাদা রাখুন...
"জয় হিন্দ, বন্দেমাতরম"

বলে মাইকটা এক দিদির হাতে দিয়ে আমি বেড়িয়ে পড়লাম গন্তব্য ।

প্রজাতন্ত্রের চেতনায় বাংলা সাহিত্য (লেখক- বিধান চন্দ্র সান্যাল)

প্রজাতন্ত্রের চেতনায় বাংলা সাহিত্য
(লেখক- বিধান চন্দ্র সান্যাল)

১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভাটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সাথে সাথে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন যুগের সূচনা হয়। রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, সংবিধানে বর্ণিত নাগরিক অধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের চেতনা বাংলা গদ্য, পদ্য ও উপন্যাসে গভীর প্রভাব বিস্তার করে। ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বাংলা সাহিত্য অনন্য ভূমিকা পালন করেছে।

প্রজাতন্ত্রের যুগে বাংলা সাহিত্যে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের চেয়ে সমষ্টির কল্যাণ, শোষণহীন সমাজ এবং গণতন্ত্রের স্থায়িত্বের চেতনা বেশি গুরুত্ব পায়। সাহিত্যে সাধারণ মানুষের অধিকার, বাক-স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের প্রতি সমর্থন ফুটে ওঠে।  জরুরি অবস্থা (১৯৭৫-৭৭) বা সাম্যবাদী আন্দোলনের সময় বাংলা সাহিত্য, বিশে করে কবিতা ও উপন্যাসে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতার দাপটের প্রতিবাদ ছিল স্পষ্ট। 

আধুনিক বাংলা সাহিত্য 'মানুষ' ও তার মনস্তত্ত্বকে প্রধান আলোচ্য বিষয় করে তুলেছে, যা ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের ধর্মনিরপেক্ষ ও সাম্যবাদী আদর্শের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। সাহিত্যে মুক্তিকামী নারীর জীবনচিত্র, তাদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত স্বাতন্ত্র্য এবং অধিকারের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।  ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের সংবিধান স্বীকৃত ভাষা হিসেবে বাংলা তার বৈচিত্র্যময় রূপের মাধ্যমে দেশের অখণ্ডতাকে ফুটিয়ে তুলেছে। 

দেশভাগের ক্ষত এবং শরণার্থী জীবনের বাস্তবতা বাংলা সাহিত্যে এক বড় জায়গা জুড়ে রয়েছে। ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসন, নাগরিক পরিচয়সংকট এবং নতুন রাষ্ট্রের প্রতি প্রত্যাশা ও হতাশা নিয়ে রচিত সাহিত্য, ভারতের গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার দাবি ছিল না, এটি ছিল প্রজাতন্ত্রের চেতনা—জনগণের ভাষা ও সংস্কৃতির উপর অধিকারের লড়াই। এই চেতনা সাহিত্যে শোষক ও নিপীড়কের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার প্রেরণা যুগিয়েছে, যেমন—জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’ ।
 ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অসাম্প্রদায়িক ও সেক্যুলার চেতনার জোয়ার আসে। সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায়, বিশেষ করে কবিতায় ও উপন্যাসে, সাধারণ মানুষের মুক্তির কথা প্রাধান্য পেয়েছে ।
 আধুনিক বাংলা সাহিত্য, বিশেষ করে বাংলাদেশ অংশে, গণমানুষের দাবি আদায়ের সংগ্রাম, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে বিকশিত হয়েছে। এটি স্বৈরাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ।

পরিশেষে বলা যায়, প্রজাতন্ত্রের চেতনায় ভারতের বাংলা সাহিত্য কেবল শিল্পসৃষ্টি নয়, বরং একটি সচেতন নাগরিক সত্তার বিকাশ ঘটিয়েছে। এটি ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে মুক্ত ও গণতান্ত্রিক ভারত গড়ার সংগ্রামে সাহিত্যিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই চালিয়ে গেছে।

প্রজাতন্ত্র দিবস ও সংবিধান (লেখিকা- সর্বানী দাস)

প্রজাতন্ত্র দিবস ও সংবিধান
(লেখিকা- সর্বানী দাস)

ভারতের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসে ২৬ শে জানুয়ারি গণতন্ত্রের জয়ের দিন হিসেবে একটি মাইলফলক। সংবিধানসভা গঠিত হয় ৯ ডিসেম্বর ১৯৪৬ এবং প্রণয়নের কাজ শুরু হয় ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯। ভারতীয় সংবিধান ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ তারিখে কার্যকর হয়। ভারতে এই দিনটিকে গণতন্ত্র দিবস (Republic Day) হিসেবে পালন করা হয়। এই দিনে ভারত একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। 

প্রজাতন্ত্র কেবল একটি আনুষ্ঠানিক জাতীয় উৎসব নয়। জনগণের সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক নৈতিকতার  একটি প্রক্রিয়া। প্রজাতন্ত্র দিবস ভারতের রাষ্ট্রগঠনে  মূল ভিত্তি। ভারতীয় সংবিধান, জনগণের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্রের নীতির এক অনন্য অধ্যায়। ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে, সাংবিধানিক শাসনের সূচনার ইতিহাস রচনা করে প্রজাতন্ত্র দিবস।আব্রাহাম লিংকনের বিখ্যাত উক্তি "Government of the people, by the people, for the people" এর বাংলা অর্থ হলো—"জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা (নির্বাচিত/পরিচালিত) এবং জনগণের জন্য (নিবেদিত)" । এটি গণতন্ত্রের মূল মন্ত্র, যেখানে সরকার জনগণের অংশগ্রহণ, তাদের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং তাদের কল্যাণে কাজ করে থাকে।

ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে ২৬ শে জানুয়ারি  অজ্ঞানিকভাবে যুক্ত। ১৯২৯ সালের লাহোর কংগ্রেসের অধিবেশনে "পূর্ণ স্বরাজ" এর প্রস্তাব গৃহীত হয়। এবং ২৬ শে জানুয়ারি স্বাধীনতা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সংবিধানকে কার্যকর করার জন্য ২৬ শে জানুয়ারি দিনটি ভারতের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা। ডঃ বি. আর আম্বেদকর এর নেতৃত্বে  ন্যায় সাম্য ও স্বাধীনতার নীতিগুলোকে স্পষ্ট ভাবে লিখিত আকারে তুলে ধরেন। গ্র্যানভিল অস্টিন এর মতে  ভারতীয় সংবিধান একটি "সামাজিক বিপ্লবের দলিল "। তিনি আরও বলেন ভারতীয় সংবিধানের লক্ষ্য গণতান্ত্রিক উপায়ে সমাজের বৈষম্যমূলক কাঠামো দূরীকরণ। 

২৬ শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের তাৎপর্য হলো জনগণের সার্বভৌমত্বের বাস্তবতা কে রূপায়ণ করা। সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা প্রতিষ্ঠিত করা। ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা নির্দিষ্ট করা সংবিধানের মূল লক্ষ্য। প্রজাতন্ত্র দিবসের রাষ্ট্রীয় আচার অনুষ্ঠান ভারতীয় জনগণকে সংবিধান সম্পর্কে সচেতন করতে ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে সাহায্য করে।

ডঃ বি আর আম্বেদকর ' সাংবিধানিক নৈতিকতা 'র উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং গণতন্ত্র কেবল আইনি কাঠামোর উপর নয়, নাগরিকদের নৈতিক চর্চার ওপরও নির্ভরশীল, এই কথা সুস্পষ্ট করেছিলেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হ্যারল্ড জে লাস্কি বলেছিলেন" একটি রাষ্ট্রকে শুধু তার ভূখণ্ড বা জনসংখ্যা দিয়েছে চেনা যায় না, রাষ্ট্রকে চেনা যায় সেই নীতির মাধ্যমে, যার ওপর ক্ষমতা সংঘটিত হয় "।  প্রজাতন্ত্র বলতে বোঝায় এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা যেখানে জনগণ সর্বোচ্চ ক্ষমতার উৎস।

সার্বভৌমত্ব তত্ত্বের প্রবর্তক জঁ বোদান বলেন -- " সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ও স্থায়ী ক্ষমতা "। ভারতের ক্ষেত্রে এই চূড়ান্ত ক্ষমতা কোন রাজা সাম্রাজ্য বা শাসক গোষ্ঠীর হাতে নয়, সংবিধানের মাধ্যমে জনগণের হাতে ন্যাস্ত। ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনায় ব্যবহৃত " আমরা ভারতের জনগণ " এই বাক্যটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনগণের সার্বভৌমত্ব ধারণায়  অনন্য।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার রাষ্ট্রক্ষমতার বৈধতাকে  ১) প্রথাগত বৈধতা, ২) ক্যারিশ মাটিক বৈধতা, ৩) আইনগত - যুক্তি নির্ভর বৈধতা, এই তিনটি পর্যায়ে ভাগ করেছেন। তিনি আরো বলেছেন "-- আধুনিক রাষ্ট্রের বৈধতা মূলত আইন ও যুক্তি নির্ভর কাঠামোর উপর প্রতিষ্ঠিত। আইন এবং যুক্তি নির্ভর বৈধতার কেন্দ্রবিন্দু হল সংবিধান।

প্রজাতন্ত্র দিবস ভারতের গণতান্ত্রিক চেতনার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। ২৬শে জানুয়ারী প্রজাতন্ত্র দিবস ভারতের রাষ্ট্রতত্ব, সার্ভভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক নৈতিকতার প্রতীক। এই দিনটি ভারতীয় জনগণের ক্ষমতা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনের পুনঃঅঙ্গীকারের দিন। তাই প্রজাতন্ত্র দিবস আত্মসমালোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রজাতন্ত্র দিবস - লেখক: আল মাওয়াকিফ (ছদ্ম নাম)

প্রজাতন্ত্র দিবস

লেখক: আল মাওয়াকিফ (ছদ্ম নাম)

উৎসবের মুখোশ ও রাষ্ট্রের নয় এটি রাষ্ট্রের বিবেককে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর। এই দিন রাষ্ট্র নিজেই নিজের দিকে তাকায় যদি তাকাতে সাহস করে।পতাকা উত্তোলনের আড়ালে যে আয়নাটি সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়, সেখানে রাষ্ট্রের নৈতিক মুখচ্ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উৎসব তখনই অশোভন হয়ে পড়ে, যখন ন্যায় কেবল বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ থাকে, আর বাস্তব জীবনে তা অনুপস্থিত।

প্রজাতন্ত্র কেবল শাসনের কাঠামো নয় এটি একটি নৈতিক প্রতিশ্রুতি। রাষ্ট্র নাগরিকের উপর ক্ষমতা প্রয়োগ করবে কিন্তু সেই ক্ষমতা সীমাহীন নয়। সংবিধান সেই সীমারেখা, যেখানে রাষ্ট্র নিজেকে সংযত করতে বাধ্য হয়। যে রাষ্ট্র এই সংযম হারায়, সে শক্তিশালী হতে পারে কিন্তু ন্যায়পরায়ণ থাকে না।

আমরা প্রজাতন্ত্র উদ্‌যাপন করতে জানি, কিন্তু তার দায় বহন করতে ভয় পাই। সংবিধান পাঠ করি, কিন্তু তার সামাজিক প্রয়োগ এড়িয়ে যাই। রাষ্ট্র যখন দুর্বল নাগরিককে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তখন প্রজাতন্ত্র একটি শব্দে পরিণত হয় একটি শূন্য প্রতীক, যার ভেতরে কোনো মানবিক স্পন্দন থাকে না।

গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় আত্মপ্রবঞ্চনা হলো এটিকে কেবল ভোটাধিকার হিসেবে কল্পনা করা। অথচ গণতন্ত্র একটি দৈনন্দিন নৈতিক অনুশীলন। প্রশ্ন করার স্বাধীনতা, ভিন্নমতের সহনশীলতা এবং ন্যায়বিচারের অবিচল দাবি এই তিনটি অনুপস্থিত হলে গণতন্ত্র কেবল একটি প্রাতিষ্ঠানিক নাটক হয়ে ওঠে। যেখানে প্রশ্নকারী নাগরিক রাষ্ট্রের অস্বস্তিতে পরিণত হয়, সেখানে গণতন্ত্র আগেই পরাজিত।

প্রান্তিক মানুষের জীবনে প্রজাতন্ত্র কোনো তত্ত্ব নয় এটি বেঁচে থাকার শেষ নৈতিক আশ্বাস। 

যে মানুষটি ভূমিহীন, যে শ্রমিকটি অদৃশ্য, যে নারীটি প্রতিদিন নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে বসবাস করে তাদের কাছে সংবিধান মানে রাষ্ট্র এখনো সম্পূর্ণরূপে মানবিকতা বিসর্জন দেয়নি এই ক্ষীণ বিশ্বাস। এই বিশ্বাস ভেঙে গেলে রাষ্ট্র আর রাষ্ট্র থাকে না তখন সে কেবল ক্ষমতার এক নির্মম কাঠামো।

রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি তার অস্ত্রে নয়, তার স্মৃতিতে। স্মৃতি রাষ্ট্রকে নৈতিক রাখে কারণ স্মৃতিই অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি রোধ করে। রাষ্ট্র যখন নিজের ভুলগুলো ভুলে যায়, তখন সে ক্ষমতাবান হয় কিন্তু মানবিক থাকে না। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় স্মৃতিহীন রাষ্ট্র কখনো ন্যায়বান হতে পারে না।

প্রজাতন্ত্র দিবসে আমার কোনো উল্লাস নেই, নেই কোনো আনুষ্ঠানিক আনন্দ। আমার কাছে এই দিনটি আত্মজিজ্ঞাসার দিন। প্রশ্নটি সহজ, কিন্তু ভয়ংকর

রাষ্ট্র কি আজও সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকটির পাশে দাঁড়ানোর নৈতিক সক্ষমতা রাখে?

রাষ্ট্র কি প্রশ্নকে ভয় না পেয়ে তাকে নিজের সংশোধনের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করতে পারে?

যদি রাষ্ট্র এই প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি দাঁড়াতে না পারে, তবে পতাকা উত্তোলন কেবল একটি অভ্যাসে পরিণত হবে আর প্রজাতন্ত্র থাকবে, কিন্তু তার আত্মা অনুপস্থিত থাকবে।

আজ প্রজাতন্ত্র দিবসে আমার কোনো উৎসব নেই। আছে কেবল একটি অনড় দাবি সংবিধান শ্লোগান হয়ে নয়, জীবনের নৈতিক অনুশাসন হয়ে উঠুক।

রাষ্ট্র শাসন করুক কিন্তু আগে ন্যায়ের কাছে জবাবদিহি করুক।

প্রজাতন্ত্র দিবস (কবিতা) লেখক-অপূর্ব চক্রবর্তী

প্রজাতন্ত্র দিবস 
লেখক-অপূর্ব চক্রবর্তী

আজ ভারতের সাতাত্তরতম প্রজাতন্ত্র দিবস 
ছাব্বিশে জানুয়ারি,
সব বলিদানিদের আমরা আজকে স্মরণ করি।
বারোই জানুয়ারি জাতীয় যুব দিবস 
আর তেইশে জানুয়ারি পরাক্রম দিবসের
ভেরী মাতিয়ে তোলে ভারতের আকাশ বাতাস 
পূর্ব থেকে পশ্চিম হয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ।
পরাক্রম দিবসের পর পূর্ণ স্বরাজ লাভ করেছিল 
আজকের একুশ শতকের নতুন ভারতবর্ষ। 
প্রথমে পশ্চিম দেশে ভারতের সনাতন শাশ্বতবাণী 
প্রচার করেছিলেন চির উন্নত শির 
যুবশক্তির পুরোধা বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ।
তারপর রত্নগর্ভা ভারত মাতার 
পরাধীনতার শেকল খোলার সশস্ত্র আহ্বানে 
ব্রিটিশ সিংহ কে সন্মুখ যুদ্ধে ব্যতিব্যস্ত করেছিলেন ভারত মাতার দামাল ছেলে সুভাষ।
কেঁপে উঠেছিল দু’শোবছরের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ।
নেতাজী আজ আমাদের জাতীয়তাবাদে
উদ্বুদ্ধ করার জনক।
সুভাষ বলেছিল স্বাধীনতা কোন ভিক্ষা বা দান নয়
শুধু রক্তের বিনিময়েই আসে স্বরাজের অধিকার।
১৯৫০ এর ছাব্বিশে জানুয়ারি অবশেষে 
পূর্ণ স্বরাজ প্রতিষ্ঠা করে 
প্রজাতন্ত্রের মর্যাদা পেয়েছে আমাদের ভারত দেশ।
আজকের প্রজাতন্ত্র দিবস ক্ষুদিরাম বাঘাযতীন
সূর্যসেন প্রফুল্ল চাকী আর বিনয় বাদল দীনেশ 
আর রত্নগর্ভা ভারত মাতার জানা অজানা 
সব দামাল ছেলেদের হুংকার,
তাঁদেরই ত্যাগ তিতিক্ষা আর অমরত্বের অহংকার।
হে নির্ভিক হে দেশপ্রেমিক হে অমর বলিদানি
আজকের এই পূণ্য দিবসে তোমাদের স্বরন করি।

মানবতার প্রচ্ছন্ন ছাঁয়া-! (কবিতা) লেখকঃ জেড আর স্বপন

মানবতার প্রচ্ছন্ন ছাঁয়া-!
লেখকঃ জেড আর স্বপন
                   
এক মুঠো শান্তীর খোঁজে অশান্ত হৃদয়ে
মহাকালের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে
ছুটে বেড়াচ্ছি দিন মাস বৎসরান্তে-!
মহাকর্ষের অনুরাগী ছায়াপথ ছাড়িয়ে 
বিবেকের কাঠগড়ায় আমি কুন্ঠিত, ক্ষুণ্ণ-! 
তাইতো মনুষ্যে কর্ণীয়ায় দেখতে পাই 
মানবতার ছাঁয়া রয়েছে প্রচ্ছন্ন-! 
ভোরের আলো ফুঁটে উঠতে দেখি
ক্ষুধার্ত শিশুর পাজর ভাঙ্গা আর্তনাদ-!
উন্মাদ পশুদের লালসার শিকার
সতীত্ব হারা হাজারো বিষাদ-!
তেজারতি বর্বরতা সুবিধা বঞ্চিতের
ন্যায্য হিস্যার থলেতে বসায় ভাগ-!
চর্মসার নিপীড়িতকে মিথ্যে অপবাদের-
ব্যারিকেডে আটকে রেখে-
দম্ভ করে ছঁড়ায় মেকি অনুরাগ-! 
নগ্ন সভ্যতা গুলো নৃত্য করে বেড়ায় 
অসভ্য লালসার অবলীলায়-!
ঘৃণ্য দাসত্বের নির্মম করাঘাতে 
মরছে মনুষ্য, ডুবছে মনুষ্যত্ব-!
আমি তাতেও ভীত নই,আমি কাপুরুষ নই-!
আমার সাম্যবাদী নির্ভীকতায়
আগামী কোন ভোরে নিশ্চিহ্ন করবো-
তোমাদের চাতুর্য বিবেকের ঔদ্ধত্য-!
পরিশেষে,সেদিন হবো শান্ত 
যেদিন তোমাদের চেতনা হবে জাগ্রত 
ঘৃনিত বর্বরতা হবে ক্ষান্ত-!!
       -----!!-----

​মানুষের দাবি (কবিতা) লেখক- এইচ.এম. জুনাইদুল ইসলাম

​মানুষের দাবি
লেখক- এইচ.এম. জুনাইদুল ইসলাম

​সবার সেরা মানুষ জাতি
আমরা সবাই আপন অতি।
সাদা কালো তফাৎ নাই
সবাই মোরা আপন ভাই।

​খাবার পাবো পরবো জামা
অধিকারের নেই তো ক্ষমা।
স্কুলে যাবো শিখবো পড়া
সুখের হবে জীবন গড়া।

​শ্রমিক মজুর খাটছে দিন
ঘাম মোছাবো শোধবো ঋণ।
শিশুর হাতে চাই না কাজ
আঁধার কাটুক আসুক সাজ।

​বিভেদ ভুলে এক হই ভাই
বাঁচার মতো বাঁচতে চাই।
সাম্য আসুক সবার ঘরে
মানুষ বাঁচুক মানুষ হয়ে।

শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬

স্বপ্নের নাম নেতাজী (কবিতা) লেখক- সন্দীপ সাঁতরা

স্বপ্নের নাম নেতাজী 

লেখক- সন্দীপ সাঁতরা


নেতাজী, আগুনের নাম

স্বাধীনতার অমর স্বপ্ন

রক্তে লেখা সাহস

আপসহীন দৃঢ় চেতনা

ভয়ের বিরুদ্ধে বজ্রধ্বনি

ত্যাগে গড়া জীবন

নীরবতা ভাঙা ডাক

দাসত্ব ভাঙার শপথ

অটল এক আদর্শ

জাতির জাগ্রত শিরদাঁড়া

অন্ধকারে আলোর দিশা

বুকের ভেতর প্রেরণা

সময়ের ঊর্ধ্বে নেতা

চির বিদ্রোহী আত্মানে

তাজি অমর।

নেতাজীর প্রাসঙ্গিকতা ও অনুপ্রেরণা (প্রবন্ধ) লেখক- প্রদীপ কুমার চন্দ্র

নেতাজীর প্রাসঙ্গিকতা ও অনুপ্রেরণা (প্রবন্ধ)লেখক- প্রদীপ কুমার চন্দ্র

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে সাধারণত ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অন্যতম জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী নেতা হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু এই মূল্যায়নের আরো অগ্রগতি প্রয়োজন। কারণ তিনি শুধু ইতিহাসের নির্দিষ্ট পর্বে সীমাবদ্ধ থাকেন নি। তাঁর দর্শন, চিন্তা, কর্মপন্থা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাপিয়ে তিনি যেন একটি বিকল্প জাতীয় চেতনার রূপকার। আজকের প্রাসঙ্গিকতায় সমাজ-রাষ্ট্র, শিক্ষা ও সংস্কৃতির সংকটময় বাস্তবতায় নতুন করে তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

নেতাজীর রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে ছিল স্বাধীনতার সামগ্রিক ধারণা। তাঁর কাছে স্বাধীনতা কখনোই কেবল ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি নয় । এটি ছিল মানসিক, নৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির সমষ্টিগত প্রক্রিয়া। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে সমকালীন অনেক নেতার থেকে পৃথক করে।

আজকের বিশ্বায়িত অর্থনীতির যুগে, যেখানে রাজনৈতিক স্বাধীনতা থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তি ও সমাজ নানা ধরনের পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আবদ্ধ, সেখানে নেতাজীর স্বাধীনতা-বোধ বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।

নেতাজীর চিন্তায় জাতীয়তাবাদ ছিল সংকীর্ণ বা বর্জনমূলক নয়। তাঁর জাতীয়তাবাদ ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক। 

আজাদ হিন্দ ফৌজে ধর্ম, ভাষা ও অঞ্চলভিত্তিক বিভাজন অতিক্রম করে যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তা ছিল আধুনিক ভারতের সম্ভাব্য রাষ্ট্রচিন্তার এক বাস্তব অনুশীলন।

বর্তমান সময়ে, যখন পরিচয় রাজনীতি সমাজকে খণ্ডিত করছে, তখন নেতাজীর এই জাতীয় ঐক্যের মডেল বিশেষ গবেষণার দাবি রাখে।

শিক্ষা বিষয়ে নেতাজীর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল কার্যকর ও নৈতিকতাভিত্তিক। তিনি এমন এক শিক্ষার কথা ভেবেছিলেন, যা কেবল দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করবে না, বরং দায়িত্ববান নাগরিক গড়ে তুলবে। আজকের পরীক্ষামুখী ও বাজারনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থায় এই দর্শন প্রায় অনুপস্থিত। আইসিএস ত্যাগ করার তাঁর সিদ্ধান্ত কেবল রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, বরং একটি বিকল্প শিক্ষাদর্শনের ঘোষণা ।যেখানে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে জাতীয় দায়িত্ব অগ্রাধিকার পায়।

নেতাজীর অনুপ্রেরণার অন্যতম প্রধান দিক হলো তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের নৈতিক সাহস। তিনি আপসের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না। তাঁর জীবনে বারবার দেখা যায় ,নিরাপত্তা ও সুবিধার পথ পরিত্যাগ করে ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু নৈতিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ। এই দৃষ্টান্ত আজকের যুবসমাজের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, যারা চাকরি, সামাজিক স্থিতি ও আদর্শের দ্বন্দ্বে প্রায়ই বিভ্রান্ত।

দর্শনগতভাবে নেতাজী ছিলেন এক প্র্যাক্টিস-ভিত্তিক চিন্তাবিদ (praxis-oriented thinker)। তিনি কেবল তত্ত্ব নির্মাণে সীমাবদ্ধ থাকেননি; তাঁর চিন্তা কর্মে রূপ নিয়েছে। এই কারণেই তিনি কোনো প্রস্তুত উত্তর দিয়ে যাননি, বরং প্রশ্ন রেখে গেছেন। তাঁর রাজনীতি ছিল প্রশ্নমুখী, আত্মসমালোচনামূলক এবং গতিশীল ,যা আধুনিক গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

সবশেষে বলা যায়, নেতাজীর প্রাসঙ্গিকতা কেবল ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি আজও একটি চলমান বুদ্ধিবৃত্তিক প্রক্রিয়া। যতদিন সমাজে অন্যায়, বৈষম্য ও ভয়ের রাজনীতি থাকবে, ততদিন নেতাজীর চিন্তা আমাদের প্রশ্ন করতে শেখাবে?কী ধরনের স্বাধীনতা আমরা ভোগ করছি এবং কী ধরনের স্বাধীনতা আমরা চাই।

নেতাজী তাই শুধু অতীতের বিপ্লবী নন ,তিনি ভবিষ্যতের নৈতিক মানচিত্র হিসেবে যেন চিরভাস্বর।  

                      --------++++++--------

ভারত মায়ের মহান সন্তান নেতাজি" (ছোট গল্প) লেখক- মেঘদূত

"ভারত মায়ের মহান সন্তান নেতাজি" (ছোট গল্প) লেখক- মেঘদূত 

সুভাষচন্দ্র বসু ২৩ জানুয়ারি, ১৮৯৭, ওড়িশার কটকে জন্ম গ্রহণ করেন।  পিতা জানকী নাথ বসু। মাতা প্রভাবতী দেবী।

কটকের প্রটেস্ট্যান্ট ইউরোপীয়ান স্কুলে পড়াশাোনা শুরু করে কোলকাতায় প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। অসাধারণ মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ICS পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান প্রাপ্ত হন। দেশের টানে ১৯২১ সালে চাকরি ছেড়ে দেন ও দেশের মুক্তি সংগ্রামে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেন। 

উনার রাজনৈতিক গুরু চিত্তরঞ্জন দাশ-এর নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যোগ দেন ও ১৯২৭ সালে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি ও জাপানের সহযোগিতায় আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন এবং "আজাদ হিন্দ সরকার" প্রতিষ্ঠা করেন। 

"তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো" স্লোগান তাঁর সবচেয়ে বড় প্রেরণা ছিল। 

"দিল্লি চলো" এটি ছিল তাঁর বিখ্যাত স্লোগান, যা আজাদ হিন্দ ফৌজের লক্ষ্য ও উদ্দীপনার প্রতীক ছিল।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে 'দেশনায়ক' উপাধি দেন।

তিনি ছিলেন তাঁর তৈরী আজাদ হিন্দ ফৌজ বাহিনীর নয়নের মনি প্রিয় "নেতাজি" ।

সুভাষচন্দ্র বসু ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় যাহা উনার আপোসহীন দেশপ্রেম ও অদম্য সাহসিকতার প্রতীক হয়ে আজও স্মরণীয়।

তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত দূরদর্শী নেতা, যিনি বিশ্বাস করতেন ভারতের স্বাধীনতা অর্জনে সশস্ত্র সংগ্রাম অপরিহার্য। 

ইউরোপে প্রবাসকালে তিনি 'ইন্ডিয়ান স্ট্রাগল'  নামে একটি বই লেখেন।

তাঁর লেখা 'ভারত পথিক'  একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।

১৮ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে তাইওয়ানে বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যা আজও একটি রহস্য।

দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেন এবং সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

নেতাজি ভারত মায়ের অগ্নিপুত্র। তিনি আজও সকল ভারতবাসীর প্রেরণার উৎস। 'নেতাজি' শব্দটি এখনও সবার হৃদয় আন্দোলিত করে। তাঁর অদম্য সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের আদর্শ চিরকাল আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। 

নেতাজি' নামেই তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

আগুনের আলো (ছোট গল্প) লেখক- তপন বৈদ্য

আগুনের আলো (ছোট গল্প)

লেখক- তপন বৈদ্য

কলেজের পুরোনো গ্রন্থাগারের কোণায় ধুলো-মাখা একটি বই হাতে নিয়ে বসেছিল আর্য। বইটির মলাটে বড় করে লেখা— সুভাষচন্দ্র বসু : জীবন ও আদর্শ। বাইরে তখন জানুয়ারির হালকা রোদ, ভেতরে যেন অন্য এক আগুন জ্বলছিল।

আর্য পড়তে পড়তে দেখল—কটকের এক সাধারণ ঘর থেকে উঠে আসা এক অসাধারণ মানুষ কীভাবে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন দেশের জন্য। আরাম, চাকরি, নিরাপদ ভবিষ্যৎ—সব ত্যাগ করে তিনি বেছে নিয়েছিলেন কঠিন পথ। ব্রিটিশ শাসনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ ছিল দৃঢ়, কিন্তু তা শুধু রাগ নয়—ছিল গভীর আত্মমর্যাদা ও জাতির প্রতি ভালোবাসা।

পাতা উল্টাতে উল্টাতে আর্যের চোখে ভেসে উঠল স্বাধীনতা সংগ্রামের দিনগুলি। মিছিল, কারাবরণ, নির্বাসন—সবকিছুর মধ্যেও দেশপ্রেমের আলো নিভে যায়নি। নেতাজির কণ্ঠে তোমরা আমাকে রক্ত দাও… ডাকটি শুধু স্লোগান ছিল না, ছিল আত্মবলিদানের আহ্বান। আজাদ হিন্দ ফৌজের সৈনিকদের মতো সাধারণ মানুষরাও বুঝে গিয়েছিল—স্বাধীনতা ভিক্ষায় নয়, সংগ্রামে অর্জিত হয়।

আর্য থামল এক জায়গায়। সেখানে লেখা বিপ্লব মানে ধ্বংস নয়, আত্মসম্মানের পুনর্জাগরণ। এই লাইনটি যেন তার ভেতরে কিছু নাড়া দিল। বিপ্লবী চেতনা মানে অস্ত্র তোলা নয়, অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করা। নিজের পরিচয়, ভাষা, সংস্কৃতি—সব কিছুর মর্যাদা রক্ষা করা। নেতাজির জীবন শেখায়, আত্মমর্যাদা ছাড়া কোনো জাতি সত্যিকারের স্বাধীন হতে পারে না।

বই বন্ধ করে আর্য জানালার দিকে তাকাল। আজ দেশ স্বাধীন, তবু দুর্নীতি, বিভাজন, উদাসীনতা—সবই আছে। তখনই সে বুঝল নেতাজির প্রাসঙ্গিকতা। তিনি শুধু ইতিহাসের পাতায় বন্দি নন; তিনি আজও প্রেরণা। দেশকে ভালোবাসা মানে শুধু পতাকা ওড়ানো নয়—সৎ থাকা, দায়িত্ব নেওয়া, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।

গ্রন্থাগার থেকে বেরিয়ে আর্য মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল—সে তার নিজের জায়গা থেকে দেশকে কিছু দেবে। হয়তো বড় কিছু নয়, কিন্তু সৎ পরিশ্রম, সচেতনতা আর সাহস—এই তিনটি দিয়েই শুরু করবে।

পেছনে তাকিয়ে সে যেন শুনতে পেল এক দৃঢ় কণ্ঠস্বর—

স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে প্রতিদিন লড়তে হয়।

আর্য হাঁটতে হাঁটতে হাসল। আগুন জ্বলে উঠেছে—নেতাজির আদর্শের আগুন, যা আজও পথ দেখায়।

ক্ষমা করো নেতাজী (লেখিকা- সুবর্ণা দাশ)

ক্ষমা করো নেতাজী
লেখিকা- সুবর্ণা দাশ

অমিতের বুক ঝাঁঝরা করে দিল একটি গুলি। গলগল করে রক্তে ভেসে যাচ্ছে অমিত। বড় বড় চোখে তাকিয়ে একবার দেখলো চারদিক, দেখে মনে মনে বলে ক্ষমা করো প্রিয় দেশ ও দেশবাসী, ক্ষমা করো নেতাজী, পোড়াদেশ আমার প্রাণের দেশ ক্ষমা করো এ অধমকে। 

পারলাম না কিছু করতে। নিমিষে স্থির হয়ে গেল অমিতের দেহ। বয়স যখন চৌদ্দ অমিতের তখন থেকে বীর সুভাষের আদর্শে চলতো অমিত। ভাবতো দেশের জন্য, আপামর জনসাধারণের জন্য। নিজেকে নিয়োজিত রাখতো দেশের কাজে। 

অমিতরা কজন মিলে একটা সংগঠন করেছিল, নাম তার নেতাজী সংঘ। যেখানে সন্ত্রাস সেখানে ঝাপিয়ে পড়তো সন্ত্রাসবাদীর হাত থেকে দেশকে মুক্ত রাখার জন্য। নেতাজী সংঘের কাজের জন্য সমাজের কিছু প্রভাবশালী লোকের কাছে অমিত শত্রু হয়ে উঠে। 

প্রভাবশালী লোকেরা তাদের অসামাজিক কুকির্তীর পর্দা ফাঁস হয়ে যাচ্ছে বলে অমিতকে টার্গেট করে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার। অমিত জানে তার চলার পথে অনেক বাঁধা আসবে। ভালো কাজে তো বাঁধা আসেই তাই বলে কি হাত গুটিয়ে বসে থাকা যায়। দেশের নিরাপরাধ মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া কি মানা যায়! 

অমিত প্রতিবাদ করে দৃঢ় কণ্ঠে। প্রতিরোধ করতো এ অপরাধ মূলক কাজ। তাই দিনের পর দিন প্রভাশালী ব্যাক্তিরা হুমকি দেয় অমিতকে মেরে ফেলার। অনড় অমিত তার সেবা মূলক কাজে, সমাজ সেবক হিসেবে। বুকচিতিয়ে দেয় শত্রুর সামনে তবুও মাথা নোয়াবে না। 

একদিন নেতাজীর পটচিত্রের দিকে তাকিয়ে বলে, "তোমার আদর্শ যখন একবার হৃদয়ে ধারণ করেছি, এ পথ থেকে সরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। দেশে চলছে নোংরা রাজনীতি, এ নোংরামি থেকে মুক্ত হওয়ার দায় তো আমার, তোমার দেশবাসী সকলের। তবে কেন প্রতি পদক্ষেপে এত বাঁধা? 

হঠাৎ দরজায় কারা যেন ধাক্কা দিচ্ছে। অমিত দরজা খুলে দেখে অপরিচিত কিছু লোক। কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই অমিতের শার্ট ধরে হেঁচকা টান দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় আর হাত দুটি পিছমোড়া করে ধরে রাখে কয়েক জন। বেদম পেটাতে থাকে অমিতকে। এক পর্যায়ে পিস্তল বুকে ঠেকিয়ে গুলি করে অমিতকে। মুহুর্তে ধূলিসাৎ হলো অমিতের সুন্দর দেশ গড়ার স্বপ্ন।

দেশনায়ক সুভাষচন্দ্র বোস (লেখক- উজ্জ্বল কান্তি দাশ)

দেশনায়ক সুভাষচন্দ্র বোস
(লেখক- উজ্জ্বল কান্তি দাশ)

নেতাজী মানে আপোষহীন এক
দেশপ্রেমিকের নাম, 
নেতাজী মানে নির্ভীক সৈনিকের
অবিরাম সংগ্রাম। 

ভূমিকাঃ
ভারতের ইতিহাসে এমন কিছু তারিখ রয়েছে যা শুধু মাত্র একটি সংখ্যা বা তারিখ নয়, তা সমস্ত ভারতবাসীর চেতনা ও অস্তিত্বের সাথে যুক্ত। তেমন একটি তারিখ নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম তারিখ। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন ভারতের সূর্য সন্তান, যিনি পরাধীন ভারতবর্ষকে দাসত্বের শৃঙ্খল হতে মুক্ত করতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। তার অদম্য সাহস, আপোষহীন সংগ্রাম তাকে ভারতবাসীর কাছে শ্রদ্ধার 'দেশনায়ক' ও প্রিয় 'নেতাজী' করে তুলেছিল। 

জন্ম ও পিতৃ পরিচয়ঃ
ব্রিটিশ উপনিবেশকের শোষণে দেশ যখন গভীর সংকটে তখন ১৮৯৭ সালের ২৩শে জানুয়ারী ওড়িশার কটক শহরে জন্মগ্রহণ করেন সুভাষচন্দ্র বোস। 

পিতার নাম জানকীনাথ বসু ও মাতার নাম প্রভাতী দেবী। পিতা জানকীনাথ বসু ছিলেন সরকারী উকিল। জানকীনাথ বসুর পৈতৃক নিবাস ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোদালিয়া গ্রামে যা বর্তমানে সুভাষগ্রাম নামে পরিচিত। 

শিক্ষাজীবনঃ
সুভাষচন্দ্র বসুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় ওড়িশার কটকের মিশনারী স্কুলে নাম স্টুয়ার্ট স্কুল।পরে রেভেনশ কলিজিয়েট স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। ভর্তি হন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে। অধ্যাপক ওটেন সব সময় ক্লাসে ভারতীয়দের অপমানকর উক্তি করতেন বলে সুভাষচন্দ্র তীব্র প্রতিবাদ করেন। 

পরিনামে তাকে কলেজ থেকে বহিস্কৃত হতে হয়। পরে তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হন। তিনি দর্শন শাস্ত্রে অনার্স সহ বি. এ পাশ করেন। ১৯১৯ সালে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে চলে যাওয়ায় এম এ পরীক্ষা দিতে পারেননি। ১৯২০ সালে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নিজেকে নিয়োজিত করতে সেই চাকরির প্রলোভন ত্যাগ করেন। 

কর্মজীবনঃ
ভারতবাসীকে শিক্ষায় এগিয়ে নিয়ে যেতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে উদ্যোগী হন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন, দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ, সুভাষচন্দ্র বসু সহ কয়েক জন নেতা। সুভাষচন্দ্র বসু সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের যুবরাজ ভারত এলে ব্রিটিশদের নির্যাতনের প্রতিবাদে হরতাল ডাকলে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন, দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ সহ অনেকের সাথে সুভাষচন্দ্র বসু গ্রেফতার হন। বিচারে তাদের ছয় মাসের জেল হয়। ফরোয়ার্ড পত্রিকার সহ সম্পাদক হিসাবেও সুভাষচন্দ্র বসু দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি কলকাতা কর্পোরেশনের চিপ্ এক্সিকিউটিভ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। 

রাজনৈতিক জীবনঃ
দেশবন্ধুর মৃত্যুর পরে বাংলার রাজনীতি পুরোপুরি সুভাষচন্দ্র বসুর কাঁধে বর্তায়। তার দক্ষতা ও জনপ্রিয়তায় ভীত ব্রিটিশ শাসক তাকে বারবার কারাবন্দী করে। ১৯৩৮ সালে হরিপুরা কংগ্রেসের এবং ১৯৩৯ সালে ত্রিপুরী কংগ্রেসের তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। কংগ্রেসের মধ্যে তিনি ছিলেন চরমপন্থী অংশের নেতা। কংগ্রেসের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে তিনি দল ত্যাগ করে ১৯৩৯ সালে 'ফরোয়ার্ড ব্লক' গঠন করেন। ১৯৪২ সালের ২৬শে জানুয়ারি খবর ছড়িয়ে পড়ে সুভাষচন্দ্র বসু নিরুদ্দেশ হয়েছেন। এ সময় তিনি জার্মানি ও পরে জাপানের সাহায্য নেন। গঠন করেন " আজাদ হিন্দ ফৌজ"। তিনি সেই ফৌজের সর্বাধিনায়ক। তাঁর অসামান্য নেতৃত্বের জন্য অভিহিত হলেন 'নেতাজী' নামে। 

ভারতমুক্তির সংগ্রামঃ
"ফ্রি ইন্ডিয়া রেডিও" থেকে দেশবাসীকে স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ের আহ্বান জানান। "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো" এই বিখ্যাত শ্লোগান দিয়ে তিনি ভারতবাসীকে অনুপ্রাণিত করেন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এ এক অবিস্মরণীয় দিন। গঠিত হয় ১৯৪৪ সালে আজাদ হিন্দ সরকার। ১৯৪৫ সালের ১৮ই মার্চ আজাদ হিন্দ সরকার ভারতের মাটিতে উত্তোলন করে জাতীয় পতাকা। বজ্র কন্ঠে নেতাজী ডাক দিলেন " দিল্লী চলো"। তার দুর্দমনীয় প্রচেষ্টায় শুরু হলো মুক্তির অভিযান কিন্তু জাপান প্রতিশ্রুতি ভঙ করায় আজাদ হিন্দ সরকার বাধ্য হয় পিছু হটতে। গভীর দুঃখ নিয়ে নেতাজী ছুটেন নতুন পথের সন্ধানে। ১৯৪৫ সালের ১৮ই আগস্ট খবর প্রকাশিত হয় নেতাজী নাকি বিমান দুর্ঘটনায় তাই হোকুতে নিহত হন। যা আজও একটি রহস্য! 

উপসংহারঃ
ভারতবাসীর বিশ্বাস নেতাজী নামের অগ্নিশিখা কখনো নিভে যেতে পারে না। তাঁর অদম্য সাহস যুগে যুগে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে। একদিন তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘটবে এ প্রতীক্ষায় আজও ভারতবাসী। মৃত্যুঞ্জয়ী বীরের মৃত্যু নেই, নেতাজী চিরজীবী প্রতিটি ভারতবাসীর চিন্তা ও চেতনায়। 

স্বাধীন ভারতে পেলাম না তোমায়, 
এটাই আমাদের  আফসোস, 
তবু আমাদের চেতনায় অম্লান
সুভাষচন্দ্র বোস।

বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সুভাষ (লেখক- সর্বানী দাস)

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সুভাষ 
(লেখক- সর্বানী দাস) 

ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা । তিনি কেবল একজন বিপ্লবী নেতা নন, তিনি একাধারে দূরদর্শী, ক্লান্তদর্শী, বাস্তববাদী  রাজনৈতিক চিন্তাবিদ, আন্তর্জাতিক কূটনীতিক এবং আদর্শবাদী দেশনায়ক। তাঁর চিন্তাধারা, কর্মপন্থা ও আদর্শ ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে এক নতুন পথের সন্ধান দিয়েছিল। 

বর্তমানে বহুমুখী বৈশ্বিক সংকট, শক্তির রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থের টানাপোড়েনে নেতাজির চিন্তা ও দর্শন নতুন আঙ্গিকে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে । বলা বাহুল্য তার আন্তর্জাতিক কূটনীতি, তিনি যে প্রথম ভারতীয় নেতাদের মধ্যে অন্যতম, তার দাবি রাখে প্রতি মুহূর্তে। 

তিনি বুঝিয়ে ছিলেন যে ভারতের স্বাধীনতা কেবল অভ্যন্তরীণ আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, শক্তির ভারসাম্যকে কাজে লাগিয়েই অর্জন করতে হবে।তাঁর রাজনৈতিক দর্শন থেকে তাঁর উক্তি “স্বাধীনতা ভিক্ষায় পাওয়া যায় না, একে ছিনিয়ে নিতে হয়।”

মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও নেতাজী মনে করতেন,কেবল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে নৈতিক আবেদন দিয়ে পরাস্ত করা কখনই সম্ভব নয়। তিনি মনে করতেন শক্তির বিরুদ্ধে শক্তিই একমাত্র কার্যকর পথ। যা তাঁর উক্তিতে প্রতিফলিত হয়, “শক্তি দিয়েই শক্তিকে পরাস্ত করতে হয়।” 

নেতাজীর রাজনৈতিক দর্শনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হলো অকুতোভয় চিত্ত। তাঁর মতে ভয়ই পরাধীনতার প্রধান অস্ত্র। তাই তিনি বলেছিলেন, "ভয়ই মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু, জীবনে সবচেয়ে বড় পাপ হলো ভয়।” তার এই মনস্তাত্ত্বিক  দর্শন ভারতীয় যুবসমাজকে মানসিক দাসত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার আহ্বান জানায়। তাঁর আদর্শে পরিস্ফুট "দেশপ্রেম কেবল  কথা নয়, কর্ম।"

আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদঃ
নেতাজী  প্রথম ভারতীয় নেতাদের একজন, যিনি স্বাধীনতা আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিচার বিশ্লেষণ করেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে ভারতের স্বাধীনতা কেবল অভ্যন্তরীণ আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, আন্তর্জাতিক শক্তি সমীকরণের মাধ্যমেও অর্জিত হতে পারে।

বিদেশে অবস্থানকালে তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেন এবং প্রবাসী ভারতীয়দের সংগঠিত করে আজাদ হিন্দ সরকার গঠন করেন। এটি তাঁর আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক ঐতিহাসিক নিদর্শন। “জাতীয় ঐক্যই স্বাধীনতার চাবিকাঠি” তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গির মূলে ছিল জাতীয় স্বার্থ, যা তিনি প্রকাশ করেছিলেন।

নেতাজীর আন্তর্জাতিক কূটনীতি কোনো অন্ধ অনুসরণ তো ছিলই না বরং তা ছিল বাস্তববাদী ও উদ্দেশ্যনিষ্ঠ। তিনি বিশ্বাস করতেন, “শক্তিশালী জাতিই স্বাধীন থাকতে পারে।” আদর্শ ও মূল্যবোধ বরাবরই নেতাজীর নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে বিরাজ করতো। ত্যাগ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ পালনে তাঁর আদর্শ অনস্বীকার্য। " ত্যাগ ছাড়া মহত্ব আসেনা " বলে তিনি মনে করতেন। তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজ এর স্লোগান ছিল "শৃঙ্খলা ও ত্যাগে গড়ে ওঠে সেনাবাহিনী, দুর্বলতা পরাধীনতার মূল কারণ, সংগ্রাম হীন জীবন মৃতপ্রায়।"  

তাঁর মূল্যবোধের দৃষ্টি থেকে আমরা জানতে পারি লক্ষ্য স্থির থাকলে পথ বের হবেই। তিনি দেশের যুবশক্তিকেই জাতির ভবিষ্যৎ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। "দেশই আমার ধর্ম " আর "দায়িত্ববোধই প্রকৃত দেশপ্রেম "  তার এই আদর্শে তিনি ভবিষ্যতে যুবসমাজকে দেশ নির্মাণের কারিগর বলে উল্লেখ করেছেন। সুভাষচন্দ্র বসুর চিন্তা চেতনা আদর্শ কর্ম আমাদের প্রত্যেক দেশবাসীকে সাহসী ও স্পষ্টবাদী হতে শেখায়।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এমন একজন নেতা যাকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন " সুভাষচন্দ্র দেশের সংকটের মুহূর্তে নিজেকে উৎসর্গ করেছে"। বিশ্বকবি নেতাজির আত্মত্যাগ ও দায়িত্ববোধের  প্রশংসায় স্বীকার করেছেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নেতা নেতাজি। বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম বলেছেন " সুভাষ মানেই বিদ্রোহ ", সুভাষ মানেই স্বাধীনতার অগ্নিশিখা "। 

বর্তমান প্রেক্ষাপটে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শ, মূল্যবোধ আন্তর্জাতিক কূটনীতি, রাজনৈতিক দর্শন আমাদের বাস্তববাদী হতে ও অনুপ্রেরণা যোগাতে সাহায্য করে।

বিজ্ঞপ্তি

📢 Advertise With Us

আমাদের ই–বুক ও সাহিত্যভিত্তিক ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন।

📱 WhatsApp: 7319111778

বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

মুখোশ (লেখক- গোরাচাঁদ প্রধান)

মুখোশ 
(লেখক- গোরাচাঁদ প্রধান)


এ সময় বড় কঠিন সময় 
পরিবর্তিত হচ্ছে সমাজ,
ছল চাতুরীতে ভরেছে জগত 
সময়ে হয় না সঠিক কাজ।
মানুষ ছুটছে স্বার্থের পিছে 
বিবেক বিকিয়ে দিয়ে,
সত্য বলা এখন বারণ 
ঘোর মিথ্যের খেলা নিয়ে।
মানুষ আজকে পণ্য কেবল 
নাই মান সন্মান।
প্রতিবেশীর রাখি না খবর 
এটাই বর্তমানের অবদান।
পকেটে বন্দী আস্ত পৃথিবী 
হাতে ঝকঝকে মোবাইল,
সামনে পিছনে কেউ নেই 
ছুটছি একাকী মাইল মাইল।
আবেগ আজকে খাঁচায় বন্দী 
জীবনে নাই কোন সুর,
তুমিও আছ আমিও আছি 
তবু মনে হয় কতদূর।
অপেক্ষা শুধু সেই সময়ের 
খুলবো একদিন মুখোশ,
বিভেদ বিবাদ জাগিয়ে তুলবো 
চাই না শান্তির আপোষ।
মানুষে মানুষে লড়াই আজকে 
রাজনীতি আজ খেলা,
অসৎ পথে বেশি রোজগার 
জুটবে অনেক চেলা।
মানুষ আজকে বড় অসহায় 
ভয় সকলের চোখে মুখে,
ভিক্ষার টাকায় চলছে জীবন 
সবাই আছি মহাসুখে।

মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬

একটি মৃতদেহের গল্প (লেখক- অপরেশ পট্টনায়ক)

একটি মৃতদেহের গল্প
লেখক- অপরেশ পট্টনায়ক

আকাশটা তখন ডুব দিয়েছে সমুদ্রের সফেদ লবনাক্ত ফ্যানায়,,,, 
নীলাম্বর ভেঙ্গে পড়ছে অজস্র ঢেউয়ের তান্ডবে। 

মর্গের হিমঘরে বাক্সবন্দী একটা শীতবস্ত্রহীন দেহ
ঠান্ডায় কাঁপছে থরথর,,, থরথর...
শরীরের কুয়াশা আবৃত মুখ ও চোখে জমা হচ্ছে
তুলোর মতো বরফ। 

দেহটা যে আমারই অস্বীকার করছি না,,, শুধু,,, 
শনাক্ত করবে তোমার দুটো চোখের কালো তারা। 

ভয়,,,, ভয় তো আমাকে গ্রাস করছে ক্রমশই 
তুমি কি চিনতে পারবে আমায়? 

নিরিক্ষন চলছে, --- গোল গোল দুটি তারা ঘুরছে
তীক্ষ্ণ দৃষ্টি পড়ছে কাটাছেঁড়া অর্ধ উলঙ্গ দেহে। 

আচ্ছা আমার জীবদ্দশায় কখনো এইভাবে
দেখেছিলে? 
গালের আঁচিল, হাঁটুতে জড়ুলের দাগ,,,, আর,, 
আমার চোখের তারাগুলো ঈষৎ তাম্রবর্ণ? 

এই তো দুই চোখ খোলাই রেখেছি,,, চিনে নাও! 

সেদিন মনের গভীরে এক আনন্দবার্তায় উৎফুল্ল
ভাবাবেগে নেচে উঠৈছিলাম, 
চাকরিটা না পেলে হয়তো এরকমই একটা দিন আসতো... আর-- তোমার স্থানে থাকতো
আমার বৃদ্ধ বাবা। 

সে যাকগে ওটা তো আমার অতীত। 

বর্তমানে, আমি শুয়ে আছি মর্গের মেঝেতে
আট নম্বর বাক্সের বাইরে এসে হ্রাস পেয়েছে কাঁপন। 

এখনও তুমি ঘুরপাক খাচ্ছো, কতক্ষণ লাগবে চিনে নিতে?... পারবে?... না, তা কি করে সম্ভব আমিই
তো চাই না চেনা দিতে। 

আমার হাতের আঙ্গুলের সমস্ত আংটি খুলে কুড়ান কে দিয়ে এসেছি যাতে... ঐ অনাথটার যদি একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ হয়! 

একদা রামধনু রঙে সাজিয়ে দিতে এসেছিলে তুমি
বসন্ত সন্ধ্যায়, জীবনের খাতার পাতায় নাম জড়ালে পরস্পরে। 

কিছুদিন পর...
মস্তিষ্কের এক উদ্ভট অসুখ ডাইমেনসিয়ায় 
আক্রান্ত হলাম... একটা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি কে অসহায় অবস্থায় ফেলে তুমি অন্যত্র দূরে সরে গেলে। 

মাঝে মাঝে ভুলে যাই... আমি এখন মৃত শরীর। 

অবশেষে সে সত্যিই আমাকে চিনে উঠতেই পারেনি
তার সিঁথির সিঁদুর আপাতদৃষ্টিতে অক্ষয় হলেও যা
ক্ষয় হয়েছে তার অনুতাপের আগুন ক্রমেই দগ্ধ করবে বাসনাভান্ড। 

কুড়ান...
সুন্দর ভবিষ্যৎ পেয়েও খুঁজে বেড়াচ্ছে সমুদ্র ফ্যানায় মুঠো ভর্তি ছাইভস্ম। 
বিন্দু বিন্দু অশ্রু মিশে যাচ্ছে সমুদ্রনীলে।

এই সময়ের মানুষ ও সমাজ (লেখক- শিশির হুদা)

এই সময়ের মানুষ ও সমাজ
লেখক- শিশির হুদা 

এই সময়ের মানুষ
হাত ভরা মোবাইল,
কিন্তু বুক ভরা শূন্যতা—
নোটিফিকেশনের শব্দে
নিজের ভেতরের কান্না ঢেকে রাখে।

এই সময়ের সমাজ
ছবি দেখে বিচার করে,
ক্যাপশন পড়ে সম্পর্ক গড়ে,
ভিউ বাড়ে—মান কমে,
ভালোবাসা হয় শর্তসাপেক্ষ।

আমরা কথা বলি উন্নয়নের,
কিন্তু পাশের মানুষটির নাম ভুলে যাই,
চাকচিক্যের শহরে
মানুষ হারিয়ে যায়
একটা লিফট আর একলা ফ্ল্যাটের মাঝে।

এই সময়ের মানুষ
সত্য বলে কম,
প্রমাণ দেখায় বেশি—
বিশ্বাস নয়,
স্ক্রিনশটেই ভরসা।
এই সময়ের সমাজে
নৈতিকতা আছে পোস্টে,
ন্যায়বোধ থাকে স্টোরিতে—
কিন্তু রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষের পাশে
থামার সময় নেই।

তবু এই সময়ের মানুষই
রাতে একা হলে
নিজেকে প্রশ্ন করে—
“আমি কি সত্যিই মানুষ,
নাকি শুধু সময়ের পণ্য?”

এই সময়ের সমাজ
আমাদের তৈরি,
আমরাই আবার ভাঙবো—
একটু মানবিক হলে,
একটু থামতে শিখলে।

সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

তারপর

তারপর 
লেখক- সন্দীপ সাঁতরা 

দাগ পড়ে বুকে,
শীতল স্পর্শ নেমে আসে তলপেট জুড়ে...
রক্তস্রোত নামে
সভ্যতার নামে।

তারপর শহর
নিজের আয়নায় হাত ধুয়ে নেয়,
নিয়ন আলোর তাপে
অপরাধ শুকিয়ে যায়।

সময় নীরব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে,
কিছুই ঘটেনি...এই অভ্যাস নিয়ে;
আর আমরা
রক্তমাখা দিনগুলোকে
ইতিহাসের পাতায়
যত্নে ভাঁজ করে রাখি।

চাঁদ তখনও দেখে,
কিন্তু কিছু বলে না.. শুধু হেঁটে যায়..
কারণ এই শহরে
নীরবতাই
সবচেয়ে নিরাপদ ভাষা।
নিরাপদ আশ্রয়।

ছোট গল্পঃ কালির আলো

কালির আলো
লেখক- আকাশ আহমেদ

গ্রামের শেষ মাথায় পুরোনো লাইব্রেরি ঘরটা অনেকদিন ধরেই বন্ধ। লোহার গেটের রং উঠে গেছে, জানালার কাঁচে ধুলো জমে আলো ঢোকে না। তবু প্রতিদিন বিকেলে ওই ঘরের সামনে এসে দাঁড়ায় নীলয়।

নীলয় লেখে।
কিন্তু কেউ জানে না।

তার বাবা চান সে সরকারি চাকরি করুক। মা চান সংসার সামলাক। গ্রামের লোকজন চায়—সে “কিছু একটা” হোক। কিন্তু নীলয় শুধু চায় শব্দের সঙ্গে বাঁচতে। চায় অক্ষরের ভেতর আশ্রয় নিতে।

একদিন সাহস করে সে লাইব্রেরির তালা ভাঙে না, খুলে ফেলে। ভেতরে ঢুকে দেখে—মলিন তাক, ছেঁড়া বই, বিবর্ণ পৃষ্ঠা। কিন্তু সেই ধুলো-মাখা বইগুলোর ভেতর যেন জমে আছে বহু মানুষের না-বলা কথা, চাপা কান্না, অদম্য স্বপ্ন।

নীলয় প্রতিদিন সেখানে বসে পড়ে। লেখে। কখনও কবিতা, কখনও গল্প। কখনও নিজের কথা, কখনও গ্রামের মানুষের। কলমের কালিতে সে খুঁজে পায় নিজের অস্তিত্ব।

একদিন গ্রামের স্কুলের এক ছাত্রী আসে লাইব্রেরিতে। বলে, “দাদা, আমি একটা কবিতা লিখেছি। ঠিক হয়েছে কি না জানি না।”

নীলয়ের চোখে জল এসে যায়। সে বুঝতে পারে—সাহিত্য একা থাকার জায়গা নয়, এটি আলো ছড়ানোর পথ।

ধীরে ধীরে আরও মানুষ আসে। কেউ পড়তে, কেউ লিখতে, কেউ শুধু শুনতে। লাইব্রেরি ঘরটা আবার প্রাণ পায়। দেয়ালে টাঙানো হয় হাতে লেখা কবিতা, গল্প। সন্ধ্যাবেলা আলো জ্বলে।

একদিন নীলয়ের বাবা সেখানে এসে দাঁড়ান। ছেলের লেখা গল্প পড়ে চুপ করে থাকেন অনেকক্ষণ। তারপর শুধু বলেন, “তুই ঠিকই করেছিস।”

নীলয় সেদিন বুঝে যায়—সাহিত্য চর্চা মানে শুধু লেখা নয়, এটি মানুষের ভেতরের অন্ধকারে আলো জ্বালানো।

ধুলো জমা লাইব্রেরি ঘরটা এখন গ্রামের সবচেয়ে জীবন্ত জায়গা।

আর নীলয় জানে—কালির আলো কখনও নিভে যায় না।

শিশুতোষ ছড়া

শিশুতোষ ছড়া 
লেখিকা- সংহিতা দাস 

কাঠবেড়ালি লেজটি তুলি 
খুশি হয়ে বলে,
গুড় ও মুড়ি দাও গো আমায়
খাবো মজার ছলে।

পেয়ারা খুব প্রিয় আমার
দারুন খেতে লাগে,
বাতাবিটা পেড়ে খেতে
যাই কয়ালের বাগে।

বনে বনে  ঘুরে বেড়াই
শিকার করার জন্য,
ইঁদুরছানা পেলে তুলে
জীবনটা হয় ধন্য।

রান্নাঘরে ঢুকে পড়ি
সময় সুযোগ পেলে,
দুধ ও রুটি দেয় আমাকে
পাশের বাড়ির ছেলে।

জীবন যখন দগ্ধমাঠ

জীবন যখন দগ্ধমাঠ
লেখিকা- মেফ্তাহুল জান্নাত 

অতঃপর— ফুরিয়ে যায় ভালোলাগার খসড়া,
মানুষ, মূহুর্ত, ইচ্ছে এবং ঐশ্বর্য্য;
ঘাটে ভিড়িয়ে তরী, বসে রই জীবন সায়াহ্নে
অচ্ছুৎ অভিসম্পাত যারা আনে! 
বুঝি— সময় নিতান্তই দাহ; দাহের অবশিষ্টাংশ।
ভালোলাগার ঘাট– মাঠ– বুকের পরশনে জমা প্রেম;
সকল আকুতির সাদা কাফন, নিঃসীম হেম।
ভালোলাগার খসড়া– সাজানো পসরা–
অকাল সাধ, গুঞ্জন;
সস্তা পয়সায় কিনে ফেরে যে প্রেমিক সুভাজন,
কোথা শ্যাম? 
কোথা সেই তিয়াসার তাড়া?
এই নাট সিগারেট ফুরানো ছাঁই,
আমি কাঞ্চনজঙ্ঘা— সূদুরে ফুরাই। 

সকল সাধের তাসে, করেছে কারা দাস?
ভালোলাগার যে খেয়াঘাট, জীবনাভ্যাস;
কে ভাঙে সে পাড়! 
ওদের অন্তীমে আজ অমাবস্যার হই,
রাতের হাড়কঙ্কাল পুড়িয়ে, স্বপ্নের ছাঁই তুই। 

খুইয়ে যাওয়া পথ ছুঁই,
এধার, ওধার।

পৃথিবী ঘুমিয়ে

পৃথিবী ঘুমিয়ে
লেখিকা- সুবর্ণা দাশ

পৃথিবী ঘুমিয়ে গেলে আমি জাগি, 
নিরব নিস্তব্ধ, সারা পৃথিবী যেন! 
ঘুমের রাজ্যে বাস করছে। 
আর আমি, দেখি বিশাল আকাশ, 
মেঘেরা এসে ঢেকে দেয়,
কিছুক্ষণের জন্য চাঁদকে। 
চাঁদও বোধ হয়, তখন ঘুমে ঢুলো... ঢুলো, 
না, খানিক পরে বেরিয়ে আসে
রূপালী আলো নিয়ে।
তারা মিটমিট করছে, 
যেন আমাকে জাগিয়ে রাখবে বলে। 
মাঝে মাঝে একটা দুটো পাখি গাছের ডালে, 
নড়াচড়া করে উঠে, 
সেই পাখিদেরও বুঝি ঘুম নেই চোখে! 
দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ শোনা যায়, 
থেকে থেকে কুকুর গুলো 
ঘেউ ঘেউ করে উঠে, 
না'জানি ঘুমের মধ্যে, 
হয় তো স্বপ্ন দেখে কুকুর গুলো। 
জোনাকি পোকা জানান দেয়, আমি আছি.. 
নির্ঘুম তোমার সাথে, 
একটা দুটো বাদুড় উড়ে যায় ওদের গন্তব্য, 
যেন এক স্বপ্নপুরীতে বাস করছি আমি!

জীবন মরণ কথা

জীবন মরণ কথা
লেখক- উজ্জ্বল কান্তি দাশ

বোঝার মতো বুঝলো না'তো 
কেউ আমাকে চিনলো'না,
জানলো না কেউ কেমন আছি 
কেউ দিল না শান্তনা। 
মানুষ আমার চলা ফেরায়
দেখলো পথ ভ্রষ্ট, 
কেউ দেখে না বুকটা ছিঁড়ে 
এত কিসের কষ্ট! 

বাঁচবো যত দুঃখ তত
বাড়ছে দিনে দিনে, 
বুকের ভেতর রক্ত ক্ষরণ 
হচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। 
কেমন করে করবে হেয় 
সুযোগ খুঁজে সবাই, 
এসব থেকে বাঁচতে আমি 
চলছি খুঁজে উপায়। 

জীবন আমার শেষের দিকে
হয়'তো বাকী অল্প, 
বিদায় শেষে আমায় নিয়ে 
করবে সবাই গল্প। 
থাকতে বেঁচে করল যারা 
অবজ্ঞা আর তিরষ্কার, 
মরার পরে মরোনোত্তর
তারাই দেবে পুরস্কার। 

হয়তো এটাই এ পৃথিবীর 
অদ্ভুত এক রীতি, 
মরার পরে মৃতের প্রতি 
বাড়ে প্রেম-পিরিতি। 
কেউ বলবে ভালো ছিল 
স্বভাব ছিল'না বাজে, 
কেউ বলবে শান্ত মানুষ 
ছিল'না তো কু'কাজে। 

দু'একটা দিন কাঁদবে সবাই 
আমি মরার পরে, 
বউ কাঁদবে আরও ক'দিন 
স্মৃতি স্মরণ করে। 
তারপরে সব ভুলে যাবে 
কান্না যাবে থেমে, 
আরও কদিন থাকবো আমি 
বাঁধানো ছবির ফ্রেমে।

হে বীর হৃদয়

হে বীর হৃদয় 
লেখিকাঃ সর্বানী দাস 

হে বীর হৃদয়!
বিলিয়ে দাও তব প্রাণ আর্তের বন্ধু হয়ে 
সেবায় উৎসর্গ তোমার জীবন পথ 
তুমি এই যুগেরই, তোমার চিন্তায় উন্মুলিত আশা।

হে বীর হৃদয়!
শীতের উষ্ণতা হয়েছ বাড়তি কম্বল দিয়ে
বেঁচে যাওয়া খাবার বেঁটে দিলে 
ভবঘুরে বৃদ্ধকে দুটো হাত শক্ত করে ধরে 
পার করেছ চৌরাস্তা মোড়,
তুমি বীর, তুমি দূরদর্শী,কর্মে তব জয় সুনিশ্চয়।

হে বীর হৃদয়!
তুমি শিক্ষা বিলাও স্টেশন চত্বরে,
তুমি পথশিশুর সান্তাক্লজ, 
উপহার দাও ঝুলি থেকে
তুমি অন্ধকারে উৎসারিত আলো
সবটুকু শক্তি তুমি দিয়েছ, হে মহাপ্রাণ।

হে বীর হৃদয়!
তুমি রক্ত দাও শুধু গরমে ওদের কষ্ট বলে,
তুমি লোকের কাছে হাত পাতো,
হাত উপুড় করতে-
তোমার সিদ্ধান্তে তুমি অটুট অবিচল
বীর, ধৈর্য আর পরিশ্রম হবে না বিফল।

হে বীর হৃদয়!
তোমার হাসি কারো কান্না দেয় মুছে,
বুকে টেনে নাও দিশেহারা পথিককে 
তুমি ক্রান্তদর্শী, তুমি ধৈর্যশীল,
তুমি আগামীর বিবেক, তুমি আমাদের বিবেক।

কবিতাঃ স্বপ্নের শহরে তুমি

স্বপ্নের শহরে তুমি
লেখক- সালাম মালিতা 

ঘ্যানঘ্যানে একপেশে 
জীবনের নির্মম সুরে ঘনায়মান 
নিকষকৃষ্ণ রাতের অতলে পরিত্রাণ খুঁজি, 
যাতে জবুথবু অব্যক্ত ইচ্ছের পাণ্ডুলিপি 
বিড়বিড় করে মনের বেতারে সম্প্রচারিত হতে পারে!

চোখে অতীতের মলিন ঠুলি পরে হাতড়াতেই
তোমার প্রতিমূর্তি আমার সামনে দণ্ডায়মান, 
মায়াবী নয়নের হাতছানি দিয়ে 
মনের কারাগারে গ্রেফতার করতে চায়!

তোমার মায়া নদীর পাড়ে তীব্র প্রতীক্ষা 
পর এলোকেশের ব্যঞ্জনা বুঝি-
এটা হাজার বছর ধরে 
উপন্যাসের একটি পৃষ্ঠা মাত্র! 

আমার দেখা স্বর্গরাজ্যের  
তুমিই একমাত্র দুহিতা, 
যাকে অবশ্য অপ্সরা মেনে-
মনপবন দিয়ে খরিদ করতে ছুটছি। 

চাঁদের জ্যোৎস্নায় তোমার রূপের 
নৈসর্গিক মুগ্ধতা 
আমার হৃদয়ের দরজায় খিল দেয়,
যাতে তারাদের সাক্ষী রেখে দিগন্ত পথ ধরে 
অশেষ যাত্রা শুরু করতে পারি!

স্বপ্নপুরীর বিস্তীর্ণ সরোবরের বিশুদ্ধ সলিলে
জোনাকির আলোয় ভালোবাসার চুক্তিপত্রে-
চিরতরের জন্য সই করায়!

অঘোষিত সেই জবানবন্দিতে পূর্ণ শর্তে 
পরজনমেও পাশে থাকার সীলমোহর পড়ে,
প্রেম হাসিলের জন্য 
পৃথিবীর বিপরীতে গিয়েও 
সকল দুঃসাহসিক সীমানা অতিক্রম করে-

প্রতিরাতে তোমাকে বাহুডোরে রাখি আর...
শুধু তোমার জন্য 
ভালোবাসার এক স্বর্গরাজ্য গড়ি!

সুস্থ থেকো বসুন্ধরা

সুস্থ থেকো বসুন্ধরা
সমর্পিতা রাহা

  মা জননী বসুন্ধরা 
   শস্য শ্যামল তুমি, 
  তোমার বুকে বেঁচে আছি
   আদরেতে চুমি। 

সবার তুমি মায়ের মতো
   সবুজ বরণ সাজে, 
অপরূপা সুসজ্জিতা
  ব্যস্ত নানা কাজে। 

মাতৃভূমি বসুন্ধরা 
  সুস্থ থেকো মাগো
অতিবৃষ্টি অনাবৃষ্টি
কেন তুমি রাগো।

তোমার বুকে মানব জাতি
  করে লীলা খেলা, 
বৃক্ষ ছেদন অনায়াসে
ধ্বংস নানা জেলা। 

চারিদিকে নানান দূষণ
 শিকার নানা রোগে, 
নিজের পায়ে কুড়ুল মেরে
মানুষ নিজেই ভোগে। 

বায়ু দূষণ জলে দূষণ
  দূষণ মানব মনে, 
দাবানলে অরণ্য ছাঁই
অক্সিজেন নেই বনে। 

আনন্দতে শব্দ দূষণ
 প্রশ্বাস নিতে কষ্ট, 
জঙ্গল কেটে বাসের জায়গা
ভারসাম্যতা নষ্ট। 

বছর ধরে ছয়টি ঋতু
কেরামতি চলে, 
বায়ু দিয়ে নানা ব্যধি
মানুষ তখন টলে। 

মা জননী বসুন্ধরা 
বিজ্ঞান করছে ধ্বংস
তেজঃস্কিয় কৃত্রিমতায়
জগৎ জুড়ে কংস।

যোগাযোগ করুনঃ

📚 বিক্ষুব্ধ বর্ণ সাহিত্য পরিষদ

লেখা পাঠানো, ই–বুক ক্রয় অথবা যেকোনো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন—

📱 WhatsApp: 7319111778
⏰ সময়: সকাল 10টা – রাত 9টা
(WhatsApp মেসেজ করলে দ্রুত উত্তর দেওয়া হবে)

কপিরাইট ও শর্তাবলিঃ
১. এই সাইটে প্রকাশিত প্রতিটি লেখা সংশ্লিষ্ট লেখকের নিজস্ব সম্পত্তি।

২. লেখকের অনুমতি ছাড়া কোনো লেখা পুনঃপ্রকাশ বা বাণিজ্যিক ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয়।

৩. ই–বুক বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত আয়ের একটি অংশ লেখকদের ন্যায্য সম্মানী হিসেবে প্রদান করা হয়।

৪. ক্রয়কৃত ই–বুক ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য, শেয়ার বা পুনরায় বিক্রি করা যাবে না।

৫. যেকোনো বিতর্ক বা অভিযোগের ক্ষেত্রে সংগঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

© বিক্ষুব্ধ বর্ণ সাহিত্য পরিষদ

খেয়াপার... - সালাম মালিতা

সালাম মালিতা   বিচিত্র এই জীবন বন্দরে,কষ্টের নোনাজল  যখন-তখন আছড়ে পড়ে!  ভয় হয়...  তূল্যমূল্য বিষাদের দিনলিপি অদৃশ্য ব্যথার কলমে স্বয়ং আমাকেই...

জনপ্রিয় পোস্ট